মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় সমূহ জেনে রাখুন

চর্মরোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়প্রিয় পাঠক, আপনারা সকলেই নিশ্চয়ই মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। কেননা আমাদের সকলেই কম-বেশি মুখে কালো দাগ দেখা দিয়ে থাকে। আমরা সকলেই নিজের ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা রাখতে চাই। কেননা দাগবিহীন ফর্সা ও উজ্জ্বল ত্বক আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যকে অনেক গুনে বৃদ্ধি করে দেয়। বিশেষ করে মেয়েরা মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়গুলো সম্পর্কে জানতে বেশি আগ্রহী হন। তাই আজকে আমি আমার এই পোস্টে মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় এবং মুখের কালো দাগ দূর করার ক্রিম সম্পর্কে আলোচনা করব।

মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

তাই আপনারা যারা মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় ও ত্বক ফর্সা করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তারা আমার এই পোস্টটি অতি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, এই পোস্টটি পড়লে আপনাদের মুখের ত্বকের সমস্যাগুলো দূর করে ত্বকের ফর্সা ও উজ্জ্বল ভাব ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃমুখের কালো দাগ দূর করার উপায় সমূহ জেনে রাখুন

    ভূমিকা

    ত্বক আমাদের অমূল্য সম্পদ, তাই ত্বকের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্বের ভিতরে পড়ে। ত্বক ভালো থাকলে আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নানা কারণে আমাদের ত্বক কালো হয়ে যায়, কালো দাগ তৈরি হয়, ব্রণের সৃষ্টি হয়। ত্বকের এই সমস্যাগুলো দূর করার উপায় এবং ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় গুলো জানা অতি জরুরী। উপায়গুলো জানা থাকলে আমরা খুব সহজেই মুখের ও শরীরের ত্বকের কালো ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আনতে পারব। আসুন আমরা মুখে কালো দাগ দূর করারউপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

    মুখ কালো হয়ে যাওয়ার কারন 

    আমাদের ত্বকে অনেক সময় অনেক ধরনের কালো দাগ তৈরি হয়। অনেকের আবার গায়ের ও মুখের রং কালো হয়ে যায়। আমরা অনেকেই জানিনা আমাদের ত্বক কালো হওয়ার কারণ কি। তাই আসুন আমরা জেনে নেই ত্বক কালো হওয়ার কারণগুলো আসলে কিকি।

    হাইপার পিগমেন্টেশনঃ আমাদের সকলের ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ থাকে। যেখান থেকে মেলানিন নামে রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক ত্বকের রং তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। এই কোষের কার্যকলাপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে গায়ের চামড়ার রং তৈরিতে সমস্যা দেখা দেয়। এই মেলানোসাইট সক্রিয়তা বাড়লে মেলানিনের নিঃসরণও বেড়ে যায়, যার ফলে আমাদের শরীরের চামড়া কালো হয়ে যায়।

    ভিটামিনের অভাবঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ত্বক সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-বি কমপ্লেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি শরীরে এ সকল ভিটামিনের অভাব থাকে তাহলে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

    চামড়ার সমস্যা থাকলেঃ অনেক সময় চর্মরোগের সমস্যা থাকলেও শরীরের পুরো ত্বক পুড়ে গিয়ে কালো হয়ে যায়। এছাড়া লিচেন সিমপ্লেক্স স্কি ক্রনিকাসের মতো সমস্যা থাকলে ত্বক মোটা হয়ে যায়। এতে করে ত্বকে জ্বালা-যন্ত্রণা হতে থাকে এবং ত্বক কালো হয়ে যায়।

    হরমনের পরিবর্তনঃ আমাদের শরীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে হরমোনের পরিবর্তন হয়ে থাকে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে আমাদের শরীরের রং পরিবর্তিত হয়। যখন আমাদের শরীরে হরমোন ক্ষিরিত হয় ঠিক তখনই আমাদের শরীর রং কালো হয়ে যায়।

    আরও পড়ুনঃ মেছতা দূর করার উপায়

    জিনগত কারণেঃ সাধারণত জিনগত কারণে আমাদের শরীরের চামড়ার রং কেমন হবে তা নির্ভর করে থাকে। বেশিরভাগ সময়ই বাবা-মায়ের গায়ের রঙের উপর সন্তানের গায়ের রং নির্ভর করে। এটিকে জিনগত কারণ বা বংশগত কারণ বলা হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমাও হয়ে থাকে।

