পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় যা জানা জরুরী

নার্ভের রোগের লক্ষণ ও প্রতিকারপাইলস একটি কমন রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এই রোগটি দিনে দিনে প্রকোপ আকার ধারণ করছে। পাইলসের সমস্যা ছোট বড় সকলের ক্ষেত্রে হতে পারে। এজন্য আমাদের পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কে কিছু ধারনা রাখা প্রয়োজন। যেন আমরা পাইলস এর সমস্যা হলে পাইলস এর প্রাথমিক চিকিৎসা করে দ্রুত এর সমাধান করতে পারি। আজকে আমি আমার এই পোস্টে পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

আপনারা যদি পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় সম্পর্কে ধারণা পেতে চান তাহলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আশা করি আপনাদের কিছুটা হলেও পাইলস সম্পর্কে ধারণা দিতে পারব।

পোস্ট সূচিপত্রঃপাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় যা জানা জরুরী

ভূমিকা

পাইলস সাধারণত একটি মলদ্বারের অসুখ। বর্তমান সময়ে মলদ্বারের পাইলসের সমস্যাটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। কমবেশি সকলেই এই সমস্যাটি সম্মুখীন হয়ে থাকে। পাইলসের সমস্যা হলে আমাদের শরীরে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের জীবনযাত্রার ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ সমস্যাটির উৎপত্তি ঘটে থাকে। তবে এই পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি উপায় সমূহও রয়েছে।

পাইলস রোগ কি

পাইলস রোগ কি এর সম্পর্কে আমরা অনেকেই কমবেশি জানি। সাধারণত পাইলস শরীরের মলদ্বারের একটি অংশ যা প্রত্যেক মানুষের মলদ্বারে থাকে। পাইলস মলদ্বারের নিচের দিকে অবস্থান করে, যা রক্তনালী দিয়ে পূর্ণ হয়ে থাকে। এটি সাধারণত মল ও বায়ু ধরে রাখতে সাহায্য করে। মলদ্বারের মুখে যদি কোনো কারণে ফুলে যায়, গোটার মত হয়ে যায়, প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং সেখান থেকে রক্ত পড়ে তখন সে অবস্থাকে পাইলস বা অর্শ রোগ বলে। এটি এমন একটি রোগ যা হলে রোগীর মলদ্বারের ভিতরে বাইরে ফুলে যায় এবং ভিতরে ও বাইরের অংশের চামড়া জমে গিয়ে আঁচিলের মত তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয়

এই অবস্থায় প্রচন্ড ব্যথা ও রক্তপাত শুরু হয়। এই আঁচিলগুলো মলত্যাগের সময় চাপের কারণে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে এবং ফুলে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি হেমোরয়েট নামে পরিচিত। পাইলস রোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-

বাহ্যিক পাইলসঃ এটি সাধারণত মলদ্বারের মুখের বাইরে দিকে থাকে। এটি চামড়ার নিচে থাকে এবং তেমন একটা ব্যথা হয় না। এই অবস্থায় মলত্যাগের সময় বেশি চাপ প্রয়োগ করলে ও বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ করলে পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং তখন ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এ ধরনের পাইলসের কারণে মলদ্বার চুলকাতে পারে এবং ফেটে যেতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পাইলসঃ অভ্যন্তরীণ পাইলস সাধারণত মলদ্বারের মুখের ভিতরে দিকে থাকে। এ ধরনের পাইলস হলে মলত্যাগের সময় মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হয় এবং মলদ্বার বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। অভ্যন্তরীণ পাইলসে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। এই ধরনের পাইলসে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

পাইলস হওয়ার কারণ কি

কমবেশি প্রায় সকল মানুষেরই পাইলসের সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্যা কারো ক্ষেত্রে বেশি আবার কারো ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। আমাদের পাইলসের সমস্যা নানা কারণে হতে পারে। নিচে পাইলস হওয়ার কারণ কি কি আলোচনা করা হল।

