দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

মাথা ব্যাথা হলে কি করা উচিতআমাদের শরীরের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দাঁত তার মধ্যে অন্যতম। দাঁত আমাদের জন্য অতি মূল্যবান কিন্তু এই দাঁতের সমস্যায় আমরা প্রায় সকলেই কমবেশি ভুগে থাকি। তাই আমাদের দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। কি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয় সে সম্পর্কেও ধারণা রাখা জরুরি। দাঁতের ব্যথার কারণে অনেক সময় আমাদের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। যেমন-প্রচন্ড মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা এমন কি গোটা শরীরও ব্যথা হতে পারে। এজন্য দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে আমি আমার এই পোস্টে আলোচনা করেছি।

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায়

আপনাদের যদি দাঁতে মাড়ি ফোলাও ব্যথার সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃদাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

ভূমিকা

প্রায়ই আমরা সকলেই দাঁতের সমস্যায় ভুগে থাকি। আমরা নিয়মিত মুখে ও দাঁতের যত্ন নেই না এজন্য আমাদের দাঁতের মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে। যার ফলে দাঁতের পুচ, দাঁতে ব্যথা ও দাঁত ফুলে যায়। তাই আমাদের উচিত দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় কি সে সম্পর্কে ধারণা রাখা। তাহলে আমরা এর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করতে পারব। 

দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন

ছোট বড় সবারই কমবেশি দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হয়ে থাকে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমনে এই ইনফেকশন হয়ে থাকে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এই ইনফেকশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাঁতের গোড়ায় ফোড়া হয়ে ধীরে ধীরে তা পুঁজে পরিণত হয় এবং পরে তা ইনফেকশনে পরিণত হয়ে দাঁতের গোড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দাঁতের মাড়ি চারপাশের টিস্যু ও শিরায় এই ইনফেকশনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াকে ইংরেজিতে পেরিওডনটিটিস বলে। দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন-

  • তীব্র ব্যথা ও ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে ফুলে যেতে পারে।
  • দাঁতে ইনফেকশন হলে দাঁতের চোলের হাড় ক্ষয় এবং দাঁত নড়ে যেতে পারে।
  • আক্রান্ত স্থান লালচে ভাব ধারণ করতে পারে।
  • খাবার খেতে অসুবিধা হতে পারে।
  • দাঁতে ইনফেকশন হলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।
  • মুখমণ্ডল অনেক ফুলে যেতে পারে।
  • দাঁতে ইনফেকশন প্রকোপ আকার ধারণ করলে সেখান থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।
  • কথা বলতে সমস্যা হতে পারে।
  • মুখ হা করতে অসুবিধা হতে পারে।

দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় কেন

দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ার অনেক ধরনের কারণ থাকতে পারে। মাড়ি ফুলে যাওয়ার সমস্যাকে ইংরেজিতে গাম ডিজিজ বলা হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া সমস্যাটি প্রায় সকলেরই হয়ে থাকে। দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় কেন সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • দাঁতের মাড়িতে যখন ছত্রাক সংক্রমণ করে, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয়, পুষ্টির অভাব হয়, ভিটামিন সি এর ঘাটতি হয়, দাঁতের ভেতর খাবার আটকে থাকলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
  • দাঁতের ছিদ্রের চিকিৎসা না করলে, ধীরে ধীরে তা বড় হয়ে দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
  • নিয়মিত দাঁতের যত্ন না করলে অর্থাৎ নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করলে ও ফ্লস না করলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়।
  • অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলেও দাঁত ফুলে যেতে পারে।
  • ভালো করে মুখের ভিতর পরিষ্কার না করলে ছত্রাক ও ব্যাকটের আক্রমণে দাঁত সংক্রমিত হয়। যার ফলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়।
  • শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না, মুখের ভেতরে ভালোভাবে ও জিবা ভালোভাবে নিয়মিত পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • ধূমপান করা, অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, তামাক, জর্দা নানা ধরনের ক্ষতিকর খাবার খাওয়ার কারণেও দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়।
  • গর্ভকালীন অবস্থায়, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ও শিশুদের ক্ষেত্রে দাঁতের মাড়ি ফোলার সমস্যা বেশি দেখা যায়।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে দাঁতের মাড়ি ফোলা বেশি পরিলক্ষিত হয়। কারণ শিশুরা অধিক পরিমাণের মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত ওষুধ সেবনেও দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
  • দাঁতের গোড়ায় ফোড়া হয়ে পুজ হলে দাঁতের গোড়া ফুলে যায়।
  • অনেক সময় আক্কেল দাঁত ওঠার কালে দাঁতের গোড়া ফুলে যায়।
  • ভিটামিন সি এর অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া একটি অন্যতম কারণ।
  • নিয়মিত ছয় মাস পরপর স্কেলিং না করলে, দাঁতে পাথর জমে দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে।

কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়

দাঁতের শুধু যত্ন নিলেই হবে না কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় সে সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ ও সুন্দর থাকবে।

আরও পড়ুনঃ দাঁতের পোকা দূর করার উপায়

সাধারণত ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-কে এর অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুন্দর রাখার জন্য আমাদের খাবারের তালিকায় এই পাঁচটি ভিটামিন যুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। নিম্নে এ ভিটামিন গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ভিটামিন-এঃ ভিটামিন-এ দাঁতের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং মুখের লালার প্রবাহকে ভালো রাখে। ভিটামিন-এ আমাদের দাঁতের মাড়িকে সুস্থ রাখতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। শাকসবজি, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, গাজর, মাছের তেল, আম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

ভিটামিন-সিঃ ভিটামিন-সি আমাদের দাঁতের মাড়িকে মজবুত করে এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে মুক্ত রাখে। এই ভিটামিনের অভাবে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। পেয়ারা, আমলকি, কমলা, মালটা, কাঁচা মরিচ, লেবু এই ধরনের টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি থাকে। আমরা যদি নিয়মিত ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খাই তাহলে আমাদের দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ সবল থাকবে।

ভিটামিন-ডিঃ ভিটামিন-ডি আমাদের দাঁত ও দাঁতের মাড়িকে মজবুত করতে সহায়তা করে। এটি ক্যালসিয়ামের শোষণের সাহায্য করে যা আমাদের দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে। সূর্যের আলোতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। এছাড়া ডিম, দুধ, মাছ প্রভৃতিতে খাবারে ভিটামিন-ডি থাকে।

ভিটামিন-বিঃ ভিটামিন-বি মুখের ও দাঁতের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি জিব্বার প্রদাহ ও মুখে ঘা প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। সবুজ শাক-সবজি, মাংস, সিম, মটরশুঁটি খাবারে ইত্যাদিতে ভিটামিন-বি পাওয়া যায়। এসব খাবার খেলে আমাদের মুখের ভেতর এবং দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ-সবল থাকবে।

ভিটামিন-কেঃ ভিটামিন-কে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন-কে এর অভাবে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায় এবং দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শাকসবজি, সয়াবিন ইত্যাদি ভিটামিন-কে এর ভালো উৎস।

কি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়

দাঁত আমাদের অমূল্য সম্পদ তাই দাঁতের যথাযথ যত্ন নিতে হবে। দাঁতের মাড়িকে শক্ত রাখার জন্য কিছু খাবার রয়েছে যা আমাদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখা উচিত। কি খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয় নিম্নে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হল।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ যা আমাদের দাঁতকে শক্ত রাখতে সহায়তা করে। দুধে আছে ক্যাসেইন যা মুখগহ্বরের ক্ষরীয়ভাব দূর করতে সাহায্য করে। দুধ, দই, পনির, ও দুধের তৈরি নানা ধরনের খাবার দাতের এনামেল মজবুত করে। দইয়ে রয়েছে প্রোবায়োটিক যা মুখ ও দাঁতের মাড়ি সুরক্ষিত রাখে।

