চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় যা জানা জরুরি

মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়বর্তমান সময়ে মেছতা বা মুখে দাগ একটি কমন রোগ। ছেলে হোক বা মেয়ে হোক উভয়ের ক্ষেত্রে মেছতার সমস্যাটি দেখা যায়। এজন্য আমাদের চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে হবে। বয়স যত বাড়তে থাকে আমাদের মুখে ততো দাগ হতে থাকে। এটি এক ধরনের চর্মরোগ যা মুখের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়। আমাদের চেহারা যতই সুন্দর হোক না কেন মেছতা হলে সেই চেহারা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। আমি আমার এ পোস্টে মেছতা দূর করার ক্রিমের নাম এবং চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

চিরতরে মেছতা দূর করার  উপায়

আপনার যদি মেছতার সমস্যা থাকে তাহলে আমার এ পোস্টটি পড়লে চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবেন। তাই অনুরোধ রইল আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃচিরতরে মেছতা দূর করার উপায় যা জানা জরুরি

ভূমিকা

মেছতা ত্বকের একটি কমন অসুখ। প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই মেছতা সমস্যা রয়েছে। এটি একটি চর্মরোগ যা মুখে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হয়ে থাকে। সাধারণত মেছতা মুখে বেশি হয়ে থাকে। গালে, নাকে দুই পাশে, কপালে, থুতনিতে বেশি দেখা যায়। মেছতার সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হয়ে থাকে এবং এটি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এজন্য আমাদের সকলের চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে ধারণা রাখা দরকার।

মেছতা কি

আমাদের ত্বকের নিচে মেলানির নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে। যদি কোন কারণে ত্বকের বিশেষ জায়গায় এটির কার্যক্ষমতা বেশি হলে, ত্বকে সেই অংশটি পার্শ্ববর্তী অংশের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যায়। যার ফলে ত্বকের ওই অংশটি বাদামী বা কালো বর্ণ ধারণ করে। আর এই বাদামী বা কালো দাগ ধারণ করাকে মেছতা বলে। সাধারণত শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে মেছতা দেখা দেয়। বিশেষ করে মুখের অংশে মেছতার প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও পড়ুনঃ এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়

মেছতা সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যদি ত্বকের উপরের স্তরে মেছতা হয়, তাকে এপিডার্মাল মেলাজমা বলে। মেছতা ভিতরের স্তরে হলে, তাকে ডার্মাল মেলাজমা বলে। আর যদি দুই স্তরেরই হয়ে থাকে, তাহলে তাকে মিক্সড মেলাজমা বলে। মেছতা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে জেনেটিক প্রিডিসপজিশন।

মেছতা হওয়ার কারণ

মেছতা ত্বকের খুব জটিল একটি সমস্যা। মেছতা নারী ও পুরুষ উভয়েরই হয়ে থাকে। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষের মুখে মেছতা পড়তে দেখা যায়। অনেকের মুখের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন- গাল, কপাল,নাকে দুই পাশে জায়গা বাদামি বা কালো হয়ে যায়। এতে মুখে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সাধারণত মেছতা অনেক কারণে হয়ে থাকে। মেছতা হওয়ার কারণ কি হতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

  • মেছতা হওয়ার মূল কারণ হলো সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসা। সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসলে মেলানিন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মেছতা আবির্ভাব ঘটে।
  • গর্ভবতী অবস্থায় নারীদের হরমোনের কিছু পরিবর্তন ঘটে যার ফলে গর্ভাবস্থায় মেছতা হয়ে থাকে। ডেলিভারির পর এই মেছতা আবার এমনিতেই দূর হয়ে যায়।
  • থাইরয়েডের সমস্যা মেস্তা হওয়ার কারণ। শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মেছতা বৃদ্ধি পায়।
  • অনেক সময় থাইরয়েডের ওষুধ ব্যবহার বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিলেও মেছতা করতে পারে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেক সময় মেছতার সৃষ্টি হয়।
  • জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মেছতা হয়ে থাকে।
  • ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার না করলে, লোমের মধ্যে নোংরা ঢুকে লোমের ফুটো বন্ধ করে দেয়। যার ফলে সেখান থেকে মেছতার বা ব্রন এর আবির্ভাব ঘটতে পারে।
  • আবার অনেক সময় ত্বকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলেও মেছতা হতে পারে।
  • বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মেছতাও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

মেছতা দূর করার ক্রিম

মূলত মেলাজমার উপস্থিতির কারণে ছেলে বা মেয়ে যে কারো ত্বকে ও শরীরে মেছতা হতে পারে। মেজতা ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেছতা দূর করার কিছু ক্রিম ও বডি লোশন রয়েছে। যা নিয়মিত ব্যবহার করলে মেজতা দূর হয়ে যাবে। নিচে মেছতা দূর করার ক্রিমের নাম ও লোশনের নাম উল্লেখ করা হলো।

