ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা জরুরী

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতাপ্রিয় পাঠক, আপনারা কমবেশি অনেকেই ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তবে আবার অনেকেই হয়তো এই রোগ সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না। তাই আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে ডায়াবেটিসের লক্ষণ ও ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় এর সাথে সাথে ডায়াবেটিস সম্পর্কে আরো নানা ধরনের অজানা তথ্য আলোচনা করব। আপনারা যদি ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন তাহলে অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনারা ডায়াবেটিস সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা জরুরী

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি সাধারণ রোগে পরিণত হয়েছে। এই রোগটি যেকোনো বয়সে যে কোন সময় হতে পারে। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এজন্য আমাদের সকলকেই ডায়াবেটিস সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। ডায়াবেটিস কি, ডায়াবেটিস কেন হয়, ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলো কি, ডায়াবেটিস কত ধরনের হয়ে থাকে, কি খাবার খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে, ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা, ডায়াবেটিস ঔষধ, ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের যদি সঠিক জ্ঞান থাকে আমরা ডায়াবেটিস রোগ প্রতিকার করতে সক্ষম হব। আজকে আমি আমার এই পোস্টে ডায়াবেটিস সম্পর্কে এ সকল তথ্য তুলে ধরেছি।

ডায়াবেটিস কি

ডায়াবেটিস হল ইনসুলিনের সমস্যা জনিত রোগ। প্রত্যেক মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে ইনসুলিন নামক উপাদান তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু যখন এই ইনসুলিন স্বাভাবিকভাবে তৈরি হতে পারে না বা ধাগ্রস্ত হয় ঠিক তখনই ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হয়। সাধারণত ডায়াবেটিস কোন নরমাল রোগ নয় এটি একটি স্থায়ী ও জটিল রোগ। ডায়াবেটিস হলে শরীরে সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। ইনসুলিন আমাদের শরীরের কোষ গুলোতে শর্করার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ইনসুলিন যেকোনো খাবার খাওয়ার পর আমাদের শরীরে সেই খাদ্যের শর্করাকে ভেঙে চিনি বা গ্লুকোজে রুপান্তরিত করে থাকে। এই চিনি বা গ্লুকোজ আমাদের শরীরে শক্তি বা শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীর যখন এই ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ করে দেয় ঠিক তখনই আমাদের রক্তের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি জমা হওয়া শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

যার ফলে আমাদের শরীরের কোষ গুলো তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর ফলে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে। কারো রক্তে গ্লুকোজ নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলেই তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই মাত্রাগুলি হলো অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমার প্রতিলিটার ৭.০ মিলিমল বা তার বেশি অথবা অভুক্ত ব্যক্তিকে পূর্ণবয়স্ক ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ানোর দুই ঘন্টা পর প্রতি লিটারে ১১.১ মিলিমল বা তার বেশি হলে।

ডায়াবেটিস কেন হয়

সাধারণত ডায়াবেটিস নানা কারণে হয়ে থাকতে পারে। নিচে ডায়াবেটিস কেন হয় তা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

  • শরীরে যখন ইনসুলিন স্বাভাবিকভাবে তৈরি হতে পারে না ঠিক তখনই ডায়াবেটিসে আবির্ভাব ঘটে।
  • বংশগত কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে অর্থাৎ মা-বাবা, নানা-নানী, দাদা দাদি ও অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনের ডায়াবেটিস থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ইনসুলিন তৈরি বাধাগ্রস্ত হয় যার ফলে ডায়াবেটিস হতে পারে।
  • কোন কোন সময় অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতার কারণেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
  • গর্ভকালীন অবস্থায় অনেক সময় মায়েদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।
  • গর্ভবতী মায়ের আগে থেকেই ডায়াবেটিস থাকলে গর্ভের সন্তানের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণেও ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হতে পারে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত স্বাস্থ্যের কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।
  • খাদ্য গ্রহণের পর নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম না করলে ধীরে ধীরে শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধতে শুরু করে।
  • যারা বাহিরে কম বের হন এবং যারা শরীরের রোদ কম লাগান তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ সূর্যের আলোতে ভিটামিন-ডি রয়েছে। আর এই ভিটামিন-ডি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে।
  • যাদের হৃদরোগ রয়েছে, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি ও উচ্চ রক্তচাপের মত শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

ডায়াবেটিস হলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। সেই সমস্যাগুলো বা লক্ষণগুলো দেখে আমরা সহজেই বুঝতে পাব যে আমাদের ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা। নিচে ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলো তুলে ধরা হলো।