  • পাইলস রোগ হওয়ার প্রধান ও অন্যতম কারণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মলদ্বার ফুলে যায় ও ব্যথা করে এবং একসময় রক্তপাত হতে থাকে।
  • মলত্যাগের সময় জোরে চাপ দিলে পাইলসের সমস্যা হতে পারে।
  • মলত্যাগ করার সময় অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করলেও এ সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় আমরা পায়খানার বেগ আটকে রাখি, এটি করলেও অনেক সময় পাইলসের সমস্যা হতে পারে।
  • আমাদের শরীরের ওজন অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে পাইলসের সমস্যা হতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় যারা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়।
  • গর্ভকালীন অবস্থায় নারীরা পাইলসের সমস্যার সম্মুখীন হন। এমনকি ডেলিভারির পরেও এই সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় বার্ধক্য জনিত কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে।
  • পরিবারে কারো যদি পাইলসের সমস্যা থাকে তাহলে এটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • মানসিক চাপ ও অনিদ্রার কারণেও পাইলসের সমস্যা হতে পারে।
  • প্রয়োজনে তুলনায় কম পরিমাণে পানি পান করলে এ সমস্যা হয়ে থাকে।
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন পাইলসের সমস্যার আরেকটি কারণ।
  • আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের কারণেও এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

পাইলস রোগের লক্ষণ গুলো কি কি

বর্তমান সময়ে পাইলস একটি কমন রোগে পরিণত হয়েছে। পাইলস রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। সেই লক্ষণগুলো হলে আপনি বুঝবেন যে আপনার পাইলস রোগ হয়েছে। নিম্নে পাইলস রোগের লক্ষণ গুলো কি কি তা আলোচনা করা হলো।

  • মলত্যাগের সময় অনেক ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করা।
  • মলদ্বার সবসময় চুলকাতে থাকে।
  • মলত্যাগের সময় মলের সাথে রক্ত পড়ে।
  • মলদ্বার ফেটে যায় ও ফুলে ওঠে।
  • মলদ্বারের মুখ শক্ত আঁচিলের মত হয়ে যায়।
  • মলত্যাগের পর মলদ্বারের বাহিরে ও ভিতরে প্রচন্ড ব্যথা ও জ্বালাপোড়া করে।
  • মলত্যাগের পরও মনে হয় আরো মলত্যাগ হবে।
  • বসার সময় প্রচন্ড ব্যথা ও অস্বস্তি বোধ হয়।

পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি উপায় হল আমাদের সব সময় সতর্কতার সাথে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। কিছু কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলো খেলে পাইলসের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য পাইলসের সমস্যা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে সে সকল খাদ্যগুলো পরিত্যাগ করতে হবে। পাইলস হলে কি কি খাওয়া যাবে না তা তুলে ধরা হলো।

মসলাযুক্ত খাবারঃ পাইলসে আক্রান্ত হলে মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। মসলাযুক্ত খাবার আপনার হজম ক্ষমতাকে দুর্বল করে পাইলসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ পাইলসের সমস্যা হলে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো। দুধ ও দুধে তৈরি খাবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে তুলতে পারে। এজন্য এই খাবারগুলোকে এড়িয়ে চলুন।

মাংসঃ পাইলস হলে মাংস বা মাংসের তৈরি কোন খাবার খাবেন না। মাংস জাতীয় খাবার আপনার হজম শক্তিকে বাধাগ্রস্থ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করে।

তেলযুক্ত খাবারঃ পাইলসের সমস্যা হলে অতিরিক্ত তেল খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার আপনার পেটে সমস্যা তৈরি করবে। এর ফলে আপনার পাইলসের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

চা ও কফিঃ পাইলস সমস্যা হলে চা ও কফি জাতীয় পানীয় খাবেন না। এ ধরনের খাবারগুলো পাইলসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

