বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় যা জানা জরুরী

মাথা ব্যাথা হলে কি করা উচিতআর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা বলতে সাধারণত জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথাকে বোঝায়। এটি একটি নির্দিষ্ট কোন রোগ নয়, এটি শরীরের যে কোন অংশেই হতে পারে। এই রোগটি সববয়সী মানুষের হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু এই রোগটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই আমি আজকে বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমার এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এটি কেন হয়, এটি হলে লক্ষণ কি হতে পারে, কি খেলে বাতের ব্যথা কমে এবং বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো কি কি তা এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করি, এই পোস্টটি পড়লে আপনারা অনেক উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃবাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় যা জানা জরুরী 

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে বাতের ব্যথা বেড়েই চলেছে। ছোট থেকে বড় সকলেই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সকলেরই শরীরে কোন কোন অংশে ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। কারো ক্ষেত্রে এ ব্যাথা অল্প আবার কারো ক্ষেত্রে এ ব্যথা অধিক আকার ধারণ করে। এ ব্যথা শরীরের জয়েন্টের অংশগুলোতে বেশি হয়ে থাকে। আমাদের শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়ে সাধারণত জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যাথা হয়। বাতের ব্যথা সাধারণত শীতের সময় বেশি লক্ষ্য করা যায়। এজন্য আমাদের বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন।

বাতের ব্যথা কেন হয়

বাতের ইংরেজি নাম হল রিউমাটয়েডর আর্থ্রাইটিস। এটি হলো একটি অটোইমিউন রোগ। বাতের অসুখ একটি শারীরিক যন্ত্রণাদায়ক রোগ। আমাদের শরীরের অস্থি সন্ধিতে ইউরিক এসিড জমা হয়ে এ রোগের সৃষ্টি হয়। এ রোগ হলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে।

গিরায় গিরায় ব্যথা, ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত কিছু কিছু কারণে বাতের উৎপত্তি হতে পারে। বাত কেন হয় সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ক্ষয়ের কারণে বাতের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
  • পরিবারে যদি কারো বাতের সমস্যা থেকে থাকে তবে আপনারও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এটিকে জিনগত সমস্যা বলে।
  • বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার কারণে শরীরের রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড বেড়ে গিয়ে টিস্যুর মধ্যে তা জমা হয়ে বাতের ব্যথা হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান করলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • বাতের সমস্যা সাধারণত পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়ে থাকে। যে মহিলাদের আর্থ্রাইটিস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হয়ে থাকে।
  • অনেক সময় ওজন বৃদ্ধির কারণেও বাতের সমস্যা হয়ে থাকে।
  • ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক প্রভৃতি সংক্রমনের কারণে আপনার শরীরের জয়েন্টগুলো ব্যথা হতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে।
  • আপনি কখনো যদি আপনার শরীরের কোন অংশে আঘাত পেয়ে থাকেন, তা পরবর্তীতে বাতের সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
  • যারা অধিক পরিশ্রম করে থাকেন, বয়স হলে তাদের বাপের ব্যথা হতে পারে।
  • যাদের শারীরিক অনেক সমস্যা রয়েছে বা যারা অনেক অসুখ-বিসুখে ভুগেন তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যাটি হতে পারে।
  • বিভিন্ন রোগের কারণে অনেক ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে পরবর্তীতে বাতের ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে।
  • যারা অতিরিক্ত আরামপ্রিয় অর্থাৎ সবসময় শুয়ে ও বসে সময় কাটান, তেমন একটা হাঁটাচলা করেন না তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যাটি হতে পারে।
  • শরীরের রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে বাতের সমস্যা হয়ে থাকে।
  • যারা টেনশন বেশি করে বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যাটি তৈরি হতে পারে।
  • আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণেও বাতের সমস্যাটি হতে পারে।
  • আমাদের শরীরে যদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়ে থাকে তাহলে এই বাতের ব্যথা সৃষ্টি হয়।
  • অধিক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বা অধিক সময় ধরে বসে থাকার কারণেও এই ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।
  • পেটের অসুখ যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগ থাকলে বাতের সমস্যা হতে পারে।

