গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা জেনে রাখুন

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে করণীয়গর্ভাবস্থার সকল ধরনের প্রতিকূলতা রোধ করা সম্ভব একমাত্র পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে। গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা সম্পর্কে আমাদের অনেকেই তেমন একটা ধারণা নেয়। একজন গর্ভবতী মাকে কি ধরনের খাবার দিতে হবে তার সম্পর্কে সকলেরই জেনে রাখা উচিত। এজন্য আজকে আমি গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা ও গর্ভবতী মায়ের কোন খাবার খাওয়া যাবে না সে সমন্ধে একটি পোস্ট লিখেছি।

গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা

আপনারা যদি এ সমন্ধে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক হন তাহলে অবশ্যই আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনারা গর্ভবতী মায়ের খাবার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচীপত্রঃগর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা জেনে রাখুন

ভূমিকা

গর্ভবতী মায়ের সব সময় খেয়াল রাখা এবং চাহিদা মতো খাদ্য সরবরাহ করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা যদি গর্ভের সন্তানকে সুস্থ সবল ভাবে পৃথিবীতে আনতে চাই তাহলে অবশ্যই গর্ভবতী মাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। প্রথম মাস থেকে শুরু করে নবম মাস পর্যন্ত গর্ভবতী মাকে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন, পটাশিয়াম, খনিজ প্রভৃতি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াতে হবে। তাহলে গর্ভবতী মা ও গর্ভের সন্তান সুস্থ সবল থাকবে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়

এছাড়া গর্ভাবস্থায় কিছু খাবার খাওয়ানোর বিধি-নিষেধ রয়েছে। তাই সে সম্বন্ধেও আমাদের সঠিক ধারণা থাকতে হবে। আমরা যদি গর্ভাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা রাখি, তাহলে আমরা খুব সহজেই গর্ভবতী মায়েদের যত্ন করতে পারব।

১ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভাবস্থায় ১ মাসে গর্ভবতী মা যে খাবার গুলো খেয়ে থাকেন তা গর্ভের সন্তানের বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে থাকে। গর্ভাবস্থার আড়াই সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভাবস্থার উপসর্গগুলো লক্ষ্য করা যায়। এ সময় গর্ভবতী মাকে বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণ করতে হয়। তাই নিচে ১ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা তুলে ধরা হলো।

  • দুধ ও দুগ্ধ জাত খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ফলিক এসিড, প্রোটিন, মিনারেল প্রভৃতি উপাদান সমূহ। গর্ভাবস্থায় ১ মাসে গর্ভবতী মাকে এ ধরনের উপাদান সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। এজন্য দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মা ও অনাগত সন্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
  • বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবারে রয়েছে ভিটামিন খনিজ প্রোটিন স্বাস্থ্যকর চর্বি ফ্লাভোনয়েড ও ডায়েটারি ফাইবার উপাদান। একজন গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় এই ধরনের খাবারগুলো রাখা অত্যন্ত জরুরী।
  • সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, আইরন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, খনিজ ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান। যা গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এজন্য গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাক-সবজি খেতে দিতে হবে।
  • গোটা শস্য জাতীয় খাবাররে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ডাইরেটরি ফাইবার, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। যা গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন গর্ভবতী মাকে নিয়মিত এই ধরনের খাবার গুলো দিতে হবে। যেমন-ওটসমিল, বাদামি চাল, যব ইত্যাদি গোটা শস্য জাতীয় খাবার।
  • গর্ভবতী মাকে ১ মাসের খাবারের তালিকায় অবশ্যই ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড জাতীয় খাবার শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদন্ড মজবুত করতে সাহায্য করে। যেমন-টক জাতীয় ফল, মটরশুঁটি, ডাল, চাল, মটর ইত্যাদি ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার।
  • ডিম ও মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা থ্রি, ক্যালসিয়াম, জিংক, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়োডিন সহ ইত্যাদি উপাদান সমূহ। যা গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডিম ও মাছ রাখতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরনের ফল রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ যা একজন গর্ভবতী মাকে সুস্থ সবল রাখতে সহায়তা করে। এজন্য প্রতিদিন নিয়মিত গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় যে কোন ধরনের ফল রাখতে হবে।

