মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় তা জেনে নিন

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতামাসিক সকল মেয়েদেরই প্রাকৃতিক নিয়মে হয়ে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে সকল মেয়েদেরই প্রাকৃতিক নিয়মে মাসিক হয়ে থাকে। মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে আজকে আমরা বিস্তারিত জানবো। এছাড়া মাসিক হলে কি কি করা যাবে না সে বিষয়েও আমরা জানবো। তাই মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে যারা জানতে আগ্রহী তারা অবশ্যই আমার এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয়

আমি আশা করছি যে, আমার এই আর্টিকেলটি পড়লে অবশ্যই আপনারা মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে আসুন আর্টিকেলটি পড়া শুরু করা যাক।

পোস্ট সূচিপত্রঃমেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় তা জেনে নিন

ভূমিকা

প্রত্যেক মেয়েদেরই সাধারণত মাসে একবার মাসিক হয়ে থাকে। মাসিক নিয়মিত হলে ভালো কিন্তু অনিয়মিত হলে সেটি প্রভাব অনেক খারাপ হতে পারে। মাসিক হলে মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হতে পারে। আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে মাসিকের আগে লক্ষণ, মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয়, মাসি হলে কি কি করা যাবে না, পিরিয়ড হলে কি খাওয়া উচিত না এবং পিরিয়ড হলে কি খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

মাসিকের আগে লক্ষণ

মাসিক শুরু হওয়ার আগে মহিলাদের শারীরিক যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয় তাকে প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম বলে। পিরিয়ডের সময় অধিকাংশ মেয়েরাই একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন।সাধারণত প্রতিটি নারীর বা মেয়ের প্রতি ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর মাসিক হয়ে থাকে। এ মাসিক সাইকেল সর্বনিম্ন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। যা নিয়মিত ঋতুচক্র বলা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম

কমবেশি প্রায় সকল মহিলাদের ক্ষেত্রেই মাসিক হওয়ার কিছু পূর্ব লক্ষণ রয়েছে। কারো ক্ষেত্রে কম আবার কারো ক্ষেত্রে অনেক বেশি লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়। নিচে মাসিকের আগে লক্ষণ গুলো আলোচনা করা হলো।

পেট ব্যথাঃ মাসিক শুরু হওয়ার আগে কারো কারো ক্ষেত্রে পেট ব্যথা লক্ষ্য করা যায়। মাসিক হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকে পেটের মধ্যে চিনচিন করে বা কামড়াতে থাকে। ধীরে ধীরে পেট ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। অনেকে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক হওয়ার পূর্বাভাস হল পেট ব্যথা।

পিম্পলসঃ অনেক নারীদের ক্ষেত্রেই মাসিকের আগে পিম্পলস হয়ে থাকে। জরায়ুর মুখে গোটার মত হয়। শরীরে যখন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় তখন এই সমস্যাটি হয়। আবার যখন এ দুই হরমোনের ভারসাম্য হয়ে যায়, তখন সে গোটার মত ব্রণটি নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়।

স্তনের পরিবর্তনঃ মাসিক শুরু হওয়ার আগে সাধারণত স্তনের কিছুটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগ থেকে স্তন কিছুটা ব্যথা হতে শুরু করে। এ সময় স্তন কিছুটা শক্ত হতে শুরু করে। যার ফলে স্তনে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আবার মাসিক শুরু হয়ে গেলে স্তনের ব্যথা আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়।

খিদে বেড়ে যায়ঃ মাসিকের ঠিক আগে মেয়েদের শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যায়। যার ফলে শরীর গুড হরমোন কম পরিমাণে তৈরি হয় এবং খিদে পেলেও মস্তিষ্কে তার সঠিক সংকেত যায় না। এই সময় মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত লোভ থাকে। মাসিক শুরু হওয়ার আগ থেকে মেয়েদের খিদে পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যায়। এটিও একটি মাসিক শুরু হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়াঃ অনেক নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া পরিলক্ষিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক হওয়ার আগ দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া শুরু হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হতে পারে। মাসিক শুরু হওয়ার সাথে সাথে এর সমস্যাগুলোও ভালো হয়ে যেতে থাকে।

মাথা ব্যথা ও ক্লান্তিঃ মাথা ব্যথা ও ক্লান্তি মাসিক শুরু হওয়ার আরও দুটি কারণ হয়ে থাকে। অনেক নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক শুরু হওয়ার আগে মাথায় চিন চিন ব্যাথা ও অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। কোন কাজ করতে গেলে অল্পতেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

শরীরে ব্যথাঃ মাসিক শুরু হওয়ার আগ দিয়ে অনেক নারীদের ক্ষেত্রে শরীরের জয়েন্ট ও পেশীতে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। তবে মাসিক শুরু হয়ে গেলে ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে শুরু করে।

