দাঁতের পোকা দূর করার উপায় সমূহ জেনে নিন

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়দাঁতের পোকা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আমার সাথেই থাকুন। আমরা জানি যে, আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের মতো দাঁতও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আমাদের সকলের উচিত দাঁতের যথাযথ যত্ন নেওয়া। আজকে আমি আমার এই পোস্টে দাঁতের পোকা দূর করার উপায় এবং পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দাতের পোকা দূর করার উপায়

আপনারা কি দাঁতের সমস্যা নিয়ে ভুক্তভোগী, তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা রাখি যে, আপনারা এই পোস্টটি পড়লে আপনারা অনেক উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃদাঁতের পোকা দূর করার উপায় সমূহ জেনে নিন

ভূমিকা

আমাদের দাঁতের নানা ধরনের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছোট বড় সকলেই আমরা এই দাঁতের সমস্যার সম্মুখীন হই। আমাদের দাঁতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দাঁতে পোকা হওয়া বা গর্ত হওয়া, দাঁতে ব্যথা করা, দাঁতে পাথর জমা, এমনকি দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। এজন্য আমাদের অবশ্যই দাঁতের চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। যেন আমরা দ্রুত দাঁতের সমস্যার ট্রিটমেন্ট করতে পারি।

দাঁতের পোকা কি

দাঁতের পোকা কি এই সমন্ধে আমরা অনেকেই কমবেশি জানি। সাধারণত দাঁতে পোকা বলতে দাঁতের ক্ষয় ও গর্ত হওয়াকে দাঁতের পোকা বলা হয়। মিষ্টি খাবার বা চীনযুক্ত খাবার, চুইংগাম, চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি খাবার খাওয়ার পর মুখে এক ধরনের এসিড তৈরি হয় যা ধীরে ধীরে দাঁতের উপরে শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করে থাকে। এনামেলের এই ক্ষয়ের কারণে দাঁতে ছিদ্র বা গর্ত তৈরি হয়। সাধারণত আমরা এ ধরনের সমস্যাকে দাঁতের পোকা বলে থাকি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাটিকে ডেন্টাল ক্যারিজ বা ডেন্টাল ক্যাভিটি বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায়

দাঁতে ছিদ্র বা গর্ত হলে তার মধ্যে ময়লা ও খাদ্য কন্যা জমে ক্যাভিটির সংক্রমণ হয়। এর ফলে দাঁত শিরশির করা, দাঁতে ব্যথা করা, দাঁতের গোড়া ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা তৈরি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি খুবই ছোট কালো গর্তের মতো দেখায় এবং পরে তা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। সাধারণত এই সমস্যাটি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।

দাঁতে পোকা কেন হয়

দাঁতে পোকা বা ক্যাভিটি অনেক কারণে আমাদের হয়ে থাকতে পারে। নিচে দাঁতে পোকা কেন হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

  • দাঁতের পোকা বা ডেন্টাল কেভিটির জন্য দায়ী হল কিছু ব্যাকটেরিয়া যেগুলো আমাদের সবার মুখের মধ্যেই থাকে। দাঁতে খাবার আটকে থাকলে এই ব্যাকটেরিয়া সেই খাবারকে পচিয়ে ফেলে এবং দাঁতের গোড়ায় ক্ষত সৃষ্টি করে।
  • সাধারণত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেলে মুখের ভেতরে এক ধরনের জীবাণুর সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে এসিড তৈরি করে। এই এসিড আমাদের দাঁতের উপরে থাকা এনামেলকে ক্ষয় করে এবং দাঁতের গর্ত সৃষ্টি করে।
  • আমাদের মুখের থুতু বা লালা আমাদের মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেক সময় অনেকের মুখের অসুখ থাকার কারণে মুখের লালা বা থুতুর পরিমাণ কমে যায়। মুখে লালা বা থুতুর পরিমাণ কমে গেলে দাঁতে ক্যাভিটি বা দাঁতে পোকা হতে পারে।
  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে দাতে খাবার জমে দাঁতে পোকা সৃষ্টি হয়।
  • অনেক সময় দাঁতের ক্ষয় হতে হতে ব্যাকটেরিয়া এবং এসিড আরো গভীরে ঢুকে যায়। যার ফলে দাঁতের স্নায়ু ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হয় ও ফুলে যায়।
  • আমরা যদি নিয়মিত হাইজিন মেনে মুখ পরিষ্কার না করি তাহলে আমাদের দাতে ক্যাভিটির আক্রমণ হতে পারে।