  • Neocort
  • Mela Care
  • Betaval N
  • Melatrin Cream
  • Melasma Cream
  • Betavate-N
  • Hydroo 2%
  • Skin Clinic
  • Betameson-N
  • Betno-N
  • Trimela
  • Triclean

মেছতা দূর করার ঔষধ

বর্তমানে মেছতা দূর করার ঔষধ বের হয়েছ। সে সকল ঔষধ সেবনের মাধ্যমে চিরতরে মেছতা দূর করা সম্ভব। এছাড়া কেমিক্যাল পিলিং, মাইক্রোডার্মাব্রেশন ও পিআরপি থেরাপির মাধ্যমে চিরতরে মেছতা দূর করার চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। আধুনিক মলম ও মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটও মেছতা চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। মেছতা একটি চর্মরোগ, তাই একজন ভালো চর্মবিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করতে হবে।

মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায়

মুখের মেছতা সমস্যা অনেকেরই হয়ে থাকে। সাধারণত ৩৫ বছরের পর থেকে এই সমস্যাটি বেশি হয়ে থাকে। মেছতা সমস্যা নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। এটি একটি সংক্রামণ রোগ যা সহজে ভাল হয় না। মেছতা দূর করার বিভিন্ন কেমিক্যাল জাতীয় উপাদান রয়েছে।

কিন্তু সে সকল উপাদানের চাইতে ঘরোয়া উপায়ে মেজদা দূর করা সবচেয়ে ভালো। এতে করে আপনার ত্বকে কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হবে না। মেছতা সাধারণত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ দুই উপায়ে দূর করা যায়। নিচে মেয়েদের মেছতা দূর করার উপায় আলোচনা করা হলো।

হলুদঃ হলুদ আমরা মসলা হিসাবে জানলেও হলুদের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। হলুদের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সাইন্ট উপাদান যা মেছতা ভালো করতে সাহায্য করে। হলুদের মধ্যে থাকা নানা গুনাগুন ত্বকের মিলানিন কমিয়ে মেছতা ভালো করতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ হলুদের মধ্যে ৫ চা চামচ তরল দুধ ও ২ চামচ বেসন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি মুখের আক্রান্ত স্থানে ২০মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে দিনে একবার করে এই পেস্ট ব্যবহার করুন।

লেবুর রসঃ লেবুর রস ত্বককে ব্লিচ করে, ত্বকের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। লেবুর রসে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা ত্বকের অধিক তেল শোষণ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। লেবু রস করে একটি পরিষ্কার তুলার সাহায্যে মেছতা উপর লাগিয়ে নিন। এর ১৫ মিনিট পর এক টুকরা লেবুর উপর আধা চামচ চিনি ছড়িয়ে নিয়ে তা মেছতার উপর হালকা ভাবে ৫ মিনিটের মত ঘষে নিন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে দুই দিন লেবুর রস ব্যবহার করুন। তাহলে দেখবেন আপনার স্কিন থেকে মেছতা দূর হয়ে গেছে।

পাকা পেঁপেঃ মেছতা দূর করার আরেকটি ঘরোয়া উপায় হলো পাকা পেঁপের ব্যবহার। পেঁপেতে রয়েছে পেপেইন এনজাইম যা প্রাকৃতিক স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ কে সারিয়ে তোলে ও মৃত কোষকে সরিয়ে ফেলে। কিছু পরিমাণ পাকা পেঁপে থেতলে নিয়ে এর মধ্যে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে মেছতা উপর ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ১ বার করে প্রায় একমাস ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজের রসঃ পেঁয়াজ শুধু খাওয়ার কাজে লাগে না মেছতা দূর করার কাজেও পেঁয়াজের ভূমিকা রয়েছে। কিছুটা পরিমাণ পেঁয়াজ রস করে তার সাথে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে তা তুলার সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে ১০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে লাগাতে পারেন।

ফলমূল গ্রহণঃ আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণেও মেছতা সমস্যা হতে পারে। আমাদেরকে প্রতিদিন পরিমাণমতো নানা ধরনের ফলমূল গ্রহণ করতে হবে। আমরা যদি নিয়মিত ফল খাই তাহলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা মেজতা হতে বাধা দেয়।

শাকসবজি গ্রহণঃ আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন বেশি বেশি শাকসবজি খাওয়া। সবুজ শাক সবজির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। যা আমাদের শরীরকে ও আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত আমরা যদি শাকসবজি গ্রহণ করি তাহলে ত্বকের যে কোন দাগ দূর হয়ে যাবে।

