পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা যা জানা জরুরী

গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকাপ্রিয় পাঠক, আজকে আমি পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব। আমরা সকলেই কমবেশি পেয়ারা খেতে ভালবাসি। পেয়ারা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাদ্য। কিন্তু আমরা অনেকেই পেয়ারার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অবগত নই। তাই আজকে আমি আমার এই পোস্টে পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতার দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

তাই আপনারা যারা পেয়ারার খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে আপনারা এই পোস্ট থেকে পেয়ারা সম্পর্কে অনেক ধরনের তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃপেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা যা জানা জরুরী

ভূমিকা

আমরা সবাই জানি পেয়ারা একটি দেশি ফল হলেও এটির পুষ্টিগুণ অতুলনীয়। এর পুষ্টিগুণ অন্যান্য বিদেশি ফলের চেয়ে অনেক বেশি। এটি একটি বারোমাসি একটি ফল। তাই আমরা সবসময় এই ফলটি হাতের কাছে পেয়ে থাকি। পেয়ারা থেকে শুরু করে পেয়ারার পাতা পর্যন্ত নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। আমাদের নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া উচিত। আজ আমরা পেয়ারার খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানবো।

পেয়ারার পুষ্টিগুণ

সারা বছর পাওয়া যায় এমন একটি ফল হল পেয়ারা। এই ফল সস্তা ও খেতেও সুস্বাদু। পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানের পুষ্টিগুণ উপাদান। যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। পুষ্টি সমৃদ্ধ পেয়ারায় রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি পেয়ারাতে প্রায় চারটি কমলালেবুর সমান ভিটামিন-সি রয়েছে। একটি পেয়ারায় রয়েছে চারটি আপেল ও চারটি কমলা লেবুর সমান পুষ্টিগুণ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও খনিজ সহ নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারাতে রয়েছে-

  • পানি- ৮৬.১০ গ্রাম
  • ক্যালোরি- ৫১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি- ২২৮.৩ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন- ০.৮২ গ্রাম
  • আশঁ- ৫.৪ গ্রাম
  • সোডিয়াম- ৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ- ৭৯২ আই ইউ
  • স্নেহ- ১.১ গ্রাম
  • মিনারেল- ০.৬ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট- ১৫.২ গ্রাম
  • থায়ামিন- ০.৩ গ্রাম
  • রিবোফ্লেভিন- ০.৩ গ্রাম
  • আয়রন- ১. ৪ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ২৮ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম- ২০ মিলিগ্রাম
  • চর্বি- ০.৯ গ্রাম
  • ফলিক অ্যাসিড- ৪৯ মাইক্রগ্রাম
  • পটাশিয়াম- ৪১৭ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম- ২২ মিলিগ্রাম
  • নিয়াসিন- ১.২ মিলিগ্রাম
  • শর্করা- ২০ গ্রাম
  • আমিষ- ৫ গ্রাম

এছাড়া পেয়ারাতে আরো রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, সেলিনিয়াম, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন বি ৩, ওমেগা-৩, ওমেগা-৬।

দিনে কতটুকু পেয়ারা খাওয়া উচিত

পেয়ারা একটি অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু দেশি ফল যা প্রায় সারা বছরই আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এটি খেতেও যেমন সুস্বাদু তেমনি এটির পুষ্টিগুণও অনেক। কিন্তু অতিরিক্ত পেয়ারা খেলে আমাদের শরীরের নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। এজন্য পেয়ারা খাওয়ার আগে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণত দিনে একটি পেয়ারা খাওয়াই যথেষ্ট। আর যাদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে একটার অর্ধেক খাওয়াই উত্তম। পেয়ারা কখনোই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

ভারী খাবার খাওয়ার পরেই পেয়ারা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সকালে খালি পেটে এবং রাত্রে ঘুমানোর আগে কখনোই পেয়ারা খাবেন না। এতে করে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ও ছোটদের দিনে ছোট সাইজের একটা পেয়ারা খাওয়া যাবে এবং যারা প্রাপ্তবয়স্ক ও যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা বড় সাইজের একটা খেতে পারবে।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

পেয়ারা অনেক পুষ্টিকুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে অনেক ধরনের উপাদান রয়েছে। এজন্য পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। আমরা অনেকেই পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তেমন একটা জানি না। তাই পেয়ারা খেলে কি ধরনের উপকার পাওয়া যায় তা নিচে আলোচনা করা হলো।