দাঁতের পোকা দূর করার উপায়

আমরা জানলাম যে, নানা কারণে দাঁতে পোকা বা ক্যাভিটির আক্রমণ হতে পারে। দাঁতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ হলে কিছু উপায় রয়েছে যা দ্বারা দাঁতের পোকা রোধ করা সম্ভব। নিচে দাঁতের পোকা দূর করার উপায় সমূহ আলোচনা করা হল।

  • দাঁতে গর্ত যেন না হয় আমাদের সেই দিকে সবার প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য সকালে নাস্তার পর এবং রাত্রে খাবার খাওয়ার পর নিয়মিত ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
  • দাঁতের ফাঁকে খাবার ঢুকে গেলে সুতা বা ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে হবে।
  • যাদের মুখের অসুখ, অনিয়ন্ত্রণত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক সমস্যা ইত্যাদি রয়েছে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
  • দাঁতে গর্ত দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ফিলিং করে নেওয়া উচিত।
  • চিনি যুক্ত খাবার, যেকোনো ধরনের মিষ্টি খাবার, আঠালো খাবার ইত্যাদি খাওয়ার পরে পানি দিয়ে, কুলিকুচি করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ফসফরাস, মিনারেল প্রভৃতি জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। এতে করে দাঁতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
  • ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন- টমেটো, লেবু, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙ্গা, আমলকি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • দাঁতে সমস্যা হলে প্রতিদিন দুবেলা করে পানির সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলিকুচি করতে পারেন। এতে করে অনেকটাই আরাম মিলবে।
  • দাঁতের গর্ত বা পোকার সমস্যা দূর করতে দাঁত ব্রাশ করার পর অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। এটি মুখের সকল ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখকে দুর্গন্ধ মুক্ত ও জীবন মুক্ত করতে সাহায্য করে।
  • দাঁতের সমস্যা দূর করার জন্য নিম কাঠি দিয়ে দাঁত মাজা একটি কার্যকরী পন্থা। নিমে থাকা ফাইবার দাঁতে প্লাক হতে দেয় না। এজন্য নিয়মিত নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজতে পারেন।
  • যতটা পারবেন মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস দাঁতের পোকা দূর করার উপায়।
  • দাঁতের ক্যাভিটি যদি বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

দাঁতের ব্যথা কেন হয়

সাধারণত দাঁতের ব্যথা কম বেশি অনেকেরই হয়ে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে এ ব্যথা অনেক বেশি হয়ে থাকে। আমাদের দাঁতের ব্যথা অনেক কারণে হতে পারে। দাঁতের ব্যথা কেন হয় সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • দাঁতে গর্ত বা ক্ষত হলে দাঁতের ব্যথা হয়ে থাকে।
  • নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার বা ব্রাশ না করলে দাঁতের ব্যথা হয়।
  • প্রতিবার খাওয়ার পরে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার কণা পচে গিয়ে দাঁতের ব্যথা তৈরি করতে পারে।
  • আপনার দাঁতে যদি ব্যাকটেরিয়ার আক্রান্ত হয় তাহলে দাঁতে ব্যথা হতে পারে।
  • অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে দাঁতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়ে দাঁতের ব্যথা তৈরি হয়।
  • যাদের অতিরিক্ত পরিমাণে ডায়াবেটিস আছে তাদের দাঁতের ব্যথা বেশি হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় ঠান্ডা জাতীয় খাবার বা পানীয় পান করলে দাঁতের ব্যথা হতে পারে।
  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে দাঁতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার। ফলে দাঁতের ব্যথা শুরু হয়।
  • ভিটামিন সি এর অভাব হলে দাঁতে স্কার্ভি রোগ হয় যার ফলে দাঁত ফুলে গিয়ে দাঁতের ব্যথা হতে পারে।
  • কখনো দাঁতে আঘাত পেয়ে থাকলে ভবিষ্যতে সে দাঁতে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
  • অনেক সময় দাঁতের গোড়া ক্ষয় হয়ে দাঁত ব্যথা করতে পারে।

পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

আসলে দাঁতে পোকা বলতে কিছু নেই, এটি সাধারণত দাঁতের গর্ত হওয়াকে বুঝায়। দাঁতে গর্ত হলে অনেক ব্যথা হয়ে থাকে এবং ফুলে যায়। দাঁতের গর্ত বা পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে আজ আমরা জানবো।

লবন ও গোলমরিচঃ সমপরিমাণ লবণ ও গোলমরিচ এর সাথে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি আক্রান্ত দাঁতের উপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এভাবে দাঁতের ব্যথা না কমা পর্যন্ত লাগাতে থাকুন।