বাতের ব্যথার লক্ষণ

বাতের সমস্যা সকলেরই কমবেশি হতে পারে। এটি একটি অদৃশ্য রোগ যা হলে সহজে বোঝা যায় না। বাতের ব্যথা হলে শরীরে কি ধরনের পরিবর্তন বা লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তা নিচে তুলে ধরা হলো।

  • আপনার শরীরে যদি কোন অংশ যেমন- ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, আঙ্গুলে ব্যথা, পায়ের গোড়ালি ব্যথা অনুভূত হয় ও ফুলে যায় তাহলে এটি বাতের ব্যথার লক্ষণ।
  • এই সমস্যা হলে পরে মুখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং মুখের ভিতরে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • আপনার যদি সব সময় অল্প অল্প জ্বর লেগেই থাকে, তাহলে এটিও একটি বাত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। তাই দেরি না করে অবশ্যই টেস্ট করতে হবে।
  • বাতের সমস্যা হলে অনেক সময় আপনার চোখ অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • হঠাৎ করে যদি আপনার শরীরের কোন অংশ ব্যথা করে এবং সাথে সাথে ফুলে যায়, তাহলে এটি বাতের ব্যথার লক্ষণ হতে পারে।
  • বাতের সমস্যা যদি ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আপনার শ্বাস নিতে কষ্ট হবে এবং কাঁশি অনুভব হবে।
  • এ সমস্যার কারণে আপনার কোনইয়ের চারপাশে চামড়া খসখসে ও চামড়ার নিচে গোটা হয়ে যেতে পারে। যা নডিউলস নামে পরিচিত।
  • বাতের ব্যাথার কারণে আপনি সহজে হাঁটাচলা করতে পারবেন না এবং হাঁটাচলা করার সময় আপনার পায়ে এক ধরনের শব্দ অনুভূত হবে।
  • এটি হলে হাঁটুর উপরে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হাঁটুতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে।

বাতের ব্যথা কোথায় কোথায় হয়

বাতের সমস্যা বর্তমানে একটি কমন রোগ। যা শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে এবং তার ফলে প্রচন্ড ব্যথা ও ফুলে যেতে পারে। আমাদের শরীরে বাতের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় তা নিচে আলোচনা করা হলো।

ঘাড়ে বা কাঁধে ব্যথাঃ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। হঠাৎ করে যদি ঘাড়ে বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয় ও ফুলে যায় তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার বাতের সমস্যা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার কাঁধের মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে এই ব্যথা আপনার ঘাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।

কোমর ব্যথা বা ব্যাক পেইনঃ অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে কোমর ব্যথা বা ব্যাক পেইন লক্ষ্য করা যায়। এই কোমর ব্যথা এতটাই কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক যা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাতের ব্যথা কোমর ও মেরুদন্ডের পুরো অংশতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। এটি হলে কোমর ও পিঠ প্রচন্ড ব্যথা হয় ও কনকন করে। বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ এই কোমর ব্যথার ঝুঁকিতে রয়েছে।

হাঁটুতে ব্যথাঃ দুই পায়ে হাঁটুতে ব্যথা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অধিকাংশ মানুষেরই হাঁটুতে কম বেশি ব্যথা রয়েছে। হাটুতে ব্যথা হলে নড়াচড়ার সমস্যা হওয়া, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, কামড়ানো প্রভৃতি সমস্যা শুরু হয়ে যায়।

হাতের কব্জি অবশঃ অনেক সময় আমাদের হাতের কব্জি অসাড়তা বা অবশ অনুভব হয়ে থাকে। এটি আসলে বাতের কারণে অনুভূত হয়, যা বাতের ব্যথা নামে পরিচিত। বাতের সমস্যা হলে আমরা সহজে আমাদের হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারি না।

হাত-পা এর আঙ্গুলে ব্যথাঃ বাতের সমস্যায় আক্রান্ত হলে অনেক সময় শরীরের হাত-পায়ের আঙুলের গিটে গিটে ব্যথা করে ও অস্বাভাবিক ফুলে যায়। যার ফলে কোন কাজ করতে ও চলাফেরা করতে খুব সমস্যা হয়।