পানি পানঃ পানিতে অনেক ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। যারা কম পানি পান করেন সাধারণত তারা মেজতার সমস্যায় ভুগেন বেশি। এজন্য আমাদের উচিত বেশি বেশি পানি পান করা।

পুরুষের মেছতা দূর করার উপায়

পুরুষ ও নারীদের মেছতা দূর করার উপায় প্রায় একই। ঘরোয়া উপায়ে মেয়েরা যেভাবে মেছতা দূর করে, ঠিক একইভাবে ছেলেরাও সে সমস্ত পদ্ধতি প্রয়োগ করে মেছতা দূর করতে পারে। নিচে পুরুষের মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

লেবু ও টমেটোঃ লেবু ও টমেটোতে ভিটামিন সি রয়েছে যা মেস্তা দূর করতে অনেক উপকারী। ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ১ চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে হালকা মেসেজ করুন। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।গোলাপজল, সবুজ চা ও শসার রসঃ গোলাপজল, সবুজ চা ,শসার রস, পানি ও মুলতানি মাটি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর রসঃ লেবুর রস ত্বককে ব্লিচ করে, ত্বকের দাগ দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। লেবুর রসে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা ত্বকের অধিক তেল শোষণ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

চন্দন গুড়াঃ মেছতা বা ত্বকের যে কোন দাগ দূর করতে চন্দন গুড়া খুব ভালো কাজ করে। সমপরিমাণ চন্দন গুড়া, লেবুর রস, তরল দুধ এবং সামান্য হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি লাগিয়ে নরম করে সার্কুলার মোশনে মেসেজ করুন। কিছুক্ষণ মেসেজ করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটি ত্বকের কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে দাগ মুক্ত ও উজ্জ্বল করে। মুলতানি মাটির সাথে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

তৈলাক্ত ত্বকের মেছতা দূর করার উপায়

আমাদের ত্বক দুই ধরনের হয়ে থাকে, শুষ্ক ও তৈলাক্ত ত্বক। সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকে মেছতা, ব্রোন ও নানা ধরনের চর্ম সমস্যা বেশি দেখা যায়। নিচে তৈলাক্ত ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় আলোচনা করা হয়েছে।

  • তৈলাক্ত ত্বকে মেছতা দূর করার জন্য শসার রস ও আলুর রস খুবই উপকারী। শসা ও আলুর রস মিশিয়ে ১০ মিনিট মুখে মেখে ধুয়ে ফেলুন।
  • যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা যদি প্রতিদিন অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করেন তাহলে মেছতা বা ব্রণের দাগ দ্রুত ভালো হয়ে যাবে।
  • তৈলাক্ত ত্বকের মুলতানি মাটি, লেবুর রস আর টক দই মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এতে করে ত্বকের দাগ কমে যাবে ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
  • পাকা কলা তৈলাক্ত ত্বকের মেছতা দাগ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। পাকা কলা কিছু পরিমাণ চটকিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন।
  • রসুন ও লবঙ্গে মিশ্রণ প্রতিদিন দাগের উপর লাগাতে পারেন।
  • কাঁচা হলুদ ও মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা ব্যবহার করতে পারেন।
  • শুধুমাত্র তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টক দই, লেবুর রস ও আটা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে তা ব্যবহার করতে পারেন।
  • চন্দন গুড়ার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ গোলাপজল মিশিয়েও মুখে লাগাতে পারেন।

চিরতরে মেছতা দূর করার উপায়

মেছতা সমস্যা নেয় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। সকলেরই কোন না কোন মেছতা বা দাগের সমস্যা রয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে মেছতা দেখা দেয়। মেছতার সমস্যা অনেক কারণে হতে পারে। আর এই মেছতা দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। নিচে চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সমূহ আলোচনা করা হলো।

অ্যালোভেরা জেলঃ অ্যালোভেরা জেল ত্বকের যেকোন সমস্যার জন্য কার্যকরী উপাদান। মেছতা বা ত্বকের কোন দাগ দূর করতে এলোভেরা জেলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাজা এলোভেরার পাতা কেটে এর ভিতর থেকে কিছুটা পরিমাণ জেল বের করে নিন। এবার এই জেলের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু, লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং তা মেছতা উপর লাগিয়ে ৫ মিনিটের মতো মেসেজ করুন। এরপর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন দিনে দুইবার করে টানা ১ মাস এভাবে এলোভেরা জেল ব্যবহার করুন।

