মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কে জানুন

এলার্জি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়মাসিক হল সকল মেয়েদেরই একটি কমন বিষয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে সকল মেয়েদেরই প্রাকৃতিক নিয়মে মাসিক হয়ে থাকে। এই মাসিক অনেক সময় অনিয়মিত হতে পারে। এজন্য আমাদের মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম ও তাড়াতাড়ি মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। আমি আমার এই পোস্টে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম ও মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম

যারা মাসিক নিয়ে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন এবং এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চান তাদের জন্য আমার এই পোস্টটি। তাই আমার এই পোস্টটি আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃমাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কে জানুন

ভূমিকা

প্রত্যেক মেয়েদেরই সাধারণত মাসে একবার মাসিক হয়ে থাকে। মাসিক নিয়মিত হলে ভালো কিন্তু অনিয়মিত হলে সেটি প্রভাব অনেক খারাপ হতে পারে। অনিয়মিত মাসিক হলে মেয়েদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা শুরু হতে পারে। অনিয়মিত মাসিক বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় নারীর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আজকে আমি আমাকে আর্টকেলে মাসিক হওয়ার লক্ষণ সমূহ, মাসিক না হওয়ার কারণ কি, পিরিয়ডের সময় কি কি করা যাবে না, অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ, মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম, তাড়াতাড়ি মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়, দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ এবং মাসিক কতদিন স্থায়ী হয় সে বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

মাসিক হওয়ার লক্ষণ সমূহ

মাসিক শুরু হওয়ার আগে মহিলাদের শারীরিক যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয় তাকে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বলে। পিরিয়ডের সময় অধিকাংশ মেয়েরাই একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন।সাধারণত প্রতিটি নারীর বা মেয়ের প্রতি ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর মাসিক হয়ে থাকে। এ মাসিক সাইকেল সর্বনিম্ন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। যা নিয়মিত ঋতুচক্র বলা হয়ে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয়

কমবেশি প্রায় সকল মহিলাদের ক্ষেত্রেই মাসিক হওয়ার কিছু পূর্ব লক্ষণ রয়েছে। কারো ক্ষেত্রে কম আবার কারো ক্ষেত্রে অনেক বেশি লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়। নিচে মাসিক হওয়ার লক্ষণ সমূহ আলোচনা করা হলো।

পেট ব্যথা

মাসিক শুরু হওয়ার আগে কারো কারো ক্ষেত্রে পেট ব্যথা লক্ষ্য করা যায়। মাসিক হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকে পেটের মধ্যে চিনচিন করে বা কামড়াতে থাকে। ধীরে ধীরে পেট ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। অনেকে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক হওয়ার পূর্বাভাস হল পেট ব্যথা।

পিম্পলস

অনেক নারীদের ক্ষেত্রেই মাসিকের আগে পিম্পলস হয়ে থাকে। জরায়ুর মুখে গোটার মত হয়। শরীরে যখন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় তখন এই সমস্যাটি হয়। আবার যখন এ দুই হরমোনের ভারসাম্য হয়ে যায়, তখন সে গোটার মত ব্রণটি নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়।

স্তনের পরিবর্তন

মাসিক শুরু হওয়ার আগে সাধারণত স্তনের কিছুটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগ থেকে স্তন কিছুটা ব্যথা হতে শুরু করে। এ সময় স্তন কিছুটা শক্ত হতে শুরু করে। যার ফলে স্তনে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আবার মাসিক শুরু হয়ে গেলে স্তনের ব্যথা আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়।

খিদে বেড়ে যায়

মাসিকের ঠিক আগে মেয়েদের শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়। যার ফলে শরীর গুড হরমোন কম পরিমাণে তৈরি হয় এবং খিদে পেলেও মস্তিষ্কে তার সঠিক সংকেত যায় না। এই সময় মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত লোভ থাকে। মাসিক শুরু হওয়ার আগ থেকে মেয়েদের খিদে পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যায়। এটিও একটি মাসিক শুরু হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া

অনেক নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া পরিলক্ষিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক হওয়ার আগ দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া শুরু হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার সাথে সাথে এর সমস্যাগুলোও ভালো হয়ে যেতে থাকে।

মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি

মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি মাসিক শুরু হওয়ার আরও দুটি কারণ হয়ে থাকে। অনেক নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়ার আগে মাথায় চিন চিন ব্যাথা ও অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। কোন কাজ করতে গেলে অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

শরীরে ব্যথা

মাসিক শুরু হওয়ার আগ দিয়ে অনেক নারীদের ক্ষেত্রে শরীরের জয়েন্ট ও পেশীতে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। তবে মাসিক শুরু হয়ে গেলে ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে শুরু করে।