পায়ের গোড়ালি ব্যথাঃ পায়ের গোড়ালি ব্যথা ও ফুলে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাত। সাধারণত বাতের সংক্রমনের কারণে পায়ের গোড়ালি ব্যথা করে ও প্রচন্ড ফুলে যায়। এতে করে হাঁটাচলা করতে ওর দাঁড়িয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়।

বুক ব্যথাঃ অনেকের আবার বাতের সমস্যা হলে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা করে। সাধারণত ফুসফুসে এটি সংক্রমণের কারণে বুকের ব্যথা সৃষ্টি হয় যা অত্যন্ত উদ্বেগকর বিষয়। বাতের ব্যথা হলে অনেক সময় আপনার মাংসপেশী অনেক শক্ত হয়ে যেতে পারে।

কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে

আমরা অনেকেই মনে করি যে, বাতের ব্যথা শুধু বয়স্কদেরই হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ব্যথা কমবয়সী থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই দেখা দেয়। সাধারণত বাতের সমস্যা আমাদের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস এর কারণে হয়ে থাকে। এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে সব বয়সের মানুষেরই এই রোগ হতে পারে। কি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে সে সম্বন্ধে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

  • আমরা যদি অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার যেমন-চকলেট, আইসক্রিম, মিষ্টি, এনার্জি ড্রিংস, কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাদি বেশি খেয়ে থাকি তাহলে খুব সহজেই বাতের ব্যথা বাড়তে পারে।
  • প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংস ও রেডিমেড সকল ধরনের খাবার খেলে বাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • লবণ আমাদের শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। কিন্তু লবণ যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তাহলে বাতের ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান বাতের ব্যথার অন্যতম কারণ। অ্যালকোহল আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়।
  • ভাজাপোড়া খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা এই খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে থাকি। এই খাবার খেলে আমাদের বাতের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
  • গ্লুটেন জাতীয় খাবার বাতের  সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। গম, বালি ও রাইসের মতো দানা শস্যের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ গ্লুটেন নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন বাতের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • ফাস্টফুড জাতীয় সকল খাবার বর্জন করতে হবে। এ সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

কি খেলে বাতের ব্যথা কমে

কিছু কিছু খাবার খেলে যেমন বাতের ব্যথা বাড়তে পারে তেমনি কিছু কিছু খাবার খেলে বাতের ব্যথা কমে যায়। আমাদের খাদ্য তালিকায় সে সকল খাবারগুলো রাখা অত্যন্ত জরুরী। কি খেলে বাতের ব্যথা কমে তা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

  • আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রচুর ফাইবার বা আস জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এ ধরনের খাবার বাত ব্যথাকে উপশম করতে সাহায্য করে।
  • রসুন অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা জাতীয় খাবার। রসুনের রয়েছে ভাইরাসরোধী, ব্যাকটেরিয়ারোধী ও ছত্রাকরোধী পেনিসিলিনের মত জীবাণুনাশক উপাদান। যা আমাদের বাতের ব্যথাকে অনেকটা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
  • হলুদ নানা ধরনের ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হলুদ রয়েছে কুরকুমিন নামক উপাদান যা ব্যথা ভালো করতে সাহায্য করে।
  • বাঁধাকপি ফুলকপি ও ব্রকলিতে রয়েছে সালফোরেফেন নামক একটি উপাদান যা বাতের ব্যথা হওয়াকে কমিয়ে তোলে।
  • ভিটামিন এ,সি, ই, সেলেনিয়াম জাতীয় উপাদানযুক্ত খাবারগুলো এ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • রসুনের মত আদতেও রয়েছে অনেক ধরনের উপাদান। হাঁটুর ব্যথায় বা শরীরের অন্যান্য ব্যাথায় আদার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যদি প্রতিদিন আদাযুক্ত খাবার খেয়ে থাকি তাহলে আমাদের বাতের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।
  • পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আন্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান। আর এই আন্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদানটি বাতের ব্যথা কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • আখরোট খাবারটিতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটিএসিড যা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
  • সামুদ্রিক মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটিএসিড ও ভিটামিন ডি। যা আপনার
  • শরীরের হাড়কে মজবুত করে এবং বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে শরীলে ব্যথা সৃষ্টি হয়। দুধ ও দুগ্ধ জাত খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এ সকল খাদ্য খেলে আপনার বাতের ব্যথায় উপশম পাবেন।
  • যে সকল সবজি ও ফলের ভিটামিন সি রয়েছে সে সকল খাবার বেশি করে গ্রহণ করুন, এটি আপনার ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সহায়তা করবে।
  • ফাইবার জাতীয় খাবার বা আস্ত শস্য দানা বেশি করে গ্রহণ করুন। এ খাবার আপনার শরীরকে পুষ্টি যোগাবে।