২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভাবস্থায় ২ মাসে গর্ভবতী মা যে খাবার গুলো খেয়ে থাকেন তা গর্ভে সন্তানের বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে থাকে। এ সময় গর্ভবতী মাকে বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণ করতে হয়। তাই নিচে ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা তুলে ধরা হলো।

  • ফাইবার জাতীয় খাবার সহজে হজম করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য এ সময় অবশ্যই একজন গর্ভবতী মাকে ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। যেমন- বাঁধাকপি, ব্রকলি, গাজর, কলা, কমলা ইত্যাদি ফাইবারযুক্ত খাবার খাবারের তালিকায় যুক্ত করতে হবে।
  • জিংক এসিড বিভাজন ও জৈবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। যেমন-মুরগি, মাছ, সবুজ শাকসবজি, মটরশুটি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। এই জিংক সমৃদ্ধ খাবার ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • গর্ভবতী মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে। এজন্য ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমূহ খাবার যোগ করতে হবে।
  • আয়রন জাতীয় খাবার শরীরের রক্ত তৈরি করতে সহায়তা করে। ২ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরে সাধারণত রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এজন্য অবশ্যই এ সময় আয়রন যুক্ত খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে যাতে রক্তস্বল্পতা না হয়।
  • এ সময় অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ধরনের ফলের রস ইত্যাদি।
  • ভিটামিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরনের তাজা শাকসবজি ও ফলমূল এ সময় বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
  • বাদাম, বীজ ও অ্যাভোকাডো মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।
  • এই সময়তেও দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • গোটা শস্য যেমন-ওটস, বাদামী চাল, কুইনোয়া ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার অনাগত সন্তানের নিউরাল টিউবের ত্রুটি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এজন্য এ সময় বেশি বেশি সবুজ শাকসবজি, ডিম, আখরোট, মসুর ডাল ইত্যাদি গর্ভবতী মাকে নিয়মিত খেতে দিতে হবে।
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরনের মাছ বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।

৩ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

৩ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় ফলিক এসিড আয়রন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা থ্রি, জিংক, প্রোটিন সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার রাখতে হবে। নিচে ৩ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা তুলে ধরা হলো।

  • গর্ভাবস্থায় প্রথম ১৩ সপ্তাহে ফলিক এসিড জাতীয় খাবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলিক এসিড যা পেটের সন্তানের ভ্রুনের ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। যেমন- আখরোট, পোস্ত বাদাম, ডিম, ছোলা, ব্রকলি, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া সিড, কমলালেবু ইত্যাদি।
  • গর্ভবতী মায়ের শরীরে এ সময় প্রচুর রক্তের ঘাটতি হয়ে থাকে। এজন্য প্রচুর পরিমাণে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। যেমন-কচুশাক, ডুমুর, কলার মোচা,কাঁচা কলা, পাকা কলা, খেজুর ইত্যাদি খাবারে প্রচুর আয়রন রয়েছে।
  • এ সময় অবশ্যই ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ থেকে গর্ভবতী মাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
  • গর্ভাবস্থায় শিশুর হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে শিশুর শারীরিক গঠন ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য অবশ্যই গর্ভবতী মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন-দুধ, দই, পনির, মাখন, ঘি, ব্রকলি, বাঁধাকপি, ঢেঁড়স, পালং শাক, তিল, ডিম, আমন্ড ইত্যাদি ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার।
  • এ সময় গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়ে থাকে এজন্য বেশি বেশি ফাইবার যুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে যেন কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা না হয়।
  • এ সময় গর্ভবতী মায়ের শরীরের শক্তি উৎপাদনের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। এতে করে মা ও গর্ভের শিশু দুজনেই সুস্থ সবল থাকবে। যেমন-ভাত, রুটি, আলু, কনফ্লেক্স, নুডুলস, ভুট্টা ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা।
  • গর্ভের শিশুর শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই প্রোটিনযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় যোগ করতে হবে। যেমন-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, মটর, মটরশুটি, সিম, বাদাম ইত্যাদি।,
  • কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী। গোটা শস্যদানাতে কার্বোহাইড্রেট উপাদান পাওয়া যায়।
  • এ সময় অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।

৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভাবস্থায় ৪ মাসে গর্ভবতী মা যে খাবার গুলো খেয়ে থাকেন তা গর্ভে সন্তানের বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে থাকে। এ সময় গর্ভবতী মাকে বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণ করতে হয়। তাই নিচে ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা তুলে ধরা হলো।

  • ফাইবার জাতীয় খাবার সহজে হজম করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য এ সময় অবশ্যই একজন গর্ভবতী মাকে ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। যেমন-বাঁধাকপি, ব্রকলি, গাজর, কলা, কমলা ইত্যাদি ফাইবারযুক্ত খাবার খাবারের তালিকায় যুক্ত করতে হবে।
  • জিংক এসিড বিভাজন ও জৈবিক ক্রিয়াকলাপের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। যেমন-মুরগি, মাছ, সবুজ শাক-সবজি, মটরশুটি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। এই জিংক সমৃদ্ধ খাবার ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • গর্ভবতী মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে থাকে। এজন্য ৪ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমূহ খাবার যোগ করতে হবে।
  • এ সময় আয়রন যুক্ত খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে যাতে রক্তস্বল্পতা না হয়।
  • এ সময় অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।
  • ভিটামিন সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরনের তাজা শাকসবজি ও ফলমূল এ সময় বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
  • বাদাম, বীজ ও অ্যাভোকাডো মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে।
  • এই সময়তেও দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • গোটা শস্য যেমন-ওটস, বাদামী চাল, কুইনোয়া ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
  • এ সময় ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরনের মাছ বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
  • এ সময়েও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।

৫ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

গর্ভাবস্থায় ৫ মাসে গর্ভবতী মা যে খাবার গুলো খেয়ে থাকেন তা গর্ভের সন্তানের বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে থাকে। এজন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় সে সকল খাবার গুলো সংযোজন করা উচিত। নিচে ৫ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা তুলে ধরা হলো।

  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আপনার সন্তানের শারীরিক বিকাশ সুনিশ্চিত করে তাই গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যেমন-বাদাম, ছোলা, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি
  • গোটা শস্য দানাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা আপনার গর্ভের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
  • এ সময় গর্ভবতী মাকে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে এতে করে সন্তানের শারীরিক গঠন মজবুত হবে এবং গর্ভবতী মা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে।
  • গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়ে থাকে এজন্য আশঁ বা ফাইবার যুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় বেশি বেশি করে রাখতে হবে।
  • এ সময় প্রচুর পরিমাণে টাটকা ফলমূল খেতে হবে এতে করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যেমন-পেয়ারা, বাতাবি লেবু, গাজর, আম, জাম, বেদানা, আপেল, কমলা, মলটা, আঙ্গুর ইত্যাদি ভিটামিন সি যুক্ত ফল বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
  • এ সময়টিতেও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।

    ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

    ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরের পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় গর্ভের সন্তানের শারীরিক বৃদ্ধি হতে থাকে। এজন্য এ সময়ে গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। নিচে ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা দেওয়া হল।

    • ৬ মাসের গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। এ সময় অনেক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতাও তৈরি হয়। যেমন- দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে ঘা ও ঠোঁটে ঘা ইত্যাদি হয়ে থাকে। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে এই ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
    • এ সময় গর্ভবতী মাকে ফসফরাস যুক্ত খাবার খেতে দিতে হবে। কারণ এই সময় শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে এবং এর ফলে শরীরে ঘাটতি হয়। এই ঘাটতিগুলো পূরণ করতে হলে ফসফরাস যুক্ত খাবার অবশ্যই বেশি বেশি খেতে দিতে হবে। যেমন-নাশপাতি, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলমূলে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস রয়েছে।
    • এ সময়টিতেও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।
    • নতুন কোষ উৎপাদন করতে ফলিক এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ের গর্ভে থাকা সন্তানের শরীরের কোষ বিভাজন ও টিস্যু তৈরীর জন্য ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত জরুরী। এজন্য এ সময় বেশি বেশি ফলিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার গর্ভবতী মাকে খাওয়াতে হবে।-যেমন তিল, সূর্যমুখীর বিচি, কুমড়ার বীজ ইত্যাদি।
    • ৬ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এ সময় গর্ভের শিশু বৃদ্ধি শুরু হয়, এজন্য মায়ের প্রচুর পরিমাণে শারীরিক শক্তির দরকার রয়েছে। যেমন- ভাত, রুটি, গম, আলু ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবার।
    • এই সময়তে গর্ভবতী মায়ের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের প্রয়োজন পড়ে। এজন্য সবুজ শাকসবজি সব সময় খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
    • এ সময় গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধির কারণে মায়ের শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা দূর করার জন্য অবশ্যই খাদ্য তালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