মানসিক পরিবর্তন

এ সময় কিছুটা মানসিক পরিবর্তন ঘটে। মাসিক হওয়ার আগ দিয়ে এবং মাসিক থাকা পর্যন্ত সকল নারীরই মন মেজাজ অধিকাংশ সময়ই খারাপ থাকে। একটুতেই রাগ, অভিমান, মেজাজ খারাপ, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের সমস্যা, টেনশন ইত্যাদি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।

গ্যাস্টিকের সমস্যা

মাসিক শুরু হওয়ার আগ দিয়ে অনেকেরই গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দেয়। কোন কিছু খেলে হজম করতে সমস্যা হয়। যার ফলে প্রচন্ড গ্যাসের সৃষ্টি হয় এবং প্রচন্ড পেট ব্যথা শুরু হয়।

মাসিক না হওয়ার কারণ কি

ছোট থেকে বড় যে কোন বয়সের নারীদের মাসিকের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাটি বিবাহিত এবং অবিবাহিত সব নারীর ক্ষেত্রেই কম বেশি ঘটে থাকে। মাসিক বন্ধ থাকার সমস্যাটি সাধারণত হয়ে থাকে অতিরিক্ত পরিশ্রম, বেশি স্ট্রেস, শারীরিক দুর্বলতা, জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম,জন্ম নিয়ন্ত্রক পিল প্রভৃতি কারণে হতে পারে। আবার অনেক সময় ব্রেস্টফিডিং ও মনোপজ সংক্রান্ত বিষয় হলেও মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয়

সাধারণত নারীদের ২৮ থেকে ৩০দিনের ব্যবধানে মাসিক হয়। এর চাইতে বেশি সময় বন্ধ থাকলে এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রত্যেক নারীদের জন্য মাসিক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্য নিয়মিত মাসিক না হলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। কোনভাবেই এটিকে অবহেলা করা যাবে না। নিয়মিত মাসিক না হওয়ার কারণ কী তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম

পিরিয়ড বন্ধ থাকার একটি অন্যতম কারণ হলো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা PCOS-এ সমস্যা।বর্তমানে এই সমস্যাটি প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। প্রায় সকল নারীদেরই এই সমস্যাটি দেখা দেয়। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের সমস্যা হলে মাসিক অনিয়মিত হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যাটির কারণে অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়ে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা

থাইরয়েড হল গ্লান্ড ওভারঅ্যাকটিভ সমস্যা। এটি হলো গলার দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি যা আমাদের শরীরের কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে। এই হরমোন যদি কারো শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এর চাইতে কম বা বেশি থাকে, তাহলে শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বা বেড়ে গেলে মাসিকের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে করে অনিয়মিত মাসিক হয়। যার ফলে ডিম্বানু তৈরি হতে পারে না।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল

মাসিক না হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল। কেউ যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল দীর্ঘ সময় ধরে খেয়ে থাকে তাহলে ধীরে ধীরে তার মাসিক কমতে শুরু করে এবং একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কেউ যদি টান ৪-৫ বছর বা তার অধিক সময় ধরে পিল খায় তাহলে তা শরীরে হরমোনের পরিবর্তন করে ফেলে। যার ফলে ধীরে মাসিক বন্ধ হতে শুরু করে। এজন্য কখনোই টানা এত সময় ধরে পিল খাওয়া উচিত নয়। আর যাদের কোন সন্তান হয়নি তাদের তো এই পিল খাওয়া একদম উচিত নয়।

ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

থাইরয়েড হরমোনের রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, থাইরয়েডের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক ঔষধ, মৃগী রোগের ওষুধ, এন্টিডিপ্রেস্যান্ট, ব্যথা কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। এমনতো অবস্থায় যে ওষুধটির কারণে পিরিয়ড বন্ধ রয়েছে সে ওষুধটি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি

অনেক সময় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণেও মাসিক বন্ধ থাকতে পারে বা অনিয়মিত হতে পারে। ওজন শরীরের হরমোন জনিত সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত ওজন মাসিক চক্রকে প্রবাহিত করে। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ইস্ট্রোজেন তৈরি হতে পারে। এই অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন আপনার নিয়মিত পিরিয়ড হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এমনকি আপনার পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই মাসিক চক্র ঠিক রাখার জন্য আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে পিরিয়ডে অনিয়ম দেখা দেয়। অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে হাইপোথ্যালামিক অ্যামেনোরিয়া হতে পারে। যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে পিরিয়ড হওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। আপনার পিরিয়ড যাতে নিয়মিত হয় সে কারণে অতিরিক্ত স্টেজ বা মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। সব সময় ফ্রেশ মুডে থাকতে হবে।