মানসিক পরিবর্তনঃ এ সময় কিছুটা মানসিক পরিবর্তন ঘটে। মাসিক হওয়ার আগ দিয়ে এবং মাসিক থাকা পর্যন্ত সকল নারীরই মন মেজাজ অধিকাংশ সময়ই খারাপ থাকে। একটুতেই রাগ, অভিমান, মেজাজ খারাপ, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের সমস্যা, টেনশন ইত্যাদি সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।

গ্যাস্টিকের সমস্যাঃ মাসিক শুরু হওয়ার আগ দিয়ে অনেকেরই গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দেয়। কোন কিছু খেলে হজম করতে সমস্যা হয়। যার ফলে প্রচন্ড গ্যাসের সৃষ্টি হয় এবং প্রচন্ড পেট ব্যথা শুরু হয়।

মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয়

সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার আগে ও মাসিক হওয়ার পরে যে সমস্যা গুলো হয় তা প্রায় একই রকমই হয়ে থাকে। তবে মাসিক শুরু হওয়ার পর সমস্যাগুলো আরো বেশি বৃদ্ধি পায়। নিচে মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

  • অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক হলে প্রচন্ড পেট ব্যথা করে। মাসিকের পেট ব্যথা হলে সহজে ভালো হতে চায় না।
  • মাসিক হলে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোন কাজ করতে শক্তি পাওয়া যায় না।
  • অনেকের ক্ষেত্রে মাসিক হলে মাথা ঘুরে ও বমি ভাব হয়।
  • অনেক সময় মাসিক হলে মেয়েদের যোনিপথে চুলকানি হয়ে থাকে। যা খুবই কষ্টদায়ক ও বিরক্ত করবিষয়ে পরিণত হয়।
  • এ সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ঘুমের সমস্যা হয়, সামান্য কারণে টেনশন বৃদ্ধি পায়।
  • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, শরীরে প্রচন্ড ব্যথা হয়, হাত পায়ের রগগুলো প্রচন্ড টেনে ধরে।
  • মাসিক শুরু হওয়ার পরে স্তন প্রচন্ড ব্যথা করে ও গোটার মত মনে হয়।
  • এ সময় খাওয়া-দাওয়া করতে একদমই ভালো লাগেনা এবং খাওয়ার প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
  • মাসিক হলে কোন ধরনের কাজ-কর্ম করতে ভালো লাগেনা ও শরীরের মধ্যে অলসতা চলে আসে।
  • মাসিক হলে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে থাকে আবার অনেকের ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিয়ে থাকে।
  • অনেক মেয়েদের মাসিক হলে নিয়মিত খাবার না খাওয়ার কারণে পেট ফেপে গিয়ে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়।

মাসিক হলে কি কি করা যাবে না

মাসিক চলাকালীন সময়ে সকল নারীরাই কমবেশি নানান সমস্যার সম্মুখীন হন। এ সময় নারীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। পিরিয়ড নারীদের জন্য একটি জটিল সময়। এই সময় একটু সতর্কের সাথে চলা উচিত। এতে করে তৈরি সমস্যাগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব। এ সময়ে কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। মাসিকের সময় কি কি করা যাবে না আসুন জেনে নেই।

  • মাসিক চলাকালী সময়ে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এ সময় সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরী এবং কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।
  • এ সময় অনেকের পেটে প্রচন্ড ব্যথা হয় এ কারণে অনেকে উপুর হয়ে শুয়ে থাকেন। যা একেবারে ভুল কাজ। উপুর হয়ে শুয়ে থাকলে হার্ট রেটে তারতম্য হয়, রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং অক্সিজেন ঠিকমতো শরীরের সরবরাহ হতে পারে না, যার ফলে মাথা ঝিমঝিম বা ব্যথা করতে পারে।মাসিকের সময় কোন ভারী জিনিস তোলা ও ভারী কাজ করা নিষেধ। এতে করে পেটে চাপ পড়ে অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে। যার ফলে প্রচন্ড পেট ব্যথা শুরু হতে পারে।
  • মাসিকের সময় ভালো স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করুন। কোন কাপড়, তুলা বা টিস্যু ব্যবহার করবেন না। আর যদি কাপড় ব্যবহার করেন তাহলে সেটিকে প্রতিবার ভালো করে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নিন।
  • এই সময় কোন ধরনের ব্যায়াম, সাঁতার বা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকুন।
  • মাসিক চলাকালীন অবস্থায় যৌনমিলন থেকে বিরত থাকুন। এতে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় কোন ধরনের ডায়েটিং করবেন না। এ অবস্থায় ডায়েটিং করলে শরীর আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
  • মাসিক চলাকালীন অবস্থায় যৌনিপথের আশেপাশে সুগন্ধি সাবান, বডি ওয়াশ বা অ্যালকোহল যুক্ত পণ্য ব্যবহার করবেন না।
  • এ সময় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হয়, যার ফলে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। এতে করে অতিরিক্ত রাগ ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। তাই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।
  • মাসিক চলাকালীন সময়ে রাত জাগলে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। এতে আরো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
  • পিরিয়ডের বা মাসিকের সময় এক ন্যাপকিন বা কাপড় দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না। যারা ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, তারা অন্তত ছয় ঘন্টা পর পর সেটি পরিবর্তন করবেন। এটি না করলে ভবিষ্যতে আপনার অনেক ক্ষতি হতে পারে।
  • মাসিক চলাকালীন সময় নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করবেন। এতে করে নানা অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
  • এ সময় অনেকেরই বদ অভ্যাস আছে, প্যাড পাল্টানোর ভয়ে প্রস্রাব পেলে আটকে রাখা। এভাবে প্রস্রাব কখনোই আটকে রাখা উচিত নয় এতে করে কিডনির উপর ভয়াবহ রকমের চাপ পড়ে।
  • পিরিয়ডের সময় রাগ, জেদ, বিরক্তি তুলনামূলক অনেক বেড়ে যায়। এ সময় রেগে গিয়ে কখনোই চিৎকার চেঁচামি করা উচিত নয়। এটি করলে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

