ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত তা জেনে রাখা জরুরী

দাঁত শিরশির থেকে মুক্তির ঘরোয়াসাধারণত তাপমাত্রা বৃদ্ধি সাথে সাথে ডায়রিয়া জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত তা অনেকেরই আমরা জানি আবার অনেকেই তা জানি না। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত এবং ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত না তা সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা থাকা দরকার। এজন্য আজকে আমি আমার এই পোস্টে ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত এবং কি খাওয়া উচিত নয় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত

 

তাই আপনারা যদি ডায়রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনারা ডায়রিয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত তা জেনে রাখা জরুরী

ভূমিকা

ডায়রিয়া একটি পেটের অসুখ যা হলে অনবরত পাতলা পায়খানা হতে থাকে। অনেক সময় অতিরিক্ত ডায়েরির কারণে মানুষের মৃত্যুও হয়ে থাকে। এজন্য ডায়রিয়াকে কখনোই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি হলে দ্রুত এর ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেয়া উচিত। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই ধারণা থাকতে হবে। তাহলে আমরা ডায়রিয়ার দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারব।

ডায়রিয়া রোগের কারণ

ডায়রিয়া ছোট-বড় সকলেরই প্রায় সময়ই হয়ে থাকে। এটি একটি পানিবাহিত রোগ যা নানা কারণে হয়ে থাকে। ডায়রিয়া রোগের কারণ গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু সংক্রমিত হলে ডায়রিয়া রোগ হয়ে থাকে।
  • বাসি-পঁচা খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • দূষিত পানি পান করা ও ব্যবহারের মাধ্যমে ডায়রিয়া ছড়ায়।
  • অতিরিক্ত গরমের কারণেও ডায়রিয়া হতে পারে।
  • খাবার হজমের সমস্যা হলে তা থেকে ডায়রিয়া সংক্রমণ হয়ে থাকে।
  • ফাস্টফুড ও তেলে ভাজা খাবার অতিরিক্ত খেলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • পরিবারের একজনের ডায়রিয়া হলে, তা সংক্রমিত হয়ে অন্য সদস্যরও হতে পারে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত গ্যাসের কারণেও ডায়রিয়া হয়ে থাকে।
  • আলসারের সমস্যা থাকলে ঘন ঘন ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • পরিপাকতন্ত্রে ক্যান্সার থাকলে ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ঘন ঘন ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
  • যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ঘন ঘন দেখা দেয়।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের কারণেও ডায়রিয়া হয়ে থাকে।

ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ

ডায়রিয়া রোগের কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ রয়েছে, যে লক্ষণগুলো দেখতে প্রায় আমাশয় রোগের মতোই হয়ে থাকে। আর সেই লক্ষণগুলো দেখলে আমরা বুঝতে পারবো যে আমাদের ডায়রিয়া হয়েছে। নিচে ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ গুলো তুলে ধরা হলো।

  • ডায়রিয়া হলে ঘন ঘন পায়খানা শুরু হয়ে যায়।
  • পায়খানার সাথে তরল পানির মত ফেনা বের হয়।
  • ডায়রিয়া হলে পেট প্রচন্ড ব্যথা করে।
  • বমি বমি ভাব বা ঘন ঘন বমি হয়।
  • পেট প্রচন্ড ফেঁপে থাকে।
  • মল প্রচন্ড দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
  • মলের সাথে অনেক সময় রক্ত বের হয়।
  • অতিরিক্ত ডায়রিয়া হলে হাত-পায়ের রগ প্রচন্ড টেনে ধরে।
  • অতিরিক্ত মলত্যাগের কারণে প্রচন্ড মাথা ঘুরতে থাকে।
  • ঘন ঘন মুখ শুকিয়ে যায় এবং পিপাসা লাগে।
  • শরীরের জ্বর চলে আসে এবং প্রচন্ড ঠান্ডা লাগা শুরু হয়।
  • শরীরের হার্টবিট একেবারে কমে যায়।
  • ডায়রিয়া হলে শরীর পানি শূন্য হয়ে পড়ে।
  • প্রস্রাব হ্রাস পায় এবং প্রসাব গাঢ় বর্ণবিশিষ্ট হয়ে যায়।
  • গোটা শরীরে প্রচন্ড কাঁপুনি শুরু হয়ে যায়।

ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত

এমন কিছু খাবার রয়েছে যে খাবারগুলো ডায়রিয়া হলে খাওয়া উচিত। ডায়রিয়া হলে এ খাবারগুলো খেলে ডায়রিয়ার প্রভাব কিছুটা কমে আসে। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত তার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

