ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়পনারা সকলেই নিশ্চয়ই ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। কেননা আমরা সকলেই নিজের ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা রাখতে চাই। ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যকে অনেক গুনে বৃদ্ধি করে দেয়। বিশেষ করে মেয়েরা ত্বক ফর্সা হওয়ার ক্রিম ও ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে বেশি আগ্রহী হন। তাই আজকে আমি আমার এই পোস্টে ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব।

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

আপনারা যারা ত্বকের কালো দাগ, ব্রণ ও মেছাতা দূর করতে চান এবং ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চান তারা আমার এই পোস্টটি অতি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনাদের ত্বকের সমস্যাগুলো দূর করে ত্বকের ফর্সা ও উজ্জ্বল ভাব ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

ভূমিকা

ত্বক আমাদের অমূল্য সম্পদ, তাই ত্বকের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ত্বক ভালো থাকলে আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নানা কারণে আমাদের ত্বক কালো হয়ে যায়, কালো দাগ তৈরি হয়, ব্রণের সৃষ্টি হয়। ত্বকের এই সমস্যাগুলো দূর করার উপায় এবং ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় গুলো জানা অতি জরুরী। উপায়গুলো জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই ত্বকের কালো ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আনতে পারব। আসুন আমরা ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

ত্বক কালো হওয়ার কারণ

আমাদের ত্বকে অনেক সময় অনেক ধরনের কালো দাগ তৈরি হয়। অনেকের আবার গায়ের ও মুখের রং কালো হয়ে যায়। আমরা অনেকেই জানিনা আমাদের ত্বক কালো হওয়ার কারণ কি। তাই আসুন আমরা জেনে নেই ত্বক কালো হওয়ার কারণগুলো আসলে কি।

হাইপার পিগমেন্টেশনঃ আমাদের সকলের ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ থাকে। যেখান থেকে মেলানিন নামে রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক ত্বকের রং তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এই কোষের কার্যকলাপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে গায়ের চামড়ার রং তৈরিতে সমস্যা দেখা দেয়। এই মেলানোসাইট সক্রিয়তা বাড়লে মেলানিনের নিঃসরণও বেড়ে যায়, যার ফলে আমাদের শরীরের চামড়া কালো হয়ে যায়।

ভিটামিনের অভাবঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ত্বক সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি শরীরে এ সকল ভিটামিনের অভাব থাকে তাহলে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

চামড়ার সমস্যা থাকলেঃ অনেক সময় চর্মরোগের সমস্যা থাকলেও শরীরের পুরো ত্বক পুড়ে গিয়ে কালো হয়ে যায়। এছাড়া লিচেন সিমপ্লেক্স স্কি ক্রনিকাসের মতো সমস্যা থাকলে ত্বক মোটা হয়ে যায়। এতে করে ত্বকে জ্বালা-যন্ত্রণা হতে থাকে এবং ত্বক কালো হয়ে যায়।

হরমনের পরিবর্তনঃ আমাদের শরীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে হরমোনের পরিবর্তন হয়ে থাকে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে আমাদের শরীরের রং পরিবর্তিত হয়। যখন আমাদের শরীরে হরমোন ক্ষিরিত হয় ঠিক তখনই আমাদের শরীর রং কালো হয়ে যায়।

জিনগত কারণেঃ সাধারণত জিনগত কারণে আমাদের শরীরের চামড়ার রং কেমন হবে তা নির্ভর করে থাকে। বেশিরভাগ সময়ই বাবা-মায়ের গায়ের রঙের উপর সন্তানের গায়ের রং নির্ভর করে। এটিকে জিনগত কারণ বা বংশগত কারণ বলা হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমাও হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

মেছতার কারণেঃ অনেক সময় ত্বকে মেছতার মতো সমস্যা থাকলে গায়ের রং কালো দেখায়। মেছতার কারণে অনেক সময় শরীর ও মুখের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ হয়ে যায়। এ সমস্যার কারণেও আমাদের ত্বক কালো হয়ে যায়।

শারীরিক সমস্যা থাকলেঃ আমাদের যদি কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে অনেক সময় আমাদের ত্বকের রং কালো হয়ে যেতে পারে। যেমন- লিভারের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, এলার্জি সমস্যা, রক্তের সমস্যা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় গায়ের রং কালো হয়ে যায়।

সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মিঃ আমাদের ত্বক কালো হওয়ার পিছনে সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মি অনেকাংশে দায়ী। সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি-রেয়াসের সংস্পর্শে আসলে ত্বকে মেলানিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যার ফলে ত্বকে কালসে ভাব চলে আসে। সূর্যের এই ক্ষতিকর রশ্মি আমাদের ত্বকের সুস্থতা কেড়ে নেয় এবং ত্বকে ম্লান ও কালো করে ফেলে।

মানসিক চাপঃ বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে ও ঘুম ঠিকমতো না হলে চোখের নিচে কালো রেখা তৈরি হয়। এছাড়া মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চোখের নিচে কালি পড়ে। এর ফলে মুখের চামড়া কালো হয়ে মুখের ত্বক খারাপ হয়ে যায়।

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

ত্বক ফর্সা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, তার মধ্যে ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়গুলো আমরা খুব সহজেই প্রয়োগ করতে পারি। এজন্য ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে নিচে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

গুঁড়া দুধ ও লেবুর রসের ফেইস প্যাকঃ ১ চা চামচ গুঁড়ো দুধ, ২ চা চামচ লেবুর রস এবং ১/২ চা চামচ মধু এই ৩ টি জিনিস একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এই পেস্ট পুরো মুখে মেখে ১০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট পর মুখে সামান্য পানি ভরিয়ে মুখ ভালোভাবে মেসেজ করতে হবে। কিছুক্ষণ মেসেজ করার পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে দেখবেন আপনার মুখে উজ্জ্বলতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে সপ্তাহ ১-২ বার এই পেস্টটি লাগাতে পারেন।

পেঁপে ও ডিমের প্যাকঃ ২ চা চামচ পেঁপের রস, ১ চা চামচ টক দই, ৩ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, ২ চামচ আমন্ডঅয়েল, সামান্য গ্লিসারিন ও একটি ডিমের সাদা অংশ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মতো রেখে দিন। ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে হালকা ঘষে কিছুক্ষণ মেসেজ করুন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপে আর ডিমের এই প্যাকটি ত্বকের কালো আবরণ দূর করে ত্বকের উজ্জলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে।

টক দই ও ওটমিলের প্যাকঃ ৩ চা চামচ ওটমিল ভালো করে ভিজিয়ে তার সাথে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এই মাস্কটি পুরো মুখে, গলায়, হাতে ও পায়ে লাগাতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরা জেল ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে অন্যতম। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে সামান্য বাদাম গুঁড়া মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপর এই পেস্টটি আপনার পুরো মুখে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিটের জন্য। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন ও লেবুর রসের প্যাকঃ ৩ চা চামচ বেসন, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও সামান্য পরিমাণ গোলাপজল দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর এই প্যাকটি আপনার মুখে ও শরীরের অন্যান্য অংশে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে মেসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ১-২ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

হলুদ ও টমেটো ফেসপ্যাকঃ ১ চা চামচ টমেটো রসের সাথে সামান্য পরিমাণ হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেজটি আপনার মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ-টমেটোর এই প্যাকটি আপনার মুখের কালো দাগ দূর করে ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করবে।

দুধ ও কলার প্যাকঃ একটা মাঝারি সাইজের কলাকে ভালো করে চটকিয়ে তার সাথে সামান্য পরিমাণে দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি আপনি আপনার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগাতে পারেন। এই প্যাকটি আপনার ত্বককে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল করে দিবে।

চন্দন গুঁড়ার ফেসপ্যাকঃ চন্দনের গুঁড়া বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। চন্দনের গুঁড়ার সাথে পানি অথবা গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা ত্বকে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যায়। চন্দনের পেস্ট তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ কার্যকরী।

পুদিনা পাতার প্যাকঃ পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যাসট্রিজেন্ট উপাদান যা ত্বকের পুষ্টি যুগে ত্বকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। কয়েকটি পুদিনা পাতা পেস্ট করে পুরো মুখমণ্ডলে ১৫ মিনিটের মত রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং ত্বকের লাবণ্যতা বজায় থাকবে।

মধু ও লেবুর রসের প্যাকঃ ২ চা চামচ মধু ও ১ চা চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ২০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ও শরীর ভালো হবে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করতে পারবেন।

