নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিন

রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয়নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। নার্ভ আমাদের শরীরের এমন একটি অংশ যা আমাদের পুরো শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে। নার্ভ আমাদের মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। নার্ভ আছে দেখেই আমরা শরীরের বিভিন্ন অংশের অনুভূতি বুঝতে পারি। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে নার্ভের সমস্যা পরিলক্ষিত হতে থাকে। তাই আমাদের সকলকে নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এবং কি খেলে নার্ভ ভালো থাকে সে সম্পর্কে সকল তথ্য জেনে রাখা জরুরী।

নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

আমি আমার এই পোস্টে নার্ভের রোগ কি, নার্ভের সমস্যা কেন হয় এবং নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনারা নার্ভ সম্পর্কে তথ্য পেতে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃনার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিন

ভূমিকা

নার্ভ আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ছাড়া একজন মানুষ সুস্থ-সবল ভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। আমাদের শরীরে যখন নার্ভ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় ঠিক তখনই আমাদের শরীর অচল হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে প্রচন্ড ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও ফুলে যায়। আর নার্ভ সচল থাকার মাধ্যমে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করতে পারি।

নার্ভের রোগ কি

নার্ভের বাংলা অর্থ হল স্নায়ু। রক্তবাহ সম্বলিত ও পেরিনিউরিয়াম নামক যোগ কলার আবরণ দ্বারা আবৃত এক বা একাধিক নার্ভ বা স্নায়ুতন্ত্রেগুচ্ছকে নার্ভ বা স্নায়ু বলে। নার্ভ বা স্নায়ু নিউরনের আক্সনের একগুচ্ছ বদ্ধ বান্ডিল যা প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ। দেহের অস্থি বা পেশী বন্ধনীকে এক কথায় নার্ভা বা স্নায়ু বলা হয়। নার্ভ রোগ একটি স্নায়ুঘটিত রোগ যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেখা দিতে থাকে। বয়স হলে যেমন শরীরে মরিচা পড়ে তেমনি মস্তিষ্কেও মরিচা পড়তে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ বাতের ব্যথা দূর করার উপায়

যখন আমাদের শরীরে স্নায়ু বা নার্ভ কমজোরি হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীরে স্নায়ুঘটিত রোগের বিস্তার ঘটে। তবে সব সময় বয়সের উপর নির্ভর করে এ রোগ নাও হতে পারে। আমাদের শরীরের নার্ভ রোগ নানা কারণে ও নানা বয়সে হতে পারে। সাধারণত আমাদের শরীরের নার্ভগুলো যখন কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ঠিক তখনই নার্ভের রোগ সৃষ্টি হয়।

নার্ভের কাজ কি

নার্ভ আমাদের শরীরের একটি অতি প্রয়োজনীয় অংশ, এটি ছাড়া আমাদের শরীর একেবারেই অচল। আমাদের শরীরে নার্ভের কার্যক্রম অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নার্ভ যদি তার সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে আমাদের দেহ সচল থাকে আর যদি নার্ভ সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে আমাদের দেহ অচল হয়ে পড়ে। এজন্য আমাদের নার্ভের কাজ কি সে সম্পর্কে জানা অতি প্রয়োজন। নিচে নার্ভ বা স্নায়ুর কাজগুলো আলোচনা করা হলো।

  • স্নায়ু বা নার্ভের কাজ হল বিভিন্ন জ্ঞানেন্দ্রিয় থেকে অনুভূতি গ্রহণ করা।
  • দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে তা কেন্দ্রীয় স্নেহ তন্ত্রে নিয়ে যায়।
  • অন্তর্বাহী নার্ভের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশককে কারক অঙ্গে বয়ে নিয়ে আসা।
  • নার্ভ শরীরের বিভিন্ন পেশীর সংকোচন ও সম্প্রসারণ সাহায্য করে।
  • নার্ভ শরীরের বিভিন্ন অংশে সঠিকভাবে রক্ত চলাচল করতে সহায়তা করে।
  • নার্ভ হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, পাকস্থলী ও স্বর্ণালীর সঞ্চালন এবং নানা ধরনের অনুভূতি গ্রহণ করতে সহায়তা করে।
  • এটি মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
  • স্বাদগ্রহণ ও জিহ্বার সঞ্চালন কাজ করে থাকে।
  • দর্শন, ঘ্রাণ ও অক্ষিগোলাকের সঞ্চালন কাজ করে।
  • লালা ও অশ্রু ক্ষরণ, আস্বাদন, মুখবিবরের সঞ্চালন ও ত্বকের অনুভূতিতে সহায়তা করে।
  • নার্ভ শ্রবণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

