জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

দাঁত শিরশির থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়জন্ডিস একটি মারাত্মক রোগ যা যে কোনো সময় যে কোন বয়সে হতে পারে। এজন্য সকলের জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা উচিত। জন্ডিস হলে কি খেতে হয় ও কি খাওয়া যাবে না এ সম্পর্কে আমাদের জেনে রাখা দরকার। এগুলো জানা থাকলে আমরা জন্ডিস রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারব। এজন্য আজকে আমি আমার এই পোস্টে জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার করা সহ আরো অনেক ধরনের তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার

আপনারা যদি জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক হন তাহলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করি যে, জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনারা অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃজন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

ভূমিকা

জন্ডিসের চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা থাকতে হবে। জন্ডিস রোগের কারণ, জন্ডিস রোগের লক্ষণ, জন্ডিস হলে কি খেতে হয়, জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবেনা এবং জন্ডিসের প্রতিকার সম্পর্কে আমি আজকে বিস্তারিত আলোচনা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। আপনারা যদি এই পোস্টটি পুরো পড়েন তাহলে অবশ্যই অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।

জন্ডিস কাকে বলে

ফরাসি Jaunisse শব্দ থেকে জন্ডিস শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে যার অর্থ হল হলদে। আর Jaundice হল জন্ডিসের ইংরেজি শব্দ। জন্ডিস সাধারণত কোন রোগ নয় এটি একটি রোগের উপসর্গ মাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস হয়ে থাকে। এর ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ ও অন্যান্য মিউকাস ঝিল্লি হলুদবর্ণ ধারণ করে। আমাদের লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন তৈরি করে, যা পরবর্তীতে যকৃতে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং পিত্তনালী গুলির সাথে পরিপাকতন্ত্রের প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন প্রস্রাব ও পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত

বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রম করার সময় অন্ত্র কোন অসংগতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায়। যার ফলে আমাদের শরীরে জন্ডিসের উপসর্গ সৃষ্টি হয়। এতে করে আমাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়। সাধারণত রক্তে বিলিরুবিনের ঘনত্ব 1.2 mg/dL এর কম এবং 3 mg/dL এর বেশি হলে জন্ডিস হয়ে থাকে।

জন্ডিস কত প্রকার ও কি কি

জন্ডিস রোগ সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। জন্ডিসের প্রভাব একাক জনের ক্ষেত্রে একাক রকম হতে পারে। জন্ডিস রোগের প্রকারভেদ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

হেমোলাইটিক জন্ডিসঃ কম বয়স এবং জন্ডিসের সঙ্গে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে বুঝতে হবে যে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রাধিক ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধরনের সমস্যাকে হেমোলাইটিক জন্ডিস বলে। চোখ ও জ্বিবা হলুদ হওয়া, জ্বর, পেটের ডান দিকে ব্যথা, বমি ভাব বা বমি হওয়া, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি এই জন্ডিসের লক্ষণ।

হেপাটোসেলুলার জন্ডিসঃ লিভার কোষের সমস্যার কারণে এই জন্ডিস হয়ে থাকে। কার্সিনোমা অফ-লিভার, লিভার সিরোসিস, হেপাটাইটিস ইত্যাদি জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে বিলিরুবিন পিত্ত রসে পরিণত হয় এবং এটি রক্তে মিশে যায়, যার ফলে হেপাটোসেলুলার জন্ডিস দেখা দেয়।

অবস্টোকটিভ জন্ডিসঃ পিত্তনালীতে যদি পাথর হয় তাহলে অবস্টোকটিভ জন্ডিস হয়ে থাকে। এছাড়া পেটে থাকা কৃমি পিত্তনালীতে ঢুকে গিয়ে পিত্ত রসের চলাচল বন্ধ করে দেয়, যার ফলে এ ধরনের জন্ডিস হতে পারে। তবে অবস্টোকটিভ জন্ডিসের সবচেয়ে খারাপ কারণ হচ্ছে ক্যান্সার। এই ক্যান্সার পিত্তনালী, পিত্তথলি, অগ্নাশয় ইত্যাদি জায়গায় হয়ে থাকে। এ ধরনের ক্যান্সার হলে অবস্টোকটিভ জন্ডিস হয়ে থাকে।

জন্ডিস রোগের কারণ

সাধারণত রক্তে বিলিরুবিনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে জন্ডিস হয়ে থাকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আরো অনেক গুলো কারণ রয়েছে জন্ডিস রোগ হওয়ার। নিচে জন্ডিস রোগের কারণ গুলো তুলে ধরা হলো।

  • হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, হেপাটাইটিস-ই ইত্যাদি ভাইরাসের কারণে সাধারণত জন্ডিস হয়ে থাকে।
  • যাদের লিভার সিরোসিস সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে জন্ডিস বেশি হয়ে থাকে।
  • পিত্তথলিতে পাথর থাকলে জন্ডিস দেখা দিতে পারে।
  • লিভার, পিত্তনালী, পিত্তথলি, খাদ্যনালী , প্যানক্রিয়াস ইত্যাদিতে ক্যান্সার থাকলে জন্ডিস দেখা দেয়।
  • নবজাতক শিশুর জন্ডিসের সমস্যা জন্মগতভাবে হয়ে থাকে।
  • ম্যালেরিয়ার হওয়ার কারণে পরজীবী দ্বারা রক্ত সংক্রমিত হয়, যার ফলে জন্ডিস দেখা দেয়।
  • জন্ডিস একটি জেনেটিক রোগ যেখানে লাল রক্তকণিকা সাধারণ ডিস্কের আকৃতির পরিবর্তে অর্ধচন্দ্রাকার আকৃতি হয়ে যায়।
  • হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হলে রক্ত কোষগুলোর স্বাভাবিক জীবনকাল শেষ হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর ফলে রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • দীর্ঘদিন মদ পান করলে লিভার টিস্যুতে দাগ পড়ে যায়। যার ফলে রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং জন্ডিসের প্রভাব দেখা দেয়।
  • অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের ঔষধ গ্রহণ করলে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
  • জন্ডিস একটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ জনিত রোগ যা সংক্রমিত মানুষের প্রস্রাব বা মল দ্বারা ছড়ালে থ্যালাসেমিয়া জনিত রোগের কারণে শরীরে সুস্থ রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়। যার ফলে অনিয়মিত হিমোগ্লোবিন তৈরি হওয়ার কারণে জন্ডিস হয়ে থাকে।

জন্ডিস রোগের লক্ষণ

জন্ডিস হলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়। লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে সহজে বোঝা যায় যে জন্ডিস হয়েছে। জন্ডিস রোগের লক্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • জন্ডিস হলে চোখ, মুখ, গোটা শরীর ও প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়।
  • এটি হলে খাবারে অরুচি ও বমি ভাব হয়। এমনকি বমি পর্যন্তও হতে পারে।
  • জন্ডিস হলে শরীরের জ্বর অনুভূতি হয় এবং কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
  • এটি হলে পেটে তীব্র ব্যথা এবং পেট ফেঁপে যেতে পারে।
  • এটি হলে অনেক সময় পায়খানার সাদা রং হতে পারে।
  • জন্ডিস হলে প্রসাবে জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হয়ে থাকে।
  • শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস পায়।
  • শরীরের পেশী বা জয়েন্টগুলোতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূতি হয়।
  • অতিরিক্ত জন্ডিস হলে অনেক সময় ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।
  • অনেক সময় জন্ডিস হলে শরীরের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

জন্ডিস হলে কি খেতে হয়

জন্ডিস হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এজন্য এ সময় কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। জন্ডিস হলে কি খেতে হয় বা কি খাওয়া উচিত তা নিচে আলোচনা করা হলো।

কার্বোহাইড্রেট খাবারঃ জন্ডিস হলে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। এর ধরনের খাবার শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয় এবং জন্ডিসের প্রভাব অনেকটা কমিয়ে ফেলে। যেমন- বাদামি চাল, রুটি, ওটস, দুধ, দই, নুডুলস, পাস্তা ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট উপাদান রয়েছে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ এ সময় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। এ ধরনের খাবার রোগীর দুর্বলতা কাটিয়ে রোগীকে সুস্থ করতে সাহায্য করে। যেমন-মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, ডিম, দুধ, দই, পনির, সয়াবিন, মটরশুঁটি, কুমড়োর বিচি, ছোলা ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে।

সবুজ শাক-সবজিঃ জন্ডিস হলে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খেতে দিতে হবে। এতে করে রোগীর শরীরে যে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব। জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর খাবার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি রাখা উচিত। যেমন-মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রুকলি, মিষ্টি আলু, মুলা, বিট, পালংশাক ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।

তাজা ফলঃ জন্ডিস হলে রোগীর শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এজন্য জন্ডিস রোগীদের বেশি বেশি তাজা ফলমূল খাওয়াতে হবে। যেমন-ডাব, পাক পেঁপে, পাকা কলা, তরমুজ, আনারস, বেদানা, আঙ্গুর, পাকা আম, কমলা, মাল্টা, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙ্গা ইত্যাদি পুষ্টিকর ফল খেতে দিতে হবে।