ফাইবার বিহীন খাবারঃ যে সকল খাদ্যে ফাইবার কম রয়েছে, সে সকল খাদ্য বেশি না খাওয়াই ভালো। পাইলসের সমস্যা হলে ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন এবং ফাইবার বিহীন খাবার পরিত্যাগ করুন।

অতিরিক্ত লবণঃ লবণ আমাদের খাবারের স্বাদকে বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণ খেলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য পাইলসের সমস্যা হলে অবশ্যই লবণ কম খান।

ময়দা দিয়ে তৈরি খাবারঃ ময়দা জাতীয় খাবারে ফাইবারের পরিমাণ খুবই কম থাকে। আপনার পাইলসের সমস্যা হলে ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

মরিচঃ পাইলসের সমস্যা হলে শুকনো মরিচ একদমই খাবেন না। এমনকি পারলে কাঁচা মরিচ খাওয়া কমিয়ে দিন। অতিরিক্ত ঝাল খেলে আপনার পাইলসের জ্বালাপোড়া বেড়ে যেতে পারে।

ফাস্টফুডঃ ফাস্টফুড আমাদের হজম শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং পেটের নানা ধরনের অসুখ তৈরি করে। আর পাইলসের সমস্যা থাকলে ফাস্টফুড একদমই খাওয়া উচিত নয়। এ ধরনের খাবার পাইলসের সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত চিনিঃ চিনি আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর একটি খাদ্য। পাইলসের সমস্যা হলে যতটা সম্ভব চিনি ও চিনি দিয়ে তৈরি খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন।

চর্বিযুক্ত খাবারঃ চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আর যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তাদের এক ধরনের খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের হজম শক্তিকে ব্যাহত করে।

ধূমপান ও মদ্যপানঃ ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।যে পুরুষেরা ধূমপান ও মদ্যপান করে, তাদের পাইলসের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। এজন্য পাইলসের সমস্যা দেখা দিলে এ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই ধূমপান ও মদ্যপান পরিত্যাগ করতে হবে।

পাইলস এর প্রাথমিক চিকিৎসা

পাইলস এর সমস্যা হলে লজ্জার কারণে অনেকেই ডাক্তার দেখাতে চান না। কিন্তু চুপচাপে হবে ঘরে বসে থাকা উচিত নয়। পাইলসের সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে আপনি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারেন। আপনি কি ধরনের পাইলস এর প্রাথমিক চিকিৎসা ঘরে বসে নিতে পারবেন তা নিচে আলোচনা করা হলো।

লবণ পানি ব্যবহারঃ প্রাথমিক অবস্থায় পাইলসের সমস্যার জন্য লবণ পানি একটি অতি কার্যকরী ট্রিটমেন্ট। একটি গামলার মধ্যে হালকা গরম পানি নিয়ে তার মধ্যে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর এই পানির মধ্যে আপনার মলদ্বার কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এভাবে প্রতিদিন ২-৩ বার এই পদ্ধতি এপ্লাই করুন। এই ট্রিটমেন্টটি পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বরফ ব্যবহারঃ বরফের প্যাকেট একটা তোয়ালাতে পেঁচিয়ে মলদ্বারে গোটা গুলোর উপরে ১৫ মিনিটের মত চেপে ধরুন। এতে করে মলদ্বারে সমস্যায় উপশম মিলবে। ব্লিডিং পাইলস হলেও এই প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও ভালো কাজ দিবে।

সাপ্লিমেন্টঃ পায়খানা নরম করার জন্য অনেক ধরনের ফাইবার সবই তো খাবার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। ইসুবগুলের ভুসি এর মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসকরা পাইলসের সমস্যার জন্য প্রতিদিন এই ভুসি খাওয়ার পরামর্শ দেন। ইসুবগুলের ভুসি নিয়মিত খেলে মল নরম হয়। যার ফলে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হয় না।