    ৭ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

    ৭ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরের পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় গর্ভের সন্তানের শারীরিক বৃদ্ধি হতে থাকে। এজন্য এ সময়ে গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। নিচে ৭ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা দেওয়া হল।

    • এ সময় থার্ড ট্রাইমিস্টারে রক্তস্বল্পতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বেশি বেশি আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন বাদাম, কলা, পালংশাক কচুশাক, মটরশুটি, মসুর ডাল ইত্যাদি খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
    • এ সময়টিতেও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।
    • এ সময় ভিটামিন ডি এর চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। যেমন-ডিম বা ডিমের কুসুম, গরু খাসির কলিজা, মাশরুম, কমলা, মালটা ইত্যাদি।
    • গর্ভের শিশুর হাড়কে মজবুত করার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। এ সময় ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে, এতে করে শিশু শারীরিক গঠন মজবুত হবে। যেমন-ব্রকলি, বাদাম, নেহারী, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ইত্যাদি।
    • এ সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য এ সময় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে, যেন গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
    • ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। এজন্য এ সময় বেশি বেশি ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
    • এর সময়ে বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরী। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন-মিষ্টি কুমড়া, গাজর, টমেটো, ব্রকলি, লাল শাক, আম, লেটুসপাতা, পাকা পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে।

    ৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

    ৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরের পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে। এ সময় গর্ভের সন্তানের শারীরিক বৃদ্ধি হতে থাকে। এজন্য এ সময়ে গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। নিচে ৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা দেওয়া হল।

    • এ সময়টিতেও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।
    • এর সময়ে বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরী। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন-মিষ্টি কুমড়া, গাজর, টমেটো, ব্রকলি, লাল শাক, আম, লেটুসপাতা, পাকা পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
    • এ সময়টিতেও ভিটামিন ডি এর চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। যেমন-ডিম বা ডিমের কুসুম, গরু খাসির কলিজা, মাশরুম, কমলা, মালটা ইত্যাদি।
    • এই সময়তেও দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার বিভিন্ন ধরনের খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
    • ৮ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এ সময় গর্ভের শিশু বৃদ্ধি শুরু হয়, এজন্য মায়ের প্রচুর পরিমাণে শারীরিক শক্তির দরকার রয়েছে। যেমন- ভাত, রুটি, গম, আলু ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবার।
    • ফাইবার জাতীয় খাবার সহজে হজম করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য এ সময় অবশ্যই একজন গর্ভবতী মাকে ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে।
    • ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড জাতীয় খাবার শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদন্ড মজবুত করতে সাহায্য করে। যেমন-টক জাতীয় ফল, মটরশুঁটি, ডাল, চাল, মটর ইত্যাদি ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার। এ খাবারগুলো গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখতে হবে।
    • এ সময়টিতেও ভিটামিন ডি এর চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। যেমন-ডিম বা ডিমের কুসুম, গরু খাসির কলিজা, মাশরুম, কমলা, মালটা ইত্যাদি।
    • এ সময়টিতেও বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরী। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন-মিষ্টি কুমড়া, গাজর, টমেটো, ব্রকলি, লাল শাক, আম, লেটুসপাতা, পাকা পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
    • গোটা শস্য জাতীয় খাবাররে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ডাইরেটরি ফাইবার, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। যা গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-ওটসমিল, বাদামি চাল, যব ইত্যাদি গোটা শস্য জাতীয় খাবার। একজন গর্ভবতী মাকে নিয়মিত এই ধরনের খাবার গুলো দিতে হবে।

    ৯ মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

    ৯ মাসের গর্ভবতী মায়ের শরীরে পুষ্টি চাহিদা অনেক বেশি হয়ে থাকে। এ সময়টি গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির শেষ স্তর। এজন্য এ সময়ে গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। নিচে ৯ মাসের গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা দেওয়া হল।

