গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

এলার্জি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়গ্যাস বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বর্তমান সময়ে আমাদের জন্য কমন ও মারাত্মক ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমাদের ধারণা রাখা উচিত। সাধারণত পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম রয়েছে যার মাধ্যমেও আমরা গ্যাসের সমস্যা থেকে সমস্যা মুক্তি পেতে পারি। আজকে আমি আমার এই পোস্টে গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

আপনারা যদি গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আমার এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমি আশা করছি যে, আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনারা অনেক উপকৃত হবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃগ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

ভূমিকা

গ্যাসের সমস্যা আছে প্রায় প্রত্যেকেরই। আমরা সকলেই দিনরাত ২৪ ঘন্টা এই সমস্যা নিয়েই জীবনযাপন করে আসছি। কারো ক্ষেত্রে এটি কম আবার কারো ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন খারাপ খাদ্যাভ্যাস এর কারণে আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমাদের সকলের জেনে রাখা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত গ্যাস হওয়ার কারণ 

সাধারণ আপনার খাবার হজমের সমস্যা থেকেই গ্যাসে সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেককেই এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যখন খাবার খায় তার সমস্তটা হজম হয় না। হজম না হওয়ার কারণে খাবার বৃহদন্ত্রে পৌঁছালে সেখানে বিপাক ক্রিয়া চলতে থাকে। সে বিপাকের ফলেই গ্যাসের সৃষ্টি হয়।

দিন দিন গ্যাসের সমস্যা বেড়েই চলেছে। ছোট হোক আর বড় সবারই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অধিক মাত্রায় লক্ষ্য করা যায়। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ জীবন যাত্রার ও খারাপ খাদ্য অভ্যাসের কারণে এই সমস্যাটি বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।এছাড়াও আরো নানা কারনে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। আমাদের অতিরিক্ত গ্যাস হওয়ার কারণ কি তা আলোচনা করা হলো।

খাদ্যাভ্যাসঃ আমাদের খাদ্যাভাসের কারণে বেশিরভাগ সময়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। আমরা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মতো এবং পরিমাণ মতো খাবার গ্রহণ না করি তাহলে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় দেখা যায় দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার খেলে হজম হতে চায় না। যার ফলে দুগ্ধ জাতীয় খাবার খেলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়।

অনিয়মিত ঘুমঃ যাদের ঠিকঠাক ভাবে ঘুম হয় না বা অনিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস আছে। তাদের গ্যাসের সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। যারা রাত্রে ঠিকমতো ঘুমান না বা সারারাত জেগে থাকেন তারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। এজন্য সবারই উচিত সময় মত ঘুমিয়ে পড়া।

কার্বনেটেড পানীয় পানঃ কার্বনেটের জাতীয় পানি পান করলে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। কার্বনেটের পানীয় যেমন-সোডা বা কোন বুদবুদ যুক্ত পানীয়, বিয়ার, এনার্জি ড্রিংকস প্রভৃতি ধরনের খাদ্য পান করলে প্রচন্ড গ্যাস সৃষ্টি হয়। এজন্য এসব খাদ্য অ্যাভয়েড করে চলতে হবে।

ফাস্টফুড খাবারঃ ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার বেশি খেলে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। বাইরের খাবার এবং ভাজাপোড়া খাবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে করে হজম ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং প্রচন্ড গ্যাসের সৃষ্টি হয়। জন্য ফাস্টফুড জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদ হজমঃ যদি কারো কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তার গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত বাথরুম না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত গ্যাসে রিএকশন হতেই থাকে। অনেকের আবার খাবার হজম না হলে প্রচন্ড গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। এজন্য যে সকল খাবার হজম করতে সমস্যা হয় সে সকল খাবার গুলো না খাওয়াই ভালো।

মানসিক চাপঃ যারা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাদের গ্যাস হওয়াটা স্বাভাবিক। মানুষের শরীর ও মন একে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত। এজন্য মানসিক কোন সমস্যা হলে তা শরীরে প্রভাব ফেলে। তাই অনেক সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে প্রচন্ড গ্যাসের সৃষ্টি হয়।