কচ কচের সবজিঃ কচকচের সবজি খেলে দাঁত শক্ত হয়। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং মাড়ির দাঁত কে সুরক্ষিত রাখে। গাজর, ব্রুকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ ইত্যাদি খাবার খেলে দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়।

পেঁয়াজ ও রসুনঃ পেঁয়াজ ও রসুন দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে এন্টি-মাইক্রোবিয়াল যা মুখে গন্ধ দূর করে এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে দাঁতকে ভালো রাখে।

পানিঃ খাবার খাওয়ার পর প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়া প্রয়োজন। মুখের ভেতর যে খাদ্যকণা আটকে থাকে তা পানি পানের মাধ্যমে মুখের ভেতর থেকে দূর হয়ে যায় এবং কোন রোগ জীবাণু সংক্রমণে সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া খাওয়ার পর কুলিকুচির মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে।

দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায়

দাঁত আমাদের অতি মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু আমরা সেভাবে দাঁতের যত্ন করি না। এই কারণে অযত্নে অবহেলায় দাঁতের মাড়ি ফুলে যেতে পারে পুঁজ জমতে পারে ও ব্যথা হতে পারে। দাঁতের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়। সঠিক যত্নের অভাবে দাঁতের উপর প্লাকের একটি স্তর পড়ে যায়।দীর্ঘ সময় ধরে এটি থাকার কারণে দাঁতের মাড়িতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। আবার দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে ও ব্যথা হতে পারে। দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় নিচে উল্লেখ করা হলো-

লবণ ও হালকা গরম পানি দিয়ে কুলকুচিঃ ঘরোয়া উপায়ে দাঁতের মাড়ি ব্যথা একটি কার্যকরী উপায় হল গরম পানির সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা। দিনে অন্তত দুইবার লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করুন। এতে করে মুখে যে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় তা ছড়িয়ে পড়াতে বাধা দেয়। লবণে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান, যা ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টিকারী সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। সেই সাথে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

অ্যালোভেরা জেলঃ অ্যালোভেরা জেলের রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। যা দাঁতের জন্য অনেক উপকারী। এটি ব্যবহার করলে দাঁতে মাটি ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে। একটি পাত্রে দুই তিন চামচ এলোভেরা জেল ও সামান্য পানি নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে। এই ফেটিয়ে নেওয়া পেস্ট দাঁতের ব্যথার জায়গায় ১০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে ফেলুন। এতে করে মুখে অনেকটা আরাম পাবেন।

লেমনগ্রাস তেল ব্যবহারঃ লেমনগ্রাস এ রয়েছে অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট নামক উপাদান। যা দাঁতের মাড়ির ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। দাঁতের ব্যথা কমাতে লেমনগ্রাস তেল ব্যবহার করতে পারেন। এক কাপ পানিতে ২-৩ ফোঁটা লেমনগ্রাস অয়েল যোগ করুন, এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মেশানো দ্রবণটি দিয়ে এক মিনিটের মত কুলি কুচি করুন। এভাবে দিনে দুই থেকে তিন বার কুলি-কুচি করতে হবে। এতে করে দাঁতের ব্যথায় অনেকটা আরাম অনুভব করবেন।

মধু-হলুদ জেলঃ মধু ও হলুদ দিয়ে মিশ্রিত জেল একটি প্রাকৃতিক ঔষধ। এতে রয়েছে অধিক পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি , অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদান। যা ব্যবহারে দাঁতের মাড়ির ব্যথায় চমৎকার কাজ করে। এই পেস্ট তৈরি করতে ১-২ চামচ হলুদের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশান এবং পেস্ট তৈরি করুন।এই পেস্টটি ক্ষতস্থানে মেসেজ করে লাগিয়ে ৫-৬ মিনিট রেখে দিন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে কুলকুচি করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে দিনে দুইবার করে জেলটি ব্যবহার করতে পারেন। দাঁতের মাড়ি ব্যথা দূর না হওয়া পর্যন্ত এভাবে এই জেলটি ব্যবহার করুন।