শারীরিক দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতি

সাধারণত শারীরিক দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতি হলে নিয়মিত মাসিক নাও হতে পারে। অপুষ্টি আপনার শরীরকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। পুষ্টির ঘাটতি হলে আপনার মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্রন্থির সকল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেত। যা বিবাহিত ও অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ করে দেয়।

মেনোপজ

মেনোপস হলে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমোতে শুরু করে এবং ডিম্বাণু কমে যায়। সাধারণত ৪০ বছরের পর থেকে মেয়েদের মেনোপস হওয়া শুরু হয়। যার ফলে ধীরে ধীরে মাসিক সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হতে থাকে। মেয়েদের মেনোপজ হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হতে থাকে। যেমন-শরীর জ্বালাপোড়া করা, হট ফ্লাস হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, মানসিক সমস্যা ইত্যাদি।

বেস্টফিটিং

অনেক সময় বাচ্চা হওয়ার পর বেস্টফিটিং বা দুধ পান করালেও মাসিক বন্ধ থাকতে পারে। বেস্টফিটিং করানো অবস্থায় প্রায় দুই বছরও মাসিক বন্ধ থাকতে পারে, এক্ষেত্রে ভয়ের কোন কারণ নেই।বেস্টফিটিং বন্ধ করে দিলে কিছু দিনের মধ্যেই মাসিক হয়ে যাবে।

পিরিয়ডের সময় কি কি করা যাবে না

মাসিক চলাকালীন সময়ে সকল নারীরাই কমবেশি নানান সমস্যার সম্মুখীন হন। এ সময় নারীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। মাসিক বা পিরিয়ড হলে পেট ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া, একটুতে রেগে যাওয়া, খাবারে অনিহা তৈরি ইত্যাদি দেখা দেয়। পিরিয়ড নারীদের জন্য একটি জটিল সময়। এই সময় একটু সতর্কের সাথে চলা উচিত। এতে করে তৈরি সমস্যাগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব। এ সময়ে কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। পিরিয়ডের সময় কি কি করা যাবে না আর কি কি করা যাবে আসুন জেনে নেই।

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পিরিয়ডের সময় নিম্নলিখিত খাবার গুলো এড়িয়ে চলুন-

  • মাসিক বা পিরিয়ড হলে অধিক পরিমাণের ক্যাফেইন যুক্ত কোন খাবার খাওয়া উচিত না। কফিতে অনেক বেশি কেফেন থাকে। মাসিকের সময় বেশি কফি পান করলে ডিহাইড্রেশনও হতে পারে। এতে করে মাসিক আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে ব্যথা, খিচুনি, অস্বস্তিবোধ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে পারে।

  • কোন ধরনের জাঙ্ক ফুড বা ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়া এ সময় শরীরের জন্য ভালো নয়। এ সময় জাঙ্ক ফুড বা ফ্যাট যুক্ত খাবার খেলে তা শরীরের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এজন্য মাসিকের সময় এসব ধরনের খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

  • এ সময় সব ধরনের অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকুন। মাসিকের সময় অ্যালকোহল খাওয়া মোটেও উচিত নয় এতে করে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। এটি পিরিয়ড অনিয়মিত ও শরীলের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

  • পিরিয়ডের সময় দুগ্ধ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি সকল খাবার সহজে হজম হয় না। মাসিকের সময় দুধ জাতীয় খাবার গুলো ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

  • ফাস্টফুড ভাজাভুজি খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে। এই খাবারগুলো পেট ফাঁপা, ডিহাইড্রেশন, অলসতা ইত্যাদি বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্য মাসিক হলে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

  • এ সময় সকল ধরনের রেডিমেড খাবার এড়িয়ে চলুন। মাসিকের সময় বাইরের খাবার না খাওয়াই উত্তম। বাইরের খাবারগুলো হাইজিনিক নয়, তাই বাহিরের খাবার খেলে পিরিয়ডের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

  • পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত তেল ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণে এ ধরনের খাবার গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এতে করে পেট ফেঁপে গিয়ে পেটে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। পিরিয়ডের সময় নিম্নলিখিত খাবার গুলো অবশ্যই খেতে হবে-