চোখ ভালো রাখেঃ ভিটামিন এ আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। আর পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, যা খেলে আমাদের চোখ ভালো থাকবে। চোখের সমস্যা হওয়ার চান্স অনেক কমে যাবে। তাই আমাদের প্রতিদিন পেয়ারা খাওয়া উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরঃ পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার উপাদান যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর ফলে আমাদের দেহে কোথাও কেটে গেলে সেই ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধঃ ক্যান্সার প্রতিরোধে পেয়ারা খুব ভালো কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও লাইকোপেন ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ নিয়মিত পেয়ারা খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে আসে। পেয়ারাতে থাকা পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

হার্টের সুরক্ষাঃ পেয়ারাতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকে এবং ফাইবার ও পটাশিয়াম অনেক বেশি থাকে। এজন্য পেয়ারা হার্টের সমস্যা হতে দেয় না।

ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করাঃ ঠান্ডা জড়িত সমস্যা যেমন- শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি ইত্যাদিতে পেয়ারা খেলে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এতে থাকা আয়রন এবং ভিটামিন সি শ্লেষ্মা কমিয়ে দেয়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণঃ পেয়ারার ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যা আমাদের শরীর ঠিক রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরী।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধঃ পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডায়াবেটিস রোগীরা যদি প্রতিদিন দিনে একটা করে পেয়ারা খায় তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

দাঁত ভালো থাকেঃ পেটে থাকা ভিটামিন আমাদের দাঁত ভালো রাখতে সহায়তা করে। পেয়ারা চিবিয়ে খেলে দাঁত শক্ত ও মজবুত হয়। এজন্য আমাদের প্রতিদিন কমপক্ষে একটা করে হলেও পেয়ারা খাওয়া উচিত।

ত্বক ও চুল ভালো রাখেঃ পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি যা আমাদের ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের রুক্ষ ভাব ও পা ফাটা রোধ করে। এজন্য আমাদের নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া উচিত।

অক্সিজেন বৃদ্ধিঃ পেয়ারাতে থাকা ভিটামিন বি ৩ ও ভিটামিন বি ৬ আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিজেন বৃদ্ধি করে রক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক গুণে বৃদ্ধি পায়।

গর্ভাবস্থায় ভালোঃ পেয়ারাতে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড যা পেটের সন্তানের ভ্রুনের ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। এইজন্য গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন অন্তত একটি করে পেয়ারা খাওয়া উচিত।

মানসিক চাপ কমায়ঃ পেয়ারার মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা পেশী ও স্নায়ু শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এজন্য যারা কঠোর পরিশ্রম করেন তারা যদি প্রতিদিন পেয়ারা খান তাহলে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

পেয়ারা খাওয়ার অপকারিতা

পেয়ারা খাওয়ার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় পেয়ারা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় পেয়ারা খেলে অনেক সময় আমাদের হজম করতে সমস্যা হয় এজন্য নানা ধরনের পেটের সমস্যা হতে পারে। আমরা অনেকেই পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বেশি কিছু একটা জানি না। তাই নিচে পেয়ারা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

সর্দি-কাশিঃ পেয়ারা ঠান্ডা জাতীয় ফল, এটি অধিক পরিমাণে খেলে সর্দি-কাশি মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য যারা সর্দি-কাশিতে ভুগছেন তারা অবশ্যই পেয়ারা না খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর যদি খেতে চান তাহলে অল্প পরিমাণ খাবেন।

গর্ভাবস্থায়ঃ গর্ভাবস্থায় অধিক পরিমাণে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত গর্ভাবস্থায় গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে তাই এ সময় অতিরিক্ত পরিমাণে পেয়ারা খেলে গ্যাসের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য গর্ভবতী মাকে পেয়ারা সাবধানে খেতে হবে।

পেটের সমস্যাঃ পেয়ারায় অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে। যা অধিক পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া ও আমাশয় এর মত পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এজন্য যাদের এ ধরনের পেটের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই অল্প পরিমাণে পেয়ারা খাবেন অথবা পারলে এগিয়ে চলবেন।

গ্যাসের সমস্যাঃ পেয়ারায় থাকা উপাদান অনেক সময় গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে। আপনার যদি আগে থেকেই গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই পেয়ারা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আর যদি খেতে চান তাহলে অতি অল্প পরিমাণে খান।

