মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরী

পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নিবপ্রিয় পাঠক, আমরা সকলেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। মোবাইল ফোন আমাদের জন্য যেমন আশীর্বাদ তেমনি অভিশাপও। শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ব্যবহার আজকাল দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অপব্যবহারও হচ্ছে। এজন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় আমাদেরকে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আজকে আমি আমার এই পোস্টে মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরবো।

মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা

তাই আপনারা যারা মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনারা মোবা ইল ফোন ব্যবহারের ভালো দিক ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃমোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরী 

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে মোবাইল হল মানুষের কাছে একটি অপরিহার্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এটির মাধ্যমে আমরা সকল ধরনের যোগাযোগ করতে পারি পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে। মোবাইল ফোন দ্বারা বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে কথাবার্তা আদান প্রদান করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে আমরা মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারি না। মোবাইল ফোনের ব্যবহারে যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। আমাদের সকলকেই মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে।

মোবাইল ফোন এর জনক

মোবাইল ফোনের জনক হলেন ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কুপার। তিনি ২৬ ডিসেম্বর ১৯২৮ সালে আমেরিকার ইলিনয়িস রাজ্যের শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তারবিহীন টেলিফোন শিল্প হিসেবে সর্বপ্রথম মোবাইল ফোনের আবিষ্কার করেন। মার্টিন কুপার কাজ করতেন একটি ছোট টেলিকম কোম্পানি মটোরোলায়। সে সময় থেকেই তিনি তারবিহীন মোবাইল ফোন আবিষ্কারের কথা চিন্তা করেন। এই তারবিহীন মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে থাকবে সে চিন্তা থেকেই সর্বপ্রথম ৩ এপ্রিল ১৯৭৩ সালে মোবাইল ফোন আবিষ্কার করেন।

আরও পড়ুনঃ  শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে করণীয়

তার আবিষ্কৃত প্রথম মোবাইল ফোনটি ছিল ১০ ইঞ্চি লম্বা, ২ ইঞ্চি চওড়া এবং ৪ ইঞ্চি উঁচু। মোবাইল ফোনটি ছিল অনেক ভারী এবং ২০ -৩০ মিনিটের মত কথা বলার পরে ব্যাটারি শেষ হয়ে যেত। এই মোবাইল আবিষ্কারের ১০ বছর পর ১৯৮৩ সালে মটোরোলা মোবাইল কোম্পানি সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে আরেকটি মডেল আবিষ্কার করেন। এই কোম্পানি Motorola Dyna TAC 8000X মডেলটি সর্বপ্রথম জনসাধারণের জন্য বাজারজাত করে। এরপর থেকে মোবাইল ফোন আরো উন্নত হতে হতে বর্তমান অবস্থা এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে আমাদের হাতে যে মোবাইল ফোনটি রয়েছে তার অবদান একমাত্র মার্টিন কুপারের।

দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের সাথে অতি ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আমরা বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাই করতে পারি না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের ব্যবহার গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • কথা বলার ও যোগাযোগের জন্য আমরা সব সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করি।
  • শিক্ষামূলক কাজের জন্য শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাক।
  • বিনোদন পাওয়ার জন্য আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি।
  • ছবি তোলা ও ভিডিও করার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়।
  • মোবাইল ফোন দ্বারা মেসেজ বা চ্যাটিং এর মাধ্যমে অন্যের সাথে কথা আদান প্রদান করা হয়।
  • নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার জন্য আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করি মোবাইলের মাধ্যমে।
  • বাচ্চারা মোবাইলে গেম খেলে তাদের সময় কাটায়।
  • হিসাব-নিকাশ করার জন্য আমরা মোবাইলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করি।
  • অন্ধকারে আমরা টর্চ লাইটের পরিবর্তে মোবাইলের টর্চ ব্যবহার করি।
  • মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অনলাইনে কেনাকাটা করে থাকি।
  • মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি একাউন্ট খুলে ঘরে বসে খুব সহজেই টাকা লেনদেন করতে পারি।
  • আমরা বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল বা পোস্ট মোবাইলের মাধ্যমে বেশি পড়ে থাকি। কারণ মোবাইল দিয়ে যে কোন অবস্থাতেই পড়া সম্ভব।