  • পিরিয়ডের সময় অবশ্যই বেশি বেশি পানি পান করবেন। এতে করে শরীরের পানি শূন্যতা দূর হবে এবং শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। মাসিকের সময় বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়া উচিত।
  • মাসিকের সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে। এসময় গুলোতে পানি, আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া উচিত। যেমন- তরমুজ, শসা, আপেল, কলা, খেজুর, পেয়ারা, আমড়া, আমলকি, কমলা, লেবু, পাকা তেতুল ইত্যাদি ফলমূল খাওয়া উচিত।
  • পিরিয়ডের সময় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। কারণ ফাইবা জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ও হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। সবুজ শাকসবজিতে ফাইবার, আইরন ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, এজন্য এ সময় বেশি বেশি করে শাকসবজি খেতে হবে।
  • মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সব নারীরাই কম বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। এ সময় শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এটি একটি জটিল সময় যার কারণে পেটে প্রচন্ড ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রাগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া, খাবারে অনীহা আসা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

মাসিক চলাকালী সময়ে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এ সময় সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরী এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত। যেমন-

  • এ সময় অনেকের পেটে প্রচন্ড ব্যথা হয় এ কারণে অনেকে উপুর হয়ে শুয়ে থাকেন। যা একেবারে ভুল কাজ। উপুর হয়ে শুয়ে থাকলে হার্ট রেটে তারতম্য হয়, রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং অক্সিজেন ঠিকমতো শরীরের সরবরাহ হতে পারে না, যার ফলে মাথা ঝিমঝিম বা ব্যথা করতে পারে।
  • মাসিকের সময় কোন ভারী জিনিস তোলা ও ভারী কাজ করা নিষেধ। এতে করে পেটে চাপ পড়ে অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে। যার ফলে প্রচন্ড পেট ব্যথা শুরু হতে পারে।
  • মাসিকের সময় ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন। কোন কাপড়, তুলা বা টিস্যু ব্যবহার করবেন না। আর যদি কাপড় ব্যবহার করেন তাহলে সেটিকে প্রতিবার ভালো করে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নিন।
  • এই সময় কোন ধরনের ব্যায়াম, সাঁতার বা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকুন।
  • মাসিক চলাকালীন অবস্থায় যৌনমিলন থেকে বিরত থাকুন। এতে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় কোন ধরনের ডায়েটিং করবেন না। এ অবস্থায় ডায়েটিং করলে শরীর আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
  • মাসিক চলাকালীন অবস্থায় যৌনিপথের আশেপাশে সুগন্ধি সাবান, বডি ওয়াশ বা অ্যালকোহল যুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না।
  • এ সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয়, যার ফলে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এতে করে অতিরিক্ত রাগ ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। তাই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
  • মাসিক চলাকালীন সময়ে রাত জাগলে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। এতে আরো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
  • পিরিয়ডের বা মাসিকের সময় এক ন্যাপকিন বা কাপড় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না। যারা ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, তারা অন্তত ছয় ঘন্টা পর পর সেটি পরিবর্তন করবেন। এটি না করলে ভবিষ্যতে আপনার অনেক ক্ষতি হতে পারে।
  • মাসিক চলাকালীন সময় নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করবেন। এতে করে নানা অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
  • এ সময় অনেকেরই বদ অভ্যাস আছে, প্যাড পাল্টানোর ভয়ে প্রস্রাব পেলে আটকে রাখা। এভাবে প্রস্রাব কখনোই আটকে রাখা উচিত নয় এতে করে কিডনির উপর ভয়াবহ রকমের চাপ পড়ে। 
  • পিরিয়ডের সময় রাগ, জেদ, বিরক্তি তুলনামূলক অনেক বেড়ে যায়। এ সময় রেগে গিয়ে কখনোই চিৎকার চেঁচামি করা উচিত নয়। এটি করলে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণ

অবিবাহিত ও বিবাহিত উভয় নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণত ১২ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সকল নারীর মাসিক হয়ে থাকে। এই সময় প্রতিটি নারীরই প্রজননকাল হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়মিত মাসিক মেয়েদের ওভারিতে ডিম্বাণু তৈরি করে। যা প্রজনন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। কিন্তু অনেক সময় এই মাসিক হওয়া বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। 

এ সমস্যাটি বিবাহিত ওঅবিবাহিত উভয় নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়। নিম্নে অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ হওয়ার কারণগুলো আলোচনা করা হলো।

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম

পিরিয়ড বন্ধ থাকার একটি অন্যতম কারণ হলো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা PCOS-এ সমস্যা।বর্তমানে এই সমস্যাটি প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। পলি সিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হল ওভারিতে সিস্ট হওয়া। অনেক সময় ওভারিতে এক বা একের একাধিক সিস্ট থাকতে পারে। 