বাতের ব্যথার ব্যায়াম

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাতের ব্যথায় আমরা ভুগতে থাকি। কারো কারো ক্ষেত্রে বাতের ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে, ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিও নিতে হয়। ফিজিওথেরাপি হল এক ধরনের ব্যায়াম, যা নিয়মিত করলে বাতের ব্যথা থেকে অনেকটা মুক্তি লাভ করা যায়। বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলোর মধ্যে বাতের ব্যথার ব্যায়াম অন্যতম। বাতের ব্যথার ব্যায়াম করে আমরা আরাম পেতে পারি।

  • হাঁটুর নিচে একটি তোয়ালা ভাঁস করে রেখে হাঁটু দিয়ে তোয়ালা ওপর চাপ দিতে হবে। এভাবে চাপ দিয়ে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ছেড়ে দিন। ১০ মিনিট করে দিনে ৩ থেকে ৪ বার এ ব্যায়াম করতে পারে।
  • একটি চেয়ারে বসে পায়ের গোড়ালির সাথে ২ কেজি ওজনের একটি বালুর ব্যাগ বেঁধে পা সোজা করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন আর ভাঁজ করুন। এভাবে পাঁচ মিনিট করে দিনে ২ থেকে ৩ বার ব্যায়ামটি করতে পারেন।
  • এই ব্যায়ামের ক্ষেত্রে দুই পা কাছাকাছি এনে দাঁড়াতে হবে এবং দুই পায়ের আঙ্গুল পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে উপরের দিকে তুলতে হবে। এমন অবস্থায় ধীরে ধীরে গোড়ালি মেঝে থেকে তুলতে হবে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় শরীর হালকা রাখতে হবে।
  • বাতের ব্যথার ব্যায়াম এর ক্ষেত্রে উপুর হয়ে শুয়ে বালুর ব্যাগ পায়ে বেঁধে হাঁটু ভাঁজ করতে হবে এবং ১০ সেকেন্ড ধরে রাখতে হবে আর ছেড়ে দিতে হবে।
  • এই ব্যায়ামে এক পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আরেক পা ভাঁজ করে অপর পায়ে হাঁটু ছুঁতে হবে। এই অবস্থায় দুই হাত উপর দিকে তুলে দাঁড়াতে হবে। পুরো ব্যায়ামটি করার সময় শ্বাস অল্প অল্প করে গ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে।
  • বাসার জানালা অথবা বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দুই হাটু ভাঁজ করে বসতে হবে আবার ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এভাবে প্রতি বার ৫ মিনিট করে ব্যায়াম করুন।
  • এই ব্যায়ামে দুই পা জোড়া করে রেখে সামনের দিকে শরীরকে ঝুকিয়ে দিন। এবার দুই হাত মেঝেতে রেখে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে রাখুন। এভাবে ১০-১৫ সেকেন্ড শরীরকে ঝুঁকিয়ে রাখুন।
  • এ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে একটি পা পিছনের দিকে সোজা তুলে রাখুন এবং শরীরকে সামনে দিকে ঝুকিয়ে দিন। আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ শরীর ও পিছনে তোলা পা মাটির সঙ্গে অনুভূমিক করে ফেলুন। এক্ষেত্রে দেহের সম্পূর্ণ ভার এক পায়ের উপরে থাকবে।
  • এ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বিছানা বা মেঝেতে দুই পা সোজা করে বসে একটি তোলা দিয়ে পায়ের পাতা সামনের দিকে টানুন। এভাবে করে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন আবার ছেড়ে দিন।
  • সমতল জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ধরার চেষ্টা করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না উরুতে টান অনুভব করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ঝুঁকতে থাকুন। এ অবস্থায় স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রেখে ১৫ সেকেন্ড ঝুঁকে থাকুন এবং আবার সোজা হন। এভাবে কয়েকবার করে ব্যায়ামটি করতে থাকুন।

বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাতের ব্যথা একটি খুব খারাপ ও বেদনাদায়ক সমস্যা। এটি হলে মানুষের শরীর ও মন দুটোই খারাপ থাকে। কোন কাজে মন বসতে চায় না এবং সব সময় অস্থিরতা বোধ হতে থাকে। কিন্তু, কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ব্যায়ামঃ বাতের ব্যথা হলে সর্বপ্রথম আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হচ্ছে,ফিজিওথেরাপি বা ব্যায়াম করা। ঘরোয়া ব্যায়ামগুলো করলে আপনার শরীরের জয়েন্ট এগুলোর ডেভেলপ হবে এবং মাংসপেশি শক্তিশালী হবে। এর ফলে আপনার শরীরে ব্যথা দূর হয়ে যাবে। আমাদের সকলেরই প্রতিদিন কোন না কোন ব্যায়াম করা উচিত। এতে করে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।

সাঁতার কাটাঃ সাঁতার কাটা একটি খুব ভালো এক্সারসাইজ। নিয়মিত সাঁতার কাটলে আপনার হাত, পা ও শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে করে বাতের ব্যথা অনেকটাই কমে আসে।

শরীরচর্চাঃ সাধারণত শীতকালে বাতের সমস্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ সময় হাঁটাচলা, দৌড়ঝাঁপ ও পর্যাপ্ত পরিশ্রম করা প্রয়োজন। এতে করে মাংসপেশী শক্ত হয় ও শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা বেদনা কম হয়।

গরম ও ঠান্ডা সেঁক দেওয়াঃ শীতকালে গরম পানির সেক এবং গরমকালে ঠান্ডা পানির সেঁক ব্যথা জায়গায় দিলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। বাতের ব্যথায় পানির সেঁক দিলে বাতের ব্যথা অনেকটা দূর হয়ে যায়।

ওজন কমানোঃ শরীরের ভারি বাতের ব্যথাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। যাদের ওজন বেশি তাদের কোমর ও হাঁটুর উপর চাপ পড়ে যার ফলে ব্যথা সৃষ্টি হয়। এই ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

ভিটামিন ডি গ্রহণঃ সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবে বাতের ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে। আর শীতকালে এই ব্যথা বেশি হয়। এজন্য রোদ গ্রহণ করতে হবে এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে।

ক্যালসিয়াম গ্রহণঃ ক্যালসিয়ামের অভাবেও হাড় ক্ষয় এবং হাড়ে ব্যথা হয়ে থাকে। ক্যালসিয়াম ওষুধের পাশাপাশি আমাদেরকে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। যেমন-দুধ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, নেহারী, ডিম, মাশরুম ইত্যাদি।

ভারী পোশাক পড়াঃ সাধারণত বাতের সমস্যা শীতকালে বেশি হয়ে থাকে। শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে শরীরে ব্যথার সৃষ্টি হয়। তাই শীতকালে বাহিরে বের হওয়ার আগে মোটা ও ভারী পোশাক পড়ে বের হতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার বাতের ব্যথা বা জয়েন্টের ব্যথা ভালো করতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন এ ধরনের খাবার খাবার তালিকা রাখতে হবে। সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদি নিয়মিত খেলে বাতের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ পানিতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আমাদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে তাদের বাতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

মেসেজ থেরাপিঃ বাতের ব্যথায় মেসেজ থেরাপি অনেক ভালো কাজ করে। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন ব্যথা স্থানে সামান্য তেল দিয়ে মেসেজ করুন, এতে দেখবেন আপনার ব্যথা আর থাকবে না এবংআপনি সুস্থ অনুভব করবেন।

খালি পেটে হাঁটুনঃ বাতের ব্যথা বা গিঁটে গিঁটে ব্যথা কমানো সহজ উপায় হল খালি পেটে হাটা। আপনি প্রতিদিন খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে নিন তারপর খাদ্য গ্রহণ করুন। এতে করে আপনার শরীর ভালো থাকবে এবং শরীরের ব্যথা দূর হবে।

