হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতাপ্রিয় পাঠক, আমরা প্রায় সকলেই হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না। কিন্তু আমাদের সকলেরই হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয় সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখা উচিত। হাটের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের জানা থাকলে পরিবারের সদস্যের, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী যে কারো এই সমস্যা দেখা দিলে আমরা তাদের দ্রুত সাহায্য করতে পারব। আপনাদের সুবিধার্থে আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার

তাই আপনারা যদি হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা হার্টের সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃহার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন 

ভূমিকা

হার্টের সমস্যা বর্তমান সময়ে একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যাটি এখন আর বয়স মানে না। যে কোনো সময় যে কোন বয়সেই হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করেই আপনার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে এবং নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরকম অবস্থা হলে অবশ্যই দেরি না করে ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। হার্টের সমস্যার কারণ, লক্ষণ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও এর প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের সকলেরই আগে থেকেই জেনে রাখা উচিত। এ সকল বিষয় সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকলে যে কোন সময় এ ধরনের সমস্যায় পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

হার্টের সমস্যার কারণ

আমরা জানি যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের হার্টের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে হার্টের সমস্যা যেকোন বয়সেই হয়ে থাকে। হার্টের সমস্যা হওয়ার অনেকগুলো বিশেষ কারণ রয়েছে সেই কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে ও অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করলে হার্টের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।
  • অতিরিক্ত স্বাস্থ্য হলে হার্টের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে হার্টের সমস্যা তৈরি হয়।
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • জন্মগতভাবে কারো কারো হার্টের সমস্যা থেকে থাকে।
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করলে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে হার্টের সমস্যা হয়ে থাকে।
  • অতিরিক্ত ধূমপান হার্টের সমস্যার একটি অন্যতম কারণ।
  • অতিরিক্ত শব্দ দূষণ থেকেও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যাদের প্রেসার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাদের হার্টের সমস্যা হতে পারে।
  • কোন কারনে হার্টে ফুটো তৈরি হলে হার্টের সমস্যা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যায়।

হার্টের সমস্যার লক্ষণ

হার্টের সমস্যা হলে অনেকগুলো লক্ষণ বা উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। যা দেখে আমরা সহজেই বুঝতে পারব যে হার্টের সমস্যা হয়েছে। নিচে হার্টের সমস্যার লক্ষণ বা উপসর্গগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

বুকে প্রচণ্ড ব্যথাঃ হার্টের সমস্যার প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল বুকের মাঝখানে বা বুকের বাম সাইডে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আস্তে আস্তে সেই ব্যথা কাঁধ ও হাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং কাঁধ ও হাত কিছুটা অবশ অনুভূত হয়। এ অবস্থায় হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হয় না এবং নালীতে ব্ল্যাক জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের সমস্যা হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসরের কাছে যেতে হবে।

শ্বাসকষ্ট হওয়াঃ হার্টের সমস্যা থাকলে বুকের ব্যথা সাথে প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। আপনার যদি হঠাৎ করে বুকে ব্যথা হয়, শ্বাস নিতে সমস্যা হয় ও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে তাহলে বুঝতে হবে হার্টের কোন সমস্যা হয়েছে।

ঘাড় ও চোয়ালে প্রচন্ড ব্যথাঃ সাধারণত হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে বুক ব্যথার সাথে ঘাড় ও চোয়ালে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। আপনার যদি বুক ব্যথা সাথে ঘাড় ও চোয়ালেও ব্যথা অনুভূতি এবং ঘাড় ও চোয়াল প্রচন্ড টেনে ধরে তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

পেট ফেঁপে যায়ঃ অনেক সময় হার্টের সমস্যা হলে পেট প্রচন্ড ক্ষেপে যায়। এতে করে প্রচন্ড গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। বুকের ব্যথার পাশাপাশি পেট ফেঁপে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে আপনার কোন হার্টের সমস্যা হয়েছে।

বমি বমিভাবঃ এই সমস্যা হলে পেট ফেঁপে যাওয়ার সাথে সাথে বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। বুকের ব্যথার পাশাপাশি যদি পেট ফেঁপে গিয়ে বা অতিরিক্ত গ্যাস হয়ে আপনার বমি বমি ভাব বা বমি হয়ে যায় তাহলে এটি হার্টের সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়াঃ সব সময় অতিরিক্ত ঘাম ঝরা বা ঘেমে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যেও অতিরিক্ত ঘাম ঝরে তাহলে বুঝতে হবে হার্টে কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ বাতের ব্যথা দূর করার উপায়

অতিরিক্ত কাশিঃ দীর্ঘ দিন যাবত যদি আপনার কাশির সমস্যা থাকে এবং তার সাথে যদি ঘোলাটে কফও বের হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার হার্টের কোন সমস্যা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে কফের সাথে যদি রক্ত বের হতে থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