কুলকুচি করাঃ পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে কুলকুচি একটি অন্যতম পন্থা।প্রতিবার খাওয়ার পরে পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে কুলকুচি করে নিতে হবে। এতে করে দাঁতে ও মুখে আটকে থাকা খাবার পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পেপারমিন্ট টি ব্যাগঃ পেপারমিন্টের ঠান্ডা অনুভূতি আপনার দাঁতকে অসাড় করে ব্যথা ও ফোলা কমাতে সাহায্য করবে। পেপারমিন্ট টি ব্যাগটি আক্রান্ত দাঁতের উপর ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার করে এই পেপারমিন্ট টি ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।

রসুনঃ রসুনের রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য, যা দাঁতের ব্যথা কমাতে ভালো কাজ করে। এক কোয়া রসুন থেতলে নিয়ে তার সঙ্গে অল্প পরিমাণ লবণ মিশিয়ে আক্রান্ত দাঁতে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে অনেকটাই দাঁতের ব্যথায় আরাম পাবেন।

লবঙ্গ তেলঃ লবঙ্গ তেলে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যানেস্থেটিক বৈশিষ্ট্য যা দাঁতের ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। একটি তুলার সাহায্যে কয়েক ফোটা লবঙ্গ তেল নিয়ে আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় ২০ মিনিটের মত রেখে দিন। দেখবেন আপনার দাঁতের ব্যথা অনেকটাই দূর হয়ে গেছে।

ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্টঃ এক টুকরো তুলাতে ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট কয়েক ফোটা ভরিয়ে আক্রান্ত দাঁতের উপর লাগিয়ে রাখুন। দাঁতের ব্যথা যতক্ষণ পর্যন্ত না কমবে ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহার করতে থাকুন।

লবণ পানি কুলকুচিঃ ১ গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে ১ চা চামচ লবন মিশিয়ে কুলিকুচি করুন। এতে করে দাঁতের ব্যথায় অনেকটা আরাম মিলবে। আপনি লবণ-পানি দিয়ে দিনে ৩ থেকে ৪ বার এভাবে কুলিকুচি করতে পারেন।

পেঁয়াজঃ পেঁয়াজের রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক গুনাগুন যা যেকোনো ক্ষত ও ব্যথা সারাতে সাহায্য করে। আপনার দাঁতের ব্যথা হলে এক টুকরো কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেয়ে নিন অথবা দাঁতের উপর পেঁয়াজের টুকরো চেপে ধরে রাখুন। এতে করে দাঁতের ব্যথায় অনেকটা আরাম পাবেন।

হাইড্রোজেন পারোক্সাইডঃ হাইড্রোজেন পারোক্সাইড এ রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। যা মুখের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। সমপরিমাণ হাইড্রোজেন পারোক্সাইড ও পানি মিশিয়ে নিন এবং ৩০ সেকেন্ডের জন্য পারোক্সাইড যুক্ত পানি মুখে রেখে মুখ কুলকুচি করে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ২ থেকে ২ বার এভাবে মুখ ধুয়ে ফেলতে পারেন।

হিং ব্যবহারঃ আধা চা চামচ হিং গুড়ার সাথে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত দাঁতে লাগাতে পারেন। এতে করে খুব তাড়াতাড়ি দাঁতের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।

পেয়ারা পাতাঃ দাঁতের ব্যথা হলে কচি ২-৩ টা পেয়ারা পাতা থেতলিয়ে তার রস আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় লাগিয়ে দিন এতে করে ব্যথার উপশম হবে।

দূর্বার রসঃ দূর্বা ঘাসের রস যেকোন ব্যথাকে দ্রুত সারিয়ে তোলে। এজন্য আপনার দাঁতের ব্যথা হলে দুূর্বা ঘাস থেতলিয়ে তার রস দাঁতের গোড়ায় লাগান এতে করে দ্রুত আরাম মিলবে।

লেবুর রসঃ লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় মেসেজ করুন। এরপর হালকা গরম কুসুম পানি দিয়ে কুলিকুচি করে ফেলেন। এভাবে করলে আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে।

সরিষার তেলঃ এক চামচ সরিষার তেলের সাথে অল্প পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। এতে করে দাঁতের ব্যথা অনেকটাই সেরে যাবে।

আইস কিউবঃ আপনার দাঁতের ব্যথা যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে এক টুকরো আইস কিউব বা বরফের টুকরো একটি কাপড়ের মধ্যে মুড়ে নিয়ে আপনার আক্রান্ত দাঁতে কিছুক্ষণ চেপে ধরুন। দেখবেন যে এতে করে ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে।