অনেক সময় অবিবাহিত নারীদের এই সমস্যাটি দেখা দেয়। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের সমস্যা হলে মাসিক অনিয়মিত হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যাটির কারণে অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়ে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। আবার অনেক সময় মাসিক বন্ধও থাকতে পারে।

মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে পিরিয়ডে অনিয়ম দেখা দেয়। অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে হাইপোথ্যালামিক অ্যামেনোরিয়া হতে পারে। যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে পিরিয়ড হওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। অনেক সময় বয়সন্ধিকালের মেয়েরা অতিরিক্ত পড়ালেখার চাপের কারণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে যা মাসিককে বাধা গ্রস্ত করে। পিরিয়ড যাতে নিয়মিত হয় সে কারণে অতিরিক্ত স্টেজ বা মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। সব সময় ফ্রেশ মুডে থাকতে হবে।

থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা

থাইরয়েড হল গ্লান্ড ওভারঅ্যাকটিভ সমস্যা। এটি হলো গলার দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি যা আমাদের শরীরের কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে। এই হরমোন যদি কারো শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এর চাইতে কম বা বেশি থাকে, তাহলে শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বা বেড়ে গেলে মাসিকের সমস্যা সৃষ্টি হয়। 

এতে করে অনিয়মিত মাসিক হয়। যার ফলে ডিম্বানু তৈরি হতে পারে না। এই থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের কারণে অবিবাহিত নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি

অনেক সময় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণেও অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকতে পারে বা অনিয়মিত হতে পারে। ওজন শরীরের হরমোন জনিত সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত ওজন মাসিক চক্রকে প্রবাহিত করে। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ইস্ট্রোজেন তৈরি হতে পারে। এই অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন আপনার নিয়মিত পিরিয়ড হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এমনকি আপনার পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই মাসিক চক্র ঠিক রাখার জন্য আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

শারীরিক দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতি

সাধারণত শারীরিক দুর্বলতা বা পুষ্টির ঘাটতি হলে নিয়মিত মাসিক নাও হতে পারে। অপুষ্টি আপনার শরীরকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। পুষ্টির ঘাটতি হলে আপনার মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস এবং পিটুইটারি গ্রন্থির সকল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেত। যা অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ করে দেয়। এজন্য সকল বাবা মায়ের উচিত তাদের মেয়েদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা।

ডিম্বাশয়ের অপরিপক্কতা

অনেক সময় অল্প বয়সী মেয়েদের ডিম্বাশয় ভালোভাবে পরিপক্ক হতে পারে না। এটি ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে। আর এই অপরিপক্ক ডিম্বাশয়ের কারণে অবিবাহিত মেয়েদের অনেক সময় মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

থাইরয়েড হরমোনের রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, থাইরয়েডের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক ঔষধ, মৃগী রোগের ওষুধ, এন্টিডিপ্রেস্যান্ট, ব্যথা কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও অবিবাহিত মেয়েদের পিরিয়ড অনিয়মিত বা বন্ধ হতে পারে। এমনতো অবস্থায় যে ওষুধটির কারণে পিরিয়ড বন্ধ রয়েছে সে ওষুধটি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

অতিরিক্ত ডায়েট ও ব্যায়াম

বর্তমানে অনেক নারীরাই তাদের শরীরকে ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত ডায়েট ও ব্যায়াম করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্ত ডায়েট ও ব্যায়াম শরীরের জন্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটির কারনে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হতে পারে বা ডিম্বস্ফোটন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যার ফলে অনেক সময় অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।

পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা

অনেক সময় পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যার কারণে মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ থাকতে পারে। পিটুইটারির গ্রন্থি হরমোন নিঃসরণ করে যা মাসিক চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পিটুইটারির গ্রন্থে টিউমার, পিটুইটারি গ্রন্থির কোষের অকাল মৃত্যু, রেডিয়েশন থেরাপি প্রভৃতি পিটুইটারি গ্রন্থের কোষগুলোকে প্রবাহিত করে এবং যার ফলে অবিবাহিত মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।

মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম

সাধারণত প্রতিটি নারীর বা মেয়ের প্রতি ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর মাসিক হয়ে থাকে। এ মাসিক সাইকেল সর্বনিম্ন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। যা নিয়মিত ঋতুচক্র বলা হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় অনেক নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত পিরিয়ড হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে অনেকদিন যাবত মাসিক বন্ধ থাকে। মাসিক হওয়ার জন্য আমাদের দেশে বেশ কিছু কোম্পানির ওষুধ বা ট্যাবলেট রয়েছে। 