হাত-পা অবশ হওয়াঃ আপনার যদি হাত-পা অবশ হয়ে আসে এবং হাত-পা নড়াতে অনেক সমস্যা হয় তাহলে এটি হার্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের আগে হাত-পা অনেক ভারী হয়ে যায় ও চলাফেরা করতে অনেক সমস্যা হয়। এরকম অবস্থা হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে হবে।

হঠাৎ অজ্ঞান হওয়াঃ আপনার যদি হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। আপনার সাথে যদি এরকম সমস্যা কয়েকবার হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

ক্লান্তি অনুভব করাঃ আপনি যদি অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং শরীরে তেমন একটা শক্তি না পান তাহলে আপনার হার্টের সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। এ সমস্যা থাকলে অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় ও বুকের মধ্যে ধরফর শুরু হয়ে যায়।

প্রচন্ড মাথাব্যথাঃ মাথাব্যথা আমাদের প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। মাথাব্যাথা হলে আমরা সাধারণত ঔষধ খেয়ে মাথাব্যথা থামিয়ে রাখি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না হার্টের সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল মাথাব্যথা।

অনিয়মিত হৃদয়স্পন্দনঃ অনিয়মিত হৃদয়স্পন্দন হার্টের সমস্যার একটি অন্যতম লক্ষণ। হার্ট যখন ঠিকমতো তার কাজ করেনা তখন হৃদস্পন্দনের কার্যক্রম এলোমেলো হয়ে যায়। যদি আপনার হৃদয়স্পন্দন হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায়, আবার হঠাৎ করেই অনেক কমে যায়, তাহলে আপনাকে বুঝে নিতে হবে আপনার হার্টের কোন সমস্যা হয়েছে। এরকম হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে চেকআপ করতে যেতে হবে।

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

হার্টের সমস্যা হলে যেমন কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তেমনি হার্ট ব্লক হলেও ঠিক একই রকমই লক্ষণ পরিলক্ষিতই হয়ে থাকে। হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • অল্পতেই ঘন ঘন শরীর ক্লান্ত অনুভূতি হয়।
  • বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূতি হয়।
  • ঘাড় ও চোয়াল প্রচন্ড ব্যথা করে ও টেনে ধরে।
  • প্রচন্ড পেট ব্যথা করে ও বমি অনুভূত হয়।
  • হার্টের ব্লকের কারণে পিঠে প্রচন্ড ব্যথা হয়।
  • হাত-পা অবশ হয়ে আসে এবং ব্যথা করে।
  • হার্ট ব্লক থাকলে শ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হয়।
  • বুক ধরফর অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।
  • কোন কাজ করতে একটুতেই শরীর অবশ হয়ে আসে।
  • বুকে প্রচন্ড জ্বালাপোড়া হতে পারে।
  • শরীর দিয়ে প্রচন্ড ঘাম ঝরতে থাকে।
  • হার্ট ব্লক থাকলে যেকোনো সময়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

হার্টের ব্যথা কোথায় হয়

হার্টের সমস্যা থাকলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচন্ড ব্যথা করে। শরীরের কোন কোন জায়গায় ব্যথা করলে হার্টের সমস্যা বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা আমাদের সকলেরই জেনে রাখা উচিত। তাই নিচে হার্টের ব্যথা কোথায় হয় সে সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হলো।

  • হার্টের সমস্যা হলে সর্বপ্রথম বুকের মধ্যেখানে ও বাম পাশে অতিরিক্ত ব্যথা করে।
  • এই সমস্যাটি হলে চোয়াল ও ঘাড় প্রচন্ড টেনে ধরে ও ব্যথা করে।
  • হাত-পা অবশ হয়ে যায় এবং প্রচন্ড ব্যথা করে।
  • হার্টের সমস্যা হলে পেটের মধ্যে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়।
  • অনেক সময় পেটের উপরে ও বুকের ঠিক নিচে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে।
  • হার্টের সমস্যা হলে শ্বাস নিতে প্রচন্ড কষ্ট হয় ও ব্যথা করে।
  • হার্টের সমস্যা থাকলে মাথা প্রচন্ড ব্যথা করে ও ঘুরতে থাকে।
  • অনেক সময় পিঠে প্রচন্ড ব্যথা ও টান অনুভূত হতে পারে।
  • হার্টের সমস্যা থাকলে হাত-পায়ের আঙ্গুল আরশ হয়ে আসে ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা করে।

