রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জেনে

মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যারক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া বা রক্তশূন্যতা একটি কমন ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা উচিত। কারণ এই সমস্যাটি ছোট থেকে বড় সকলের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্যাটি সাধারণত হিমোগ্লোবিন যুক্ত খাবার এর অভাবের কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য আমি আমার এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারন ও করণীয়

আপনাদের যদি রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে তথ্য পেতে চান, তাহলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এতে করে আপনারা অনেক উপকৃত হবেন এবং অনেক কিছু জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃরক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জেনে 

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে রক্তস্বল্পতা বা রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যাটি ছোট থেকে বড় সকলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায় ঠিক তখনই এই সমস্যাটি তৈরি হয়। আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা একদিনে তৈরি হয় না, এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। সাধারণত আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। রক্তের হিমোগ্লোবিন আমাদের রক্ত সঞ্চালনকে সঠিক রেখে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে।

রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ 

সাধারণত মানুষের শরীরের লৌহের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লৌহ উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের শরীরে চাহিদা অনুপাতে ভিটামিন, লৌহ ও খনিজের অভাবে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি তৈরি হয়। হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে এবং আমাদেরকে সুস্থ রাখে। সাধারণত কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়। আমরা যদি সেই খাবারগুলো নিয়মিত না খাই তাহলে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়

গর্ভবতী মহিলারা এই সমস্যার সম্মুখীন বেশি হন। গর্ভাবস্থার কারণে তাদের শরীরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমতে থাকে। যার ফলে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ কি হতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • শরীরে যদি আয়রনের অভাব হয় তাহলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়।
  • কারো যদি ক্যান্সার হয়ে থাকে তাহলে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
  • জিনগত কারণে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমতে পারে।
  • ক্ষতস্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।
  • কেউ যদি নিয়মিত রক্তদান করে থাকে তাহলে এ সমস্যাটি হতে পারে।
  • অনেক সময় পেটের আলসার থেকেও হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা তৈরি হতে পারে।
  • ভিটামিনের অভাব হলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
  • যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম রোগ আছে তাদের এই সমস্যাটি হতে পারে।
  • যাদের পাইলসের কারণে রক্তপাত হয় তাদের ক্ষেত্রেও হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
  • যারা অপুষ্টিতে ভোগে তাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পারে না।
  • গর্ভবতী মহিলাদের সাধারণত হিমোগ্লোবিনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।
  • মহিলাদের শরীর থেকে রক্ত কমে যাওয়া আরেকটি প্রধান কারণ হলো ঋতুস্রাব।
  • অনেক সময় বড় ধরনের অপারেশন হওয়ার পরে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
  • হাড়ের মজ্জার মধ্যে রক্ত কণিকা তৈরি হয়। হাড়ের মজ্জার কোন সমস্যা হলে রক্ত তৈরি হতে পারে না। যার ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

হিমোগ্লোবিনের নরমাল রেঞ্জ

সাধারণত নারীদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পুরুষদের মাত্রা চেয়ে সব সময় কম থাকে। মেয়েদের হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা প্রায় সবসময়ই হয়ে থাকে। নারী ও পুরুষদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা বা হিমোগ্লোবিন নরমাল রেঞ্জ হল।

  • পুরুষঃ ১৩.৫-১৭.৫ গ্রাম বা ডেসিলিটার
  • নারীঃ ১২-১৫.৫ গ্রাম বা ডেসিলিটার

এই রেঞ্জের চেয়ে কম পরিমাণ হিমোগ্লোবিন রক্তে থাকলে তাকে রক্তশূন্যতা বা হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা বুঝায়। সাধারণত পুরুষদের রক্তস্বল্পতা সমস্যা খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা প্রায় সবসময়ই লক্ষ্য করা যায়। রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতায় মহিলারা বেশি ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এতটাই কমে যায় যে রক্তের ইঞ্জেকশন বা সরাসরি রক্ত প্রদান করতে হয়। অনেকের আবার রক্ত তৈরি হতে পারেনা, তখন রক্তস্বল্পতার কারণে রক্ত প্রদান করতে হয়।