তবে যারা বিবাহিত নারী তাদের এই ট্যাবলেট খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই প্রেগনেন্সি টেস্ট করে নিতে হবে। যদি প্রেগনেন্সি টেস্ট নেগেটিভ আসে তাহলে মাসিক হওয়ার ওষুধ খেতে পারবেন।

মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম ও ডোজ

সাধারণত মাসিক হওয়ার জন্য নরইথিসটেরন- 5mg (Norethisterone-5mg) গ্রুপের ওষুধ ডাক্তাররা দিয়ে থাকেন। এর ডোজ হল ১+১+১=৭ দিন। এই ডোজ ৭ দিন খাওয়ার পর আরও ৭ দিন অপেক্ষা করলে আপনার মাসিক শুরু হয়ে যাবে।

নরইথিসটেরন- 5mg (Norethisterone-5mg) গ্রুপের ঔষধ বাংলাদেশের অনেক ওষুধ কোম্পানিরই রয়েছে। কোম্পানি ভেদে ওষুধ বা ট্যাবলেটের ভিন্ন ভিন্ন ব্রান্ডনেম বা নাম হয়ে থাকে। নিচে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম ও কোম্পানির নাম দেওয়া হল-

  • Menoral (মেনোরাল) Square মোদি
  • Normens (নরমেন্স) Renat
  • Norestin (নরেস্টিন) Nuvista
  • Ethinor (ইথিনর) Eskayef
  • Noteron (নোটেরন) Incepta
  • Menogia (মেনোজিয়া) ACI
  • Remens(রেমেন্স) Popular
  • Feminor (ফেমিনর) Acme
  • Mensil N (মেনসিল এন) HealthCare
  • Norcolut (নরকোলাট) City Overseas
বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না।

তাড়াতাড়ি মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়

যেকোনো বয়সের নারীদের অনিয়মিত মাসিক ও পিরিয়ডের সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যাটি বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় নারীর ক্ষেত্রে কম বেশি হয়ে থাকে। মাসিকের অনিয়ম হলে বুঝতে হবে যে আপনার শারীরিক কোন সমস্যা আছে। সাধারণত অনেক বেশি মানসিক চাপ, শারীরিক দুর্বলতা, অনেক বেশি পরিশ্রম, জীবনযাত্রা বড় কোন পরিবর্তন সাধন প্রভৃতি কারণে অনিয়মিত মাসিক হতে পারে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক কোন ত্রুটি থাকলে এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, ওভারিয়ান সমস্যা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হরমোনের ভারসামহীনতা, ওভারিতে টিউমার হলে, পলিসিস্টিক ওভারি প্রভৃতি কারণে মাসিক বন্ধ থাকতে পারে। মাসিক বন্ধ থাকলে বা মাসিক নিয়মিত করার জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় রয়েছে। আসুন এই ঘরোয়া উপায় গুলো বিস্তারিত জেনে নেই-

কাঁচা পেঁপে

যে নারীরা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভুগছেন তারা বেশি করে কাঁচা পেঁপে খান। কাঁচা পেঁপে জরায়ুর মাশল ফাইবার কন্ট্রাকশনে সাহায্য করে। এটি আপনার শরীরে উপস্থিত ক্যারোটিন ইস্ট্রোজেন হরমোনকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে মাসিকের প্রারম্ভিক সময়কে প্রভাবিত করা সক্ষম হয়। নিয়মিত পরপর কয়েক মাস কাঁচা পেঁপের রস খেলে মাসিক নিয়মিত হয়।

কাঁচা পেঁপের রস খেলে জরায়ুতে সংকোচনের উদ্দীপনা সৃষ্টি করে ও মাসিক প্ররোচিত করতে সাহায্য করে। মাসিক নিয়মিত করা ছাড়াও কাঁচা পেঁপে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং ত্বক ভালো রাখে। তবে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে এটি না খাওয়াই উত্তম।

টক জাতীয় ফল

মাসিক নিয়মিত করার জন্য টক জাতীয় ফল সাহায্য করে। জলপাই, আমড়া, তেতুল, মাল্টা, কমলা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি টক জাতীয় ফল খেতে পারেন। পানিতে তেতুল এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর তেতুল পানির সাথে চিনি, লবণ ও জিরা গুড়া মিশিয়ে পান করুন। এভাবে দিনে দুইবার এটি পান করুন। এতে করে মাসিক বন্ধ থাকলে তা নিয়মিত হওয়া শুরু করবে।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা জেল রূপচর্চার পাশাপাশি মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে। এলোভেরা জেল হরমোন রেগুলেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি সাধারণত অস্থির পেটকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে এবং এটি দেরিতে মাসিক হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তাজা এলোভেরার রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে খান। এতে করে মাসিক তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যাবে। তবে মাসিক চলাকালীন সময়ে না খাওয়াই ভালো।