  • ডায়াবেটিস হলে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ বেড়ে যাবে।
  • ঘন ঘন পিপাসা লাগবে ও গলা শুকিয়ে যাবে।
  • অল্পতেই শরীরে ক্লান্তি ভাব আসবে ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে।
  • অনেক সময় শরীরের দুর্বলতার কারণে মাথা ঘুরতে পারে।
  • ক্ষুধা বেড়ে যাবে ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেশি হবে।
  • কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।
  • শরীরের কাটা বা ক্ষত জায়গা সহজে ভালো হতে চায় না।
  • শরীরের চামড়া খসখসে, শুষ্ক ও চুলকাতে থাক।
  • সব সময় মেজাজ খিটখিটে ও বিরক্তিভাব হয়ে থাকে।
  • চোখে জ্বালাপোড়া ভাব হয় ও চোখে কম দেখা শুরু হয়।
  • ঘাড়, হাত ও পায়ের রগগুলো প্রচন্ড ব্যথা করে ও টেনে ধরে।
  • সব সময় মাথা ঝিমঝিম করে ও মাথাব্যথা হয়ে থাকে।
  • বারবার প্রসব সমস্যা বা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ইতিপূর্বে আমাদের কাছে ডায়াবেটিসের কারণগুলি স্পষ্ট ছিল না। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীগণ বহুদিন যাবত বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের কারণ খোঁজার চেষ্টা করে আসছেন। পূর্বের লক্ষণকে চিন্তা করে যে প্রকারভেদ প্রচলিত ছিল তা অতি সাম্প্রতিক পরিবর্তন করে রোগের উপর বিশেষ জোর দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য নতুন প্রকারভেদ অনুমোদন করেছে।

ডায়াবেটিসকে মূলত ৪ শ্রেণীতে বা ধরনের বিন্যাস করা হয়েছে। যেমন-

  • ধরন - ১
  • ধরন - ২
  • বিবিধ কারণভিত্তিক শ্রেণী
  • গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

ধরন - ১ঃ পূর্বে এই শ্রেণীকে ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগ বলা হত। এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে (গড় বয়স ১০-১২ বছর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। বেঁচে থাকার জন্য এ সকল রোগীকে ইনসুলিন ইঞ্জেকশন নিতে হয় অন্যথায় রক্তে শর্করা অতি দ্রুত বেড়ে গিয়ে অল্প বয়সের মধ্যেই রক্তে আম্লোজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া অবস্থায় প্রসাবে এসিডন পাওয়া যায়। এ ধরনের রোগীরা সাধারণত কৃশকায় হয়ে থাক। সৌভাগ্যবশত আমাদের দেশে ইনসুলিন নির্ভরশীল ধরন-১ রোগের সংখ্যা খুবই কম। এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস থাকে না।

ধরন - ২ঃ এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩০ বছরের উপরে হয়ে থাকে। তবে আজকাল ৩০ বছরের নিচেও এই ধরনের রোগী সংখ্যা দেখা দিচ্ছে এবং দিনে দিনে বেড়ে চলছে। এদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় তবে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কম। অনেক সময় এই দুই ধরনের কারণ একই সাথে দেখা দিতে পারে। ইনসুলিন কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে এই ধরনের রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থূলকার হয়ে থাকে। এই ধরনের রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস পাওয়া যায়। ইনসুলিন ইঞ্জেকশন না দিলে প্রথম শ্রেণীর রোগীর মতো এদের কিটোসিস হবে না অর্থাৎ এরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নয়।

অনেক ক্ষেত্রে কোন শারীরিক অসুবিধা অনুভব করেন না বলে এরা চিকিৎসকের কাছে আসেন না। ফলে বিনা চিকিৎসায় অনেকদিন কাটানোর কারণে বিভিন্ন প্রকার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেন। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যায়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হয়। কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্রে সাময়িক ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে। ১৫-২০ বছরের পর অনেককে ইনসুলিন নির্ভরশীলদের মতো স্থায়ীভাবে ইনসুলিন দেওয়া লাগতে পারে।

বিবিধ কারণভিত্তিক শ্রেণীঃ
  • জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া
  • জেনেটিক কারণে ইনসুলিন কার্যকারিতা কমে যাওয়া
  • অগ্নাশয়ের বিভিন্ন রোগ
  • অন্যান্য হরমোন আধিক্য
  • ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে
  • কোন কোন সংক্রমণ ব্যাধি
  • অন্যান্য কোন প্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা

বাংলাদেশ সহ অন্যান্য অনুন্নত দেশে বিশেষ করে উষ্ণমন্ডলী ও দেশগুলোতে অপুষ্টির সাথে এক প্রকার ডায়াবেটিস দেখা যায়। পূর্বে অপুষ্টির শিকার ডায়াবেটিস রোগীদের কে অপুষ্টি ডায়াবেটিস বা Malnutration Related Diabetes Mallitus (MRDM) শ্রেণীভুক্ত করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এর প্রচলন নাই। তবে এদের অন্তর্ভুক্ত FCPD বা অগ্নাশয় পাথর পাওয়া অপুষ্টি জনিত ডায়াবেটিস কে অন্যান্য কারণ হিসেবে বিশেষ শ্রেণীবিভক্ত রাখা হয়েছে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঃ অনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী মা, ভ্রুণ ও সদ্য প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপদজনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখা অবশ্যক। এদের প্রসব হাসপাতালে করোনা বাঞ্ছনীয়। গর্ভকালীন সময় মহিলাকে বিশেষ করে যাদের ঝুঁকি আছে যেমন-বংশপ্রভাব, স্থূলকায়, বেশি বয়স্ক ইত্যাদি এ ধরনের মহিলাদের ডায়াবেটিস আছে কিনা পরীক্ষা করাতে হবে। এই ধরনের রোগীদের পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কি খাবার খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে

ডায়াবেটিস হলে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে ডায়াবেটিস আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের সে সকল খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকা অতি জরুরী। কি খাবার খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • সাধারণত শরীরের জন্য প্রোটিন খুবই উপকারী ও প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস এগুলো উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এই খাবারগুলো অধিক মাত্রায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাওয়া ক্ষতিকর। এসব প্রোটন সমৃদ্ধ খাবার না খেয়ে বাদাম, শিম ও শিমের বিচি প্রোটিন হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারেন।
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। ডায়াবেটিস রোগীরা যদি অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার খায় তাহলে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ডায়াবেটিস আরো বেড়ে যেতে পারে।
  • আলুতে রয়েছে অধিক পরিমাণে শ্বেতসার ও গ্লাইসেমিক উপাদান। গ্লাইসেমিক উপাদান ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের আলু না খাওয়াই উত্তম।
  • ভুট্টাতে রয়েছে মিনারেল, ভিটামিন ও খাদ্য আঁশ। ডায়াবেটিস রোগীরা ভুট্টা বা ভুট্টা দিয়ে তৈরি খাবার খেলে গ্লুকোজ এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • এনার্জি ড্রিংকসে উচ্চমাত্রায় চিনি ও ক্যাফিন থাকে। আর ডায়াবেটিস হলে চিনি ও চিনি জাতীয় কোন খাবার খাওয়া একেবারেই নিষেধ। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ধরনের এনার্জি ড্রিংকস না খাওয়াই ভালো।
  • চিনিযুক্ত চা, কফি, ফলের রস, চকলেট ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। এগুলো খেলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের খাবার খেলে ডায়াবেটিসের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  • চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে। চর্বি বা ফ্যাট যুক্ত খাবার খুব সহজেই ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। কারণ শরীরে ফ্যাট জমলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।
  • বাহিরের ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়া নিষেধ। কারণ ডায়াবেটিস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে, এতে করে সহজেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল খাওয়া ভালো। কিন্তু কিছু ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকে এতে করে শরীরে দ্রুত সুগার বেড়ে যায়। যেমন- আম, লিচু, তরমুজ, কাঁঠাল, কলা, সবেদা ইত্যাদি ফলে অনেক পরিমাণ সুগার থাকে। এজন্য এ সকল ফল বেশি না খাওয়াই ভালো।
  • অনেক ডায়াবেটিস রোগীরাই মদ্যপান করে থাকে। মধ্যপানের কারণে শরীরে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, যার ফলে ডায়াবেটিস আরো বৃদ্ধি পায়।

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা মেনে খাবার গ্রহণ করতে হয়। একজন ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকায় ক্যালোরি - প্রায় ১২০০ গ্রাম, শর্করা - প্রায় ১৭৫ গ্রাম, প্রোটিন - প্রায় ৪৫ গ্রাম, ফ্যাট - প্রায় ৩০ গ্রাম থাকা প্রয়োজন। নিচে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা তুলে ধরা হলো।