    মেছতার কারণেঃ অনেক সময় ত্বকে মেছতার মতো সমস্যা থাকলে মুখের ও গায়ের রং কালো দেখায়। মেছতার কারণে অনেক সময় শরীর ও মুখের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ হয়ে যায়। এ সমস্যার কারণেও আমাদের ত্বক কালো হয়ে যায়।

    শারীরিক সমস্যা থাকলেঃ আমাদের যদি কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে অনেক সময় আমাদের ত্বকের রং কালো হয়ে যেতে পারে। যেমন- লিভারের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, এলার্জি সমস্যা, রক্তের সমস্যা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মুখ ও গায়ের রং কালো হয়ে যায়।

    সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মিঃ আমাদের ত্বক কালো হওয়ার পিছনে সূর্যের ক্ষতিকর আলোকরশ্মি অনেকাংশে দায়ী। সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি-রেয়াসের সংস্পর্শে আসলে ত্বকে মেলানিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যার ফলে ত্বকে কালসে ভাব চলে আসে। সূর্যের এই ক্ষতিকর রশ্মি আমাদের ত্বকের সুস্থতা কেড়ে নেয় এবং ত্বকে ম্লান ও কালো করে ফেলে।

    মানসিক চাপঃ বেশি মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে ও ঘুম ঠিকমতো না হলে চোখের নিচে কালো রেখা তৈরি হয়। এছাড়া মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চোখের নিচে কালি পড়ে। এর ফলে মুখের চামড়া কালো হয়ে মুখের ত্বক খারাপ হয়ে যায়।

    মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

    মুখের কালো দাগ দূর করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে, যে উপায়গুলো প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা মুখের কালো তা খুব সহজে দূর করে ফেলতে পারব। নিচে মুখে কালো দাগ দূর করার করার উপায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

    গুঁড়া দুধ ও লেবুর রসের ফেইস প্যাকঃ ১ চা চামচ গুঁড়ো দুধ, ২ চা চামচ লেবুর রস এবং ১/২ চা চামচ মধু এই ৩ টি জিনিস একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এই পেস্ট পুরো মুখে মেখে ১০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট পর মুখে সামান্য পানি ভরিয়ে মুখ ভালোভাবে মেসেজ করতে হবে। কিছুক্ষণ মেসেজ করার পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে দেখবেন আপনার মুখে উজ্জ্বলতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে সপ্তাহ ১-২ বার এই পেস্টটি লাগাতে পারেন।

    পেঁপে ও ডিমের প্যাকঃ ২ চা চামচ পেঁপের রস, ১ চা চামচ টক দই, ৩ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, ২ চামচ আমন্ডঅয়েল, সামান্য গ্লিসারিন ও একটি ডিমের সাদা অংশ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মতো রেখে দিন। ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে হালকা ঘষে কিছুক্ষণ মেসেজ করুন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। পেঁপে আর ডিমের এই প্যাকটি ত্বকের কালো আবরণ দূর করে ত্বকের উজ্জলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে।

    টক দই ও ওটমিলের প্যাকঃ ৩ চা চামচ ওটমিল ভালো করে ভিজিয়ে তার সাথে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এই মাস্কটি পুরো মুখে, গলায়, হাতে ও পায়ে লাগাতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

    চন্দন গুড়াঃ মুখের ত্বকের যে কোন দাগ দূর করতে চন্দন গুড়া খুব ভালো কাজ করে। সমপরিমাণ চন্দন গুড়া, লেবুর রস, তরল দুধ এবং সামান্য হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি লাগিয়ে নরম করে সার্কুলার মোশনে মেসেজ করুন। কিছুক্ষণ মেসেজ করার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন এই পেস্টটি ব্যবহার করতে পারবেন যতদিন পর্যন্ত না মুখে কালো দাগ দূর হচ্ছে।

    অ্যালোভেরা জেলঃ এলোভেরা জেল ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে অন্যতম। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে সামান্য বাদাম গুঁড়া মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। তারপর এই পেস্টটি আপনার পুরো মুখে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিটের জন্য। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।বেসন ও লেবুর রসের প্যাকঃ ৩ চা চামচ বেসন, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ হলুদের গুঁড়া ও সামান্য পরিমাণ গোলাপজল দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর এই প্যাকটি আপনার মুখে ও শরীরের অন্যান্য অংশে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে মেসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ১-২ বার এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