কঠোর পরিশ্রমঃ যারা কঠোর পরিশ্রম করেন তাদের গ্যাসের সমস্যা একটু বেশি হয়ে থাকে। যারা সারাদিন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করেন না, বিশ্রাম করেন না শুধুমাত্র কাজ করতেই থাকেন তারা এই অনিয়মের কারণে গ্যাস্ট্রিকের আক্রান্ত হন।

ফুডএলার্জিঃ যাদের খাবারে এলার্জি আছে তাদের গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাকে। যে খাবারগুলোতে আপনার অ্যালার্জি থাকে সে খাবারগুলোতেও গ্যাসের সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য ফুড এলার্জি খাবার গুলো না খাওয়াই ভালো।

ধূমপান ও মাদক সেবনঃ যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করে থাকে ও যারা মাদক সেবন করে থাকে তাদের গ্যাসের সমস্যা বেশি হয়। ধূমপান ও মাদক সেবন শরীরের পরিপাকতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যার ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক হয়। পরবর্তী যা আলসারের রূপ ধারণ করে।

অধিক ঔষধ সেবনঃ যাদের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকেন। তাদের এই গ্যাসের সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। অনেক ওষুধ সেবন করার কারণে রিঅ্যাকশন হয় যার ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়।

গ্যাসের কারণে কি কি সমস্যা হয়

ছোট থেকে বড় সকল মানুষেরই গ্যাসের সমস্যা রয়েছে। এই গ্যাসের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে এবং এর কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের গ্যাসের কারণে কি কি সমস্যা হয় তা নিচে আলোচনা করা হলো।

পেট ফুলে ও ফেঁপে থাকাঃ আপনার গ্যাস হলে সর্বপ্রথমে আপনি যে লক্ষণটি অনুভব করবেন তা হলো পেট অতিরিক্ত মাত্রায় ফুলে ও ফেঁপে থাকা। পেটে যখন প্রচন্ড গ্যাস্টিক হয় তখন আমাদের পেট ফুলে ও ফেঁপে যায়। যার ফলে প্রচন্ড অসস্তি বোধ হয়।

পেট ভরা ভরা লাগাঃ অল্প খাওয়ার পরেও যখন মনে হয় পেট ভরে আছে, খেতে ইচ্ছে করে না আর এর কারণ হলো আপনার পেটে গ্যাসের প্রভাব। এক্ষেত্রে অল্প খাবার খাওয়ার পরে আর খাওয়ার রুচি থাকে না।

ঢেকুর তোলাঃ পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হলে অনেক সময় ঘন ঘন ঢেকুর উঠতে থাকে। এই ঘন ঘন ঢেকুর তোলাও গ্যাস হওয়ার একটি সমস্যা। প্রায় অনেকেরই গ্যাস হলে এই ঘন ঘন ঢেকুর উঠে।

বুক ও পেট জ্বালাপোড়া করাঃ যখন আমাদের প্রচন্ড গ্যাস হয় তখন আমাদের বুক ও পেট প্রচন্ড জ্বালাপোড়া করতে থাকে। এই জ্বালাপোড়া যখন অধিক মাত্রায় হয়ে থাকে তখন আমরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

বুকে চাপ অনুভব করাঃ আমাদের গ্যাসের সমস্যা হলে অনেক সময় বুকের ভিতর প্রচন্ড চাপ অনুভূত হয়। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক অসস্তি হতে থাকে।

ঘেমে যাওয়াঃ অনেক সময় আবহাওয়া গরম না হলেও আমরা ঘেমে অস্থির হয়ে যাই। এই ঘেমে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয় অতিরিক্ত গ্যাসের কারণে। গ্যাসের কারণে আমাদের শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘাম বের হতে থাকে।

