পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা যা জানা জরুরী

গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়কলা সব থেকে পরিচিত এবং সব থেকে সুস্বাদু একটি ফল। এই ফলটি যেমন সুস্বাদু তেমন অনেক পুষ্টিগুণে ভরা। পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা দুটোই রয়েছে। কলা বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে। তবে সব পাকা কলায় প্রায় একই পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। আমি আমার এই পোস্টে পাকা কলা খাওয়ার কিছু নিয়মকানুন, পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

তাই যারা পাকা কলা খেতে বেশি পছন্দ করেন এবং পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান তারা আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আশা করি আপনারা এই পোষ্ট পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃপাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা যা জানা জরুরী

    ভূমিকা

    কলাগাছ মূলত Musaceae জাতীয় একটি উদ্ভিদ। আমাদের দেশে প্রায় ১৯ টি জাতের কলা গাছ দেখা যায়। যে জাতেরই কলা হোক না কেন প্রতিটি জাতের কলায় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। কলার পুষ্টিগুণ বলে শেষ করার মতো নয়। পাকা কলায় বিভিন্ন জৈবরাসায়নিক উপাদানে ভর্তি। তবে পাকা কলা খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিধে নিষেধ রয়েছে। তাই পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

    পাকা কলা খাওয়ার নিয়ম

    আমাদের দেশীয় ফল গুলোর মধ্যে কলা একটি অন্যতম ফল। ছোট বড় সবারই কলা প্রিয়। এটি একটি বারোমাসি ফল। কলা শরীরের শক্তি যোগাতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাকা কলা খাওয়ার নিয়ম হলো সকাল আটটা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত। সকালের নাস্তা করার সময় কলা খাওয়া উত্তম। এতে করে শরীরে প্রয়োজনে পুষ্টিকুণ যেতে শুরু করে।

    কলা যতটা খেতে সুস্বাদু তার মধ্যে তার চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। দিনের অন্যান্য সময়ে চেয়ে সকালে কলা খাওয়া খুবই উপকারী কারণ এতে গোটা দিনে এনার্জি যোগায়। অনেকে ভাত খাওয়ার পর ফল খেতে পছন্দ করেন। ভাত খাওয়ার পর কলা খাওয়া কতটা উপকারিতা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

    আরও পড়ুনঃ পাকা টমেটোর উপকারিতা ও অপকারিতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কলা খাওয়া উপকারী। সন্ধ্যার পরে কলা না খাওয়ার কথায় বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সকালে কলা খাওয়া খুবই ভালো তবে অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। প্রতিদিন এক থেকে দুইটি কলা খেতে পারবেন। খালি পেটে কলা না খাওয়ায় উত্তম। সকালে নাস্তা করার আধা ঘন্টা পর একটি কলা খেতে পারবেন আবার দুপুরে খাবার খাওয়ার এক ঘন্টা পর খেতে পারবেন। এতে করে শরীরের কোন ক্ষতি হবে না।

    কলা দিয়ে নাস্তা তৈরি করে খেতে পারেন। যেমন-কলার ওটস মিল কুকিস তৈরি করুন। এটি খুবই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার। এক কাপ ওটস, পাকা কলা, কাঁচা বাদামের মাখন, ও ম্যাপল সিরাপ দিয়ে বানিয়ে ফেলুন এই সুস্বাদু নাস্তা।সকালে কলার সাথে পাউরুটি দিয়ে নাস্তা সেরে নিতে পারেন। এতে করে সকালের নাস্তা টা ঝটপট হয়ে যাবে এবং সারাদিনের শরীরের শক্তিও যোগাবে।

    পাকা কলা খেলে কি হয়

    পাকা কলা খেলে কি হয় বা এর পুষ্টিগুণ কতখানি তা আমরা অনেকেই জানি না। তবে পাকা কলা অনেকেই নিত্যদিনের সঙ্গী। অতিরিক্ত পাকা কলা বেশিরভাগ মানুষের খেতে চান না। কারণ কলার চামড়া কালো রঙ ধারণ করে এবং অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার কারণে অনেকেই ভাবেন কলা পচে গেছে। যার ফলে কলা ফেলে দেন।এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অতি পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে। কলা যখন বেশি পেকে যায় তার পুষ্টিগুণ তত পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ অতি পাকা গলায় দ্বিগুণ পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে।

    কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ,পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি সিক্স ও বায়োটিন। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হার শক্ত রাখে। কলায় পেক্তির নামক একটি ফাইবার থাকে। যা কোষ্ঠকাঠিন্যে সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কলায় রয়েছে ভিটামিন-মিনারেল এর মত গুণাগুণ। যা খুব তাড়াতাড়ি হজমে সাহায্য করে।

    নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা

    ওজন কমাতে, ত্বক ভালো রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, শরীরের শক্তি যোগাতে, হজম শক্তি বাড়াতে, গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া পাকা কলা আরো অনেক সমস্যা দূর করে থাকে। প্রতিটি মানুষের উচিত নিয়মিত প্রতিদিন কলা খাওয়া। এতে করে শরীরের শক্তি আসবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও জন্ম নিবে। এবার আসুন বিস্তারিত জেনে নেই নিয়মিত পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতা গুলো।

    • কলায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
    • নিয়মিত কলা খেলে কিডনি ভালো থাকে।
    • ক্ষুধা দূর করতে কলা খাওয়ার বিকল্প নেই। যারা ডায়েট করতে চান তারা নিয়মিত কলা খেতে পারেন। এতে করে ওজন বৃদ্ধি হবে না এবং শরীরের এনার্জি বজায় থাকবে।
    • কলাতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
    • কলায় থাকা ভিটামিন গুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
    • কলায় থাকা ফাইবার বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
    • দ্রুত এনার্জি পেতে হলে কলা খাওয়ার বিকল্প নেই।
    • কলায় রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ যা আমাদের ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ক্ষতি ও বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।
    • কলায় রয়েছে ইলেক্ট্রোলাইট যা দেহের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। দেহে খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। এতে করে পেশীর যে টান পড়ার সমস্যা হয় তা কমাতে সাহায্য করে।
    • পাকা কলা অ্যান্টি-অক্সিজেনের একটি চমৎকার উৎস। নিয়মিত কলা খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়, তেমনি চুল ও ত্বক ভালো থাকে।
    • যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা মিষ্টি খাবার খেতে পারেন না কিন্তু প্রতিদিন একটি করে পাকা কলা খেতে পারবেন। এতে করে শরীরে এনার্জি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

    সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা

    সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। সারাদিনটা কেমন যাবে তা শরীরের এনার্জির উপর নির্ভর করে। সারাদিনের শারীরিক এনার্জি ধরে রাখার জন্য সকালে পাকা কলা খাওয়ার বিকল্প নেই। সকালে নাস্তার সাথে একটি করে কলা খেলে তা সারাদিনের এনার্জি যোগায়। পাকা কলা শরীরের দ্রুত এনার্জি তৈরি করতে পারে। ছোট বড় সকলের উচিত সকালে নাস্তার সাথে বা নাস্তার আধাঘন্টা পরে একটি করে পাকা কলা খাওয়া। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সকালে একটি করে কলা খাওয়া খুবই জরুরী।

    সকালে পাউরুটি কলা, ওডস কলা খেতে পারেন। এগুলো শরীরের জন্য খুবই পুষ্টিকর। মানুষের শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা বৃদ্ধি করতে পাকা কলা সাহায্য করে। যা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ কমাতে সাহায্য করে। শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেওয়ার মাধ্যমে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে পাকা কলা। এজন্য ছোট বড় সবারই উচিত প্রতিদিন সকালে নাস্তার সাথে বা পরে একটি করে কলা খাওয়া।

    কলার পুষ্টিগুণ 

    পাকা কলা বিভিন্ন গুণাগুনে সমৃদ্ধ একটি দেশীয় ফল। এতে রয়েছে টিস্যু গঠনকারী উপাদান যেমন আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। কলা ক্যালরি ও আয়রনের একটি ভালো উৎস। কলাতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে এবং কার্বোহাইড্রেড।