নার্ভের সমস্যা কেন হয়

আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে নানা অসুখে ভুগে থাকি। যার প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপরে পড়ে এবং আমাদের কাজকর্মে খুবই ব্যাঘাত ঘটায়। নার্ভের সমস্যা হল আমাদের জীবনের একটি অন্যতম সমস্য। এ সমস্যা হলে আমরা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকি। আমাদের বিভিন্ন কারণে নার্ভের বা স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। যেমন-

  • নার্ভের সমস্যার অন্যতম কারণ হলো ডায়াবেটিস। যাদের শরীরে উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস থাকে তারা সাধারণত এই সমস্যায় আক্রান্ত হন।
  • ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন বি-১২, নিকোটানিক এসিড, রাইবোফ্ল্যাভিন, ক্যালসিয়াম এর অভাবে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে মদ্যপান ও ধূমপান করলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়।
  • নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট্রোজেনের অভাবে সাধারণত নার্ভের সমস্যা হয়ে থাকে।
  • কিডনি ও যকৃতের সমস্যা হলে নার্ভের সমস্যার উদ্ভব হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন ধরে অসুখের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করলে নার্ভের সমস্যা হতে পারে।
  • যাদের হরমোনের সমস্যা, হাইপোথাইরডিজম, বাত ব্যথা, ক্যান্সার, আর্থাইটিস, এইডস ইত্যাদি রোগ রয়েছে তাদের নার্ভের বা স্নায়ুর সমস্যা বেশি হয়।
  • মানসিক চাপ ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে স্নায়ুর উপর প্রভাব পড়ে যার ফলে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  • অনেক সময় এলার্জিগত কারণেও স্নায়ু বা নার্ভের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • শরীরে ওজন বৃদ্ধির কারণে শরীরের ভার যখন পায়ের উপর এসে পড়ে তখন পায়ের স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে।
  • অতিরিক্ত চিন্তা ও কম ঘুমের কারণেও মস্তিষ্কের নার্ভের সমস্যা হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় জিনগত কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
  • প্রাকৃতিক নিয়মগত কারণে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
  • কোন ধরনের এক্সিডেন্ট হলে পরবর্তীতে নার্ভের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

নার্ভের রোগের লক্ষণ

সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে নার্ভের কার্যক্রমতা কমতে থাকে। যার ফলে নার্ভের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। নার্ভের সমস্যা হলে আমাদের শরীরে নানা ধরনের লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়। নিচে নার্ভের রোগের লক্ষণ গুলো কি কি তা উল্লেখ করা হলো।

  • নার্ভের সমস্যা হলে আমাদের শরীর অবশ হয়ে আসে।
  • মাথা, ঘাড়, হাত ও পায়ের রগগুলোতে প্রচন্ড টান ধরে।
  • নার্ভের সমস্যা হলে আমরা হ্যালুসিনেশনে ভুগতে পারি।
  • এটি হলে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।
  • হাঁটাচলা করতে অনেক সমস্যা হয়।
  • অন্যকে কোন কথা বুঝাতে অসুবিধা হওয়া।
  • হাত-পা ও গোটা শরীর জ্বালাপোড়া করা।
  • মাঝেমধ্যে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
  • নার্ভের সমস্যা হলে আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে পারি।
  • প্রচন্ড ডিপ্রেশনে চলে যাওয়া।
  • এ সমস্যাটি হলে নিজেদের শরীরের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা।
  • নার্ভের সমস্যা হলে শরীরের হঠাৎ করে প্রচন্ড ব্যথা বা যন্ত্রণা অনুভব হয়।
  • নার্ভের সমস্যা হলে মাইগ্রেনের উৎপত্তি হয়।