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ব্যবহার

শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইলে ব্যবহার অনেক গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের কোর্স করে থাকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

অনলাইনে ক্লাসঃ আজকাল শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় না গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস করে থাকে।Zoom App এর মাধ্যমে Zoom-এ সরাসরি ঘরে বসে ক্লাস করতে পারে। এতে করে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই মোবাইল ব্যবহার করে সরাসরি ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারে।

অনলাইন কোর্সঃ আজকাল শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে নানা ধরনের কোর্স করানো হয়। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের শিক্ষা বিষয়ক কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারে। এভাবে শিক্ষার্থীরা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে নানারকম শিক্ষামূলক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এ অনলাইন কোর্স করার জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে অনলাইনে সকল ধরনের কোর্স করা খুবই সহজ।

ই-লার্নিং সুবিধাঃ গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ই-বুক ব্যবস্থা করা রয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বই না কিনেই অনলাইনে বই পড়তে পারবে। ই-লার্নিং সুবিধা পাওয়ার জন্য মোবাইলের মাধ্যমে E Book ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের সুবিধা লাভ করে থাকে।

অনলাইন একাডেমি কার্যক্রমঃ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় না গিয়েও বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন, বেতন দেওয়া, পরীক্ষার ফি দেওয়া, পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া ইত্যাদি এখন ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে পেয়ে যাওয়া অনেক সহজ। মোবাইল থাকার কারণে এখন আর কষ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

শিশু শিক্ষাঃ বর্তমানে বড়দের সাথে সাথে শিশুরাও অনেক বেশি মোবাইলের ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ইউটিউব ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক অ্যাপস এর মাধ্যমে শিশুরা বর্ণমালার পরিচয় ও ছড়া গানের মাধ্যমে ছড়া বা কবিতা শেখার সুযোগ পায়। এতে করে শিশুরা খুব সহজেই আনন্দের সাথে পড়াশোনার বিষয়ে অনেক কিছু শিখে ফেলে। এছাড়া কবিতা আবৃতি, গান, নাচ ইত্যাদি অ্যাক্টিভিটিস মোবাইলে দেখে ও শুনে শিখে ফেলে।

মোবাইল ফোনের উপকারিতা

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সময়ে আমরা মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারি না। মোবাইল ফোন আমাদের অনেক উপকারে লাগে। মোবাইল ফোনের উপকারিতা সম্পর্কে নিচে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

যোগাযোগ মাধ্যমঃ মোবাইল ফোনের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে উপকারী দিক হলো যোগাযোগের মাধ্যম এটি। এটির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকে যে কোনো সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। বর্তমান সময়ে মোবাইল এর মাধ্যমে আমরা ভয়েস কলের সাথে সাথে ভিডিও কলও করতে পারি। অর্থাৎ কথা শোনার পাশাপাশি আমরা তাদেরকে সরাসরি দেখতেও পাই। এতে করে তাদের সাথে দেখা সাক্ষাতের কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

ইন্টারনেট সুবিধাঃ বর্তমান সময়ে মোবাইল দ্বারা আমরা ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারছি। অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন ব্যক্তির সাথে কথা বলা, বন্ধুত্ব তৈরি করা, অনলাইন কেনাকাটা, অনলাইন ব্যবসা, ভিডিও ক্যালিং, চ্যাটিং, অনলাইনে ভিডিও দেখা, বিভিন্ন ধরনের পোস্ট পড়া ইত্যাদি মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকি। মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই আমরা সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছি।