  • ডায়রিয়া হলে সর্বপ্রথম স্যালাইন পানি বেশি বেশি খেতে হবে। এতে করে শরীরে যে পানি শূন্যতা তৈরি হয় তা পূরণ করে স্যালাইন পানি।
  • ডায়রিয়া ভালো করতে কাঁচা ও পাকা কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আইরন যা পাতলা পায়খানা কে শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া কলা খুব সহজেই হজম হয়।
  • ডায়রিয়া হলে মারি ভাত বা নরম খিচুড়ি বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। এতে করে সহজেই খাবার হজম হবে এবং শরীরের পানি অভাবেও পূরণ হবে।
  • স্যালাইন পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলের রসও খাওয়ানো উচিত। এতে করে শরীরে পানি শূন্যতা দূর হবে।
  • এ সময় শরীরের পানিশূন্যতা তৈরি হয় যা দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজন, এজন্য এ সময় ডাবের পানি পান করা ভালো। এতে করে পানি শূন্যতা দূর হবে এবং পুষ্টিগুণও পাওয়া যাবে।
  • এই সময় আলু সিদ্ধ করে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে ভর্তা করে খেলে ডায়রিয়া অনেকটাই কমে যায়।
  • ডায়রিয়া হলে নরম ভাতের সাথে হালকা মসলাযুক্ত ঝোলের তরকারি খাওয়া উচিত। এতে করে খাবার সহজেই হজম হবে এবং শরীরের শক্তি যোগাবে।
  • এ সময় লেবু ও আখের গুড়ের মিশ্রিত শরবত বেশি বেশি করে পান করতে হবে। এতে করে শরীরের পানির অভাব অনেকটাই দূর হয়ে যাবে এবং শরীরে এনার্জি তৈরি হবে।
  • ডায়রিয়া হলে চিড়া ভিজিয়ে নরম করে তার সাথে সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে খাওয়া খুব উপকার।
  • ডায়রিয়া হলে দই খাওয়া যেতে পারে। দইয়ের মধ্যে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ডায়রিয়া রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিকস পেট ঠান্ডা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত না

ডায়রিয়া হলে যেমন কিছু খাবার খাওয়া জরুরী তেমনি এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়া উচিত নয়। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া উচিত না তা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • ডায়রিয়া হলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার সহজে হজম হয় না যার ফলে ডায়রিয়ার সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
  • ডায়রিয়া হলে চা বা কফি এ ধরনের ক্যাফেন জাতীয় খাবার একেবারে খাওয়া উচিত নয়। এ সময় চা বা কফি পেটের জ্বালা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • ডায়রিয়া হলে ঝাল ও তৈলাক্ত খাবার একদমই খাওয়া উচিত নয়। ঝাল ও তেল গ্যাসের সৃষ্টি করে ডায়রিয়া হওয়াকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
  • ডায়রিয়া হলে অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
  • ডায়রিয়া হলে ডিম না খাওয়াই ভালো। ডিম সহজে হজম হতে চায় না, এজন্য এ সময় ডিম না খাওয়ায় উচিত।
  • ডায়রিয়া হলে ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ ফাইবারযুক্ত খাবার আপনার ডায়রিয়াকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে। যেমন- শাকসবজি, গরু বা খাসির মাংস, মটরশুটি, সিম, বাদাম, পেয়ারা, আটার রুটি ইত্যাদি।

ডায়রিয়া থেকে মুক্তির উপায়

ডায়রিয়া একটি খুবই খারাপ রোগ যা হলে একজন মানুষ খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য ডায়রিয়া হলে তা থেকে মুক্তির উপায়গুলো দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। মুক্তির উপায় গুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

  • ডায়রিয়া পানিবাহিত জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়, এজন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে।
  • ডায়রিয়া হলে ঠান্ডাবা বাসি খাবার গরম করে একদমই খাওয়ানো যাবে না।
  • খাবার সব সময় ঢেকে রাখা উচিত যেন খাবারে পোকা-মাকড়, মাছি ও ধুলাবালি না পড়ে।
  • মলত্যাগের পর ও খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
  • খাবার তৈরির পূর্বে ও খাবার পরিবেশনের আগে অবশ্যই হাত ও থালা-বাসন ভালো হবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ব্যবহারকৃত কাপড়চোপড় অবশ্যই আলাদা রাখতে হবে এবং প্রতিদিন সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীকে কখনোই ঠান্ডা খাবার খাওয়ানো উচিত নয়। এ সময় গরম গরম খাবার খাওয়ানো উচিত।
  • ডায়রিয়া হলে রোগীকে আলো ও বাতাস সমৃদ্ধ জায়গায় রাখতে হবে এবং চারপাশে নিরিবিলি পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
  • ডায়রিয়া হলে রোগীর শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে যায়, এজন্য অবশ্যই রোগীকে ঘুমের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে যারা বুকের দুধ পান করে সেসব শিশুদের এ সময় বেশি বেশি বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

ডায়রিয়া বন্ধ করার ঔষধ

ডায়রিয়া হলে ঘরোয়া উপায়গুলো প্রয়োগ করার পরেও যদি ডায়রিয়া না কমে, তাহলে ডায়রিয়া বন্ধ করার ঔষধ খাওয়াতে হবে। ডায়রিয়া বন্ধ করার বেশ কিছু ঔষধ রয়েছে, যা খেলে দ্রুত ডায়রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। যেমন-

  • Imotil- 2mg Capsule
  • Lopamid- 2mg Capsule
  • Lopera- 20mg Syrup
  • Loperin- 2mg Capsule
  • Loramide- 2mg Capsule
  • Normotil- 2mg Capsule
বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না।

শেষ কথা

আমরা উপরের আলোচনা থেকে ডায়রিয়া সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। ডায়রিয়া একটি মারাত্মক রোগ যা হলে খুব দ্রুতই আমাদের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এজন্য ডায়রিয়া হলে খাবার খাওয়ার এবং চলা-ফেরার বিষয়ে কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে তা অবশ্যই আমাদের মেনে চলতে হবে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি যদি আপনাদের পড়ে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url