তথ্যসূত্রে, বারিন্দ্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।

ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায়

ডায়াবেটিস হলে অতিরিক্ত টেনশনের কোন কারণ নেয়। ডায়াবেটিসের ঔষধ ছাড়াই কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নিচে ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রথম শর্ত হলো প্রতি বেলার খাবার নিয়মিত বা নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের খাবারের যে তালিকা রয়েছে, সে অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে করে ডায়াবেটিস কমানো সম্ভব হবে।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের সব সময় অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একবারে বেশি করে না খেয়ে, অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পরপর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • আঁশযুক্ত খাবার অর্থাৎ আটার রুটি বা ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
  • আলু বা মাটির নিচের উৎপাদিত খাদ্য খুব কম পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
  • সব সময় অতিরিক্ত চর্বি ও তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি ও মিষ্টি কোন খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। এতে করে ডায়াবেটিস এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভাবনা থাকে।
  • ফাস্টফুড, রেডিমেড খাবার, কোমল পানীয় এসব খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • প্রতিদিন নিয়মিত গাজর, শসা, টমেটো, লেটুসপাতা ইত্যাদির সালাত করে খেলে ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।
  • এছাড়া টকদই, ডুমুর, করলা, মেথি, দারচিনি ইত্যাদি গ্রহণ করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস কমানো সম্ভব।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত হাঁটতে হবে ও ব্যায়াম করতে হবে।
  • ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সবসময় বিরত থাকতে হবে।
  • চিনিমুক্ত চা ও কফি ডায়াবেটিস রোগী নিয়মিত পান করলে তা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের একটানা কোন কাজ করা উচিত না। এতে করে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের সব সময় মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপ ডায়াবেটিস বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
  • নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

ডায়াবেটিস ঔষধ

সকল ডায়াবেটিস রোগীকেই খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই তিনটি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু ধরন-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইঞ্জেকশনের দরকার হয়। ধরেন-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক শর্করা কমানোর জন্য খাবার বড়ি দিতে পারেন।

ডায়াবেটিসের ঔষধ ২ প্রকার। যথা- খাবার বড়ি ও ইনসুলিন।

খাবার বড়ির প্রকারভেদ
  • ইনসুলিন নিঃসরন বর্ধকঃ যেমন- গ্লাইবেনক্ল্যামাইড, গ্লিপিডাইট, গ্লিক্লাজাইড, রেপাগ্লিনাইড, ন্যাটিগ্লিনাইড।
  • ইনসুলিনের কার্যকারিতা বর্ধকঃ যেমন- মেটফরমিন, পায়োগ্লিটাজন।
  • অন্ত্রের গ্লুকোজ শোষণ প্রতিরোধঃ যেমন- একারবোজ
  • ইনসুলিন নিঃসরণ বর্ধক ও জীবকোষের রক্ষা করার জন্য যেমন- সিটাগ্লিপটিন 
ইনসুলিন সম্বন্ধে কিছু কথা

আমাদের দেশে প্রথমত দুই ধরনের ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়। যথা-

  • স্বচ্ছ ,নিয়মিত বা স্বল্পমেয়াদী ইনসুলিন (Regular Insulin)। যেমন- হিউমোলিন-আর, ইনসুমান-র‌্যাপিড ইত্যাদি।
  • ঘোলাটে বা দীর্ঘমেয়াদি ইনসুলিন (Intermediate Insulin)। যেমন- হিউমোলিন-এন, ইনসুমান বেজাল, ইনসুলেটার্ড ইত্যাদি।

প্রথমটি দেখতে পানির মত স্বচ্ছ , কাজ আরম্ভ হয় ইনজেকশন দেবার ৩০ মিনিট পরে, ২ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি কাজ করে এবং এর কাজের স্থিতিকাল ৬ থেকে ৮ ঘন্টা।

দ্বিতীয়টি দেখতে ঘোলাটে, এর কাজ আরম্ভ হয় ইনজেকশন দেওয়ার দেড় ঘন্টা পরে, এটি ৬ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কাজ করে এবং এর কাজের স্থিতিকাল ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

তথ্যসূত্রে, বারিন্দ্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে অনেক তথ্য ও ডায়াবেটিস কমানোর ঘরোয়া উপায় জানতে পারলাম। বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস যে কোন বয়সেই হয়ে থাকে। এজন্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা থাকা উচিত। যেন আমরা এই রোগ চিহ্নিত করে দ্রুত এর চিকিৎসা নিতে পারি।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, ডায়াবেটিস নিয়ে লেখা আমার আর্টিকেলটি আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং এ ধরনের আরো আর্টিকেল পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url