মোবাইল ব্যাংকিংঃ আমাদের হাতে যদি একটি মোবাইল ফোন থাকে তাহলে ব্যাংককে না গিয়ে ঘরে বসে 'মোবাইল ব্যাংকিং' এর মাধ্যমে সকল ব্যাংকিং কাজগুলো করতে পারব। মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো, টাকা গ্রহণ করা, ডেবিট কার্ড এপ্লাই করা, চেক বুক অ্যাপ্লাই করা এইসব কাজগুলো করা সম্ভব। এতে করে আমাদের যেমন সময়ও বেঁচে যাবে, তেমনি সহজেই কাজগুলো সম্পন্ন করাও সম্ভব হবে।

মোবাইল দিয়ে ইনকামঃ ঘরে বসে ইনকাম করতে হলে অবশ্যই একটি মোবাইল ফোন থাকতে হবে। আজকাল অনেকেই মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপসগুলো ব্যবহার করে ঘরে বসে ইনকাম করছে। বর্তমান সময়ে মোবাইল ব্যবহার করে অনেকেই ইউটিউব থেকে টাকা আয় ও ব্লগিং করে টাকা আয় করছেন। পার্ট-টাইম কাজ করে টাকা ইনকামের ক্ষেত্র হিসেবে মোবাইলের ভূমিকা অপরিহার্য।

অনলাইন শপিংঃ আজকাল কেউ কষ্ট করে বাজারে গিয়ে শপিং করার চাইতে ঘরে বসে অনলাইনে শপিং করতে বেশি পছন্দ করে থাকেন। মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা শপিং করে থাকি। তাই অনলাইনে কেনাকাটা করার জন্য একটি মোবাইল ফোন হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরী। এতে করে আমরা খুব সহজেই কেনাকাটার কাজটি করতে পারি।

টর্চ লাইটঃ মোবাইলের টর্চলাইট থাকার কারণে সহজেই আমরা অন্ধকারে আলোর ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের অতিরিক্ত কোন টর্চ কাছে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইলে টস ব্যবহার করে আমরা অন্ধকার রাস্তাঘাটে অনায়াসে চলাফেরা করতে পারি।

পড়াশোনাঃ মোবাইলের ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আমরা নানা ধরনের পড়াশোনার অ্যাপস নামিয়ে পড়তে পারি। এতে করে আমাদের সঙ্গে বইপত্র রাখার প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইল থেকেই আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পড়ে ফেলতে পারি।

রিচার্জ এবং বিল পেমেন্টঃ এখন আমরা মোবাইলের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করতে পারি। বাহিরের দোকানে গিয়ে আমাদেরকে আর রিচার্জ করার প্রয়োজন পরে না। এছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, জমির ট্যাক্স, বাড়ির ট্যাক্স ইত্যাদি আমরা খুব সহজেই পেইড করে দিতে পারি।

খবর দেখাঃ আমাদেরকে এখন আর টেলিভিশনের সামনে খবর দেখার জন্য বসে থাকা প্রয়োজন পরে না। আমরা চাইলেই মোবাইলে মাধ্যমে যে কোন জায়গায় বসে দেশের নানা ধরনের খবর দেখতে পারি। এতে করে আমরা খুব কম সময়ে সকল খবর জানতে পারি।

কৃষি কাজেঃ আজকাল মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ইউটিউব বা গুগলে সার্চ দিয়ে খুব সহজেই কৃষি বিষয়ক অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এতে করে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি খুব সহজেই পেয়ে যেতে পারে। ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি, বীজ নির্বাচন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ পদ্ধতি, চাষাবাদ পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি অনেক জ্ঞান লাভ করতে পারে। এতে করে কৃষকরা খুব দ্রুত তাদের কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে পারে এবং উন্নত ফসল ফলাতে সক্ষম হয়।