হিমোগ্লোবিন কম হওয়ার লক্ষণ

আমাদের শরীরে রক্তশূন্যতা নানা ধরনের হয়ে থাকে। এ রক্তশূন্যতা বা রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা দেখা দিলে নানা ধরনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখলে আমরা বুঝতে পারবো যে শরীরের হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

  • শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  • অতিরিক্ত চুল পড়া এবং মুখ, মাড়ি, ঠোঁট, চোখের পাতা নিচে ও গোটা শরীর ফ্যাকাশে দেখায়।
  • হিমোগ্লোবিন মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব হয়। যার কারণে মাথা ঘোরে, এমনকি অজ্ঞান হয়েও যেতে পারে।
  • এই সমস্যা হলে হাত-পা ঠান্ডা ও অবশ হয়ে আসতে পারে।
  • রক্তস্বল্পতা হলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণে বেড়ে যায়।
  • রক্তস্বল্পতার কারণে শরীরের অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরের কিছু কিছু অংশের কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং শরীর ফুলে যায়।
  • রক্তস্বল্পতা হলে বা হিমোগ্লেম কমে গেলে শরীরে প্রচন্ড ক্লান্তি ভাব অনুভূত হয়।
  • রক্তস্বল্পতার কারণে শরীরের রগগুলো টেনে ধরে ও প্রচন্ড যন্ত্রণা করে।
  • হিমোগ্লোবিন কমে গেলে চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হতে পারে।

হিমোগ্লোবিন যুক্ত খাবার

মানুষের শরীরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এই রক্তশূন্যতা বড় ধরনের বিপদ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। রক্তশূন্যতার কারণে আমাদের শরীরে নানা ধরনের অসুখ বাসা বাঁধতে শুরু করে। যা এক সময়ে বড় বড় অসুখের সৃষ্টি করে। আমাদের উচিত নিজের শরীরের খেয়াল রাখা, যেন আমাদের শরীরে কখনো রক্তস্বল্পতা দেখা না দেয়। আমাদের শরীরের রক্ত বৃদ্ধি জন্যে অনেক ধরনের খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে আমাদের শরীরে রক্তের পরিমান ঠিক থাকবে। কোন ধরনের খাবার গুলো খেলে আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবারঃ সাধারণত আয়রনের অভাবে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। তাই আমাদের উচিত আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন আয়রনযুক্ত খাবার রাখা। যেমন-কচুশাক, কচুলতি, কাঁচা কলা, কলিজা, ডিম, দুধ, খেজুর, বেদানা, আপেল, কিসমিস ইত্যাদি খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন বা লৌহ উপাদান রয়েছে। এই খাবারগুলো আমাদের শরীরের রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সবুজ শাকসবজিঃ সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও লৌহ উপাদান রয়েছে। যা খেলে আমাদের শরীরে রক্ত বৃদ্ধি হবে এবং আমাদের শরীর সুস্থ-সবল থাকবে। আমাদের সকলের উচিত আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন সবুজ শাকসবজি রাখা।

ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন সি আমাদের রক্তকণিকাকে পরিশুদ্ধ করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন-পাকা পেঁপে, কমলা, মাল্টা, লেবু, বাতাবি লেবু, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, জলপাই, আমড়া, কামরাঙ্গা, আনারস ইত্যাদি ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি। আমাদের উচিত আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন এ ধরনের যে কোন একটি ফল রাখা।

লোহার বাসনঃ লোহার পাত্রে খাবার রান্না করা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। লোহার তৈরি পাত্রে খাবার রান্না করুন এবং লোহার বাসনে খাবার খান। এই লোহার বাসন-পত্রের মাধ্যমে আপনার শরীরে কিছু পরিমাণ লৌহ উপাদান প্রবেশ করবে। যা আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করবে।

ফলিক অ্যাসিডঃ ফলিক অ্যাসিড এক ধরনের ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। যা শরীরের লাল রক্ত কণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। যেমন-সিমের বিচি, বাদাম, কলা, ফুলকপি, ব্রকলি, পাতাযুক্ত সবজি, ভাত ইত্যাদি ফলিক এসিডের অন্যতম উৎস।