    এগুলো মানুষের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকা কলা ত্বক ভালো রাখে, দাঁতের মাড়ি মজবুত রাখে, শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, চোখ ভালো রাখে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ১০০ ক্যালোরি পর্যন্ত থাকে। এছাড়া কলায় আরো অনেক পুষ্টি গুণ রয়েছে। নিচে কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

    • পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম উপাদান রয়েছে। এই উপাদান আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়াম হল একধরনের ইলেকট্রোলাইট যা হৃদয় স্পন্দন ও স্নায়ুকে কাজ করাতে এবং শরীরের পেশিগুলোকে সঞ্চালন করতে সাহায্য করে।
    • পাকা কলায় এক ধরনের পলিফেনিক নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট পদার্থ রয়েছে। যা দেহের প্রদাহ ও কোষের ক্ষতির মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    • কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। যা আমাদের চোখকে ভালো রাখে।
    • আমাদের দাঁতকে মজবুত রাখার জন্য ভিটামিন সি এর প্রয়োজন। কলাতে ভিটামিন সি বিদ্যমান রয়েছে। যার ফলে কলা খেলে আমাদের দাঁত ভালো থাকবে।
    • পাকা কলাতে ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে রয়েছে। যা আমাদের ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
    • পাকা কলায় অধিক পরিমাণে পানি রয়েছে এতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে। এছাড়া পাকা কলায় উপস্থিত নিউট্রিয়েন্টস ত্বকের ইলাসটিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    • শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আনতে অল্প একটু পাকা কলা চটকিয়ে মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
    • পাকা কলার অক্সিজেন রেডিক্যালস ও বলিরেখার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া কলার খোসা ফেলে না দিয়ে মুখে ঘষে নিন। অন্তত ১৫ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলুন।
    • অল্প একটু পাকা কলা চটকিয়ে তার ভেতর কয়েক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে, মুখে ১৫ মিনিটের মতো লাগিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
    • পাকা কলা পায়ের গোড়ালির ফাটা রোদ করতে সাহায্য করে। কলা চুটকিয়ে ১০ মিনিট পায়ে গোড়ালি ও ফাটা অংশে লাগিয়ে রাখুন। এভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করতে পারেন।
    • পাকা কলায় কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম ও ভিটামিন আছে যা চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। এটাই তুলে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল অনেক মজবুত ও সিল্কি হয়। কলা চটকিয়ে মাথায় দেওয়া তেলের সাথে মিশিয়ে তুলে দিয়ে ৩০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

    কলায় পুষ্টির পরিমাণ কত

    পাকা কলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য বা ফল। কলা এমন একটি ফল বা খাদ্য যাতে সকল ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টিগুণে ভরা। পাকা কলার মত আর কোনো ফলে এত পুষ্টিগুণ বিদ্যমান নেই। বলা চলে কলা একটি আদর্শ ফল। কলায় পুষ্টির পরিমাণ কত আসুন আমরা সে সম্পর্কে জেনে নেই।

    একটি বড় সাইজের কলায় রয়েছে ১২০ ক্যালোরি ও ৪৯০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এই ক্যালোরি ও পটাশিয়াম একজন মহিলার দৈনিক চাহিদার ১৫ শতাংশ এবং একজন পুরুষের দৈনিক চাহিদার ১৫ শতাংশ পূরণ করে থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়াম অপসারণ করে রক্তনালি শিথিল করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

    পাকা কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কিডনির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি কলা খেয়েছে, তাদের কিডনি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে ৩৩ শতাংশ। আর যারা প্রায় প্রতিদিনই কলা খায় তাদের কিডনির অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে ৫০ শতাংশ।

    পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলার পুষ্টিগুণ- শর্করা ২৫ গ্রাম, চর্বি ০.৮ গ্রাম, পানি ৭০.১%, আমিষ ১.২%, খনিজ লবণ ০.৮%, আশ ০.৪%, প্রোটিন ৭.০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি অল্প পরিমাণ, ভিটামিন বি- ১(থায়ামিন) ০.১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২(রাইবোফ্লেভিন)০.০৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৮০ মাইক্রগ্রাম, লৌহ ০. ৯০ মিলিগ্রাম।