চাকরির ক্ষেত্রেঃ বর্তমানে চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ক্লাস, শিক্ষা বার্তা, বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর, কোন চাকরির জন্য কোন ধরনের প্রশ্ন হতে পারে, মৌখিক পরীক্ষা কেমন ধরনের হতে পারে , ভাইবা বোর্ডে কি ধরনের প্রশ্ন ধরতে পারে, ভাইবা বোর্ডে আচার-আচরণ কেমন হতে হবে ইত্যাদি বিষয় এবং চাকরির বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে খুব সহজেই জানা যায়। আর এ সকল বিষয়েগুলো জানতে হলে অবশ্যই আমাদের হাতে মোবাইল ফোন থাকতে হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেঃ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে আজকাল অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য চালু হয়েছে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য করার নিয়ম-কানুন ও কোন ব্যবসা-বাণিজ্য করলে ভালো হবে সে বিষয়ে আমরা ইন্টারনেটে খুব সহজেই সব তথ্য বিস্তারিত জানতে পারি।

মোবাইলের ফোনের অপকারিতা

মোবাইল ফোন ব্যবহারের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমন অপকারিতা রয়েছে। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। নিচে মোবাইল ফোনের অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

চোখের সমস্যা তৈরিঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ফলে আমাদের চোখের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- চোখ জ্বালাপোড়া করা, চোখ ব্যথা করা, চোখ চুলকানো, চোখ ফুলে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখে ক্লান্তি ভাব আসা সহ আরো অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

শরীরে ক্লান্তি ভাবঃ মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শরীরে ক্লান্তি ভাব চলে আসে এবং মাথা সবসময় ঘুরতে থাকে। এতে করে শরীর মেজমেজ করে ও কোন কাজ করতে গেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

কানের সমস্যাঃ অনেকে মোবাইল ব্যবহার করার সময় কানে হেডফোন লাগিয়ে থাকে। হেডফোন ব্যবহারের ফলে কানের মধ্যে অতিরিক্ত শব্দ ঢুকে যার ফলে কানের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে কানের শ্রবণ শক্তি কমে যায়।

শুক্রাণু কমে যেতে পারেঃ গবেষকদের মতে, মোবাইল ফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয় যা ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যান্সারে সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে আমাদের শরীরের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। গবেষণা দাবি করেন যে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যার ফলে শুক্রাণুর ঘনত্ব অনেক কমে আসে।

ঘুমের ব্যাঘাতঃ মোবাইল ফোন ব্যবহারের একটি ক্ষতিকর দিক হলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সহজে ঘুম আসেনা। অনেকে আবার মোবাইল ফোন দেখে রাত পার করে দেয়। এতে করে ঠিকঠাক মতো ঘুম হয় না, এর ফলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এছাড়া ঘুমের মধ্যে যখন-তখন রিংটোন বেজে ওঠে এটিও একটি বিরক্তিকর বিষয়। এর ফলেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।

ডিপ্রেশনে ভোগাঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ডিপ্রেশনে ভোগার একটি অন্যতম কারণ। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ঘুম কম হয় এবং স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে ডিপ্রেশনের দিকে অনেকেই চলে যায়।

পড়াশোনার ক্ষতিঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। ছোট ছোট কোমল শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের নেশায় পড়ে পড়াশোনা করতে চায় না। তারা সব সময় মোবাইল ফোন নিয়েই পড়ে থাকে, যার ফলে পড়াশোনার প্রতি তাদের মনোযোগ একেবারে হারিয়ে যায়।

সময়ের অপচয়ঃ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা মানেই সময়ের অপচয় করা। অনেকে আছে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল ফোন নিয়েই পড়ে থাকে। এতে করে সময়ের ব্যাপক অপচয় ঘটে, যার ফলে সময়ের কাজ সময়ে করা সম্ভব হয় না।

অতিরিক্ত খরচঃ আজকাল মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে সকলেই। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে ও কথা বলতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এতে করে হাত খরচ অনেক গুনে বেড়ে যায়। এছাড়া বাজারে নতুন নতুন মোবাইল আসলে অনেকেই তা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে কিনে ফেলে।

