চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়প্রিয় পাঠক, আপনারা নিশ্চয় সকলেই চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আমরা প্রায় সময়ই নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এজন্য আমাদের চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী। আজকে আমি আমার এই পোস্টে, চর্মরোগের লক্ষণগুলো ও চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

আপনারা যারা এই রোগে ভুগছেন এবং এই রোগ ঘরোয়া উপায়ে নিরাময় করতে চান তারা অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে আমার এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা সবাই চর্মরোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন ও উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

ভূমিকা

সাধারণত আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে চর্মরোগের আবির্ভাব ঘটে থাকে। চর্মরোগ এমন একটি রোগ যা হলে সহজে ভালো হতে চায় না। এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর রোগ। তাই আজকে আমরা চর্মরোগ কি, চর্মরোগ কেন হয়, চর্মরোগের লক্ষণগুলো, চর্মরোগ কিসের অভাবে হয়ে থাকে, চর্মরোগ প্রতিরোধের উপায় এবং চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

আপনার সকলে যদি চর্মরোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী হন, তাহলে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে আমার এই আর্টিকেলটি পড়ুন। এতে করে আপনারা চর্মরোগ সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবেন। তাহলে আসুন চর্মরোগ নিয়ে লেখা আমার এই আর্টিকেলটি পড়া শুরু করা যাক।

চর্মরোগ কি

বিজ্ঞানে চর্মরোগকে অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস বলা হয়। এই রোগ হলে শরীর চুলকায় এবং শরীর লাল হয়ে যায়। চর্মরোগের কারণে শরীরে লাল র‌্যাশের মতো দানা দানা ফুসকুরির সমস্যা দেয়। সাধারণত চুলকানি ও লাল র‌্যাশই হল চর্মরোগ। চিকিৎসকের মতে, চর্মরোগ হল এমন একটি অবস্থা যা শরীরের আচ্ছাদন তন্ত্র বা মানবদেহকে আবৃত করে রাখে এবং সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ত্বক নখ চুল ও সংশ্লিষ্ট পেশী এবং গ্রন্থগুলো।

আরও পড়ুনঃ ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

এই রোগ নানারকম আকার ধারণ করতে পারে। চর্মরোগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম চুলকানি দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে তা র‌্যাশে পরিণত হয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে এই রোগ সম্পর্কযুক্ত। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের ত্বকের চামড়ার নানা ধরনের পরিবর্তন হয়, যার ফলে নানা ধরনের চর্মরোগের আবির্ভাব ঘটে।

চর্মরোগ কেন হয়

প্রায় সকল মানুষই কমবেশি চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই চর্মরোগ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। চর্মরোগ কেন হয় সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • রক্তে কোন ধরনের সমস্যা থাকলে চর্মরোগের আবির্ভাব হতে পারে।
  • আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় এই রোগ হয়ে থাকে।
  • অতিরিক্ত ঘামের কারণে চর্মরোগের সৃষ্টি হতে পারে।
  • শরীরে ধুলাবালি ও ময়লাজমে নানা ধরনের চর্ম সমস্যা হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় কোন খাদ্য গ্রহণ করার ফলেও এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে।
  • কিছু চর্মরোগ আছে যেগুলো ছোঁয়াচে, এতে করে একজন থেকে অন্যজনে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
  • জেনেটিক বা বংশগত কারণেও চর্মরোগের সমস্যা দেখা দেয়।
  • জলবায়ু শুষ্ক হলে চর্মরোগের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।
  • বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এই রোগ হতে পারে।
  • শরীরে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ঠিক তখনই নানা ধরনের চর্মরোগ সৃষ্টি হয়।
  • শরীরে ফাঙ্গাসের আক্রমণের কারণে নানা ধরনের চর্মরোগ হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলেও চর্মরোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণেও এই রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
  • যাদের শরীরের অতিরিক্ত এলার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বেশি দেখা যায়।
  • গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন চর্মরোগ হয়ে থাকে।
  • বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল যুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে এই রোগ হতে পারে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে ও রোদের কারণে চর্মরোগের সৃষ্টি হয়।
  • শরীরে ভাইরাস, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি সংক্রমনের ফলে চর্মরোগের উৎপত্তি হয়।
  • অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের কামড়ের ফলেও এই রোগের দেখা দেয়।

চর্মরোগের লক্ষণ

চর্মরোগ হলে শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দেয়। নিচে চর্মরোগের লক্ষণ বা উপসর্গগুলো তুলে ধরা হলো।

  • চর্মরোগ হলে শরীরে প্রচন্ড চুলকানি ও লাল দাগের সৃষ্টি হয়।
  • শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে।
  • শরীরের চুলকানি ও ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
  • এটি হলে শরীরের চামড়া রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়।
  • অনেক সময় হাত-পায়ের তালুতে পানিভর্তি ফোসকা হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় শরীরের মাংসপিণ্ড শক্ত ও ফুলে যেতে পারে।
  • চর্মরোগ হলে শরীরের কালোদাগ বা কালচেভাব দেখা দিতে পারে।
  • চামড়ার উপরে শক্ত আবরণ সৃষ্টি হয়ে চুলকানি হয়ে থাকে।
  • চর্মরোগ হলে শরীরের দীর্ঘমেয়াদি খোস পাঁচড়া হয়ে থাকে।
  • চর্মরোগের কারণে ত্বকের চামড়ার রং পরিবর্তন হয়ে যায়।
  • অনেক সময় এই রোগ হলে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় পূঁয জমতে পারে।
  • চামড়ায় ছোপ ছোপ দাগ ও বলিরেখা দেখা দেয়।
  • চর্মরোগের কারণে মুখের ত্বকে ব্রণ দেখা দিয়ে থাকে।
  • কনুইয়ের মধ্যে, হাটু, হাত ও পায়ের পিছনে একজিমা জনিত চর্মরোগ হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় চর্মরোগের কারণে শরীরের চামড়ায় প্রচন্ডব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে।
  • মাথায় চুলকানি ও প্রচন্ড খুশকি চর্মরোগের অন্যতম লক্ষণ।
  • চর্মরোগ হলে ত্বকের চামড়া বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যায়।
  • শরীরে ফাঙ্গাসের আক্রমণের কারণে দাদের সৃষ্টি হয়।