মুখতে তেতো ও টক হওয়াঃ গ্যাস হওয়ার কারণে আমাদের মুখে সবসময় তেতো ও টক অনুভূত হতে থাকে। আমরা যে খাবারই খাই না কেন, যতই স্বাদ হোক না কেন, তা খেতে তেতো ও টক মনে হয়। কারণ গ্যাসের জন্য মুখ সব সময় টক ও তেতো ভাব হয়ে থাকে।

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যঃ গ্যাস হলে অনেক সময় বদহজম হয়ে ডায়রিয়া হতে পারে। আবার অনেক সময় গ্যাসের কারণে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হতে পারে। ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পেটের মধ্যে সব সময় বুদবুদ করতে থাকে এবং পেট মোচরাতে থাকে।

পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম

বর্তমান সময়ে বহু মানুষই পেটের সমস্যায় ভোগেন। পেট ফেঁপে থাকা, ব্যথা করা, বুক জ্বালাপোড়া করা প্রভৃতি সমস্যা গ্যাসের কারণে সৃষ্টি হয়। পেটের গ্যাস বের করার কিছু ব্যায়াম রয়েছে। এই ব্যায়ামগুলো করলে খুব তাড়াতাড়ি পেট থেকে গ্যাস বেরিয়ে যায়। নিম্নে পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

পেট মেসেজ করাঃ পেটে গ্যাস হলে পেটের উপর হালকা গরম তেল দিয়ে হাত ধীরে ধীরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পেট মেসেজ করুন। এভাবে পেট মেসেজ করলে গ্যাস অন্ত্রের নিচে দিকে চলে আসে এবং বায়ু পথের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এভাবে দিনে কয়েকবার মেসেজ করতে হবে।

বুকের মেসেজঃ গ্যাসের কারণে বুকে জ্বালাপোড়া হলে বুকের মেসেজ করলে গ্যাস অনেকটাই কমে যায়। এজন্য ডান হাতটিকে বুকের খাঁচার হাড়ের ডানের নিচের দিকে ধরতে হবে। এরপর ডান হাতটিকে গোল গোল ভাবে ঘুরিয়ে মেসেজ করতে হবে। এভাবে কয়েকবার মেসেজ করলে গ্যাস দ্রুত কমে যাবে। এটি এক ধরনের গ্যাস দূর করার ব্যায়াম।

হাঁটা-চলা করাঃ শরীর ভালো রাখার জন্য খাওয়ার পরে অবশ্যই হাঁটাচলা করা প্রয়োজন। খাওয়ার পরে হাঁটাচলা করলে খাবার হজম করতে সহজ হয়। যার ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয় না। যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই প্রতিবার খাওয়ার পরে পাঁচ মিনিট করে হাঁটাচলা করবেন। হাঁটাচলাও এক ধরনের ব্যায়াম।

যোগ ব্যায়ামঃ পেট ফাঁপা ও পেটের ব্যথা তৈরি হয় গ্যাসের কারণে আর এই সমস্যা অনেকটা কমিয়ে দেয় যোগ ব্যায়াম। পিঠের ওপর শূন্যে পা দুইটিকে বাইসাইকেলের মতো চালান এই ব্যায়ামটি ৫ মিনিট কন্টিনিউ করলে পেটের গ্যাস অতি দ্রুত নির্মল হয়ে যাবে।

কোর এক্সারসাইজঃ এই এক্সারসাইজের মাধ্যমে আপনি আপনার মূল পেশিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে হজম শক্তির বাড়াতে এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে পারেন। এটি গ্যাস নির্মূল করার একটি খুবই কার্যকারী ব্যায়াম। দড়ি লাফ, জাম্পিং জ্যাক, লং ডিস্টেন্স রানিং, স্কয়ার জম্প, ফ্রগি জাম, সাইড টু সাইড জাম্পিং লাঞ্জস ইত্যাদি এক্সারসাইজ করলে তা তন্ত্রের মধ্য দিয়ে গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে।

