হাঁটুর ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন

ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়প্রিয় পাঠকগণ ও বন্ধুগণ, আপনারা নিশ্চয়ই অনেকেই হাঁটুর ব্যথা সহ আরো অনেক ধরনের ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন এবং এ নিয়ে বেশ চিন্তিতও রয়েছেন। আপনারা অনেকেই হাঁটুর ব্যথার জন্য অনেক ধরনের ঔষধ সেবন করে আসছেন, এতে করে ক্ষণিকের জন্য হাঁটু ব্যথা ভালো হলেও পরবর্তীতে তা আবার ফিরে আসছে। তবে ঔষধ ছাড়া হাঁটুর ব্যথা সারানোর কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনারা আপনাদের এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। তাই আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে আপনাদের জন্য হাঁটুর ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হাঁটুর ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায়

এ জন্য হাটুর ব্যথা সারানোর ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে আপনারা যদি জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা এই হাঁটুর ব্যথা সারানো সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃহাঁটুর ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন

ভূমিকা

আজকাল প্রায় সকলেই হাঁটুর ব্যথায় ভুগে থাকেন। বৃদ্ধ থেকে অল্প বয়স্ক সকল মানুষই কমবেশি এই সমস্যা সম্মুখীন হন। আমাদের শরীরে অন্য কোন সমস্যা থাকুক বা না থাকুক হাঁটুর ব্যথা প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে ৩০ বছর পেরোতে না পেরোতেই সকলের হাঁটু ব্যথা, হাঁটু ফোলা, হাঁটুর মধ্যে কটমট শব্দ হওয়া, হাঁটু লাল হয়ে যাওয়া, হাটু মোড়াতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি নানা ধরনের হাঁটুর সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে এবং ধীরে ধীরে এ সমস্যাগুলো আরো প্রকোপ আকার ধারণ করতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

হাঁটুর এই সমস্যা গুলো দূর করার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যা প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা হাটুর এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবো। তাই আজকে আমি আমার এই আর্টিকেল হাঁটুর ব্যথা ও হাঁটুর আরো অন্যান্য সমস্যা গুলো সারানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হাঁটুর ব্যাথা কেন হয়

সাধারণত হাঁটুর ব্যথা নানা কারণে হতে পারে। নিচে হাঁটু ব্যথা কারণগুলো তুলে ধরা হলো।

  • প্রথমতো বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাঁটুর ব্যথার উৎপত্তি হয়ে থাকে।
  • হাঁটুর ব্যথা সাধারণত বয়সজনিত অস্থিসন্ধির ক্ষয় বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে হয়ে থাকে।
  • কোনো কারণে হাটুতে আঘাত পেলে হাঁটুর ব্যথা হতে পারে।
  • ব্যথা পেয়ে লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটুর ব্যথা দেখা দেয়।
  • পড়ে গিয়ে বা কোন কারণে আঘাত পেলে ফ্র্যাকচার হলে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
  • অস্থিসন্ধির মাঝে দূরত্ব কমে গেলে সাধারণত এই সমস্যার আবির্ভাব ঘটে।
  • হাঁটু ব্যথার এটি অন্যতম কারণ হলো শরীরের ওজন অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া।
  • বাত রোগে আক্রান্ত হলে হাঁটুর ব্যথা হয়ে থাকে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকলে হাঁটুর ব্যথা দেখা দেয়।

    হাঁটুর ব্যাথা সারানোর খাবার

    হাঁটুর ব্যথা হলে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়মিত খেলে হাঁটুর ব্যথা সারানো সম্ভব। নিচে হাঁটুর ব্যথা সারানোর খাবারগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

    অ্যাপেল ভিনেগারঃ আমরা সকলেই জানি অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। হাঁটুর ব্যথা ভালো করতে এই অ্যাপেল ভিনেগারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ম্যালিক এসিড প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে এবং সেই সাথে হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয় পূরণেও সাহায্য করে। আমরা যদি প্রতিদিন এক কাপ পানির সাথে কিছু পরিমাণ অ্যাপেল ভিনেগার মিশিয়ে খাই তাহলে হাটু ব্যথায় অনেকটাই উপকার পাবো।