বিটরুটঃ বিটরুটে প্রচুর পরিমাণ আয়রন বা লৌহ উপাদান রয়েছে। এছাড়া আরো রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, তামা, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন সি। বিট সালাদ হিসেবে খাওয়া যায় এবং সবজি হিসেবেও এটি খাওয়া যায়। নিয়মিত বিট খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং রক্তের লোহিত রক্ত কণিকারও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

সজিনা পাতাঃ সজিনা পাতা সকল রোগের মহাঔষধ। সজিনা পাতাতে সকল ধরনের উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। জিংক, তামা, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, খনিজ, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি সহ আরো অনেক ধরনের উপাদান দ্বারা সোজনাপাতা পরিপূর্ণ। আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য মাঝে মাঝে সজিনা পাতা খাওয়া প্রয়োজন।

তিলঃ তিল একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য। তিলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ই, ও ফোলেট জাতীয় উপাদান। তিল আমাদের শরীরের জন্য অনেক পুষ্টিকর এবং এটি আমাদের শরীরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে।

মাংসঃ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রাণিস প্রোটিন। গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির মাংস ও কলিজা আয়রনের অন্যতম উৎস। আমরা যদি আমাদের খাবারের তালিকায় মাংস বা কলিজা রাখি তাহলে আমাদের শরীরে রক্তের ঘাটতি থাকবে না।

সামুদ্রিক মাছঃ সামুদ্রিক মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন ও অন্যান্য খনিজ উপাদান। রক্তশূন্যতা রোগীরা যদি প্রতিদিন তাদের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারে, তাহলে তা রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করবে।

কালাই বা শুটি জাতীয় খাদ্যঃ ছোলা, সয়াবিন, কালায় ও বিনজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন মজুদ থাকে। আমরা যদি আমাদের খাদ্যে তালিকায় এ ধরনের খাবার রাখি, তাহলে তা আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

ডার্ক চকলেটঃ ছোট বড় আমাদের সবারই একটি প্রিয় খাবার ডার্ক চকলেট। ডার্ক চকলেটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে আমরা এ ডার্ক চকলেট খেতে পারি। এটি একটি হিমোগ্লোবিন যুক্ত খাবার।

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত থাকা দরকার

গর্ভাবস্থায় নারীদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। যার কারণে গর্ভের শিশু সুস্থ ভাবে বের উঠতে পারে না। এজন্য প্রত্যেকের উচিত গর্ভবতী নারীদের প্রতি যত্নশীল হওয়া। গর্ভাবস্থায় যাতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে না যায় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে যে পরিমাণ হিমোগ্লোবিন থাকা প্রয়োজন তা নিচে আলোচনা করা হলো।

  • স্বাভাবিক অবস্থায়ঃ ১২-১৫.৫ গ্রাম বা ডেসিলিটার
  • গর্ভাবস্থার প্রথম মাসেঃ ১১.৫-১৩.৫ গ্রাম বা ডেসিলিটার
  • গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় মাসেঃ ৯.৭-১৪.৮ গ্রাম বা ডেসিলিটার
  • গর্ভাবস্থার তৃতীয় মাসেঃ ৯.৫-১৫ গ্রাম বা ডেসিলিটার

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতার লক্ষণ

সাধারণত গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বেশি হয়ে থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। নরমাল সময় তুলনায় নারীদের শরীরে সময় রক্তের পরিমাণ অনেক কমে যায়। যার ফলে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। শরীরে রক্তশূন্যতা হলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দেয় যা দেখে আমরা ধারণা করতে পারি যে শরীর রক্তশূন্য হয়ে গেছে। গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতার লক্ষণ গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

  • শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করার মতো সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে গেছে।
  • গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্ত কমে গেলে প্রচন্ড মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরার মত সমস্যা শুরু হবে।
  • বুকের মধ্যে দ্রুত হৃদস্পন্দন অনুভব হবে এবং নিশ্বাস নিতে সমস্যা হবে।
  • বুকে ব্যথা ও গোটা শরীরে ব্যথা অনুভব হবে ও শরীর ঠান্ডা হয়ে আসবে।
  • শরীরে রক্তের পরিমাণের মাত্রা কমে গেলে ত্বক ও চোখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  • জিহ্বা ও মুখের ভিতরে ঘা সৃষ্টি হবে এবং প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হবে।
  • বমি বমি ভাব ও খাবারের প্রচন্ড রুচি দেখা দিবে।
  • রক্তস্বল্পতা হলে শরীরের রগগুলো টেনে ধরবে ও প্রচন্ড যন্ত্রণা করবে।
  • চোখ প্রচন্ড ব্যথা করবে ও চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হবে।
  • রক্তস্বল্পতা হলে শরীর প্রচন্ড দুর্বল হয়ে সবসময় ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হবে।
  • পেট ফেঁপে যাবে, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিবে।

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

সব নারীদেরই গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ অনেক কমে যায়। এজন্য আমাদের উচিত গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া। আমরা যদি গর্ভবতী নারীদের প্রতি যত্নশীল না হই তাহলে তার গর্ভের সন্তান সুস্থ ভাবে পৃথিবীতে আসতে পারবে না। এজন্য আমাদের উচিত গর্ভাবস্থায় নারীদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ও যত্ন নেওয়া। নারীদের গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত তা নিচে আলোচনা করা হলো।

  • গর্ভাবস্থায় নারীদের অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খাওয়াতে হবে।
  • কচুর শাক, কলার মোচা, কলার ভাদল এই সবে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে। যা গর্ভাবস্থায় খাওয়ালে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
  • এ সময় রোগীকে দুধ ও ডিম নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
  • রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির মাংস ও কলিজা খাওয়ান।
  • রক্ত বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন পালং শাক, লাল শাক, সবুজ শাক, পুঁইশাক ইত্যাদি খাওয়ান।
  • খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে এজন্য গর্ভবতী অবস্থায় রোগীকে খেজুর নিয়মিত খেতে দিন।
  • আয়রনের ভালো উৎস হল সামুদ্রিক মাছ। এছাড়া দেশীয় মাছ যেমন-শিং মাছ, টেংরা মাছ, কৈ মাছ ও অন্যান্য ছোট মাছ খাওয়াতে পারেন।
  • এ সময় ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল খাওয়াতে হবে। এতে করে রক্তস্বল্পতার যে সমস্যা রয়েছে তা দূর হবে এবং রক্ত কণিকা পরিশুদ্ধ হবে।
  • এ সময় রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাদ্য যেমন- ডাল, স্যুপ, ডাবের পানি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে।
  • সিমের বিচি, বাদাম, কলা, ফুলকপি, ব্রকলি, পাতাযুক্ত সবজি, ভাত ইত্যাদি ফলিক এসিডের অন্যতম উৎস। গর্ভাবস্থায় অবশ্যই ফলিক এসিডযুক্ত খাবারগুলো খাওয়াতে হবে।
  • কাঁচা ও পাকা কলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। যা গর্ভবতীকে খাওয়ালে রক্তস্বল্পতা হাত থেকে রক্ষা পাবে।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির ঔষধ  

বিভিন্ন ধরনের খাবারের পাশাপাশি রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির ঔষধও রয়েছে যেগুলো খেলে আমাদের শরীরের রক্তশূন্যতা দূর হয় বা রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। নিচে রক্ত হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির কিছু ঔষধের নাম উল্লেখ করা হলো।

  • Feofol CI Capsule
  • Pregmin Capsule
  • Fer Capsule
  • Ferromax Capsule
  • Filofer Capsule
  • Malifa Capsule
  • Hemofix FZ Tablet
  • Aristofol Fe Tablet
  • Zepiron Plus Capsule
  • Zeefol CI Capsule
  • Zif CI Capsule
  • Zifocap Capsule
  • Folzin CI Capsule
  • Ferozi CI Capsule
  • Feviz PLUS Capsule
  • Ipec-plus Tablet

বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় কি এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে। আমরা এটাও জানতে পারলাম যে শরীরের রক্তের পরিমাণ কমে গেলে কি ধরনের খাবার খেলে আমরা শরীরে রক্ত বৃদ্ধি করতে পারব।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে এবং যদি কোন উপকারে এসে থাকে। তাহলে এই পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করে দেবেন ও অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url