কি খেলে নার্ভ ভালো থাকে

নার্ভ ভালো রাখার জন্য কিছু পুষ্টিকর খাবার রয়েছে যা খাওয়া অতি জরুরী। আমরা যদি নিয়মিত সে সকল পুষ্টিকর খাবার খাই তাহলে আমাদের নার্ভের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা সুস্থ সবল ভাবে জীবন যাপন করতে পারব। কি খেলে নার্ভ ভালো থাকে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ আপেল সিডার ভিনেগার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম যা নার্ভের ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ২-৩ টেবিল চামচ আপেল ভিনেগার এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এভাবে নিয়মিত এ পানীয় পান করলে আপনার স্নায়ু ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

হলুদঃ হলুদ নানা গুনে সমৃদ্ধ। এই হলুদ স্নায়ুর বা নার্ভের ব্যথা সারাতে অনেক কার্যকরী। এতে রয়েছে এন্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য যা নার্ভের প্রচন্ড ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। নার্ভের ব্যথার কমাতে প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধে ১/৪ চা চামচ হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন।

বাদামঃ নার্ভ সুস্থ রাখতে বাদাম খাওয়া খুবই জরুরী। বাদামে রয়েছে ভিটামিন বি। ভিটামিন বি নার্ভের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে এবং নার্ভকে ভালো রাখে। তাই যারা নার্ভের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন অবশ্যই একমুঠ করে বাদাম খাবেন।

খেজুরঃ খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। যা আপনার শরীরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করবে এবং আপনার রক্ত সঞ্চালন সচল রাখবে। আর আপনার শরীরে যখন রক্ত চলাচল সচল থাকবে তখনই আপনি নার্ভের ব্যথা থেকে দূরে থাকবেন। এ জন্য প্রতিদিন সকালে ও রাত্রে কয়েকটি করে খেজুর খান।

ওমেগা থ্রিঃ ওমেগা থ্রি হল আমাদের শরীরের এসেনসিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড। আমাদের শরীরের নার্ভকে সুস্থ ও সবল রাখে। তাই নিয়মিত ওমেগা থ্রি যুক্ত খাবার খান। যেমন-মাছ, চিয়া বীজ, আমন্ড ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি।

পাকা কলাঃ কলা একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি৬ সহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদানসমূহ। নার্ভের ব্যথায় আক্রান্ত হলে অবশ্যই প্রতিদিন নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন এতে করে উপকার মিলবে।

তরমুজঃ তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম যা নার্ভের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি যা আপনার শরীরের ডিহাইড্রেশন দূর করে এবং আপনার নার্ভকে ভালো রাখতে সহায়তা করবে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারঃ ভিটামিন সি আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা আমাদের শরীরের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। নার্ভের সমস্যা হলে অবশ্যই আপনার খাবার তালিকায় ভিটামিন সি যুক্ত খাবার যুক্ত করুন। যেমন- কমলা, মালটা, আঙ্গুর, আনারস, কামরাঙ্গা, আমড়া, আমলকি, লেবু, বাতাবি লেবু ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।

দুধ ও ডিমঃ ডিম, দুধ ও দুগ্ধ জাত খাবারের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, খনিজ, আয়রন, প্রোটিনসহ অনেক ধরনের খাদ্য উপাদান। যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। নার্ভের সমস্যা হলে নিয়মিত দুধ ও ডিম আপনার খাবারের তালিকায় রাখুন।

শাকসবজিঃ তাজা শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। সবুজ শাকসবজি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নার্ভের সমস্যা হলে আমাদের উচিত প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি খাওয়া। যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পালংশাক, লালশাক, শালগম, কাঁচা কলা, কাঁচা পেঁপে, কচুশাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ।

