দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়প্রিয় পাঠক, আজ আমি আপনাদের জন্য দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করতে হাজির হয়েছি। আপনারা হয়তো অনেকেই দাঁতের পাথর নিয়ে অনেক চিন্তিত। আজ আমি আপনাদের সেই চিন্তা কিছুটা হলোও কমানোর চেষ্টা করব। কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যা দ্বারা দাঁতের পাথর দূর করা সহজেই সম্ভব। এছাড়া কতদিন পর পর দাঁত স্কেলিং করতে হয় সে বিষয় সম্পর্কেওজেনে রাখাদরকার। আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলেদাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায়

আপনারা যদি আপনাদের দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায়গুলো জানতে আগ্রহী হন, তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করব যে, বল আপনারা এই পোস্টটি পড়ে উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃদাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন

ভূমিকা

দাঁত আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিন্তু আমাদের অবহেলার কারণে আমাদের দাঁতে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- দাঁতের পাথর হয়, দাঁতের শিরশির ভাব হয়, দাঁতে গর্তের সৃষ্টি হয়, দাঁতের উপর হলুদ দাগ পরে, দাঁতে ক্ষত সৃষ্টি হয় ইত্যাদি সমস্যাগুলো আমাদের প্রত্যেকের দাঁতের সাথে কম বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের সমস্যা হলে আমাদের অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। এজন্য আমাদের উচিত এ ধরনের সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা। প্রতিদিন দাঁতের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। আপনারা কিভাবে দাঁতের নিয়মিত যত্ন নিবেন আসুন তা জেনে নেই।

দাঁতে পাথর কেন হয়

আমাদের যদি দাঁত না থাকতো তাহলে আমরা কোন খাবার চিবিয়ে খেতে পারতাম না। দাঁত আছে বলে আমরা সকল খাবার ভালোভাবে খেতে পারি। সাধারণত আমাদের অবহেলার কারণেই দাঁতে পাথর হয়ে থাকে। দাঁতে পাথর কেন হয় সে সম্পর্কে আমরা এখন বিস্তারিত জানব।

  • নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে দাঁতে ধীরে ধীরে ময়লা জমে পাথরের সৃষ্টি হয়।
  • যাদের দাঁত বেশি আঁকাবাঁকা বা অসমান তাদের দাঁতে পাথর বেশি জমে।
  • অনেকের মুখে সমস্যা থাকলে দাঁতে পাথর হতে পারে।
  • আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করলে সাধারণত দাঁতে পাথর হয়ে থাকে।
  • আমাদের মুখের ভেতরে থাকা জীবাণু, খাদ্য কণা এবং থুতুর মধ্যে থাকা প্রোটিন একসাথে মিলেপাথর সৃষ্টি করে।
  • নিয়মিত স্কেলিং না করলে দাঁতে পাথর জমে এবং তা ধীরে ধীরে অনেক বেশি শক্ত হয়ে যায়।

দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায়

আমাদের দাঁতে এক ধরনের হলুদ বা বাদামী রঙের প্রলেপ দেখা যায়। সাধারণত এটাকেই দাঁতে পাথর বলা হয়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে দাঁতে ময়লা জমে এক সময় তা পাথরে পরিণত হয়। এর ফলে দাঁতের সৌন্দর্য একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যারা ধূমপান করেন কিংবা ক্যাফেন গ্রহণের অভ্যাস রয়েছে তাদের দাঁতে এই পাথর বা প্লাক দ্রুত জমে। দাঁতের পাথর দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। নিম্নে দাঁতের পাথর দূর করার উপায় গুলো আলোচনা করা হল।

অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিনঃ অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন দাঁতের পাথর বা প্লাক দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। ১ কাপ পানি, ১/২ কাপ বেকিং সোডা, ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, ৪ চামচ গ্লিসারিন ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে টুথপেস্ট তৈরি করে নিন। নিয়মিত এই প্রাকৃতিক টুথপেস্ট ব্যবহার করলে আপনার দাঁতের পাথর দূর হয়ে যাবে।

হাইড্রোজেন পারোক্সাইডঃ ১ কাপ হাইড্রোজেন পারোক্সাইড এর সাথে ১/২ কাপ হালকা গরম পানি মেশান। এরপর এই পানি মুখে নিয়ে ১ মিনিটের মত রাখুন এবং নরমাল পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে ফেলুন।