    পাকা কলা খাওয়ার অপকারিতা 

    পাকা কলা একটি পুষ্টি কর ফল। কলায় রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন। ছোট বড় সকলে কলা খেতে অনেক পছন্দ করে। প্রতিদিন দুটি করে কলা খাওয়ায় যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি কলা খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাকা কলা খাওয়ার অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক গুলো হল-

    • কখনোই খালি পেটে কলা খাওয়া উচিত নয়। এতে করে গ্যাস্টিকের সমস্যা হতে পারে।
    • কলায় পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়ামের মাত্রা রক্তে যদি বেড়ে যায় তাহলে হাইপারক্যালেমিয়া রোগ দেখা দেয়। এতে করে শরীর সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং হৃদস্পন্দন বাধাগ্রস্ত হয়। যেহেতু কলায় পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে সেহেতু অতিরিক্ত কলা খাওয়া একজন মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
    • একটি মাঝারি পাকা কলায় প্রায় ১০৫ ক্যালোরির শক্তি থাকে। ক্যালোরি আমাদের ওজন বৃদ্ধি করে থাকে। এজন্য অতিরিক্ত কলা খেলে আমাদের শরীরে ক্যালরি বৃদ্ধি করে আমাদের ওজন বাড়িয়ে তুলবে
    • কলায় প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে। অতিরিক্ত শর্করা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। কলা বেশি খেলে দাঁতের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • পাকা কলাতে ট্রিপটোফ্যান নামক আমাইনো এসিড থাকে। যার প্রভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে, অতিরিক্ত ঘুম পায়
    • পাকা কলায় অধিক পরিমাণে ভিটামিন বি ৬ রয়েছে। এই ভিটামিন বেশি খেলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    • যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তাদের অধিক কলা খাওয়া ক্ষতিকর। পাকা কলায় টাইরামাইন নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা মাইগ্রেনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
    • যাদের এলার্জি সমস্যা আছে তাদের একটু সাবধানে কলা খেতে হবে। অনেক সময় কলা খাওয়ার কারণে এলার্জি দেখা দিতে পারে।
    • যাদের ঠান্ডার সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে কলা কম খাওয়া ভালো। কলা অনেক সময় শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
    • অধিক পরিমাণে কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    • যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি বেশি পরিমাণে কলা খায় তাহলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    কলা কখন খাওয়া যাবে না

    পাকা কলা খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। পাকা কলা অনেক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হলেও এটি সব সময় সব পরিস্থিতিতে খাওয়া যাবে না। পাকা কলা কখন খাওয়া যাবে না সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

    • পাকা কলা খালি পেটে খাওয়া ঠিক না। এতে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    • রাত্রে ঘুমানোর আগে কলা খাওয়া উচিত নয়। রাত্রে কলা খেলে বুকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
    • সর্দি কাশি হলে পাকা কলা না খাওয়াই ভালো।
    • যাদের বেশি পরিমাণে ডায়াবেটিস আছে, তাদের কলা না খাওয়াই ভালো।
    • কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে পাকা কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
    • সকালের নাস্তা করার আগে খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো। নাস্তা করার পর কলা খাওয়া উচিত।
    • যারা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদের অবশ্যই রাত্রে কলা খাওয়া উচিত নয়। এটি শরীরে শ্লেষ্মা সৃষ্টি করতে পারে।
    • আয়ুর্বেদ অনুসারে, দুধ বা দুধ জাতীয় খাবারের সঙ্গে পাকা কলা খাওয়া বিষের মত। এই দুইটি খাবার একসঙ্গে পেটে গেলে পেটের পাচনতন্ত্র দুর্বল করে ফেলে।

    শেষ কথা

    উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা পাকা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলাম। তবে পাকা কলার কিছু অপকারিতা থাকলেও এর উপকারিতা অনেক বেশি। তাই আপনি প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি করে পাকা কলা খান। এতে করে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকগুণ বেড়ে যাবে। যার ফলে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

    পরিশেষে এটাই বলব যে, আমার এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই বেশি বেশি শেয়ার করবেন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন। ধন্যবাদ।

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url