শরীরচর্চাঃ সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের ব্যায়াম করা দরকার। আর যাদের পাইলসের অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেতো এটা অতি জরুরী। এজন্য যাদের এই সমস্যা রয়েছে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করুন।

অ্যালোভেরাঃ এলোভেরার অনেক গুণ রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। পাইলসের সমস্যা হলে এই অ্যালোভেরা খাওয়া ও বাহিক ব্যবহার দুটোই বেশ কার্যকরী। আপনার পাইলসের সমস্যা হলে এই এলোভেরা খান এবং এলোভেরা জেল আপনার মলদ্বারে ব্যবহার করুন।

নিমপাতাঃ নিম পাতা অ্যান্টিসেকটিভ হিসাবে বেশ কার্যকরী। নিম পাতার ও নিম ফলের তেল মলদ্বারের ক্ষতস্থানে লাগালে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। আপনাদের পাইলসের সমস্যা থাকলে এই তেল ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ এটি পাইলসের সমস্যা দূর করতে বেশ ভালো কাজ করে থাকে। মলদ্বারের মুখে আপেল সিডার ভিনেগার তুলার সাহায্যে কিছু সময়ের জন্য লাগিয়ে রাখুন। এতে করে আপনার মলদ্বারের ব্যথা চুলকানি জ্বালাপোড়া সহজেই ভালো হয়ে যাবে। এছাড়া প্রতিদিন এক গ্লাস পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে পারেন।

চা গাছের তেলঃ চা গাছের তেল যা মেলালেউকা তেল নামেও পরিচিত। এটি ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা ও চুলকানি নিরাময় করতে দারুন কার্যকরী। এতে রয়েছে আন্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য যা আপনার ত্বককে জীবাণুমুক্ত সাহায্য করে। আপনি যদি আপনার পাইলস আক্রান্ত স্থানে এই তেলটি ১০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখেন তাহলে বেশ ভালো ফল পাবেন।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নঃ আপনার বায়ু পথ বা মলদ্বার সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। মলত্যাগ করার পর আলতো ভাবে আপনার মলদ্বার পরিষ্কার করে নিন এবং টয়লেট টিস্যু বা পাতলা কাপড় দিয়ে মলদ্বার মুছে শুকিয়ে নিন।

বালিশ ব্যবহারঃ বিছানায় শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার মলদ্বারে রক্ত চলাচল ঠিকভাবে পরিচালিত হবে এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

পাইলস হলে যেমন কিছু খাবার খাওয়া নিষেধ, তেমনি এই পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে এমন কিছু খাবার আছে যা খাওয়া অতি জরুরী। কি খেলে পাইলস চিরতরে ভালো হয়ে যাবে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারঃ পাইলসের রোগীদের অবশ্যই ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। ফাইবার যুক্ত খাবার মল নরম করে ও নিয়মিত মলত্যাগ হতে সাহায্য করে। এজন্য যে সকল ফাইবারযুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল রয়েছে সেগুলো বেশি বেশি করে খেতে হবে। যেমন-কলা, পেঁপে, আঙ্গুর, আপেল, টমেটো, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, ব্রকলি, কিসমিস, আলুবোখারা, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তি উপায় হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পানি পানঃ সাধারণত আমরা প্রয়োজন এর তুলনায় অতি কম পরিমাণে পানি পান করে থাকি। চাহিদার চাইতে কম পরিমাণ পানি পান করলে আমাদের শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দেয় যার ফলে শরীর কোষে যায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এতে করে পাইলসের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।

ইসুবগুলের ভুসিঃ ইসবগুলের ভুসিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। প্রতিদিন ভুসি খেলে পায়খানা নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয় না। এজন্য পাইলসের সমস্যা থাকুক বা না থাকুক আমাদের উচিত প্রতিদিন নিয়মিত ভুসি খাওয়া।

ওটসঃ বর্তমানে ওটস একটি কমন ও জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওটস একটি আদর্শ খাবার। ওটস একটি ফাইবারযুক্ত খাবার যা পাইলসের রোগীদের জন্যও একটি আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