নিরাপত্তার অভাবঃ আমরা সকলেই মোবাইলের মধ্যে আমাদের ছবি, ইমেজ, ভিডিও, ফাইল, ডকুমেন্ট ও নানা ধরনের পার্সোনাল জিনিস সেভ করে রেখে দেই। আমাদের মোবাইল ফোনটি যদি চুরি হয়ে যায় তাহলে এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অন্যের হাতে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে এতে করে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকি।

দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকেঃ অনেকেই মোবাইল ফোনেকথা বলতে বলতে রাস্তা পার হয়, বাইক ও গাড়ি চালায়। এতে করে যেকোনো সময় বড় ধরনের এক্সিডেন্ট হতে পারে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় এবং রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইলে কথা বলে এবং এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সময়ের অভাবঃ মোবাইল ফোন আমাদের প্রত্যেকের হাতে হাতে রয়েছে। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার একটি নেশার মতো হয়ে গেছে। আমরা যেন এক মুহূর্ত মোবাইল ফোন ছাড়া চলতে পারি না। পরিবারে প্রত্যেক সদস্যের হাতে মোবাইল ফোন থাকার কারণে আমরা একে অন্যকে সময় দিতে চাই না। সব সময় মোবাইল ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকি, এজন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন ও সুসম্পর্ক দিন দিন কমে আসছে।

খারাপ কাজে ব্যবহারঃ বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন অনেক ধরনের খারাপ কাজ বা মন্দ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। যুব সমাজের ছেলে-মেয়েরা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নানা ধরনের খারাপ ছবি ও ভিডিও দেখে এবং খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। এতে করে আমাদের যুব সমাজ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

হার্টের সমস্যাঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়া সম্ভাবনা থাকে। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত শব্দ ও হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়ে হার্টের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। যার কারণে বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে।

মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচার উপায়

মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের উপকারের চাইতে উপকার বা ক্ষতির দিকগুলোই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। এই অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক থেকে আমাদের সমাজকে বাঁচাতে হবে। তাই মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচার উপায়গুলো আমাদের জেনে রাখা জরুরী। এতে করে আমরা মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে বাঁচতে পারব। নিচে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে বাঁচার উপায় তুলে ধরা হলো।

  • মোবাইল ফোন নানা ধরনের চোখের জটিলতা বা সমস্যা সৃষ্টি করে। এজন্য অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা একেবারে কমিয়ে দিতে হবে।
  • বাচ্চাদের মোবাইল ফোন দেখা থেকে দূরে রাখার জন্য তাদেরকে নানা ধরনের খেলনা কিনে দিতে হবে এবং তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
  • পরিবারের সকল সদস্যের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সীমিত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে।
  • মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়াতে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • প্রয়োজন ছাড়া অযথা মোবাইল ফোন কাছে রাখা যাবে না।
  • রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় মোবাইলে কথা বলা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ফেসবুক চালানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ঘুমানোর সময় পারলে আপনার ফোনের রিংটোন বন্ধ করে রাখবেন। এতে করে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না।
  • আপনার বাচ্চাদের সামনে কখনোই মোবাইল ফোনের অযথা ব্যবহার করবেন না। মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে তাদেরকে সময় দিন।
  • যে সকল অ্যাপসগুলো বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর সে সকলে অ্যাপসগুলো আপনার ফোনে রাখবেন না। এতে করে আপনার বাচ্চারা মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করবে।
  • আজকাল অনেক ছেলে-মেয়েরাই হেডফোন অতিরিক্ত ব্যবহার করে থাকে। এই হেডফোন ব্যবহার করলে কানের নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। এজন্য অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।
  • একটানা কয়েক ঘন্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে, কিছুক্ষণ পর পর বিরতি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
  • বড়দের সব সময় ছোটদেরকে মোবাইলের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা সকলেই মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানতে পারলাম। মোবাইল ফোনের উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনি তার অপকারিতাও রয়েছে অনেক। এজন্য আমাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কেও চিন্তা করতে হবে। এতে করে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে আমরা সকলেই দূরে থাকতে পারবো।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি যদি আপনাদের পড়ে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url