পিরিয়ড হলে কি খাওয়া উচিত

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। পিরিয়ডের সময় নিম্নলিখিত খাবার গুলো অবশ্যই খেতে হবে।

  • পিরিয়ডের সময় অবশ্যই বেশি বেশি পানি পান করবেন। এতে করে শরীরের পানি শূন্যতা দূর হবে এবং শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। মাসিকের সময় বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়া উচিত।
  • মাসিকের সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়ে থাকে। এসময় গুলোতে পানি, আয়রন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া উচিত। যেমন- তরমুজ, শসা, আপেল, কলা, খেজুর, পেয়ারা, আমড়া, আমলকি, কমলা, লেবু, পাকা তেতুল ইত্যাদি ফলমূল খাওয়া উচিত।
  • পিরিয়ডের সময় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। কারণ ফাইবা জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা ও হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। সবুজ শাকসবজিতে ফাইবার, আইরন ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, এজন্য এ সময় বেশি বেশি করে শাকসবজি খেতে হবে।
  • মাসিক বা পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে সব নারীরাই কম বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। এ সময় শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এটি একটি জটিল সময় যার কারণে পেটে প্রচন্ড ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রাগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া, খাবারে অনীহা আসা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

পিরিয়ড হলে কি খাওয়া উচিত না

পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পিরিয়ডের সময় নিম্নলিখিত খাবার গুলো এড়িয়ে চলুন।

  • মাসিক বা পিরিয়ড হলে অধিক পরিমাণের ক্যাফেইন যুক্ত কোন খাবার খাওয়া উচিত না। কফিতে অনেক বেশি কেফেন থাকে। মাসিকের সময় বেশি কফি পান করলে ডিহাইড্রেশনও হতে পারে। এতে করে মাসিক আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে ব্যথা, খিচুনি, অস্বস্তিবোধ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে পারে।
  • কোন ধরনের জাঙ্ক ফুড বা ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়া এ সময় শরীরের জন্য ভালো নয়। এ সময় জাঙ্ক ফুড বা ফ্যাট যুক্ত খাবার খেলে তা শরীরের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এজন্য মাসিকের সময় এসব ধরনের খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।
  • এ সময় সব ধরনের অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকুন। মাসিকের সময় অ্যালকোহল খাওয়া মোটেও উচিত নয় এতে করে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। এটি পিরিয়ড অনিয়মিত ও শরীলের ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • পিরিয়ডের সময় দুগ্ধ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি সকল খাবার সহজে হজম হয় না। মাসিকের সময় দুধ জাতীয় খাবার গুলো ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।
  • ফাস্টফুড ভাজাভুজি খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে। এই খাবারগুলো পেট ফাঁপা, ডিহাইড্রেশন, অলসতা ইত্যাদি বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্য মাসিক হলে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • এ সময় সকল ধরনের রেডিমেড খাবার এড়িয়ে চলুন। মাসিকের সময় বাইরের খাবার না খাওয়াই উত্তম। বাইরের খাবারগুলো হাইজিনিক নয়, তাই বাহিরের খাবার খেলে পিরিয়ডের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
  • পিরিয়ডের সময় অতিরিক্ত তেল ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণে এ ধরনের খাবার গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এতে করে পেট ফেঁপে গিয়ে পেটে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।

শেষ কথা

উপরে আলোচনা থেকে আমরা মেয়েদের মাসিক হলে কি কি সমস্যা হয় সে সম্পর্কে জানতে পারলাম। মাসিক হওয়ার পর অতিরিক্ত সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসা নিবেন। এতে করে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হাত থেকে বেঁচে যাবেন।

পরিশেষে এটাই বলতে চাই যে আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করুন এবং সাথেই থাকুন। ধৈর্য সহকারে পোস্টটি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url