খাবার সোডা ও পানিঃ পরিমাণ মতো খাবার সোডা ও তার সাথে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর পেস্টটি মুখে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মত রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন এতে করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কমলার খোসাঃ কমলার খোসা ত্বকের কালচে ভাব দূর করে এবং ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কমলার খোসা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এরপর ৪ টেবিল চামচ কমলা খোসার গুড়ার সাথে দুধ বা মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এই পেজটি আপনার মুখ, গলা ও হাত-পায়ে ২০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে দেখবেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

আলুর ফেইস প্যাকঃ আলুর রস ত্বকের রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করে ত্বককে ফর্সা করতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ আলুর রসের সাথে প্রয়োজন মত লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি আপনার মুখ, গলা ও হাত-পায়ে ১৫ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফর্সা হওয়ার ক্রিম

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় গুলোর পাশাপাশি অনেক ধরনের ক্রিমও রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের কালো ভাব দূর করে ত্বককে ফর্সা করতে সাহায্য করে। বাজারে ত্বক ফর্সা করার নানা ধরনের ক্রিম পাওয়া যায়। ত্বক ফর্সা করার মানসম্মত কিছু ক্রিমের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো। যেমন-

  • Wow Fairness Cream
  • Himalaya Herbal Clean Complexion
  • OLAY Natural White Cream
  • O3+ Whitening Cream
  • Plum E Luminence Deep Moisturizing
  • Bella Vita Papayablem Anti Blemish
  • Lakme Absolute Perfect Residence
  • Lotus Herbals Nutranite Night Cream
  • Himalaya Revitalizing Night White
  • Loreal Paris White Perfect White
  • Ponds Gold Radiance Youthful Night Repair Cream
  • OLAY White Radiance
  • Garnier Light Complete Cream
  • StBotanica Pure Radiance Anti Aging & Brightening Cream

তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করার উপায়

তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণত ত্বকের সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়। এজন্য তৈলাক্ত ত্বক হলে সব সময় ত্বকের পরিচর্যা করা প্রয়োজন। নিচে তৈলাক ত্বক ফর্সা করার উপায় গুলো তুলে ধরা হল।

ত্বক পরিষ্কারঃ তৈলাক্ত ত্বক হলে ক্ষারীয় সাবান এড়িয়ে চলুন এবং গ্লিসারিন যুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। নিয়মিত প্রতিদিন দুইবার করে মুখ পরিষ্কার করুন।

মধু ব্যবহারঃ তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়ে থাকে। এজন্য নিয়মিত মধু ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন এবং ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রসঃ ১ টি ডিমের সাদা অংশের সাথে সামান্য পরিমান লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি আপনি নিয়মিত আপনার তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাবেন।

বেসন ও লেবুর রসের প্যাকঃ তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করতে বেসন ও লেবুর রস বেশ কার্যকরী। ৩ চা চামচ বেসন, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও সামান্য পরিমাণ গোলাপজল দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর এই প্যাকটি আপনার মুখে ও শরীরের অন্যান্য অংশে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে মেসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ১-২ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরা জেলঃ অ্যালোভেরা জেল তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে অন্যতম। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে সামান্য বাদাম গুঁড়া মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপর এই পেস্টটি আপনার পুরো মুখে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিটের জন্য। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

টক দই ও ওটমিলের প্যাকঃ ওটমিল ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে সাহায্য করে। ৩ চা চামচ ওটমিল ভালো করে ভিজিয়ে তার সাথে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এই মাস্কটি পুরো মুখে, গলায়, হাতে ও পায়ে লাগাতে পারে। এতে করে আপনার শরীরের ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

জোজোবা তেলঃ জোজোবা তেলের সাথে চন্দনের গুড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহ ২-৩ দিন এই প্যাকটি ব্যবহার করলে ভালো উপকার মিলবে।

মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটি তৈলাক্ত ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এজন্য প্রতিদিন একবার করে মুলতানি মাটির সাথে পানি/গোলাপ জল/মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা ত্বকে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