    মেথি গুড়োঃ হাঁটুর ব্যথা দূর করার জন্য মেথি গুড়ো দারুন কার্যকর। মেথিতে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি যা ব্যথা নাশক হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মেথি প্রথমে গুড়ো করে নিন, এরপর ১ চা চামচ মেথি গুঁড়ো হালকা গরম পানির মধ্যে মিশিয়ে তা পান করুন। এভাবে নিয়মিত মিথি গুড়ো মিশানো পানি পান করলে, আপনার শরীরে সকল ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যাবে।

    আদাঃ হাঁটুর ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে দারুন কার্যকরী হলো আদা। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য যা হাঁটুর ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা থেঁতো করে পানির সাথে ফুটিয়ে ছেঁকে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে হাঁটুর নানা ধরনের সমস্যা সমাধান মিলবে। এছাড়া নিয়মিত আদা চা খেলেও হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই ভালো হয়ে যায়।

    রসুনঃ রসুন রয়েছে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা শরীরের পেশিকে সুস্থ-সবল রাখতে সাহায্য করে এবং সকল প্রকার ব্যথা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে। এজন্য শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য ও সকল ব্যথা বেদনা দূর করার জন্য অবশ্যই তরকারিতে রসুন দিয়ে, রসুন ভর্তা করে অথবা কাঁচা রসুন খেতে পারেন।

    স্বাস্থ্যকর খাবারঃ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার বাতের ব্যথা বা জয়েন্টের ব্যথা ভালো করতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন এ ধরনের খাবার খাবার তালিকা রাখতে হবে। সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদি নিয়মিত খেলে বাতের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।

    দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ অনেক সময় ক্যালসিয়ামের অভাবে হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। দুধ একটি আদর্শ খাবার কারণ দুধে রয়েছে সকল ধরনের পুষ্টিগুণ উপাদান। দুধে রয়েছে সবচেয়ে অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এজন্য নিয়মিত দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করা সম্ভব। আমরা যদি প্রতিদিন রাত্রে ঘুমানোর আগে একগ্লাস করে হালকা গরম দুধ খাই তাহলে আমাদের শরীরের সকল ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যাবে।

    তুলসীর রসঃ তুলসী পাতার গুণের কোন শেষ নেয়, এটি নানা গুনে গুণান্বিত একটি প্রাকৃতিক ঔষধ। তুলসী পাতা আমরা নানা রোগের উপশম হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। এর মধ্যে হাঁটুর ব্যথা দূর করার জন্য তুলসী পাতার রস দারুন কার্যকরী। কারণ তুলসী পাতার রস হয়েছে এন্টিব্যাকটেরিয়াল, এন্টিঅক্সিডেন্ট সহ নানা ধরনের গুনাগুন। হাঁটুর ব্যথা করার জন্য ১ গ্লাস হালকা গরম পানির মধ্যে ২-৩ চা চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে তা নিয়মিত পান করুন। এতে করে দেখবেন আপনার হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে।

    বাদামঃ বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও মেগা থ্রি। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট প্রভৃতি বাদাম জাতীয় খাবার গুলো আমরা যদি নিয়মিত গ্রহণ করি তাহলে আমাদের শরীরে সকল ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এতে করে আমাদের হাঁটুর ব্যথাও দূর হয়ে যাবে।

    হলুদ গুঁড়োঃ হলুদ গুঁড়োই রয়েছে এন্টিমাইক্রোবিয়াল যা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। ১ চামচ হলুদ গুড়ার সাথে ১ চা চামচ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এই পেস্টটি ব্যথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে এবং আরাম অনুভূত হবে।

    বেরিজাতীয় ফলঃ সাধারণত শীতকালে হাঁটুর ব্যথা সহ আরো অন্যান্য ব্যথা বেদনা বেশি হয়ে থাকে। শীতকালে নানা ধরনের ফলমূল পাওয়া যায়, যা গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। এর মধ্যে বেরিজাতীয় ফল গ্রহণ করে হাঁটুর ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাত-পায়ের ব্যথা সহ আরো নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দূর করা সম্ভব। কারণ বেরিজাতীয় ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেমন- স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি, ব্লুবেরির এই ফলগুলো বেরিজাতীয় ফল।

    পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ পানিতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আমাদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে তাদের বাতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

    হাঁটুর ব্যাথা সারানোর ব্যায়াম

    হাঁটুর ব্যথা সারানোর কিছু ব্যায়াম রয়েছে। যে ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে হাঁটুর ব্যথা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। নিচে হাঁটুর ব্যথা সারানোর ব্যায়ামগুলো তুলে ধরা হলো।

    • হাঁটুর ব্যথা দূর করার জন্য নিয়মিত সাঁতার কাটুন। সাঁতার হলো হাঁটুর ব্যথা দূর করার সবচাইতে কার্যকরী ব্যায়াম। নিয়মিত সাঁতার কাটলে হাঁটুর ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
    • যাদের হাঁটুর ব্যথা রয়েছে বা যাদের হাঁটু ব্যথা এখনো শুরু হয়নি সকলেই যদি নিয়মিত প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটতে বের হয়, তাহলে হাঁটুর ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
    • সাইকেল চালানো এক ধরনের ব্যায়াম যা মাংসপেশী সচল রাখতে সহায়তা করে এবং হাঁটু ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য সকলের উচিত নিয়মিত সাইকেলিং করা যা সাইকেলিং মেশিনের মাধ্যমে ঘরে করা সম্ভব।
    • দাঁড়ানো অবস্থায় মাজা বাঁকা করে নুয়ে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরার চেষ্টা করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার উরুর পেছনে টান অনুভব হবে ততক্ষণ পর্যন্ত যেতে থাকুন। এ অবস্থায় স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বজায় রাখুন এবং এভাবে ১৫-২৫ সেকেন্ড অবস্থান করুন। এরপর পুনরায় শুরুর পজিশনে আসুন এবং আবার পুনরায় করুন। এই ব্যায়ামকে স্ট্যান্ডিং টো টাচ বলা হয়।
    • মেঝেতে পা সোজা করে বসুন। এবার হাঁটুর নিচে একটি তোয়ালে রোল করে দিয়ে তারপর হাঁটু দিয়ে চাপ দিন। এ অবস্থায় শরীরের অন্যান্য অংশ স্বাভাবিক রাখুন ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এভাবে কিছু সময় হাঁটুর ব্যায়াম করুন।
    • একটি চেয়ারে বসে পায়ের গোড়ালির সাথে ২ কেজি ওজনের একটি বালুর ব্যাগ বেঁধে পা সোজা করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন আর ভাঁজ করুন। এভাবে পাঁচ মিনিট করে দিনে ২ থেকে ৩ বার ব্যায়ামটি করতে পারেন।
    • এই ব্যায়ামের ক্ষেত্রে দুই পা কাছাকাছি এনে দাঁড়াতে হবে এবং দুই পায়ের আঙ্গুল পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে উপরের দিকে তুলতে হবে। এমন অবস্থায় ধীরে ধীরে গোড়ালি মেঝে থেকে তুলতে হবে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় শরীর হালকা রাখতে হবে।
    • হাঁটুর ব্যথার ব্যায়াম এর ক্ষেত্রে উপুর হয়ে শুয়ে বালুর ব্যাগ পায়ে বেঁধে হাঁটু ভাঁজ করতে হবে এবং ১০ সেকেন্ড ধরে রাখতে হবে আর ছেড়ে দিতে হবে।
    • এই ব্যায়ামে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আরেক পা ভাঁজ করে অপর পায়ে হাঁটু ছুঁতে হবে। এই অবস্থায় দুই হাত উপর দিকে তুলে দাঁড়াতে হবে। পুরো ব্যায়ামটি করার সময় শ্বাস অল্প অল্প করে গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে।
    • বাসার জানালা অথবা বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দুই হাটু ভাঁজ করে বসতে হবে আবার ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এভাবে প্রতি বার ৫ মিনিট করে ব্যায়াম করুন।
    • এ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে একটি পা পিছনের দিকে সোজা তুলে রাখুন এবং শরীরকে সামনে দিকে ঝুকিয়ে দিন। আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ শরীর ও পিছনে তোলা পা মাটির সঙ্গে অনুভূমিক করে ফেলুন। এক্ষেত্রে দেহের সম্পূর্ণ ভার এক পায়ের উপরে থাকবে।
    • এ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বিছানা বা মেঝেতে দুই পা সোজা করে বসে একটি তোলা দিয়ে পায়ের পাতা সামনের দিকে টানুন। এভাবে করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন আবার ছেড়ে দিন।