বাতের তেল

বাতের ব্যথা খুবই যন্ত্রনাদায়ক, বিভিন্ন প্রকার খাদ্য খেলেও সহজে ব্যথা ভালো হতে চায় না। খাদ্যের পাশাপাশি যদি বাতের তেল মালিশ করা যায় তাহলে অনেকটাই আরাম মেলে। বিশেষ ধরনের তেল ব্যবহার করে মেসেজ করলে বাতের ব্যথা দূর হয়ে যায়। বাতের ব্যথা দূর করার অনেক ধরনের তেলের প্রচলন রয়েছে। বাতের তেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

গোলমরিচের তেলঃ গোলমরিচের রয়েছে অ্যান্টি-স্পাসমোডিক যা পেশীর ব্যথা, আর্থ্রাইটিস ও টেন্ডোনাইটিস ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। গোলমরিচের এই তেল দিয়ে ব্যথা স্থানে মালিশ করলে অনেক আরাম পাওয়া যায় এবং বাতের ব্যথা দূর হয়ে যায়। আবার আপনি এই তেল খাবার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল আপনার পাকস্থলীকে সুস্থ ও হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ তেল আপনি বাজারে কিনতে পাবেন।

তিলের তেলঃ উপশম করতে তিলে তেল অনেক কার্যকরী। ২ চা চামচ সরষের তেল, ২ চা চামচ তিলের তেল, ৪ -৫ টি রসুনের কোয়া থেঁতলে এবং এক চা চামচ হলুদের গুড়া মিশিয়ে আগুনে একটু ফুটিয়ে নিয়ে এই তেল তৈরি করতে হয়। এই তেল তৈরি করার পর সামান্য গরম অবস্থায় ব্যথার জায়গায় মালিশ করুন, এতে করে অনেক আরাম পাবেন।

পেঁয়াজের তেলঃ পেঁয়াজের তেল বাত ব্যথায় ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এটি একটি ঘরোয়া তেল। এ তেল তৈরি করতে প্রথমে ৩- ৪ টি পেঁয়াজ বেটে পেস্ট করে নিন। এবার এই পেস্টটি একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ছেকে রস বের করে নিন। এই পেঁয়াজের রসের সাথে সামান্য সরিষার তেল মিশিয়ে আগুনে ফুটিয়ে নিন। এরপর তেলটি হালকা গরম থাকা অবস্থায় ব্যথা জায়গায় মালিশ করুন।

আদা-রসুনের তেলঃ প্রথমে কিছু পরিমাণ আদা-রসুন গ্রেট করে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে তিলে তেল বা সরিষার তেল দিয়ে তারমধ্যে আদা-রসুন গ্রেট, কয়েকটা লবঙ্গ-দারুচিনি-তেজপাতা, ২ চা চামচ মেথিদা দানা, অ্যালোভেরা জেল ৩ চামচ, কর্পূর ১ চামচ, জোয়ান ২ চামচ এবং ১/২ চামচ হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে আগুনে ফুটিয়ে নিন। এরপর এটিকে ছেকে ঠান্ডা করে একটি বোতলে রেখে দিন। যখন মালিশ করবেন তখন তেলটি একটু হালকা গরম করে মালিশ করুন।

এসেনশিয়াল তেলঃ অনেকে বাতের ব্যথার জন্য এসেনশিয়াল তেল ব্যবহার করে থাকেন। আদা এবং কমলা লেবুর এসেনশিয়াল তেল ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে। এ তেলে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরের স্নায়ুর চাপ কমাতে সাহায্য করে, যার জন্য শরীরের ব্যথা অনুভব কম হয়। যদি বাতের ব্যথার জায়গা গুলোতে এই তেল যদি মালিশ করা হয় তাহলে বাতের ব্যথা দূর হয়ে যায়। এই তেলটি বাজারে পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে এটা আমরা জানতে পারলাম যে, বাতের ব্যথা নানা কারণে হয়ে থাকে এবং বাতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো প্রয়োগ করে তা দ্রুত ভালো করা সম্ভব। এজন্য আমাদের দেরি না করে বাতের ব্যথার ট্রিটমেন্ট দ্রুত শুরু করতে হবে। প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে ও উপকারে লাগে তাহলে পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করুন এবং এরকম পোস্ট পেতে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url