শীতকালে ত্বক ফর্সা করার উপায়

শীতকালে আমাদের ত্বক অত্যন্ত রুক্ষ হয়ে যায়। এই রুক্ষতার কারণে আমাদের ত্বক খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এর ফলে শীতকালে আমাদের ত্বক বেশি কালো দেখায়। শীতকালে এই কালো দাগ দূর করে ত্বক ফর্সা করার উপায় গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • শীতকালে ত্বকের ময়শ্চরাইজড ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরী। নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল, লোশন ইত্যাদি ময়শ্চরাইজার হিসেবে ব্যবহার করলে, ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে যায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
  • সাধারণত শীতকালে আমরা অনেকেই কম পানি পান করি। পানি কম পান করার কারণে আমাদের শরীরের পানির ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে আমাদের শরীরের টিস্যু শুকিয়ে যায়। যার প্রভাব আমাদের ত্বকের উপরে পড়ে। এজন্য শীতকালে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।
  • শীতকালে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোটা মুখে ক্রিম এবং হাত-পায়ে লোশন মেখে ঘুমানো উচিত। তাহলে শরীরেরময়শ্চরাইজার বজায় থাকে। এতে করে শীতকালেও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
  • শীতকালে আমরা অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করি কিন্তু গরম পানি আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য হালকা গরম পানি দিয়ে শীতকালে মুখ ধোয়া ও গোসল করা উচিত।
  • শীতকালে আমরা অনেকেই সানস্ক্রিম ব্যবহার করি না। যার ফলে আমাদের ত্বকে সূর্যের রশ্মি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শীতকালে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার জন্য বাইরে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিম ব্যবহার করা উচিত।
  • শীতকালে আবহাওয়ার কারণে ত্বক প্রচন্ড শুষ্ক হয়ে যায়। এজন্য আমাদের উচিত নিয়মিত গ্লিসারিন ব্যবহার করা। এতে করে ত্বকের রুক্ষভাব ও ত্বক ফাটা সমস্যা দূর হয়ে যাবে। গ্লিসারিনের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলে চিটচিটে ভাব দূর হয়ে যায়।

কি খেলে গায়ের রং ফর্সা হয়

কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে গায়ের রং ফর্সা হয় এবং গায়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এ সকল খাবার যদি আমরা আমাদের খাবারের তালিকায় রাখি এবং নিয়মিত যদি আমরা তা খাই তাহলে আমাদের ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কি খেলে গায়ের রং ফর্সা হয় সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

গাজরঃ গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং আমাদের স্কিনকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। যা ত্বকের টিস্যু মেরামত করে এবং ক্ষতিকর রশি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য নিয়মিত গাজর খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

পেঁপেঃ পেঁপে ত্বকের লাবণ্যতা বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পেঁপেতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। পেঁপে খেলে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ হয় না যার কারণে ত্বক তার লাবণ্যতা ধরে রাখতে পারে।

টমেটোঃ টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ভিটামিন-সি যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বিভিন্ন দাগ, বুলিরেখা এবং শুষ্কতা দূর করে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে।

কলাঃ কলা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। কলাতে থাকা বিভিন্ন উপাদান আমাদের শরীরের পুষ্টি যুগিয়ে, ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি করে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া।

পানিঃ বেশিবেশি পানি পান করা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বেশি পানি পান করলে আমাদের শরীরের সকল সমস্যা দূর হয়ে যায়। এর ফলে আমাদের ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারি। তাই আমাদের শরীর ও ত্বককে সুস্থ রাখার জন্য বেশি করে পানি পান করা উচিত।

গ্রিন-টিঃ গ্রিন টি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। গ্রিন-টি খেলে আমরা নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে রক্ষা পেতে পারি। গ্রিন-টি তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন-বি সহ আরো অনেক ধরনের উপাদান। আমাদের শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে ত্বকের ভিতরে উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে গ্রিন টি।

ফাইবার যুক্ত খাবারঃ ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা থাকবে না। যার ফলে আমাদের ত্বকে কোন ধরনের সমস্যার সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে না। এজন্য আমাদের প্রতিদিন ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। যেমন-বিভিন্ন ধরনের শাক, মটরশুঁটি, কাঁচা পেঁপে, লাউ ইত্যাদি ফাইবার যুক্ত খাবার।

ওমেগা-৩ঃ মাছের রয়েছে ওমেগা-৩ বা ফ্যাটি এসিড। মাছের মধ্যে যে চর্বি রয়েছে তা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এ চর্বি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মাছ খাওয়া উচিত।

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে আমরা ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়গুলো জানার সাথে সাথে রং ফর্সা করা অনেক ধরনের ক্রিম সম্পর্কে জানতে পারলাম। আপনার ত্বকের সমস্যা যদি অতিরিক্ত বেশি হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই কোন চর্মবিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, এই পোস্টটি পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url