পানি জাতীয় খাবারঃ আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা এবং পানি জাতীয় তরল খাবার খাওয়া। শরীরে যখন পানির ঘাটতি হয় ঠিক তখনই আমাদের নার্ভগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং যার ফলে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। যেমন-স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, গ্লুকোজ, বিভিন্ন ফলের জুস ইত্যাদি খাবারগুলো আমাদের খাদ্য তালিকায় যোগ করতে হবে।

নার্ভের রোগের ব্যায়াম

নার্ভের সমস্যা হলে ওষুধ ও খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম আমাদের শরীরের পেশীকে শক্ত ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন সঠিক ভাবে পরিচালিত করতে পারে। এতে করে শরীরের নার্ভের ব্যথা দূর করা সম্ভব হয়। তাই আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত ব্যায়াম করা। নার্ভের সমস্যা দূর করতে কি ধরনের নার্ভের রোগের ব্যায়াম করবেন তা নিচে উল্লেখ করা হল।

নিয়মিত হাঁটুনঃ নিয়মিত হাঁটার চেয়ে বড় ব্যায়াম আর কিছু নেই। আপনার নার্ভকে ভালো রাখার জন্য দিনে কমপক্ষে ১ ঘন্টা করে হাঁটতে হবে। নিয়মিত হাঁটলে আপনার শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো সচল থাকবে, এতে করে নার্ভের সঞ্চালন সঠিকভাবে সংঘটিত হবে। যার ফলে আপনার নার্ভের ব্যথা কমতে শুরু করবে।

সাঁতার কাটাঃ সাঁতার কাটা এক ধরনের ব্যায়াম যা আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যা সকল শারীরিক সমস্যাকে দূর করে দেয় এবং শরীরকে সতেজ ও অসুস্থ রাখে। আপনার যদি নার্ভের ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে তাহলে নিয়মিত সাঁতার কাটুন। এতে করে আপনার স্নায়ুর অসুখ ভালো হয়ে যাবে।

সাইকেল চালানোঃ সাইকেল চালানো একটি শারীরিক ব্যায়ামের মধ্যে পড়ে। সাধারণত পুরুষদের জন্য এই ব্যায়ামটি। সাইকেল চালালে আপনার শরীরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সচল থাকবে এবং নার্ভের ব্যথা কমে যাবে।

রেজিস্টেন্স ট্রেনিংঃ নার্ভের সমস্যা হলে আপনাকে রেজিস্টেন্স ট্রেনিং করতে হবে। এর রেজিস্টেন্স ট্রেনিং করলে আপনার শরীরের সকল জটিল সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনার পেশীকে শক্ত করতে ও নার্ভের সমস্যা দূর করতে এই ট্রেনিং এর বিকল্প নাই।

স্ট্রেচিং এক্সারসাইজঃ আপনার নার্ভের ব্যথা দূর করতে স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করতে পারেন। এটি আপনার নার্ভকে সচল রাখবে এবং নার্ভের ব্যথা দূর করবে। তাই দেরি না করে স্ট্রেচিং এক্সারসাইজটি শুরু করুন।

ফিজিওথেরাপিঃ ফিজিওথেরাপি এক ধরনের ব্যায়াম যা আপনার মাংসপেশীকে সচল করতে সাহায্য করে। আপনার যদি নার্ভের ব্যথা অতিরিক্ত হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন।

নার্ভের রোগের প্রতিকার   

নার্ভের যখন সমস্যা হয় তখন নার্ভে প্রচন্ড ব্যথা ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। যা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর। নার্ভে প্রচন্ড ব্যথা হলে কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো প্রয়োগ করলে আরাম পাওয়া যাবে। নার্ভের প্রচন্ড ব্যথার জন্য কি করণীয় রয়েছে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