লেবু ও টমেটোঃ লেবু ও টমেটোতে ভিটামিন সি রয়েছে যা মেস্তা দূর করতে অনেক উপকারী। ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ১ চা চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে হালকা মেসেজ করুন। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

টমেটোঃ শুধু টমেটো ব্যবহার করলেও তা মেছতা দূর করতে বেশ কার্যকরী। এটা টমেটো কেটে মেছতা উপরে ১০ মিনিটের মত মেসেজ করুন। এতে করে মেছতা অনেকটাই হালকা হয়ে আসবে। এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন এতে করে উপকার পাবেন।

চন্দন গুড়াঃ মেছতা বা ত্বকের যে কোন দাগ দূর করতে চন্দন গুড়া খুব ভালো কাজ করে। সমপরিমাণ চন্দন গুড়া, লেবুর রস, তরল দুধ এবং সামান্য হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি লাগিয়ে নরম করে সার্কুলার মোশনে মেসেজ করুন। কিছুক্ষণ মেসেজ করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন এই পেস্টটি ব্যবহার করতে পারবেন যতদিন পর্যন্ত না মেছতা ভালো হচ্ছে।

মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটি ত্বকের কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে দাগ মুক্ত ও উজ্জ্বল করে। মুলতানি মাটির সাথে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। এভাবে প্রতিদিন একবার করে মুলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারে।

টক দইঃ মুখের মেছতা বা যে কোন দাগ দূর করতে টক দইয়ের বিকল্প নেয়। ২ চা চামচ টক দই এর সাথে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৪ দিন ব্যবহার করতে পারেন।

কাঠবাদামঃ কাঠ বাদামে রয়েছে হাইপ্রোটিন ও ভিটামিন সি, যা ত্বকের মসৃণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বকের পুষ্টি যুগিয়ে ত্বককে দাগ মুক্ত ও উজ্জ্বল করে। ২ চা চামচ কাঠবাদাম বাটা বা গুড়োর সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মেছতা উপর ২০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার লাগালে অনেক উপকার পাবেন।

আলুর রসঃ মেছতা দূর করতে আলুর রসও বেশ উপকারী। আলুর রসের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে তা আক্রান্ত স্থানে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন লাগাতে পারেন।

ছোলার ডালঃ যাদের মুখে মেছতা বা অন্য কোন দাগ পড়ে গেছে তারা ছোলার ডাল ব্যবহার করলে উপকার পেতে পারেন। এজন্য প্রথমে ছোলার ডাল সারাদিন ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর ছোলার ডালের সাথে পানির পরিবর্তে কাঁচা দুধ দিয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন। এটি লাগানোর ফলে ত্বকের রিস্কেলস দূর হয়ে যাবে।

গোলাপজল, সবুজ চা ও শসার রসঃ গোলাপজল, সবুজ চা ,শসার রস, পানি ও মুলতানি মাটি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করতে পারেন।

দুধের সর ও দারচিনিঃ এক চিমটি দারচিনি গুরোর সাথে সামান্য পরিমাণ দুধের সর মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি মেছতার দাগের উপর ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এটি শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি দিয়ে আলতোভাবে মেসেজ করুন এবং কিছুক্ষণ পর মুখ পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে দ্রুত মেছতা দূর হয়ে যাবে।

ওটমিলঃ ওটমিল ত্বকের বাদামি বা কালো দাগ এবং মরা চামড়া দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। ২ চা চামচ ওটমিলের সাথে ২ চা চামচ তরল দুধ এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এটি শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি দিয়ে হালকা ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই প্যাকটি লাগাতে পারেন।

নিয়মিত ঘুমঃ আপনার যদি নিয়মিত ঘুম না হয় ও ঘুমের সমস্যা থাকে তাহলে আপনার মেছতার আবির্ভাব ঘটতে পারে। ঘুম না হওয়ার কারণে অনেকের মেছতা হয় যা সহজে ভালো হতে চায় না। যাদের এ সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত ও পরিমাণমতো ঘুমানো।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনঃ অনেকের খাদ্যাভ্যাসের কারণে মুখে মেছতা বা দাগ হয়ে থাকে। এজন্য অবশ্যই তাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে হবে। যে সকল খাদ্য খেলে ত্বকের সমস্যা হয় সে সকল খাদ্যকে বর্জন করতে হবে।

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, মেছতা একটি কমন চর্ম রোগ। যা যেকোনো সময়ে, যে কোন বয়সে দেখা দিতে পারে। আর চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় সমূহ সম্পর্কেও জানতে পারলাম।পরিশেষে এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে ও উপকারে এসে থাকে। তাহলে আমার এই পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করুন এবং এরকম পোস্ট পেতে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url