    হলুদ ও টমেটো ফেসপ্যাকঃ ১ চা চামচ টমেটো রসের সাথে সামান্য পরিমাণ হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেজটি আপনার মুখে লাগিয়ে রাখুন এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ-টমেটোর এই প্যাকটি আপনার মুখের কালো দাগ দূর করে ত্বক ফর্সা করতে সাহায্য করবে।

    পেঁয়াজের রসঃ পেঁয়াজ শুধু খাওয়ার কাজে লাগে না মুখের কালো দাগ দূর করার কাজেও পেঁয়াজের ভূমিকা রয়েছে। কিছুটা পরিমাণ পেঁয়াজ রস করে তার সাথে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে তা তুলার সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে ১০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করে লাগাতে পারেন।

    দুধ ও কলার প্যাকঃ একটা মাঝারি সাইজের কলাকে ভালো করে চটকিয়ে তার সাথে সামান্য পরিমাণে দুধ মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি আপনি আপনার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লাগাতে পারেন। এই প্যাকটি আপনার ত্বককে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল করে দিবে।

    পুদিনা পাতার প্যাকঃ পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যাসট্রিজেন্ট উপাদান যা ত্বকের পুষ্টি যুগে ত্বকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। কয়েকটি পুদিনা পাতা পেস্ট করে পুরো মুখমণ্ডলে ১৫ মিনিটের মত রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং ত্বকের লাবণ্যতা বজায় থাকবে।

    মধু ও লেবুর রসের প্যাকঃ ২ চা চামচ মধু ও ১ চা চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাকটি মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ২০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ও শরীর ভালো হবে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করতে পারবেন।

    খাবার সোডা ও পানিঃ পরিমাণ মতো খাবার সোডা ও তার সাথে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর পেস্টটি মুখে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মত রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন এতে করে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কমলার খোসাঃ কমলার খোসা ত্বকের কালচে ভাব দূর করে এবং ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কমলার খোসা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এরপর ৪ টেবিল চামচ কমলা খোসার গুড়ার সাথে দুধ বা মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর এই পেজটি আপনার মুখ, গলা ও হাত-পায়ে ২০ মিনিটের মত লাগিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে দেখবেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

    মুলতানি মাটিঃ মুলতানি মাটি ত্বকের কোষ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের এক্সট্রা অয়েল শুষে নিয়ে ত্বককে দাগ মুক্ত ও উজ্জ্বল করে। মুলতানি মাটির সাথে সামান্য পরিমাণ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে তা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

    আলুর ফেইস প্যাকঃ আলুর রস ত্বকের রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করে ত্বককে ফর্সা করতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ আলুর রসের সাথে প্রয়োজন মত লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি আপনার মুখ, গলা ও হাত-পায়ে ১৫ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

    খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনঃ অনেকের খাদ্যাভ্যাসের কারণে মুখে কালো দাগ হয়ে থাকে। এজন্য অবশ্যই তাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে হবে। যে সকল খাদ্য খেলে ত্বকের সমস্যা হয় সে সকল খাদ্যকে বর্জন করতে হবে।

    নিয়মিত ঘুমঃ আপনার যদি নিয়মিত ঘুম না হয় ও ঘুমের সমস্যা থাকে তাহলে আপনার মুখে কালো দাগের আবির্ভাব ঘটতে পারে। ঘুম না হওয়ার কারণে অনেকের মেছতা হয় যা সহজে ভালো হতে চায় না। যাদের এ সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত ও পরিমাণমতো ঘুমানো।

    মুখের কালো দাগ দূর করার ক্রিম

    মুখের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলোর পাশাপাশি অনেক ধরনের ক্রিমও রয়েছে, যা আমাদের মুখের ত্বকের কালো ভাব দূর করে ত্বককে ফর্সা করতে সাহায্য করে। বাজারে ত্বক ফর্সা করার নানা ধরনের ক্রিম পাওয়া যায়। ত্বক ফর্সা করার মানসম্মত কিছু ক্রিমের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো। যেমন-