আদা

আদা হল অন্যতম শক্তিশালী ইমেনাগোগ যা শরীরকে ঋতুস্রাবে সাহায্য করে। আদা জরায়ুর চারপাশে উত্তাব বাড়িয়ে তোলে। মাসিক চক্রকে নিয়মিত করতে আদা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এক কাপ পানিতে ১/২ চা চামচ আদা কুচি দিয়ে ১০ মিনিট সিদ্ধ করে, তা পানির সাথে মিশিয়ে পান করুন। 

এভাবে তিনবেলা টানা একমাস পান করুন। আদা চায়ের সাথে মিশিয়ে আদা চা পান করতে পারেন।এছাড়া আদার রসের সাথে কিছু পরিমাণ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে খুব দ্রুত মাসিক হওয়াকে প্রবাহিত করে।

কাঁচা হলুদ

হলুদ মসলা জাতীয় ভেষজ দ্রব্য যা প্রাচীনকাল থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচা হলুদ মাসিক নিয়মিত করতে এবং শরীরে হরমোন ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে থাকে। এটি জরায়ুর মাংসপেশী সংকোচন ও সম্প্রসারণ করতে এবং এন্টিইনফ্লামিটারি তৈরি করতে সাহায্য করে। এক কাপ দুধ বা এক গ্লাস পানি এর সাথে সামান্য হলুদ গুড়ো মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে পারেন।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

মাসিক অনিয়মিত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে এর মধ্যে একটি হল রক্তে ইনসুলিন ও সুগারের মাত্রার তারতম্য। খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে ২ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিয়মিত প্রতিদিন পান করুন। এটি আপনার রক্তের ইনসুলিন ও ব্লাড সুগারের তারতম্য বজায় রাখে, যা আপনার মাসিকে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে।

ব্যায়াম ও মেডিটেশন

মাসিক নিয়মিত না হওয়ার একটি কারণ হলো স্টেজ বা মানসিক চাপ। মানসিক চাপ শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। যার ফলে মাসিক নিয়মিত হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মাসিক কে বন্ধ করে দেয়। যোগ-ব্যায়াম ও মেডিটেশন সকল ধরনের স্ট্রেস বা মানসিক চাপকে দূর করতে সাহায্য করে।

পিরিয়ড নিয়মিত রাখার জন্য ও সকল ধরনের স্টেজ থেকে দূরে থাকার জন্য পরিমাণ মতো ব্যায়াম ও মেডিটেশন করা উচিত।

দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ

মাসিক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর মেয়েদের হয়ে থাকে। এটি হওয়ার মধ্য দিয়ে একজন নারী তার প্রয়োজন ক্ষমতা লাভ করে। কারো ক্ষেত্রে ৩ দিন, কারো ক্ষেত্রে ৫ দিন, আবার কারো ক্ষেত্রে আবার ৭ দিন পর্যন্ত মাসিক স্থায়ী হতে পারে।

১২ বছর থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের মাসিক হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় বিভিন্ন শারীরিক কারণে মাসিকের অনিয়ম দেখা যায়। দুই মাস মাসিক না হওয়ার কারণ গুলো আলোচনা করা হলো।

হরমোনের ভাষ্যমহীনতা

নারীদের শরীরের কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন হয়। এই হরমোন মহিলাদের মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন দুটো মাসিক নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন দুটো যদি কারো শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এর চাইতে কম বা বেশি থাকে, তাহলে শরীরে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বা বেড়ে গেলে মাসিকের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

এতে করে অনিয়মিত মাসিক হয়। যার ফলে ডিম্বানু তৈরি হতে পারে না। এই দুই হরমোনের ভাষ্যমহীনতা মাসিক দুই মাস বন্ধ থাকার একটি কারণ।

টিউমার

অনেক সময় জরায়ুতে ছোট বড় টিউমার হয়ে থাকে। টিউমার মাসিক হওয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। যার ফলে দুই মাস বা তার অধিক সময়ও মাসিক বন্ধ থাকতে পারে।

ওজন বৃদ্ধি

অনেক সময় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণেও মেয়েদের মাসিক বন্ধ থাকতে পারে বা অনিয়মিত হতে পারে। ওজন শরীরের হরমোন জনিত সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত ওজন মাসিক চক্রকে প্রবাহিত করে। শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ইস্ট্রোজেন তৈরি হতে পারে। এই অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন আপনার নিয়মিত পিরিয়ড হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