ফিটকিরিঃ ফিটকিরি দাঁতের ব্যথা দূর করতে ভালো কাজ করে। আক্রান্ত দাঁতের গোড়ায় সামান্য ফিটকিরি লাগিয়ে রাখুন দেখবেন দ্রুত দাঁতের ব্যথা ভালো হয়ে গেছে।

দাঁতের পাথর দূর করার উপায়

আমাদের দাঁতে এক ধরনের হলুদ বা বাদামী রঙের প্রলেপ দেখা যায়। সাধারণত এটাকেই দাঁতে পাথর বলা হয়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার না করলে দাঁতে ময়লা জমে এক সময় তা পাথরে পরিণত হয়। এর ফলে দাঁতের সৌন্দর্য একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যারা ধূমপান করেন কিংবা ক্যাফেন গ্রহণের অভ্যাস রয়েছে তাদের দাঁতে এই পাথর বা প্লাক দ্রুত জমে। দাঁতে পাথর দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। নিম্নে দাঁতের পাথর দূর করার উপায় গুলো আলোচনা করা হল।

বেকিং সোডাঃ ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে ১/২ চা চামচ লবণ মেশান। এরপর গরম পানিতে টুথব্রাশ ভিজিয়ে বেকিং সোডা ও লবনের মিশ্রণ দিয়ে ৫ মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করুন। তারপর পানি দিয়ে কুলকুচি করে ফেলুন। এতে করে আপনার দাঁতের পাথর বা হলদে প্রলেপ অনেকটাই উঠে যাবে।

অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিনঃ অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন দাঁতের পাথর বা প্লাক দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। ১ কাপ পানি, ১/২ কাপ বেকিং সোডা, ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, ৪ চামচ গ্লিসারিন ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে টুথপেস্ট তৈরি করে নিন। নিয়মিত এই প্রাকৃতিক টুথপেস্ট ব্যবহার করলে আপনার দাঁতের পাথর বা হলদেটে ভাব দূর হয়ে যাবে।

হাইড্রোজেন পারোক্সাইডঃ ১ কাপ হাইড্রোজেন পারোক্সাইড এর সাথে ১/২ কাপ হালকা গরম পানি মেশান। এরপর এই পানি মুখে নিয়ে ১ মিনিটের মত রাখুন এবং নরমাল পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে ফেলুন।

কমলার খোসাঃ কমলার খোসা দাঁতের পাথর দূর করতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহার করলে দাঁত সাদা ও ঝকঝকে হয়ে যায়। তাজা কমলার খোসা দাঁতে ঘষতে পারেন অথবা এর গুড়া ব্রাশের সাহায্যে ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যে দাঁতের পাথর উঠে যাবে।

স্ট্রবেরি ও টমেটোঃ স্ট্রবেরি ও টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি যা দাঁতের জন্য অনেক উপকারী। পাথর দূর করার জন্য স্ট্রবেরি, টমেটো ও কমলা একসঙ্গে ম্যাশ করে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট দাঁতে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এতে করে দাঁতের পাথর নরম হবে। এবার বেকিং সোডা মিশানো হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে ফেলুন।

ডেন্টাল পিকঃ ডেন্টাল পিক দিয়ে দাঁতের হলুদ পাথর ধীরে ধীরে ঘষে তুলুন। সাবধানে এ কাজটি করতে হবে যাতে দাঁতের মাড়িতে কোন ক্ষতি না লাগে। এরপর অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে কুলকুচি করে ফেলুন।

তিলঃ দাঁতের জমে থাকা পাথর বা হলুদ ভাব দূর করতে এক মুঠো তিল মুখে নিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য চিবাতে পারেন। এরপর একটি ব্রাশ ব্যবহার করে দাঁত মাজুন দেখবেন দাঁতের সব ধরনের দাগ দূর হয়ে গেছে।

দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হওয়ার কারণ

দাঁত আমাদের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে প্রতিনিয়ত দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের না জানার কারণে দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। তাই দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হওয়ার কারণ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • জোরে জোরে দাঁত মাজলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত ধূমপান করার কারণে দাঁতের সমস্যা সৃষ্টি হয়, এতে করে দাঁতের মাড়ির ক্ষয় শুরু হয়।
  • বংশগত কারণেও দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হতে পারে।
  • অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের কারণেও দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যেতে পারে।
  • হরমোনের পরিবর্তন হলে দাঁতের মাড়ির ক্ষয়ের সমস্যা দেখা দেয়।
  • অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেও দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয়ে যেতে পারে।
  • অনেকের দাঁত দিয়ে নখ কাটা অভ্যাস রয়েছে। এটি করলে ধীরে ধীরে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যায়।
  • শক্ত জাতীয় খাবার বেশি খেলে দাঁতে আঘাত লেগে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যেতে পারে।
  • দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দাঁতের মাড়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যায়।
  • অ্যাসিড জাতীয় খাবার খেলে দাঁতের মাড়ির ক্ষয় হতে পারে।
  • ভিটামিন সি এর অভাবে দাঁতে স্কার্ভি রোগ হয়, যার ফলে দাঁতের মাড়ি ক্ষয়ে যেতে পারে।

দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায়

আমাদের সকলেরই দাঁত কমবেশি ক্ষয়ে যায়। দাঁতের ক্ষয় একটি কমন সমস্যা। তবে এই দাঁত ক্ষয় রোধ করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে পারি। নিচে দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় গুলো আলোচনা করা হলো।

নিয়মিত ব্রাশ করাঃ দাঁতের মাড়ি ক্ষয় রোধের উল্লেখযোগ্য উপায় হল নিয়মিত ব্রাশ করা। প্রতিদিন সকালে ও রাত্রে দুই বেলা ব্রাশ করার মাধ্যমে প্লাক ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে দাঁতকে সুস্থ-সবল রাখতে হবে। আর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করার সময় হালকা ভাবে ব্রাশ ঘষবেন। এতে করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব হবে।

গরম পানি ও লবণঃ দাঁতের ক্ষয় রোধে ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১ চামচ লবণ মিশিয়ে সেই পানি মুখে নিয়ে ১ মিনিট রেখে কুলকুচি করুন। এতে করে দাঁতের ক্ষয় কমবে।

গ্রিন টিঃ গ্রিন টিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দাঁতের ক্ষয় রোধে অনেক উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের মাড়ির প্রদাহ কমায় ও মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ গ্রিন টি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়।

আয়ুর্বেদিক টুথপেস্টঃ ভেষজ উপায়ে তৈরি আয়ুর্বেদিক টুথপেস্ট দাঁতের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য দাঁতের ক্ষয় রোধে প্রতিদিন দুবেলা করে আয়ুর্বেদিক টুথপেস্ট দ্বারা ব্রাশ করা উচিত।

অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরা জেলে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লামেটোরি উপাদান যা দাঁতের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ব্রাশ করলে অথবা অ্যালোভেরা জেল পানির সাথে মিশিয়ে মাউথওয়াশের মত ব্যবহার করলে আপনার দাঁতের মাড়ি শক্ত হবে।

পুষ্টিকর খাবারঃ ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত খাবার আমাদের সকলেরই খাওয়া উচিত। এসব খাবারে থাকা ফ্যাট সলিউবল দাঁতের ক্ষয় রোধে বাধা দেয়।

ধূমপান থেকে বিরত থাকুনঃ ধূমপান যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তেমনি এটি দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধূমপান করলে দাঁতে ও মুখে নানা ধরনের অসুখের সৃষ্টি হয়। জর্দা বা তামাক জাতীয় দ্রব্য দাঁত ও দাঁতের মাড়ির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটি দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়, যার ফলে দাঁতের ক্ষয় হতে থাকে। এজন্য দাঁতের ক্ষয় রোধে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

হলুদঃ দাঁতের মাড়ির সমস্যা সমাধানের কার্যকরী একটি উপাদান হলো হলুদ। হলুদের রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা বিভিন্ন রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। দাঁতের ক্ষয় রোধের জন্য হলুদগুলোর সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে দাঁতের মাড়িতে লাগিয়ে রাখুন।

মিষ্টি জাতীয় খাবারঃ দাঁতের সুরক্ষার জন্য সব সময় মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার দাঁতের সমস্যা তৈরি করে দাঁতকে ক্ষয় করে দেয়। এজন্য যতটা সম্ভব কম মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন।

ভিটামিন সিঃ ভিটামিন সি দাঁতের ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে দাঁতের ক্ষয় রোধ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এজন্য আমাদের নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় ফল ও সবজি খাওয়া উচিত।

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এটা জানতে পারলাম যে, দাঁতের পোকা দূর করার উপায় সমূহ এবং দাঁত ভালো রাখার পদ্ধতি গুলো কি কি। দাঁত আমাদের অমূল্য সম্পদ এটা আমরা সবাই জানি তাই আমাদের উচিত দাঁতের পরিপূর্ণ যত্ন নেওয়া। এটি না করলে ভবিষ্যতে আমাদের দাঁতের সমস্যা নিয়ে অনেক ভুগতে হবে। তাই আমাদের এখনই সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, দাঁতের পোকা দূর করার উপায় সমূহ নিয়ে আমার এই আলোচনা আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই এই পোস্টটি শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো পোস্ট পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url