দাঁতে ব্যথাঃ যাদের দাঁতের সমস্যা আছে তাদের পেয়ারা না খাওয়াই ভালো। যেহেতু পেয়ারা একটি শক্ত ফল ও এর বিচি আরও শক্ত হয় সেহেতু এটি খেলে আপনার দাঁতে আঘাত লাগতে পারে। এতে করে আপনার দাঁত আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এলার্জি সমস্যাঃ অনেকেরই কিছু কিছু খাবারে এলার্জি হয়ে থাকে। আপনার যদি পেয়ারা খেলে এলার্জি সমস্যা হয় তাদের অবশ্যই পেয়ারা এড়িয়ে চলুন। এতে করে আপনার এলার্জি সমস্যা সৃষ্টি হবে না।

ডায়াবেটিস সমস্যাঃ পেয়ারা একটি মিষ্টি ফল এতে রয়েছে অধিক পরিমাণে সুগার। যা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। এজন্য যাদের অতিরিক্ত মাত্রায় ডায়াবেটিস রয়েছে তারা অবশ্যই অল্প পরিমাণে পেয়ারা খাবেন। অধিক পরিমাণে পেয়ারা খেলে ডায়াবেটিসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

হজম সমস্যাঃ পেয়ারাতে থাকা বিচি অনেক শক্ত হয়। এ কারণে এ বিচি হজম করতে সমস্যা হতে পারে। এজন্য যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা অধিক পেয়ারা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে বিচি ফেলে দিয়ে বাকি অংশটুকু খেতে পারেন।

পেয়ারা খেলে কি ওজন বাড়ে

পেয়ারা খেলে কি ওজন বাড়ে এ প্রশ্ন আমাদের সকলের মনেই এসে থাকে। আজকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ যা শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ফাইবার যা পরিপাক হতে অনেক সময় লাগে। যার ফলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং সহজে ক্ষুধা লাগে না। প্রতিদিন পেয়ারা খেলে আপনার দৈনিক ফাইবারের চাহিদার ১২ শতাংশ পর্যন্ত পূর্ণ হয়। এটি পেটের বাড়তি মেথ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও পেয়ারা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আর এর ফলে পরিপাক ক্রিয়া সুস্থ থাকে যার প্রভাব পড়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের উপর।

১০০ গ্রাম পেয়ারাতে রয়েছে মাত্র ৫১ মিলিগ্রাম ক্যালরি। এজন্য নিয়মিত পেয়ারা খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। যারা ডায়েট করে থাকেন তারা নির্দ্বিধায় ডায়েট চাটে পেয়ারা রাখতে পারেন। এতে করে শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে এবং ক্যালরির পরিমাণও বাড়বে না। পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

পেয়ারা পাতার উপকারিতা

পেয়ারার সাথে সাথে পেয়ারা পাতারও অনেক উপকারিতা রয়েছে। পেয়ারা পাতার উপকারিতার দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • পেয়ারা পাতায় রয়েছে ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা যা পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে এবং পেটের হজম সমস্যা দূর করে দেয়। পেট পরিষ্কার রাখতে ৪-৫ টি পেয়ারা পাতা কিছু পরিমাণ পানির সাথে সিদ্ধ করুন এবং এই পানি পান করুন।
  • পেয়ারা পাতায় রয়েছে ব্যাকটেরিয়ারোধী গুণাগুণ যা মুখের দাগ ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। পানিতে কয়েকটি পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • পেয়ারা পাতা রস চুলে নানা ধরনের সমস্যা দূর করে চুলের গোড়া শক্ত করে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
  • দাঁতের জন্য পেয়ারা পাতা খুবই উপকারী। দাঁতে যে কোন সমস্যা হলে কয়েকটি কচি পেয়ারা পাতা মুখের ভেতর নিয়ে কিছু সময় ধরে চিবালে দাঁতের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।
  • পেয়ারা পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীরা যদি প্রতিদিন পেয়ারা পাতার রস সেবন করে তাহলে তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।
  • পেয়ারা পাতায় অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ভালো কাজ করে। পোকামাকড় কামড়ালে সেখানে পেয়ারা পাতার রস ব্যবহার করলে খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়।
  • পেয়ারা পাতায় থাকা উপাদান নারী-পুরুষের গোপনীয় রোগ ভালো করতে সাহায্য করে।
  • পেয়ারা পাতায় থাকা গুনাগুন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টরেল, ডায়াবেটিস সহ নানারকমের অসুখ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা পেয়ারার নানা ধরনের পুষ্টিগুণ, পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম। ফলের মধ্যে পেয়ারা একটি আদর্শ ফল যা আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কথায় পেয়ারার অপকারিতার চাইতে উপকারিতায়ই সবচেয়ে বেশি। এজন্য আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খাওয়া।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, পেয়ারা নিয়ে লেখা আমার এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করে দিবেন এবং আরো পোস্ট পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url