নারকেল তেলঃ নারকেল তেলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যসমূহ যা লরিক অ্যাসিডে পরিপূর্ণ। দাঁতে নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করলে দাঁতের মাড়ি ব্যথা রোধ করতে সাহায্য করে। ১-২ চা চামচ নারিকেল তেল মুখে দিয়ে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য মুখে ভিতরের চারপাশে ভালোভাবে ঘষে নিন। এরপরে মুখে পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং আপনার দাঁত ব্রাশ করুন। এটি দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে ভালো কাজ করে।

রসুন ব্যবহারঃ কাঁচা রসুন ব্যবহারে করলে দাঁতের মাড়ি ব্যথা অনেকটা ভালো হয়ে যায়। এটি একটি ঘরোয়া পদ্ধতি। কাঁচা রসুনের কয়েকটি কোয়া থেতলে নিয়ে তার সাথে অল্প একটু লবণ মিশিয়ে মাড়িতে ১০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এরপর মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলুন।

লেবুর রসঃ লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁতের জন্য অনেক উপকারী। লেবু খাওয়ার পাশাপাশি এর রস দাঁতের মাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন। আধা চা চামচ হিং গুঁড়োর সাথে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দাঁতে লাগান। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন দাঁতের ব্যথা কমে গেছে।

কাঁচা পেঁয়াজঃ কাঁচা পেয়াজে আছে এক ধরনের উপাদান যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। ব্যাকটেরিয়া দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন তৈরি করে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য এক টুকরা পেঁয়াজ ২-৩ মিনিট চিবান এতে করে দাঁতের মাড়ির ব্যথা কিছুটা হলেও কমে যাবে।

লবঙ্গ ব্যবহারঃ লবঙ্গ ব্যাকটেরিয়ার সাথে ভালোভাবে লড়াই করতে পারে এবং দাঁতের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে। এজন্য দাঁতে ব্যথা হলে কয়েকটি লবঙ্গ চিবান বা লবঙ্গ তেল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে দাঁতের ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।

পেয়ারা পাতাঃ পেয়ারা পাতা দাঁতের মাড়ি ব্যথায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দাঁতের মাড়ির ব্যথা উপশম এ বেশ কার্যকরী। ২-৩ টি কচি পেয়ারা পাতা থেতলিয়ে বা চিবিয়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে অনেকটা দাঁতের ব্যথা থেকে আরাম পাবেন।

গোলমরিচঃ গোলমরিচের সাথে কিছুটা লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা কিছুক্ষণ দাঁতের মাড়িতে লাগিয়ে রাখুন। এতে করে অনেক উপকার পাবেন। এভাবে দিনে ২-৩ বার এই পেস্টটি লাগাতে পারেন। যতদিন পর্যন্ত দাঁতের মাড়ির ব্যথা না কমে ততদিন পর্যন্ত এই গোলমরিচের পেস্টটি লাগান।

গ্রিন টিঃ গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি এর একটি ব্যাগ গরম পানিতে কমপক্ষে ৫ মিনিট রেখে দিন এরপর কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিন। টি ব্যাগটি ঠান্ডা হলে আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ চেপে ধরে থাকুন। এতে করে দাঁতের ব্যথা থেকে আরাম পাবেন। এন্টি-ইনফ্লামেটরি প্রপার্টি রয়েছে এমন টিব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। এটিও দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় হিসেবে কার্যকরী।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, দাঁতের মাড়ি ফোলা ও ব্যথা কমানোর উপায় কি কি। দাঁত আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম করা উচিত। যারা এই দাঁতের সমস্যায় ভোগের তারাই শুধু বুঝতে পারেন দাঁতের যন্ত্রণা কত খারাপ। এইজন্য আমাদের সকলের উচিত দাঁতের প্রতি অতি যত্নবান হওয়া এবং নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এ পোস্টটি পড়ে আপনারদের যদি কোন উপকারে এসে থাকে, তাহলে এই পোস্টটি শেয়ার করে দিবেন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url