    • Wow Fairness Cream
    • Himalaya Herbal Clean Complexion
    • OLAY Natural White Cream
    • O3+ Whitening Cream
    • Plum E Luminence Deep Moisturizing
    • Bella Vita Papayablem Anti Blemish
    • Lakme Absolute Perfect Residence
    • Lotus Herbals Nutranite Night Cream
    • Himalaya Revitalizing Night White
    • Loreal Paris White Perfect White
    • Ponds Gold Radiance Youthful Night Repair Cream
    • OLAY White Radiance
    • Garnier Light Complete Cream
    • StBotanica Pure Radiance Anti Aging & Brightening Cream

    যে খাবার খেলে ত্বকের রং ফর্সা হয়

    কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে ত্বকের রং ফর্সা হয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এ সকল খাবার যদি আমরা আমাদের খাবারের তালিকায় রাখি এবং নিয়মিত যদি আমরা তা খাই তাহলে আমাদের ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কি খেলে ত্বকের রং ফর্সা হয় সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

    গাজরঃ গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং আমাদের স্কিনকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। যা ত্বকের টিস্যু মেরামত করে এবং ক্ষতিকর রশি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য নিয়মিত গাজর খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

    পেঁপেঃ পেঁপে ত্বকের লাবণ্যতা বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পেঁপেতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। পেঁপে খেলে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ হয় না যার কারণে ত্বক তার লাবণ্যতা ধরে রাখতে পারে।

    টমেটোঃ টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ভিটামিন-সি যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের বিভিন্ন দাগ, বুলিরেখা এবং শুষ্কতা দূর করে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে।

    কলাঃ কলা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। কলাতে থাকা বিভিন্ন উপাদান আমাদের শরীরের পুষ্টি যুগিয়ে, ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি করে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া।

    শসাঃ শসাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে ইত্যাদি উপাদান। শসা শুধুমাত্র ফেসপ্যাক এর জন্য নয় বরং শসা খেলে আপনি অনেকও উপকার পাবেন। শসা এমন একটি খাবার যা শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করে। শসাতে থাকা উপাদান গুলো আপনার ত্বককে হেলদি ও উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    পানিঃ বেশিবেশি পানি পান করা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বেশি পানি পান করলে আমাদের শরীরের সকল সমস্যা দূর হয়ে যায়। এর ফলে আমাদের ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারি। তাই আমাদের শরীর ও ত্বককে সুস্থ রাখার জন্য বেশি করে পানি পান করা উচিত।

    বাদামঃ বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই ও ফ্যাটি এসিড। এজন্য নিয়মিত বাদাম খেলে ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দূর হয় এবং ত্বকের লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায়।

    গ্রিন-টিঃ গ্রিন টি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। গ্রিন-টি খেলে আমরা নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে রক্ষা পেতে পারি। গ্রিন-টি তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন-বি সহ আরো অনেক ধরনের উপাদান। আমাদের শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে ত্বকের ভিতরে উজ্জলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে গ্রিন টি।

    ফাইবার যুক্ত খাবারঃ ফাইবার যুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যা থাকবে না। যার ফলে আমাদের ত্বকে কোন ধরনের সমস্যার সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে না। এজন্য আমাদের প্রতিদিন ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। যেমন-বিভিন্ন ধরনের শাক, মটরশুঁটি, কাঁচা পেঁপে, লাউ ইত্যাদি ফাইবার যুক্ত খাবার।

    ওমেগা-৩ঃ মাছের রয়েছে ওমেগা-৩ বা ফ্যাটি এসিড। মাছের মধ্যে যে চর্বি রয়েছে তা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এ চর্বি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মাছ খাওয়া উচিত।

    সবুজ শাকসবজিঃ সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন উপাদান। যা ত্বকের নানা ধরনের সমস্যা দূর করে ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এজন্য আমাদের সকলের উচিত বেশি বেশি সবুজ শাকসবজি গ্রহণ করা।

    শেষ কথা

    উপরে আলোচনা থেকে আমরা মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়গুলো জানার সাথে সাথে রং ফর্সা করা অনেক ধরনের উপায় সম্পর্কে জানতে পারলাম। আপনার মুখের কালো দাগের সমস্যা যদি অতিরিক্ত বেশি হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই কোন চর্মবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    পরিশেষে আমি এটাই বলব যে, এই পোস্টটি পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে দিবেন এবং সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url