তিলঃ দাঁতের জমে থাকা পাথর দূর করতে এক মুঠো তিল মুখে নিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য চিবাতে পারেন। এরপর একটি ব্রাশ ব্যবহার করে দাঁত মাজুন দেখবেন দাঁতের সব ধরনের দাগ দূর হয়ে গেছে।

বেকিং সোডাঃ ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে ১/২ চা চামচ লবণ মেশান। এরপর গরম পানিতে টুথব্রাশ ভিজিয়ে বেকিং সোডা ও লবনের মিশ্রণ দিয়ে ৫ মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করুন। তারপর পানি দিয়ে কুলকুচি করে ফেলুন। এতে করে আপনার দাঁতের পাথর অনেকটাই উঠে যাবে।

কমলার খোসাঃ কমলার খোসা দাঁতের পাথর দূর করতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহার করলে দাঁত সাদা ও ঝকঝকে হয়ে যায়। তাজা কমলার খোসা দাঁতে ঘষতে পারেন অথবা এর গুড়া ব্রাশের সাহায্যে ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যে দাঁতের পাথর উঠে যাবে।

স্ট্রবেরি ও টমেটোঃ স্ট্রবেরি ও টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি যা দাঁতের জন্য অনেক উপকারী। পাথর দূর করার জন্য স্ট্রবেরি, টমেটো ও কমলা একসঙ্গে ম্যাশ করে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট দাঁতে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এতে করে দাঁতের পাথর নরম হবে। এবার বেকিং সোডা মিশানো হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে ফেলুন।

ডেন্টাল পিকঃ ডেন্টাল পিক দিয়ে দাঁতের হলুদ পাথর ধীরে ধীরে ঘষে তুলুন। সাবধানে এ কাজটি করতে হবে যাতে দাঁতের মাড়িতে কোন ক্ষতি না লাগে। এরপর অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে কুলকুচি করে ফেলুন।

কতদিন পর পর দাঁত স্কেলিং করতে হয়

আমাদের দাঁত ভালো রাখার জন্য নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আমাদের দাঁতে পাথর জমে, এই পাথর সহজে দূর হতে চায় না। এজন্য আমাদেরকে অবশ্যই দাঁতের স্কেলিং করতে হবে। কতদিন পরপর দাঁতে স্পেলিং করতে হয় তা আমরা অনেকেই জানি না। প্রাপ্তবয়স্কদের এবং যাদের দাঁত আঁকাবাঁকা বেশি তাদের দাঁতে পাথর বেশি হয়। এক্ষেত্রে ৬ মাস বা ১ বছর পর পর দাঁত স্কেলিং করা উচিত। আর যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই দাঁতের প্রতি বেশি নজর রাখতে হবে। সব সময় দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দাঁতের ট্রিটমেন্ট করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ দাঁতের পোকা দূর করার উপায়

স্কেলিং নিয়ে আমাদের অনেকের মনে ভুল ধারণা রয়েছ। আমরা অনেকে মনে করি যে, দাঁতের স্কেলিং করলে দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হয়, দাঁত ও মাড়িতে ক্ষত সৃষ্টি হয়, দাঁতের গোড়া নড়ে যেতে পারে, দাঁতের ক্ষয় হয়ে যায়, দাঁত শিরশির করবে ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের এ সকল ধারনা মোটেও ঠিক নয়। দাঁত স্কেলিং করলে এগুলো সমস্যা তো হবেই না বরং এ সকল সমস্যাগুলো রোধ করা সম্ভব হবে। তাই আমাদের উচিত ৬ মাস পরপর দাঁত স্কেলিং করা। এতে করে দাঁত ভালো থাকবে, দাঁত সাদা ঝকঝক করবে, মুখে কোন দুর্গন্ধ থাকবে না, দাঁতের কোন ধরনের ক্যাভিটির আক্রমণ হবে না এবং দাঁতের মাড়ির ক্ষয় কম হবে।