  • হিমালয়ান পিংক সল্ট যা রক সল্ট নামেও পরিচিত। এই লবণ নার্ভের ব্যথা দূর করতে বেশ কার্যকরী। পিংক সল্টে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম। যা নার্ভের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে থাকে। গোসলের সময় এক বালতি পানিতে দুই কাপ রক সল্ট ভালোভাবে মিশিয়ে গোসল করুন। এতে করে আপনার নার্ভের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
  • নার্ভ বা স্নায়ুর ব্যথা কমাতে ঠান্ডা ও গরম পানির ভাব নিন। ব্যথা হলে প্রথম ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত গরম স্প্রে ব্যবহার করুন। এরপর ঠান্ডা ভাব নিতে থাকুন, তাহলে আপনার নার্ভের ব্যথা ও ফোলা অনেকটাই কমে যাবে।
  • আপনার যদি হাতে ও পায়ে ব্যথার সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে বরফ পানিতে হাত-পা ডুবিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর্যন্ত হাত-পা ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে আপনার নার্ভের ব্যথার সমস্যা দূর হবে এবং আরাম অনুভব করবেন।
  • মানসিক চাপের কারণে নার্ভের সমস্যা হয়ে থাকে। এজন্য সবসময় মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন এবং চিন্তামুক্ত ও হাসিখুশি জীবন-যাপন করুন।
  • নার্ভের ব্যথা পুরোপুরি ভালো করতে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরী। স্ট্রেচিং, ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম নার্ভের ব্যথা কমাতে আপনাকে সাহায্য করবে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশী শক্তিশালী হয় ও রক্ত চলাচল ঠিক থাকে। এতে করে শরীরের ব্যথা বেদনা দূর হয়। তাই আপনি আপনার নার্ভের ব্যথা কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • রোদে রয়েছে ভিটামিন ডি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে। সকালের রোদ গায়ে মাখলে নার্ভের উন্নতি হয়, যার ফলে নার্ভের সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
  • হলুদ স্নায়ুর বা নার্ভের ব্যথা সারাতে অনেক কার্যকরী।এতে রয়েছে এন্টিইনফ্লেমেটরি যানিয়মিত খেলে আপনার নার্ভের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
  • যারা ধূমপান করেন তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই ব্যথা দূর করতে হলে অবশ্যই ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
  • নার্ভের সমস্যা হলে নিয়মিত সাইকেল চালান এবং সাঁতার কাটুন এতে করে আপনার শরীরের মাংসপেশী মজবুত হবে ও সচল থাকবে। যার ফলে নার্ভের ব্যথা অনেকটাই ভালো হয়ে যাবে।
  • নার্ভের ব্যথা বেড়ে গেলে শক্ত ও সমান বিছানা ব্যবহার করতে হবে। ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচে বালিশ দিতে হবে যেন আপনার মেরুদন্ড সমান থাকে।
  • আপনার মাজায় যদি ব্যথা করে তাহলে কখনো বাঁকা হয়ে বসবেন না সব সময় মজা সোজা করে বসার চেষ্টা করবেন।

নার্ভের ট্যাবলেট

নার্ভের অতিরিক্ত সমস্যা দূর করার জন্য চিকিৎসকরা কিছু ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন। যা নার্ভের সমস্যাকে দূর করতে সাহায্য করে। নার্ভের সমস্যা প্রতিকারের জন্য কি কি ঔষধ রয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • Nerv B Tablet
  • Nerva Tablet
  • Nervaid Capsule
  • Nervalin Tablet/Capsule
  • Nervex Tablet
  • Nerviton Tablet
  • Nervo B Tablet
  • Nerbo Tablet
  • Nerviplex Tablet
  • Nervopex Tablet
  • Nervolin Capsule

বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে আমরা নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পারলাম। আমাদের শরীর সচল ও সুস্থ রাখার জন্য নার্ভের গুরুত্ব অনেক। নার্ভ আমাদের শরীরের সকল অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই আমাদের নার্ভকে সুস্থ-সবল রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরকে নিতে হবে। আর যদি আপনার নার্ভের সমস্যা বেশি গুরুতর হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে আমার এই পোস্টটি আপনাদের পড়ে ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করে দিবেন এবং অন্যকে জানার সুযোগ দিবেন। ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url