লাল আটার রুটিঃ লাল আটাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ ও ফাইবার। পাইলসের সমস্যা হলে প্রতিদিন সকালে ও রাত্রে লাল আটার রুটি খাওয়া উচিত। এতে করে শরীরে পুষ্টিগুণ অটুট থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

ঢেঁকি ছাটা চালঃ ঢেঁকি ছাটা চালে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও ফাইবার। পাইলসের রোগীদের নরমাল চালের ভাত না খেয়ে ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত খাওয়া উচিত। এতে করে পাইলসের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।

সাবুদানা ও বার্লিঃ পাইলসের সমস্যা হলে সাবুদানা ও বার্লি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। খাবার গুলো খেলে পাইলসের সমস্যা থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব।

নরম খাবারঃ নরম খাবার খেলে তা সহজেই পেট হজম করতে পারে এবং পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। পাইলসের রোগীদের অবশ্যই নরম জাতীয় খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না এবং সহজেই পায়খানা হবে।

লেবুর রসঃ লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার পাইলসের সমস্যা অনেকটাই ভালো করে দিতে সক্ষম। লেবুর রস আপনার রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে মলদ্বারের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে। এজন্য পাইলসের সমস্যা দূর করতে চাইলে আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন লেবু বা লেবুর রস রাখতে পারেন।

পাইলসের ঔষধ

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পাইলসের ঔষধ রয়েছে। ঘরোয়া ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি সে সকল ওষুধ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন। নিচে পাইলসের কিছু এলোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম উল্লেখ করা হলো।

পাইলসের এলোপ্যাথিক ঔষধ
  • Normanal Tablet
  • Hemorif / Hemorif DS Tablet
  • Sangril/Sangril DS Tablet
  • Daflon Tablet
  • Pilestop Tablet
  • Alvenor Tablet
  • Ardium Tablet
  • Avonoid Tablet
  • Diohes/Diohes DS Tablet
  • Diorin Tablet
  • Docefrez Tablet
  • Hemonor Tablet
  • Hemoral Tablet
  • Pilex Tablet
পাইলসের হোমিওপ্যাথি ঔষধ
  • Aesculus hip 30
  • Adel 2
বিঃদ্রঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ঔষধ খাবেন না।

পাইলস এর মলম

ঔষধের পাশাপাশি চিকিৎসকরা পাইলস এর মলম ব্যবহার করার সাজেশন দেন যা পাইলস থেকে চিরতরের মুক্তির উপায় হিসেবেও বেশ কার্যকারী। এ মলমগুলো পাইলসের ক্ষতস্থানে লাগালে খুব তাড়াতাড়ি পাইলসের ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও ক্ষত ভালো হয়ে যায়। নিচে পাইলসে ব্যবহারের কিছু মলমের নাম উল্লেখ করা হলো।

  • Pilosol Ointment
  • Erian Ointment
  • Dictamni Cream
  • Rectocare Ointment
  • Anustat Cream
  • Dobesil ld Ointment

পাইলস থেকে কি ক্যান্সার হয়

পাইলস থেকে কি ক্যান্সার হয় এ ধরনের প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই এসে থাকে। মলদ্বারের রোগের মধ্যে পাইলস ও ফিস্টুলা এ দুটি খুবই জটিল রোগ। বায়ু পথে বা মলদ্বারে বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া, রক্ত যাওয়া ও জ্বালাপোড়া করা এইসব পাইলসের লক্ষণ। তবে ধীরে ধীরে এ সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে মলদ্বারে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে যা ফিস্টুলা নামে আত্মপ্রকাশ করে। আপনার পাইলসের সমস্যা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে, তবে সেটি ক্যান্সারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হয় যেসব রোগের কারণে সেগুলো হচ্ছে- এনাল ফিসার, পাইলস, রেকটাল পলিপ, ক্যান্সার, আলসারেটিভ কেলোইটিস, ফিস্টুলা ও অন্যান্য।