পানির জাতীয় খাবারঃ জন্ডিস হলে রোগীকে অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। কারণ পানি ও পানি জাতীয় খাবার শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। যেমন-ডাবের পানি, গ্লুকোজ, আখের রস, স্যুপ ইত্যাদি খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবারঃ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরীর পাশাপাশি শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে থাকে। জন্ডিস হলে শরীরের বাড়তি পানি চাহিদা তৈরি হয়। এজন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবারগুলো বেশি বেশি করে খাওয়া উচিত। যেমন-আখরোট, স্ট্রবেরি, পালংশাক, মধু, চা, ডার্ক চকলেট, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ, আদা, গাজর, আপেল ইত্যাদিতে আন্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।

জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবে না

জন্ডিস হলে এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো না খাওয়াই উচিত। যেগুলো খেলে জন্ডিসের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। জন্ডিস হলে কি খাওয়া যাবেনা সে সম্পর্কে নিচে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবারঃ জন্ডিস হলে চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়। এতে করে শারীরিক সমস্যার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাঁচা লবণঃ কাঁচা লবণ খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর জন্ডিস হলে কাঁচা লবণ একদমই খাওয়া উচিত নয়। কাঁচা লবণ খেলে রক্তে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়া সম্ভাবনা থাকে।

তেল ও মসলাযুক্ত খাবারঃ জন্ডিস আক্রান্ত রোগীকে অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার একেবারেই দেওয়া যাবে না। জন্ডিস রোগীকে তেল ও মসলাযুক্ত খাবার শারীরিক ভাবে আরো অসুস্থ করে দিতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত খাবারঃ জন্ডিস রোগীকে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ানো ঠিক নয়। বাইরের খাবার খাওয়ালে রোগ-জীবাণুর আক্রমণে আরো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়াতে হবে।

অ্যালকোহলঃ জন্ডিস হলে অ্যালকোহল জাতীয় খাবার একেবারেই খাওয়ানো যাবে না। অ্যালকোহল শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অসুস্থ অবস্থায় এ ধরনের খাবার খেলে শরীরে আরো অসুস্থ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

ফ্যাটি বা চর্বিযুক্ত খাবারঃ জন্ডিস আক্রান্ত রোগীকে কোন সময়ই চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ানো যাবে না। চর্বি বা ফ্যাটিযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিকর। জন্ডিস অক্রান্ত রোগীর জন্য এ ধরনের খাবার বিষের মতো কাজ করবে।

ফাস্টফুড খাবারঃ এই সময় রোগীকে ফাস্টফুড জাতীয় কোন বাইরের খাবার খাওয়ানো যাবে না। ফাস্টফুড স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য জন্ডিস আক্রান্ত রোগীর ফাস্টফুড জাতীয় খাবার সব সময় এড়িয়ে চলা উচিত।

জন্ডিস হলে প্রতিকার 

জন্ডিস হলে দেরি না দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জন্ডিস খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জন্ডিস হলে আমাদের কিছু করণীয় বিষয় রয়েছে। নিচে জন্ডিস হলে প্রতিকার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

  • জন্ডিস হলে সর্বপ্রথমে যেটি করতে হবে তা হল দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
  • জন্ডিস হয়েছে কিনা তা জানার জন্য এজন্য কিছু টেস্ট করাতে হবে।
  • যে খাবার গুলো জন্ডিসের ঝুঁকি কমায় সে সকল খাবার বেশি বেশি খেতে হবে।
  • যে খাবারগুলো জন্ডিসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • যারা ধূমপান ও মদ্যপান করেন তাদের জন্ডিস হলে ধূমপান ও মদ্যপান করা বন্ধ করে দিতে হবে।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • হেপাটাইটিস-বি এর ভ্যাকসিন দ্রুত গ্রহণ করতে হবে।
  • এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • এ সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।
  • জন্ডিস হলে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • জন্ডিস শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই জন্ডিস আক্রান্ত ব্যক্তির নিকট থেকে সব সময় নিরাপদ দূরত্বে থাকা উচিত।

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে আমরা জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। জন্ডিস হলে দেরি না করে দ্রুত ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেওয়া উচিত। জন্ডিস অতিরিক্ত খারাপ আকার ধারণ করলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং জন্ডিস হওয়ার কারণ জানতে টেস্ট করাতে হবে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, জন্ডিসের লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে আমার এই পোস্টটি যদি আপনাদের পড়ে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url