দাঁত শিরশির থেকে মুক্তির উপায়

দাঁতের উপরে এনামেল নামক একপ্রকার আস্তরণ থাকে যা দাঁতের ক্ষয় রোধ করে দাঁতের শিরশির ভাব হতে দেয় না। এই এনামেল উপাদানটি ক্ষয় হয়ে গেলে দাঁতের ভিতরে থাকা স্নাইগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায়। এর ফলে ঠান্ডা-গরম জাতীয় খাবার ও পানীয় পান করলে তা স্নাইগুলোর সংস্পর্শে এলে দাঁত শিরশির করে ওঠে। একে চিকিৎসকের ভাষায় সেনসিটিভি বলা হয়ে থাকে। দাঁতের এই শিরশির ভাব থেকে মুক্তির অনেকগুলো উপায় রয়েছে। নিচে দাঁত শিরশির থেকে মুক্তির উপায়গুলো আলোচনা করা হলো।

  • দাঁতের শিরশির ভাব দূর করতে প্রতিদিন মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।
  • এক গ্লাস হালকা গরম পানির মধ্যে সামান্য লবন মিশিয়ে নিয়মিত কুলকুচি করুন।
  • গ্রিন টি মাউথওয়াশ হিসেবে ভালো কাজ করে। গ্রিন টি পানিতে ফুটিয়ে হালকা গরম করে কুলিকুচি করুন।
  • ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট তুলার সাথে সামান্য ভরিয়ে দাঁতের মাড়িতে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  • দাঁত শিরশির করলে রসুনের কয়েকটি কোয়া তেতলিয়ে তার মধ্যে সামান্য কয়েক ফোঁটা পানি ও লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এই পেস্ট দাঁতের গোড়ায় কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। এতে করে দেখবেন আপনার দাঁতের শিরশির ভাব অনেকটাই দূর হয়ে গেছে।
  • দাঁতের শিরশির দূর করতে লেবুর রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজুন, এতে করে আপনার দাঁতে শিরশির করার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • এছাড়া ১ টেবিল চামচ হলুদ গুলোর সাথে ১/২ চা চামচ সরষের তেল ও ১/২ চা চামচ লবণ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি শিরশির করা দাঁতের গোড়ায় লাগিয়ে রাখলে অনেকটাই আরাম পাবেন।
  • বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায় যা দাঁতের শিরশির ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে এবং দাঁত পরিষ্কার রাখলে দাঁতের শিরশিরি ভাব হয় না।
  • দাঁতের যদি শিরশির ভাব বেশি হয় তাহলে নিয়মিত দাঁত স্কেলিং করতে হবে। তাহলে দাঁতে পাথর জমবে না, যার ফলে দাঁত ভালো থাকবে।
  • নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে করে দাঁতে কোন ধরনের ইনফেকশন হওয়ার ভয় থাকবে না। যার ফলে দাঁতের শিরশিররে ভাব প্রতিরোধ করা যাবে।
  • যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের এই সমস্যাটি বেশি হয়। এজন্য সব সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • এছাড়া ঠান্ডা জাতীয় খাবার বা পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে করে দাঁতের শিরশিরি ভাব দূর হবে।
  • দাঁত ব্রাশ করার সময় হালকা করে ব্রাশ করতে হবে এতে করে দাঁতে চাপ পড়বে না। যার ফলে দাঁতের শিরশির হওয়া কমে যাবে।
  • পেয়ারার রস দাঁতের জন্য অনেক উপকারী। দাঁত শিরশির করলে কয়েকটি কচি পেয়ারা পাতা রস করে তা দাঁতের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন।
  • অতিরিক্ত চিনি ও চিনিযুক্ত পানীয় ও খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার দাঁতের এনামেলকে নষ্ট করে ফেলে যার ফলে দাঁতের শিরশিরি ভাব শুরু হয়ে যায়।

দাঁতের গর্ত দূর করার উপায়

নানা কারণে দাঁতে ক্যাভিটির আক্রমণ হতে পারে। দাঁতে ক্যাভিটির আক্রমণ করলে দাঁতে গর্তের সৃষ্টি হয়। দাঁতের গর্তকে আমরা সাধারণত দাঁতের পোকা বলে থাকি। নিচে দাঁতের গর্ত দূর করার উপায় সমূহ আলোচনা করা হল।

