চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতাপ্রিয় পাঠক, আপনারা অনেকেই হয়তো চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন বর্তমান সময়ে চিয়া সিড একটি অতি জনপ্রিয় হারবাল বা প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে বেশ পরিচিতি অর্জন করেছে। চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

তাই আপনারা যারা চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তারা আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা রাখছি যে, আমার এই পোস্টটি পড়লে আপনারা চিয়া সিড সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃচিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

ভূমিকা

বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন হয়ে থাকি। তাই আমরা আমাদের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার জন্য নানা ধরনের খাবার গ্রহণ করে থাকি। চিয়া সিড এমন একটি খাবার যা আমাদের শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এ জন্য আজকে আমি আমার এই আর্টিকেলের মধ্যে চিয়া সিড কি, চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ, চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক নিয়ম, বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, চিয়া সিড এর উপকারিতা ও চিয়া সিডের অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর। তাই আপনারা আমার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এতে করে আপনারা চিয়া সিড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে আসুন আর্টিকেলটি পড়া শুরু করা যাক।

চিয়া সিড কি

চিয়া হচ্ছে এক ধরনের সালভিয়া হিসপানিকা নামক মিন্ট প্রজাতির উদ্ভিদের বীজ। চিয়া বীজ বা চিয়া সিড সাধারণত মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে অধিক পরিমাণে জন্মায়। প্রাচীন মায়া ও অ্যাজটেক জাতির মানুষরা চিয়া সিডকে সোনার থেকেও মূল্যবান মনে করত। তারা বিশ্বাস করতো যে এটা তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি ও সাহস যোগাবে। প্রাচীনকাল থেকেই চিয়া সিড মানুষের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দূর করে আসছে। বলা যায় এটি একটি ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ খাদ্য যা আদিকাল থেকেই নানা ধরনের রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুনঃ ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

চিয়া সিড সব ধরনের আবহাওয়াতেই হয়ে থাকে এবং এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ খুব একটা হয় না। এগুলো দেখতে অনেকটা তোকমা দানার মত দেখা যায়। চিয়া সিড সাদা ও কালো রঙের হয় এবং দেখতে অনেকটা তিলের মতো সাইজ হয়ে থাকে।

চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ

চিয়া সিডকে বলা হয় সুপার ফুড কারণ এতে রয়েছে সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান। যা একজন মানুষকে ভালো রাখতে ও সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে রয়েছে-

  • ক্যালোরি- ৪৮৬ কিলোক্যালরি
  • কার্বোহাইড্রেট- ৪২.১ গ্রাম
  • ফাইবার- ৩৪.৪ গ্রাম
  • প্রোটিন- ১৬.৫ গ্রাম
  • তামা- ১ মিলিগ্রাম
  • পানি- ৬%
  • চিনি- ০%
  • ফ্যাট- ৩০.৭ গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম- ৬৩১ মিলিগ্রাম
  • আয়রন- ৭.৭ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস- ৪৮০ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম- ৪০৭ মিলিগ্রাম
  • জিংক- ৪.৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি১(থায়ামিন)- ০.৬২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৩(নিয়াসিন)- ৮.৮ মিলিগ্রাম

এছাড়া চিয়া সিডে আরো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট, কোয়েরসেটিন, ক্লোরোএসিড, কেম্পফেরল, দ্রবণীয় ও দ্রবনীয় খাদ্য আঁশ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ইত্যাদি পুষ্টিগুণ উপাদান।

  • চিয়া সিডে রয়েছে দুধের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম
  • কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি,
  • মুরগির ডিমের থেকে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন,
  • পালংশাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন,
  • মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩,
  • কলার চেয়ে ২ গুণ পটাশিয়াম

চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক নিয়ম

চিয়া সিড স্বাদ ও গন্ধহীন একটি খাবার। চিয়া সিড খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে বা বেশ কিছু নিয়মে খাওয়া যায়। যেভাবে খাওয়া হোক না কেন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিয়া সিড ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে তারপর খেতে হবে। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য খালি পেটে সকালে ও রাত্রে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস পানির মধ্যে ২ চা চামচ চিয়া সিড ও ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া সালাদ, ঘরে তৈরি জ্যাম, এনার্জি বল, ওটস মিল, কাস্টার্ড, পুডিং, ফালুদা, কেক, ইত্যাদি খাবারের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে এই খাবারগুলো তৈরি করা যেতে পারে।

বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিড বাচ্চাদের খাওয়ানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ এটি বাচ্চাদের গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাচ্চাদের সরাসরি চিয়া সিড খেতে না দিয়ে খাবারের সাথে অল্প পরিমাণে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। বাচ্চাদের সুজি, সাগু, ওটস মিল ইত্যাদি খাবারের সাথে আধা চা চামচ থেকে এক চা চামচ পর্যন্ত চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। এছাড়া চিয়া সিড গুঁড়ো করে তরল খাবার ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের সাথে মিশিয়ে বাচ্চাকে দিতে পারেন। তবে ১ বছর বয়সের কম বয়সী বাচ্চাদের না খাওয়ানো ভালো।

যেসব বাচ্চাদের বয়স ১ থেকে ১০ বছর তাদেরকে সর্বোচ্চ ১ চা চামচ পরিমাণ চিয়া সিড খাওয়ানো উচিত। চিয়া সিড সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত, তাই এই খাবারটি ছোট বয়স থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য অনেক উপকারী।

চিয়া সিডের উপকারিতা

চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন উপাদান যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে রয়েছে নানা ধরনের ওষুধি গুনাগুন যা আমাদের শরীরের নানা রূপ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে। নিচে চিয়া সিডের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বৃদ্ধি হতে দেয় না।
  • চিয়া সিড ওজন কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী করে তোলে।
  • গর্ভাবস্থায় চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। এই গর্ভকালীন নানা জটিলতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার-অ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার দূর করতে সাহায্য করে।
  • এটি রক্তে ব্লাড সুগার স্বাভাবিক রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।
  • চিয়া সিডে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের ক্ষয় রোধ করে হাড়কে মজবুত করতে সহায়তা করে।
  • এটি শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয় এবং প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে।
  • চিয়া সিড ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
  • এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করে থাকে।
  • এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং পেটের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে থাকে।
  • চিয়া সিড বাতের ব্যথা, হাঁটুর ও জয়েন্টের ব্যথা সহ নানা ধরনের ব্যথা-বেদনা দূর করে।
  • এতে থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের ত্বক, চুল, নখ ইত্যাদি সুন্দর রাখতে সহায়তা করে।
  • এটি শিশুদের মেধা বিকাশ করে থাকে।
  • চিয়া সিড আমাদের দেহের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে থাকে।
  • এটি আমাদের শরীরের ফ্যাটি এসিডের অভাব দূর করে।
  • আমাদের দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।

চিয়া সিডের অপকারিতা

চিয়া সিডের যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে তেমনি এর কিছু অপকারের দিকও রয়েছে। নিচে
চিয়া সিডের অপকারিতা দিকগুলো তুলে ধরা হলো।

  • এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, তাই অধিক পরিমাণে চিয়া সিড গ্রহণ করলে ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • অধিক পরিমাণে চিয়া সিড খেলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত চিয়া সিড গ্রহণ করলে রক্তচাপ বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অধিক পরিমাণে চিয়া সিড খেলে ফুসকুড়ি, এলার্জি ও চুলকানি মতো চর্ম সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় আমাদের দেহের শর্করার পরিমাণ কমিয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
  • অনেক ক্ষেত্রে চিয়া সিড খাওয়ার সময় গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে তারপর খেতে হবে।

শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সহ আরো নানা ধরনের বিষয় জানতে পারলাম। চিয়া সিডের অপকারের চাইতে এর উপকারিতাই বেশি। এতে থাকা পুষ্টিগুণ উপাদান এই খাবারটিকে সুপারফুড হিসেবে সুপরিচিত করেছে।

পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, আমার এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো আর্টিকেল পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url