    হাঁটুর ব্যাথা সারানোর ঘরোয়া উপায়

    হাঁটু ব্যাথা সারানোর যে ঘরোয়া উপায় গুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

    • আঘাত জনিত কারণে হাঁটুতে ব্যথা পেলে সাথে সাথে বরফ দিন। এতে করে হাঁটুর ফোলা কমে যাবে এবং ব্যথা অনেকটাই ভালো হয়ে যাবে।
    • হাঁটুতে ব্যথা হলে হাঁটাচলা বন্ধ রাখতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে।
    • অতিরিক্ত শরীরের ওজনের কারণে হাঁটুতে চাপ পড়লে হাঁটু ব্যথা হয়। এজন্য সব সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
    • শরীরচর্চা করা যদিও শরীরের জন্য অনেক উপকারী কিন্তু যাদের হাঁটুর ব্যথা সহ আরও অন্যান্য ব্যথা-বেদনা রয়েছে, তাদের জন্য কঠিন শরীরচর্চাটা না করাটাই ভালো।
    • হাঁটুতে ব্যথা করলে ঠান্ডা-গরম সেঁক দিলে হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। আইস ব্যাগ বা হট ব্যাগ ব্যবহার করে ব্যথায় স্থানে নিয়মিত সেঁক দিতে হবে। এতে করে হাঁটুর ব্যথা অনেকটাই ভালো হয়ে যাবে।
    • সরিষা তেলের সাথে কিছু পরিমাণ রসুন কুচি দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। এবার এই তেল আপনার ব্যথায় স্থানে দিয়ে মালিশ করুন। এতে করে ব্যথা অনেকটাই দূর হবে এবং আরাম মিলবে।
    • ২-৩ চামচ অলিভ অয়েল গরম করে ব্যথা জায়গায় ১০ মিনিট মালিশ করুন। এভাবে নিয়মিত দিনে ৩ বার মালিশ করলে অনেকটাই আরাম মিলবে।
    • কর্পূর তেল রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে এবং জয়েন্টের ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। ১ কাপ নারিকেল তেলে সাথে ১ চা চামচ কর্পূর গুড়া মিশিয়ে নিন। এই কর্পূর মেশানো তেল আপনার ব্যথা জায়গায় লাগিয়ে মালিশ করুন। এভাবে সপ্তাহে চার দিন মালিশ করলে সকল ধরনের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাবেন।
    • হাঁটুর ব্যথা সহ শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা হলে আদা ও কমলা থেকে তৈরি এসেনশিয়াল অয়েল নিয়মিত ব্যথা জায়গায় মালিশ করলে ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যায়।
    • লাল মরিচে রয়েছে ক্যাপসাইসিন নামক উপাদান যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। ২ চা চামচ জলপাইয়ের তেলের সাথে ১ চা চামচ লাল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন এবং এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে মালিশ করুন। এতে করে দেখবেন আপনার ব্যথা-বেদনা অনেকটাই দূর হয়ে গেছে।
    • ইপসম সল্ট বা লবণে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও সালফেট যা শরীরের ব্যথা ও ফোলা কমিয়ে ফেলে। হালকা গরম পানিতে কিছু পরিমাণ ইপসম সল্ট বা লবণ মিশিয়ে ব্যথাস্থানটি আধাঘন্টা ডুবিয়ে রাখলে ব্যাথা থেকে অনেকটাই আরাম মিলবে।

    শেষ কথা

    উপরে আলোচনা থেকে আমরা হাঁটুর ব্যথা সারানোর ঘরোয়া উপায় সহ আরো অনেক ধরনের তথ্য জানতে পারলাম। হাঁটুতে নানা কারণে ব্যথা হতে পারে। তাই হাঁটুর ব্যথা যদি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় তাহলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

    পরিশেষে আমি এটাই বলব যে আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো আর্টিকেল পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url