চর্মরোগ কিসের অভাবে হয়

চর্মরোগ বা একজিমা একটি বিরল সমস্যা। মার্কিন চিকিৎসক মার্ক হেইমন এর মতে, চর্মরোগ বা একজিমা এক ধরনের রোগ যা শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টির কারণে হয়ে থাকে। আর এটি শুধু ত্বকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হয়ে থাকে। সাধারণত ভিটামিন-ডি এর অভাবে আমাদের ত্বকে নানা ধরনের চর্ম সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন ই ইত্যাদি অভাব হলেও চর্মরোগের সৃষ্টি হতে পারে। যাদের শরীরে এ সকল ভিটামিন গুলোর অভাব রয়েছে, সাধারণত তাদের চর্মরোগের সমস্যা দেখা দেয়।

চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

আমাদের শরীরের ত্বকে বা চামড়ায় নানা কারণে চর্মরোগ হতে পারে। খাবারে এলার্জি, নানা ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, চুলকানি, ঠান্ডা ও গরম আবহাওয়া, পোকামাকড়ের কামড় ইত্যাদি থেকে চর্মরোগ হয়ে থাকে। এসব চর্মরোগ আমরা ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই ভালো করতে পারি। নিচে চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো আলোচনা করা হলো।

অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরা জেল এ রয়েছে নানা গুনাগুন। যেকোনো সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকারী ভূমিকা পালন করে অ্যালোভেরা জেল। ত্বক বা চামড়ার যে কোন সমস্যা হলে অ্যালোভেরা জেল লাগালে দ্রুত সমস্যা দূর হয় এবং উপকার পাওয়া যায়।

অলিভ অয়েলঃ সাধারণত শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আর শুষ্ক ত্বকে চর্মরোগ বেশি হয়ে থাকে অলিভ অয়েলে থাকা ভিটামিন ত্বকে মিশে গিয়ে আদ্রতা ধরে রাখে। এতে করে চর্মরোগের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যায়।

বেকিং সোডাঃ বেকিং সোডা ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান করে থাকে। চর্মরোগে আক্রান্ত জায়গায় বেকিং সোডা লাগালে দ্রুত জ্বালাপোড়া ভাব ও চুলকানি অনেকটাই কমে যায়।

নিম পাতাঃ নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যা ত্বকের চুলকানি জ্বালাপোড়া ও ব্যথা নিরাময় করতে সক্ষম। চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীরা যদি নিম পাতা রস আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করে, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতায় রয়েছে হাজারো গুন। ত্বকে বা চামড়ায় নানা ধরনের ক্ষত, চুলকানি, লাল ছোপ, পোড়া ইত্যাদি সমস্যা হলে তুলসী পাতার রস লাগালে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়।

ভিটামিন-ডিঃ সাধারণত ভিটামিন-ডি এর অভাব হলে চর্মরোগের আবির্ভাব ঘটে থাকে। এজন্য শরীরের ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ করতে সূর্যের আলো শরীরে লাগাতে হবে এবং ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

ওমেগা থ্রিঃ ত্বক ভালো রাখার জন্য ওমেগা থ্রি খুবই প্রয়োজন একটি উপাদান। এজন্য আমাদের খাবারের তালিকায় ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে চর্মরোগ থেকে অনেকটাই মুক্ত পাওয়া অসম্ভব হবে।

চর্মরোগ প্রতিরোধের উপায়

চর্মরোগ প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরী। এতে করে আমাদের শরীরে চর্মরোগের সমস্যা তৈরি হতে পারবে না। চর্মরোগ প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।চর্মরোগ প্রতিরোধে পদক্ষেপগুলো নিচের পদক্ষেপগুলো মেনে চলা জরুরি। যথা-

  • সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • বাহির থেকে আসার পরে ও নোংরা কিছু নাড়ার পরে গোসল করে ফেলতে হবে।
  • সাবান ও গরম পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
  • খাবার পাত্র ও ব্যবহারের কাপড় চোপড় নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
  • নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্র কারো সাথে শেয়ার করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
  • অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
  • সংক্রামক চর্মরোগের টিকা নিতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে ও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • অন্য কারো জিনিসপত্র ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
  • বাইরের কোন কিছু ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
  • এলার্জিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা চর্মরোগ সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারলাম। চর্মরোগ হওয়ার কারণ, লক্ষণ সমূহ এবং চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো সম্পর্কে জানলাম। চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় গুলো প্রয়োগ করার পরও যদি পুরোপুরি এ সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে অবশ্যই কোনো ভালো চর্মবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো আর্টিকেল পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url