এর সকল রোগের চিকিৎসা সঠিক সময় না নিলে এর পরিণতি অনেক ভয়াবহ হতে পারে। হঠাৎ করে যদি মলত্যাগের অভ্যাস বদল হয়, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয়, ব্যথা করে, জ্বালাপোড়া করে, ফুলে যায়, এবং এর সাথে যদি রক্ত পড়ে তবে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং টেস্ট করতে হবে। সাধারণত পাইলসের রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের কালার লাল রং হয়ে থাকে। আর অন্যদিকে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের রং-এ কালচে ভাব দেখা যায়।

এ ছাড়া আরো যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো- দীর্ঘদিন ধরে তলপেট ব্যথা করা, রক্তস্বল্পতা হওয়া, ক্লান্তি ভাব আসা, বারবার মলত্যাগ করা, বমি ভাব হওয়া, ওজন কমতে থাকা ইত্যাদি। এর সকল উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

পাইলস অপারেশনের পর করণীয়

পাইলসের সমস্যা যখন অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পায় যায় তখন অপারেশন করা প্রয়োজন পড়ে। অপারেশন করার পর রোগীর বিশেষ কিছু যত্ন করতে হয়। পাইলস অপারেশনের পর করণীয় সমূহ কি হওয়া উচিত তা নিচে তুলে ধরা হলো।

  • এই অপারেশনের পর রোগীকেসব সময় পরিষ্কার পরিচয় রাখতে হবে।
  • নিয়মিত ড্রেসিং করে দিতে হবে।
  • নরম কাপড় বা গজ ব্যবহার করতে হবে।
  • কোন ধরনের টিস্যু ব্যবহার করা যাবে না।
  • নিয়মিত মলদ্বারে ঠান্ডা ও গরম পানির সেক দিতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম করতে দিতে হবে।
  • সব সময় অপারেশনের জায়গাটি শুকনো রাখার চেষ্টা করতে হবে।

পাইলস অপারেশনের পর কি খাওয়া উচিত

পাইলস হলে কিছু কিছু খাবার খাওয়া বারণ রয়েছে কিন্তু পাইলসের অপারেশনের পর খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে ওই ধরনের কোন বাধা-নিষেধ থাকে না। পাইলসের অপারেশনের পর পাই লস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় হিসেবে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। পাইলস অপারেশনের পর কি খাওয়া উচিত তা নিচে তুলে ধরা হলো।

  • প্রথমত পাইলসের অপারেশনের পর টক জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। এতে করে ক্ষতস্থানটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।
  • অপারেশনের পর মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। এটিও ঘা শুকাতে সাহায্য করে।
  • প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবার খান। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না।
  • অপারেশনের পর আপনার শরীরকে ঠিক রাখার জন্য দুধ ও দুধে তৈরি খাবার খান।
  • প্রচুর পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া জরুরি।
  • সব সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • অপারেশনের পরেও ইসুবগুলের ভূসি নিয়মিত খান।
  • প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সাথে সামান্য পরিমাণ হলুদ মিশিয়ে তা পান করতে পারেন।
  • অপারেশনের পর অবশ্যই নরম খাবার খেতে হবে এতে করে খাবার হজম করতে কোন সমস্যা হবে না।
  • অপারেশনের পর ওমেগা থ্রি ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স জাতীয় খাবার বেশি করে খান।
  • অপারেশনের পর সকল ধরনের মাছ ও মাংস পরিমাণ মতো খেতে পারবেন।

শেষ কথা

পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় গুলো কি কি তা আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পারলাম। পাইলসের সমস্যা হলে দেরি না করে এর ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে। ঘরোয়া কিছু ট্রিটমেন্ট এপ্লাই করার পরও যদি না কমে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই পোষ্টটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে ও উপকারে এসে থাকে তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের পোস্ট আরো পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url