  • দাঁতে গর্ত যেন না হয় আমাদের সেই দিকে সবার প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য সকালে নাস্তার পর এবং রাত্রে খাবার খাওয়ার পর নিয়মিত ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
  • দাঁতের ফাঁকে খাবার ঢুকে গেলে সুতা বা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।
  • যাদের মুখের অসুখ, অনিয়ন্ত্রণত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
  • দাঁতে গর্ত দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ফিলিং করে নেওয়া উচিত।
  • চিনি যুক্ত খাবার, যেকোনো ধরনের মিষ্টি খাবার, আঠালো খাবার ইত্যাদি খাওয়ার পরে পানি দিয়ে, কুলিকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ফসফরাস, মিনারেল প্রভৃতি জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। এতে করে দাঁতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
  • ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন- টমেটো, লেবু, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙ্গা, আমলকি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • দাঁতে সমস্যা হলে প্রতিদিন দুবেলা করে পানির সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলিকুচি করতে পারেন। এতে করে অনেকটাই আরাম মিলবে।
  • দাঁতের গর্ত বা পোকার সমস্যা দূর করতে দাঁত ব্রাশ করার পর অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। এটি মুখের সকল ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখকে দুর্গন্ধ মুক্ত ও জীবন মুক্ত করতে সাহায্য করে।
  • দাঁতের সমস্যা দূর করার জন্য নিম কাঠি দিয়ে দাঁত মাজা একটি কার্যকরী পন্থা। নিমে থাকা ফাইবার দাঁতে প্লাক হতে দেয় না। এজন্য নিয়মিত নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজতে পারেন।
  • যতটা পারবেন মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস দাঁতের পোকা দূর করার উপায়।
  • দাঁতের গর্ত যদি বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

দাঁতের হলুদ দাগ দূর করার উপায়

বেশিরভাগ মানুষই দাঁতের হলুদ দাগ নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকে। হলুদ দাঁত আমাদের মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে। এই হলুদ দাঁতকে উজ্জ্বল সাদা করতে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা হলুদ দাঁতকে সাদা ঝকঝকে করে ফেলতে পারি। দাঁতের হলুদ দাগ দূর করার উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • পাকা বা কাঁচা কলার খোসার সাদা দিক দিয়ে নিয়মিত দাঁত ঘষলে দাঁতের হলুদ আবরণ উঠে দাঁত সাদা হয়ে যাবে।
  • দাঁত পরিষ্কার করতে লবণ অনেক কার্যকরী। লবণের সাথে সামান্য সরিষার তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত একবার করে দাঁত ঘষে দেখুন, আপনার দাঁত সাদা ঝকঝক করবে।
  • দাঁতের জন্য তুলসী পাতা খুব উপকারী। কিছু সংখ্যক তুলসী পাতা শুকিয়ে সেগুলো গুঁড়ো করে নিন। গুঁড়ো করা তুলসী পাতার সাথে টুথপেস্ট মিশিয়ে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে তাতে হলুদ দাগ একেবারেই চলে যাবে।
  • কমলালেবুর খোসা দাঁতের হলুদ দাগ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মাঝেমধ্যে কমলার খোসা ব্যবহার করলে দাঁতের হলুদ দাগ অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।
  • সপ্তাহে ১-২ বার বেকিং সোডা ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্রাশ করলে আপনার দাঁতের হলুদ ভাব দূর হয়ে যাবে।
  • আপেল, গাজর, আখ, জোয়ান ইত্যাদি দাঁত পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে খুবই ভালো। এ সকল কচকচে ও শক্ত ফল আপনার দাঁতের জন্য প্রাকৃতিক টুথব্রাশ হিসেবে ভালো কাজ করবে।
  • স্ট্রবেরি পেস্ট করে তা দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত সাদা ঝকঝক করবে।
  • গ্রিন টি-তে রয়েছে প্রচুর ফ্লুরাইড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দাঁতের হলুদ ভাব পড়তে দেয় না।
  • মাশরুমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিস্যাকারাইড যা দাঁতের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দাঁতে পাথর বা হলুদ দাগ হতে দেয় না।
  • দাঁতের হলুদ দাগ দূর করতে লেবুর রসের সাথে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজুন, এতে করে আপনার দাঁতে হল দাগ দূর হয়ে দাঁত সাদা ঝকঝক করবে।

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, দাঁতে পাথর কেন হয় এবং দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় গুলো কি কি। এছাড়া দাঁতের আরো অনেক সমস্যার সম্পর্কেও জানলাম এবং এর সাথে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্পর্কেও জানতে পারলাম। দাঁত আমাদের মূল্যবান সম্পদ। এজন্য আমাদের উচিত দাঁতের নিয়মিত যত্ন নেওয়া।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, দাঁতের পাথর দূর করার সহজ উপায় সম্পর্কে পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং এরকম পোস্ট আরো পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url