পেট ফাঁপার কারণ কি

অনেক সময় পেটে গ্যাস্টিকের সমস্যা হয়ে পেট ফেঁপে যায়। পেট ফেটে গেলে খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই পেট ফাঁপা সমস্যা নানা কারণে হতে পারে। মূলত পেট ফাঁপার কারণ কি কি হতে পারে তা নিম্নে  উল্লেখ করা হলো।

  • অতিরিক্ত মসলার খাবার খেলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে পেট প্রচন্ড ফেঁপে যায় ও ব্যথা করে।
  • লবণে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে। সোডিয়াম বেশি গ্রহণ করলে তার শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যার ফলে গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দেয় এবং পেট ফেঁপে যায়।
  • মানুষ যখন দ্রুত খাবার খায় তখন তার খাবারের সঙ্গে পেটের বাতাস প্রবেশ করে। এ বাতাস পেটে ঢুকে গ্যাসের সৃষ্টি করে পেট ফাপিয়ে তোলে।
  • অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ করলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে পেট ফেটে যায়।
  • ফ্যাট জাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে পেট ফেঁপেযায় ও ব্যথা করে।
  • অনিয়মিত ঘুম পেট ফাঁপা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • অনেক সময় অতিরিক্ত খেলে পেট ফেটে যায়। আবার কম খেলেও এই সমস্যা দেখা দেয়। তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • আমাদের যখন পেট ফাঁকা থাকে অর্থাৎ খাবার গ্রহণ করতে অনেক দেরি হয়ে যায়, তখন পেটে বাতাস ঢোকার কারণে পেট ফেঁপে যায়।
  • আবার যারা অতিরিক্ত ধূমপান করে তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি দেখা যায়।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু কিছু খাবার খেলেও পেট ফেঁপে যায় এবং ব্যথা করে।

কোন কোন সবজি খেলে গ্যাস হয়

সবজি আছে যেগুলো গ্যাসের সৃষ্টি করে। আমরা যদি এই সবজিগুলো বেশি বেশি করে খায় তাহলে গ্যাস্টিকের সমস্যা বাড়তে পারে। কোন কোন সবজি খেলে গ্যাস হয় তা সম্বন্ধে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

মুলোঃ মুলো আমাদের গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। আমরা যদি অধিক পরিমাণে মুলার তরকারি খাই তাহলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পুইশাকঃ কারো কারো ক্ষেত্রে পুঁইশাক হজম হতে চায় না। যার ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে পেট ফুলে ফেঁপে যায়। এজন্য খাবারের তালিকায় কম পুঁইশাক রাখার চেষ্টা করতে হবে।

পিয়াজঃ পিঁয়াজ না হলে আমাদের কোন রান্নায় সম্পূর্ণ হয় না। পিয়াজে রয়েছে ফ্রুকটান যা একটি দ্রবণীয় ফাইবার। যার ফলে আমরা যদি অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ খাই, তাহলে আমাদের হজম শক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে।

বাঁধাকপি ও ফুলকপিঃ বাঁধাকপিও ফুলকপি একটি শীতকালীন সবজি। এই সবজি দুটি প্রায় সকলেরই খুব পছন্দের খাবার। কিন্তু এই সবজি দুটো খেলে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত ফুলকপিও বাঁধাকপি না খাওয়াই ভালো।

কাঁঠালঃ কাঁচা কাঁঠাল বা পাকা কাঁঠাল খেলে প্রচন্ড গ্যাসের সৃষ্টি হয়। কাঁঠাল সহজে হজম হতে চায় না। এজন্য সবসময় অল্প পরিমাণে কাঁচা কাঁঠালের তরকারি খাওয়া উচিত।

মসুরের ডালঃ মসুরের ডাল একটি কমন খাবার। প্রায় সকলেই এই খাবারটি কম বেশি খেয়ে থাকে। মসুরের ডাল খেলেও গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমাদের অতিরিক্ত মসুরের ডাল খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।

মটরশুঁটিঃ মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট উপাদান রয়েছে। যা হজম শক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে এবংগ্যাস তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এজন্য যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তাদের এই খাবারটি এড়িয়ে চলতে হবে।

গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বর্তমানে গ্যাস্ট্রিক একটি নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই কমবেশি সকলেরই গ্যাস নিয়ে জীবন যাপন করতে হয়। যখন গ্যাসের সমস্যা হয় তখন আমাদের শরীর ও মন দুটোই খারাপ থাকে। কোন কাজে মন বসে না। সব সময় একটা অস্বস্তি বোধ হতে থাকে। এজন্য আমরা এই গ্যাসের সমস্যা দ্রুত দূর করার উপায় খুঁজতে থাকি। গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো নিম্ন আলোচনা করা হলো।

কলাঃ কলা খেতে আমরা কমবেশি সকলেই ভালবাসি। কলায় প্রচুর পরিমানের পটাশিয়াম থাকে, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে নাস্তার সাথে একটা করে কলা খান। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি উপকার পাবেন।

ডাবের পানিঃ ডাবের পানি খেলে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারি মিনারেলস। এজন্য গ্যাসের সমস্যা বেশি হলে নিয়মিত ডাবের পানি খান।

তুলসি পাতাঃ তুলসি পাতা গ্যাসের সমস্যা সমাধানের একটি ঘরোয়া উপায়। গ্যাসের সমস্যা দেখা দিলে তুলসির কয়েকটি পাতা চিবিয়ে খান অথবা চা এর সাথে ফুটিয়ে নিয়ে, খালি পেটে সে চা পান করুন।

টকদইঃ টকদই গ্যাসের সমস্যা কমায়। টক দই আছে ল্যাকটোব্যাসিলাস ও বিফিটুবেকটেরিয়াম। এগুলো অন্ত্রের জন্য খুব ভালো কাজ করে। টকদইয়ে আছে ক্যালসিয়াম, যা পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরিতে বাধা দেয়। টকদইয়ের সাথে বিট লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন, এতে আরো ভালো ফল মিলবে। টকদই এর ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করে।

আদাঃ আদা একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যা পেটকে প্রশমিত করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহাস্য করে। বিভিন্ন উপায়ে আদা খেতে পারেন। যেমন- আদা চা পান করেন, আদার মিছরি খান, একটুকরা আদা কাঁচা চিবিয়ে খান, তরকারিতে আদা যোগ করেন।

রসুনঃ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই কোয়া কাঁচা রসুন খান। সপ্তাহে ২-৩ দিন খান। এটি পরিপাকের জন্য উপকারি।

মৌরিঃ মুহূর্তেই আপনার গ্যাসের ব্যাথা কমাতে পারে মৌরি। খাওয়ার পরে মৌরি চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পানিতে মৌরি ভিজিয়ে রাখুন এবং পরের দিন সকালে খালি পেটে খান। কিংবা গরম পানিতে মৌরির সাথে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খেতে পারেন। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।

পানি পান করাঃ শরীরে পানির ঘারতি হলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য প্রতিদিন সবাইকে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন একজন মানুষকে কমপক্ষে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে।

এই ঘোরয়া প্রতিকারগুলো ছাড়াও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা উপশম করতে জীবনধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য, ফলমূ্‌ল, শাকসবজি বেশি বেশি করে খান।
  • মসলা, চর্বি, তেল জাতীয় খাবার এরিয়ে চলুন।
  • পরিমাণমতো ও নিয়ম মাফিক খাবার খান।
  • খাবার সঠিকভাবে চিবিয়ে খান। এতে করে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হবে।
  • নিয়মিত ও সঠিক সময়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।

শেষ কথা

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই বুঝতে পারছেন যে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আমাদের কেন হয় এবং এই গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো কি কি। আমরা যদি এই ঘরোয়া উপায়গুলো এপ্লাই করি তাহলে গ্যাসের সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেয়ে যাব।

পরিশেষে এটাই বলব যে, আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে দিবেন এবং এ ধরনের আরো পোস্ট পেতে সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AN Heaven এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url