হার্টের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা

আপনার যদি হার্টের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা নিতে হবে। এই চিকিৎসা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই শুরু করতে হবে। হার্টের সমস্যার প্রাথমিক চিকিৎসা কিভাবে নিবেন তা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • সর্বপ্রথমে রোগীকে চিৎ করে শোতে হবে, এরপর পালস আছে কি না ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে কি না তা চেক করতে হবে।
  • হার্টের সমস্যা হলে প্রথমেই রোগীকে রিলাক্সড অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে।
  • রোগী দাঁড়িয়ে বা শুয়ে থাকলে আগে ধরে কারো সাথে হেলান দিয়ে হাটু মুড়ে বসিয়ে দিন।
  • এ অবস্থায় রোগীর পিঠ, হাত ও পায়ের তালু তাড়াতাড়ি মেসেজ করতে হবে। এতে করে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক ভাবে করবে।
  • হার্ট অ্যাটাকের কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীকে যদি অ্যাসপিরিন ঔষধ দেওয়া হয়, তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। এটি হার্টের ব্যথায় দ্রুত কাজ করা শুরু করে।
  • রোগী যদি অজ্ঞানের মত হয়ে যায়, তাহলে শোয়া অবস্থায় বুকের উপর এক হাতের উপর আর এক হাত চেপে ধরে দ্রুত চাপ দিতে থাকুন। এতে করে রোগীর হার্টবিট বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
  • রোগীর বুকে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে করে বাতাস ভেতরে ঠেলে দিতে হবে, এতে করে অক্সিজেন হার্টের মধ্যে পৌঁছাবে।
  • রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকভাবে নিতে পাচ্ছে কি না, পালসের রেট ঠিক আছে কি না এবং রোগী সাড়া দিচ্ছে কি না সেদিকে বারে বারে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • হার্ট অ্যাটাক হলে প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে রোগী মাথায় পানি ঢালতে হবে এবং রোগীকে খাবার খাওয়াতে হবে।
  • অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে হাটের সমস্যা হতে পারে। এজন্য এই সময় রোগীকে সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে যেতে হবে।
  • এ সময় রোগীর চারপাশের গ্যাঞ্জাম সরিয়ে ফেলতে হবে এবং বাতাস যুক্ত জায়গায় রাখতে হবে।
  • এ সকল পদক্ষেপগুলো নেওয়ার পর অবশ্যই রোগীকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

হার্টের সমস্যার প্রতিকার

হার্টের সমস্যার প্রতিকার করার বেশ কিছু পদক্ষেপ রয়েছে যা গ্রহণ করলে হার্টের সমস্যা কমানো বা প্রতিকার করা সম্ভব। হার্টের সমস্যা দেখা দিলে নিম্নোক্ত প্রতিকারগুলো দ্রুত গ্রহণ করা উচিত। যেমন-

  • হার্টের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত লবণ বা কাঁচা লবণ খাওয়া যাবে না।
  • হার্টের সমস্যা থাকলে বেশি বেশি আঁশযুক্ত বা ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • এ সমস্যা হলে ফ্যাটি বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা।
  • এ ধরনের রোগীকে নিয়মিত প্রতিদিন দুধ ও ডিম খেতে দিতে হবে। এতে করে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি হবে।
  • ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামের মত খনিজ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে হৃদরোগ হওয়ার প্রভাব কমিয়ে ফেলে।
  • এ ধরনের রোগীকে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে দিতে হবে।
  • বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড একেবারেই খাওয়া যাবে না।
  • সব সময় বাড়ির তৈরি ঝাল, তেল ও মসলা কম যুক্ত খাবার খেতে দিতে হবে।
  • অতিরিক্ত স্বাস্থ্য হার্টের সমস্যার অন্যতম কারণ। এজন্য অবশ্যই স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য কমিয়ে ফেলতে হবে।
  • সব সময় মানসিক দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন-যাপন করার চেষ্টা করতে হবে।
  • প্রয়োজন মাফিক ঘুমাতে হবে। এ ধরনের রোগীকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানো উচিত।
  • ধূমপানের কারণে হার্টের সমস্যা দেখা দেয়, এজন্য ধূমপান করা ছেড়ে দিতে হবে।
  • অ্যালকোহল জাতীয় খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • এ ধরনের রোগী যদি শারীরিক ব্যায়াম নিয়মিত করে তাহলে শরীর ভালো থাকবে।
  • শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে এবং আমিষ জাতীয় খাবারে পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
  • হার্টের সমস্যা আক্রান্ত রোগীকে সবসময় তরল জাতীয় খাবার বেশি খেতে দিতে হবে।
  • এ ধরনের রোগীকে কখনোই ঠান্ডা-বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না। সব সময় গরম ও তাজা খাবার খেতে দিতে হবে।
  • এ ধরনের রোগীর প্রতি সবসময় নজরে রাখতে হবে। কারণ হার্টের সমস্যা থাকলে যে কোন সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
  • হার্টের সমস্যা আক্রান্ত রোগীকে সবসময় ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • এ সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না। স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।

    শেষ কথা

    উপরে আলোচনা থেকে আমরা হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সহ আরো অনেক বিষয়ে জানতে পারলাম। হার্টের সমস্যা হলে বা হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এতে করে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে এবং অনেক বড় ক্ষতির হাত থেকে রোগীকে রক্ষা করা যাবে।

    পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে লিখা আমার এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো আর্টিকেল বা পোস্ট পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url