এমনকি আপনার পিরিয়ড দুই মাস বা তার অধিক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই মাসিক চক্র ঠিক রাখার জন্য আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

গর্ভাবস্থা

বিবাহিত নারীদের দুই মাস মাসিক বন্ধ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে গর্ভাবস্থা। গর্ভাবস্থায় শরীর হিউম্যান করিওনিক রোনাল্ডট্রপিন নামক হরমোন তৈরি করে যা ডিম্বস্ফোটন বন্ধ করে এবং ঋতুচক্র বন্ধ করে দেয়। দুই মাস বা তার অধিক সময় মাসিক বন্ধ থাকলে অবশ্যই প্রেগনেন্সি টেস্ট করা উচিত।

স্ট্রেস

অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে পিরিয়ডে অনিয়ম দেখা দেয়। অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে হাইপোথ্যালামিক অ্যামেনোরিয়া হতে পারে। যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে পিরিয়ড দুই মাস বা অধিক সময় পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে পারে। পিরিয়ড যাতে নিয়মিত হয় সে কারণে অতিরিক্ত স্টেজ বা মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। সব সময় ফ্রেশ মুডে থাকতে হবে।

মেনোপজ

মেনোপজ একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা মহিলাদের মধ্যে সাধারণত ৪০ বছর শেষের দিকে হয়ে থাকে। মেনোপজ হলে শরীর ধীরে ধীরে মাসিকের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে মাসিক বন্ধ হতে শুরু করে।

ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

থাইরয়েড হরমোনের রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, থাইরয়েডের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক ঔষধ, মৃগী রোগের ওষুধ, এন্টিডিপ্রেস্যান্ট, ব্যথা কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মেয়েদের পিরিয়ড দুই মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে বা অনিয়মিত হতে পারে। এমনতো অবস্থায় যে ওষুধটির কারণে পিরিয়ড বন্ধ রয়েছে সে ওষুধটি খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

মাসিক কত দিন স্থায়ী হয়

মাসিক প্রতিটি নারীর জন্যই একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়। যা একটি নারীকে নারী হওয়ার পূর্ণতা দান করে। প্রতি মাসে হরমোনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের চক্রাকারে জরায়ু যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ুর নিষ্ক্রিয় অংশ যোনিপথে বের হয়ে আসে তাকে ঋতুচক্র বলে

একজন নারীর মাসিক তাকে প্রতি মাসে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করে। মেয়েদের মাসিক সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর হয়। সাধারণত মাসিকের ৩ ধরনের ফেস বা অংশ রয়েছে-

মিন্সট্রুয়াল ফেজ

মিন্সট্রুয়াল ফেজ ৪-৭ দিন স্থায়ী হয়। এই সময় যোনিপথের রক্ত বের হয়। ৪-৭ দিন স্থায়ী এই রক্তপাতে ভেঙে যাওয়া রক্ত কণিকা ছাড়া এর সাথে জরায়ু মুখের মিউকাস, শ্বেত কণিকা, নিষ্কৃত আবরণী, প্লাজোমিন, ব্যাকটেরিয়া, প্রস্টাগ্লানডিন ও অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে থাকে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের যৌথ ক্রিয়ায় এই পর্বটি ঘটে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি মাসিকের প্রথম স্তর।

প্রলিফারেটিভ ফেস

প্রলিফারেটিভ ফেস সাধারণত ৮-১০ দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এটি হয়ে থাকে। এ সময়ে জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বাণুকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

সেক্রেটারি ফেজ

সেক্রেটারি ফেজ সবচেয়ে দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়া। যা প্রায় ১০-১৪ দিন স্থায়ী হয়ে থাকে। এ সময় কালকে প্রজেস্টেরন বা লুটিয়াল ফেস বলে। এটিও প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন উভয় হরমোনের যৌথ প্রক্রিয়ার কারণে হয়। এই সময়টাতে নিষিক্ত ডিম্বাণুর বৃদ্ধির জন্য জরায়ু সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে থাকে।

ডিম্বাশয় কোন ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত না হলে জরায়ু আবার মেন্সট্রুয়াল ফেজে চলে যায়। আর এভাবেই পূর্ণবয়স্ক মেয়েদের মাসিক বা ঋতুচক্র পুনরায় চলতে থাকে।

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে আমরা মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম ও মাসিক হওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পারলাম। মাসিক অনিয়মিত হলে এবং মাসিক হওয়ার পর অতিরিক্ত সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসা নিবেন। এতে করে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হাত থেকে বেঁচে যাবেন। 

পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে আমার এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করুন এবং সাথেই থাকুন। ধৈর্য সহকারে পোস্টটি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url