    • এ সময় বেশি বেশি আয়রনযুক্ত,খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন বাদাম, কলা, পালংশাক কচুশাক, মটরশুটি, মসুর ডাল ইত্যাদি খাবার বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
    • এ সময়টিতেও অবশ্যই বেশি বেশি পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। যেমন- স্যুপ, ডাবের পানি, আখের রস, স্যালাইন, বিভিন্ন ফলের রস ইত্যাদি।
    • এ সময় ভিটামিন ডি এর চাহিদা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মাকে বেশি বেশি  ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। যেমন-ডিম বা ডিমের কুসুম, গরু খাসির কলিজা, মাশরুম, কমলা, মালটা ইত্যাদি।
    • গর্ভে শিশুর হাড়কে মজবুত করার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। এ সময় ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে, এতে করে শিশু শারীরিক গঠন মজবুত হবে। যেমন- ব্রকলি, বাদাম, নেহারী, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ইত্যাদি।
    • এ সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য এ সময় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে হবে, যেন গর্ভবতী মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
    • ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার গর্ভের শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করে। এজন্য এ সময় বেশি বেশি ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
    • এর সময়ে বেশি বেশি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরী। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন- মিষ্টি কুমড়া, গাজর, টমেটো, ব্রকলি, লাল শাক, আম, লেটুসপাতা, পাকা পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
    • গোটা শস্য জাতীয় খাবাররে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ডাইরেটরি ফাইবার, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। যা গর্ভবতী মা ও তার গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-ওটসমিল, বাদামি চাল, যব ইত্যাদি গোটা শস্য জাতীয় খাবার। একজন গর্ভবতী মাকে নিয়মিত এই ধরনের খাবার গুলো দিতে হবে। 

    গর্ভবতী মায়ের কোন খাবার খাওয়া যাবে না

    গর্ভাবস্থায় যেমন অনেক ধরনের খাবার হয়েছে যেগুলো খাওয়া অতি জরুরী, তেমনি এর মধ্যে কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়া নিষেধ। গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়ের কোন খাবার খাওয়া যাবেনা তা আলোচনা করা হলো।

    • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ক্যাফিন জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা, যেমন- চা, কফি কম করে খেতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ক্যাফিন জাতীয় খাবার গর্ভপাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি করতে পারে।
    • আধা সিদ্ধ ডিম, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলোতে নানা ধরনের ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। এজন্য এসব খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিতে হবে।
    • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। কারণ চর্বি গর্ভের শিশুর নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
    • গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া একেবারেই নিষেধ। আনারসে সাথে থাকা উপাদান গর্ভপাতের কারণ হয়ে থাকে। এজন্য পুরো প্রেগনেন্সি অবস্থায় আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
    • প্রেগনেন্সির ১ মাস থেকে ৪ মাস পর্যন্ত কলিজা ও কাঁচা পেঁপে খাবেন না। এগুলোতে থাকো উপাদান গর্ভপাতে কারণ হয়ে থাকে। তবে কাঁচা পেঁপে রান্না করে খেতে পারবেন।
    • এ সময়ে যতটা সম্ভব বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরে খাবার হাইজেনিক নয় এ কারণে নানা ধরনের রোগ জীবাণু থেকে থাকে।
    • গর্ভাবস্থায় টক জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছা করলে অনেকেই তেঁতুল খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত তেতুল খাওয়া গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই অতিরিক্ত তেঁতুল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
    • যে খাবারগুলো আপনার গর্ভাবস্থায় সমস্যা তৈরি করে, সে খাবারগুলো না খাওয়াই ভালো।

    শেষ কথা

    উপরোক্ত আলোচনাগুলো থেকে আমরা সবাই এটা জানতে পারলাম যে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবারের তালিকা কি ধরনের হওয়া উচিত। আমরা আরো জানতে পারলাম যে এই সময় একজন গর্ভবতী মাকে কোন কোন খাবার দেওয়া যাবে আর কোন কোন খাবার দেওয়া যাবে না।

    পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তবে এই পোস্টটি শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো পোস্ট পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url